২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর, ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে বিকাশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর, ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে বিকাশ

বাংলাদেশের হাজারো কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসছে মেটা। খুব শিগগিরই ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা দেখা গেছে এবং তারা সফলভাবে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধও করেছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব ব্যবহারকারীর জন্য ফিচারটি চালু হয়নি, তবুও এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এতদিন বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে হলে আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হতো। অনেকের ক্ষেত্রে ডুয়াল কারেন্সি চালু করা, ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া কিংবা কার্ড ব্যবহারের নানা জটিলতার কারণে বিজ্ঞাপন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বিশেষ করে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ছোট ব্যবসায়ী এবং এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য এটি ছিল বড় একটি বাধা। বিকাশ যুক্ত হলে সেই ঝামেলা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেখানে ‘অ্যাড পেমেন্ট মেথড’ অপশনে প্রচলিত ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ-এর নামও দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন ব্যবহারকারী বিকাশ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

এই সুবিধা চালু হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন-
*ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর
*ছোট ব্যবসার মালিক
*এফ-কমার্স উদ্যোক্তা
*ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি
*ফ্রিল্যান্সার
*স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান

অনেকেই অল্প বাজেটের বিজ্ঞাপন চালাতে চান। কিন্তু আন্তর্জাতিক কার্ড না থাকায় তা সম্ভব হতো না। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয়ভাবেই দ্রুত পেমেন্ট করা সহজ হবে। তবে এখনই সবাই ব্যবহার করতে পারবেন না। বর্তমানে এটি সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর আগে মেটা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টে পরীক্ষা চালায়। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে এটি আরও বেশি ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এখন পর্যন্ত মেটা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে কবে নাগাদ বিকাশভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সবার জন্য চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফিচারটির উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক কার্ডের বিকল্প হিসেবে বিকাশ ব্যবহার করে সহজেই ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবসা, অনলাইন শপ, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই খাতে সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে। ফলে স্থানীয় ডিজিটাল অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহজে অনলাইন প্রচারণা চালাতে পারবেন।

ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ভিসা অপব্যবহার ও জালিয়াতি ধরতে অনলাইন মাধ্যম চালু করল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন তথ্য দেওয়ার পোর্টাল চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতি শনাক্ত ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য হলো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ও সহজভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির মধ্যে জাল বা পরিবর্তিত নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যবহার, ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মতো কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে তা জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ঘটনার যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তা তদন্ত ও মূল্যায়নে সহায়ক হবে। বিদেশে কোনো মার্কিন ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছেও তা জানানো যায়। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি .gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

আইফোন ডুও দেখেই যদি মনে হয়—‘এই ফোনটা তো নিতেই হবে।’ তাহলে একটু থামুন। কারণ দেখতে যতই সুন্দর হোক, এই ফোন কেনার পর এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলো জানার পর ২,০০০ ডলার খরচ করার সিদ্ধান্তটাই বদলে যেতে পারে। বড় স্ক্রিন, ভাঁজ করা যায়, একসঙ্গে দুই অ্যাপ—সব মিলিয়ে আইফোন ডুয়ো কাগজে-কলমে অসাধারণ হলেও কেনার পর মনে হতে পারে—সাধারণ একটা ফোনই তো ভালো ছিল।

প্রথম সমস্যা— অনেক দিন ধরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ব্যবহার করেছেন এমন মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় দিনের পর দিন ফোনটি খোলাই হয় না। কারণ বড় স্ক্রিন সবসময় প্রয়োজন হয় না। আর ভাঁজ করা অবস্থায় ফোল্ডেবল ফোন তুলনামূলক মোটা ও ভারী হওয়ায় এক হাতে ব্যবহারও অস্বস্তিকর হতে পারে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা কোথাও দাঁড়িয়ে ফোন খুলে ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ফোনটি পড়ে গেলে সর্বনাশ। এত দামি ফোনের সঙ্গে তখন স্ক্রিনের বদলে আপনার হৃদয়টাই আগে ভেঙে যেতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা— আইফোন ডুয়োতে একসঙ্গে দুই অ্যাপ চালানো যাবে। শুনতে দারুণ। কিন্তু বাস্তবে ফোনে একই সময়ে দুটো অ্যাপ কতবার দরকার হয়? ভিডিও দেখতে দেখতে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে সাধারণ আইফোনেই পিকচার–ইন–পিকচার সুবিধা আছে। ফলে শুধু দুই অ্যাপ পাশাপাশি চালানোর জন্য ফোন খুলে সেটআপ করার প্রয়োজন সবসময় পড়বে বলে মনে হয় না। এছাড়া সাধারণ ফোনে এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যাওয়া অনেক সময় আরও দ্রুত ও সহজ।

আরও পড়ুন

কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

তৃতীয় সমস্যা—আইফোন ডুয়োর দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। বরং আইফোন ১৮ প্রো কিনলে বেঁচে যাবে প্রায় ৮০০ ডলার। আর অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল বাজারে আসতেই স্যামসাং শুরু করেছে মজা করা। সামাজিক মাধ্যমে স্যামসাং লিখেছে, ফোল্ডেবল ফোন অনেক আগেই বানিয়ে ফেলেছি, অ্যাপল এখন পুরোনো খাবার গরম করে পরিবেশন করছে।

স্যামসাং আরও বলেছে, ‘সো ফার, সো সেইম।’ কারণ ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোন্ড আনার পর সাত বছর ধরে তারা ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

তবে এর মানে এই নয় যে আইফোন ডুয়ো খারাপ ফোন। অ্যাপল বলছে, তাদের ফোল্ডেবল ফোনে উন্নত ডিজাইন ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো—ফোল্ডেবল ফোন আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। যদি বড় স্ক্রিনে কাজ করা আর একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো আপনার নিয়মিত প্রয়োজন হয়, তাহলে ডুয়ো আপনার জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু শুধু নতুন আইফোন এসেছে বলেই ১ হাজার ৯৯৯ ডলার খরচ করার আগে একটু ভাবুন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে আংশিকভাবে প্রকাশিত একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এআই নির্মিত ভুয়া প্রতিবেদনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে হামলা চালাতে প্রায় উদ্যত হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্রের মতে, ঘটনাটি প্রায় একটি যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কতোটা গুরুতর, এ ঘটনা তারই প্রমাণ বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশারদরা।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনটি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের এক বিশ্লেষক তৈরি করেছিলেন। তিনি একটি এআই চ্যাটবটের কাছে চীনা জাহাজটির মালামালের তালিকা (ম্যানিফেস্ট) সম্পর্কে জানতে চান।

সিএনএন জানিয়েছে, চ্যাটবটটি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর ওপর ভিত্তি করে জানায় যে, জাহাজটিতে একটি ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম’ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে আটক করার প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে জানতে পারা যায়, পুরো প্রতিবেদনটি আসলে এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফসল।

জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ছিল কিংবা বিশ্লেষক কোন এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন—তা বাণিজ্যিক টুল নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে সার্বিকভাবে এআই গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে, তাতে সম্ভাব্য টুলের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি স্মারকলিপিতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘এআই-ফার্স্ট’ বা এআই-বান্ধব সংস্থায় পরিণত করার নির্দেশনা দেন এবং মার্কিন শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানান।

তবে কৌশলটি পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। সামরিক বাহিনীকে তাদের তৈরি মডেল স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যানথ্রোপিক। এর জের ধরে সরকার তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল। যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্রক ব্যবহারের সুযোগ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয় স্পেসএক্স-এআই। পরবর্তীতে মে মাসে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে নিজেদের এআই প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য অংশীদারত্বে আবদ্ধ হয়।

সরকারের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আগ্রাসীভাবে এগুলোর পেছনে ছুটছে। তবে এআই-এর এ ধরনের বিস্তার যে স্বাভাবিক কোনো এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি বহন করে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।

নিজে থেকেই ৩টি প্রতিষ্ঠান হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিজে থেকেই ৩টি প্রতিষ্ঠান হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা পরীক্ষার সময় গুগলের এআই মডেল জেমিনাই ইন্টারনেটে প্রবেশ করে অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং পরিচালনা করেছে, যা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কাজ করার প্রথম জানা উদাহরণ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে এই তথ্য জানায় এনডিটিভি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'ইরেগুলার'-এর পরিচালিত একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানান, অন্যান্য এআই ল্যাবের মতোই এটি একই সমস্যা কেন্দ্রিক ছিল এবং জুলাইয়ের শেষের দিকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তা জানানো হয়েছে। নিজেদের অংশের সব জানা সমস্যা কয়েক সপ্তাহ আগেই সমাধান করা হয়েছে বলে ইরেগুলারের মুখপাত্র নিশ্চিত করেন।

একটি ঘটনায় জেমিনাই মডেলটি বারবার পাসওয়ার্ড অনুমান করে একটি সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ অধিকার অর্জন করে। অন্য দুটি ক্ষেত্রে মডেলটি একটি পাবলিক রিপোজিটরিতে প্রবেশাধিকারের তথ্য খুঁজে পায়, যা ব্যবহার করে এটি সুরক্ষিত সিস্টেমে ঢুকে পড়ে। এআই এজেন্টের ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসন এবং ইন্টারনেট ও কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেটা, অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই-ও ইরেগুলারের সঙ্গে সম্পর্কিত এই ধরনের ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে। মেটা আগস্টে জানায়, ঘটনাটি কোনো স্যান্ডবক্স স্কেপ বা জটিল সাইবার আক্রমণ ছিল না, অন্যদিকে ইরেগুলার জানায় যে তারা এআই সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য নিরাপদ অনুশীলন তৈরি করছে। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।