৯ আগস্ট ২০২৬

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে তিনি গেমিং এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম এবং অপরিচিতদের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়া গেমিং সাইটগুলোর বিরুদ্ধে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্টারমার। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‌এই আমূল পরিবর্তন শিশুদের ‌‌‘‘শৈশব ফিরিয়ে দেবে।’’

তিনি বলেন, আমার কাছে এটি পরিষ্কার, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করাই সঠিক সিদ্ধান্ত। স্টারমার বলেন, ‘‘এটি বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এটি আমাদের সন্তানদের আরও নিরাপদ ও সুখী করবে, তাদের আরও বেশি সময় ও নিরাপত্তা, বড় হয়ে ওঠার জন্য আরও স্বাধীনতা এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দেবে।’’

তবে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। স্টারমার নিজেও স্বীকার করেছেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হবে।

রোবোট্যাক্সির বৈশ্বিক হাব হতে যাচ্ছে কাতার!

প্রযুক্তি ডেক্স
প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬

কেবল প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্বচালিত (অটোনোমাস) ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে আঞ্চলিক উৎপাদন এবং রপ্তানি কেন্দ্রে রূপান্তরের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কাতার। উন্নত গণপরিবহন প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠার লক্ষ্যে 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অধীনে এই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় (MoT)।

মন্ত্রণালয়ের পাঁচ বছর মেয়াদী ‘স্বচালিত যানবাহন কৌশল’-এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে রোবোট্যাক্সি পরিচালনা করা হয়, যা প্রাথমিক বাণিজ্যিক পর্যালোচনায় ৯৪ শতাংশ সাফল্যের মুখ দেখেছে

এআই প্রযুক্তি ও উন্নত সেন্সরের দ্বিতীয় পর্যায়

কাতার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জসিম আল-শাইবানি জানান, স্বচালিত এসব যানবাহনে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর এবং ‘লাইডার’ (LiDAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো ধরনের মানব স্পর্শ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রকল্পটি বর্তমানে তার দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে—যেখানে গাড়িতে পূর্বে উপস্থিত থাকা মানব নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে (Safety Officer) সরিয়ে দিয়ে পুরো নজরদারি ব্যবস্থা দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

কাতার ফ্রি জোনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ২০০ কোটির বাজার

আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের উৎপাদন, পরীক্ষা এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে কাতার ফ্রি জোনস অথরিটি (QFZA)। ইতোমধ্যে ফ্রান্সের ‘গাউসিন’ (Gausin) এবং চীনের ‘ইউটং’ (Yutong)-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলো কাতারের ফ্রি জোনগুলোতে তাদের বৈদ্যুতিক ও স্বচালিত যানবাহন সংযোজন কারখানা গড়ে তুলেছে।

  • উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্য: কাতার থেকে উৎপাদিত এসব যানবাহন তুরস্ক, ভারত এবং আফ্রিকাসহ একটি বিশাল আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের চাহিদাকে কাভার করবে।

  • বিশেষ টেস্ট ট্র্যাক: যানবাহনগুলোর মান যাচাইয়ে নিখুঁত বাস্তব পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে ফ্রি জোনে গড়ে তোলা হয়েছে ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ আউটডোর টেস্টিং ট্র্যাক।

স্থানীয় আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ ও ৫জি অবকাঠামো

কাতারের চরম গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরমের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি যেন মসৃণ ও নিরাপদ থাকে, তা নিয়ে কাজ করছে কাতার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (QEERI)। ব্যাটারির গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২২ সাল থেকেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থা ‘মোওয়াসালাত’ (Karwa)-এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করছে কাতারের শক্ত অবকাঠামো এবং দেশের ৭০ শতাংশ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত আধুনিক ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক।

আগামী দিনের পরিকল্পনা ও ই-মোবিলিটি ফোরাম

আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দোহায় আয়োজিত হতে যাচ্ছে 'অটোনোমাস ই-মোবিলিটি ফোরাম ২০২৬', যেখানে এসব নতুন প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় বসবেন।

পরিবহন মন্ত্রণালয় মনে করে, এই উদ্যোগগুলো 'কাতার-২০৫০ পরিবহন মহাপরিকল্পনা'র অন্যতম মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ভ্রমণের সময় এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমে গিয়ে সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’: এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’:  এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার আঙুল ফোটানোর কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে 'গ্লুকোওয়াচ' নামের এক নতুন স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। রক্ত না তুলে বা কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা মেপে দিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. খালিদ আবু আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একদল ছাত্রী—নোরা আল বার্দিনি, মাজুন আল শাহওয়ানি, ফাতিমা আল কাবী ও সারা আল মুহান্নাদি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্টের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই 'গ্লুকোওয়াচ'?

গ্লুকোওয়াচ মূলত হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপের রিডিং ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্লুকোজের পরিমাণ হিসাব করে।

এর মূল সুবিধাগুলো হলো:

  • ব্যথামুক্ত পর্যবেক্ষণ: কোনো সূঁচ না ফুটিয়ে বা রক্ত না তুলে স্বাভাবিক উপায়ে গ্লুকোজ মাপা যায়।

  • মোবাইল অ্যাপ: একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেখতে পারবেন।

  • জরুরি সংকেত: গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা কম হলে সাথে সাথে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা চলে আসবে, যা চাইলে চিকিৎসক বা স্বজনদের কাছেও পাঠানো যাবে।

প্রজেক্ট থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে কাজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নেয়। ২০২৩ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার অফ দ্য মিডল ইস্ট’-এ এই উদ্ভাবনটি স্বর্ণপদক জয় করে।

সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য

গবেষক দলটি এখন এর এআই মডেলকে আরও নিখুঁত করার কাজ চালাচ্ছে, যাতে ডিভাইসটির হিসাব একদম নিখুঁত হয়। সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. আবু আল সৌদ জানান, 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সাশ্রয়ী মূল্যে কাতারসহ বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের হাতে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।

জাপানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রোবোটিকস চালুর উদ্যোগ। ২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবটের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা জাপানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশটির চরম শ্রমিকসংকট মেটাতে ফিজিক্যাল এআই-ভিত্তিক এই রোবট প্রযুক্তিই হতে চলেছে তাদের টিকে থাকার মূল কৌশল।

নোয়েত্রা কী এবং কারা এটি তৈরি করছে
জাপানের ‘অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়’ এবং উদ্ভাবনী সংস্থা ‘এনইডিও’-এর অধীনে গঠিত হয়েছে একটি নতুন কনসোর্টিয়াম। এর নাম দেওয়া হয়েছে নোয়েত্রা। সফট ব্যাংক, এনইসি, সোনি এবং হোন্ডার যৌথ মালিকানাধীন এই কনসোর্টিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো একটি ফিজিক্যাল এআই ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করা। এটি এমন একটি মাল্টিমোডাল এআই সিস্টেম, যা ভাষা, ছবি, ভিডিও এবং সেন্সর ডেটা একসঙ্গে প্রসেস করবে এবং রোবটকে বাস্তব পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। ফুজিতসু ও রাকুটেনও এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নোয়েত্রার প্রথম ব্যবহারিক মডেল উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

কেন এই রোবট সেনা
১৯৯৫ সালে জাপানের কর্মক্ষম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর থেকে তা ক্রমাগত কমছে। ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৭ মিলিয়নে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। রিক্রুট ওয়ার্কস ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিকের ঘাটতি দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখে।

অন্যদিকে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে জাপানের ৬৫ লাখ বা ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দেশটির অত্যন্ত কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জাপানের এই বিশাল রোবট বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত কেবল প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

১৮টি অগ্রাধিকার খাতের রোবট বাহিনী
এই পরিকল্পনার অধীনে মূলত ১৮টি শিল্প ও সেবা খাতকে রোবট দিয়ে সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো খাবার তৈরি ও রেস্তোরাঁয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবার তৈরি, প্যাকেজিং ও পরিবেশন করা।

হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে রোগীদের সেবা দেওয়া, তাদের গতিশীলতায় সহায়তা করা এবং নিয়মিত কাজের তদারকি।

ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি নিষ্ক্রিয় করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার করে দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজ পরিচালনা।

এশিয়ার রোবট যুদ্ধ
জাপানের এই ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তারা ২০২৮ সালের মধ্যে ১০টি প্রধান শিল্পে হিউম্যানয়েড অর্থাৎ মানুষের মতো রোবট বাণিজ্যিকভাবে নামাতে চায়। বর্তমানে প্রতি ১০ হাজার কর্মীর বিপরীতে ১ হাজার ১২টি রোবট নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহারকারী দেশ। এ ছাড়া হুন্দাই তাদের বোস্টন ডায়নামিকস সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে প্রতিবছর ৩০ হাজার অ্যাটলাস রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চীনও এজিবোট ও ইউনিট্রির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ ঢোকার ফ্রিজ বানাল জাপান! ৫ মিনিটেই দূর হবে প্রচণ্ড গরমের ক্লান্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
মানুষ ঢোকার ফ্রিজ বানাল জাপান! ৫ মিনিটেই দূর হবে প্রচণ্ড গরমের ক্লান্তি

আপনি প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছেন? খুব বেশি বিরক্ত হচ্ছেন? এই সমস্যার সমাধানে নতুন এক ফ্রিজ আবিষ্কার করেছে জাপান। ভিন্নধর্মী এই ফ্রিজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে মানুষ। আর মুহূর্তের মধ্যেই গরমেও আরাম পাওয়ার বিষয়টি অনুভব করতে পারব আমরা।

আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানে, কিন্তু প্রচণ্ড রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনো শুনেছেন? বিশ্ব জুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ।

সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ সামনে এনেছে তাদের বিশেষ পিলে চমকানো আবিষ্কার ‘ডো হিয়েমন বক্স’। লোকে বলছে,‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।

রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের ক্যারিশমায়। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।

কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারা দিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা যায়, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়।

মজার ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, সাধারণ এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ খরচ করে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা সম্পদের শর্তাবলি পূরণ করে না, যার ফলে এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এতে উল্লেখ করা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়, বরং ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।

মুফতি তাকি উসমানি স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি আইনে মালিকানার জন্য যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা বা লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন—যে নামেই এই ডিজিটাল সম্পদগুলো বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এগুলো সবই অবৈধ বলে গণ্য হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বৈধ মালিকানা এবং সম্পদের যে সংজ্ঞা রয়েছে, এই ডিজিটাল সম্পদগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সূত্র: সামা টিভি।