১২ জুলাই ২০২৬

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা সম্পদের শর্তাবলি পূরণ করে না, যার ফলে এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এতে উল্লেখ করা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়, বরং ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।

মুফতি তাকি উসমানি স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি আইনে মালিকানার জন্য যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা বা লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন—যে নামেই এই ডিজিটাল সম্পদগুলো বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এগুলো সবই অবৈধ বলে গণ্য হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বৈধ মালিকানা এবং সম্পদের যে সংজ্ঞা রয়েছে, এই ডিজিটাল সম্পদগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সূত্র: সামা টিভি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ বা ‘হারাম’ ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা সম্পদের শর্তাবলি পূরণ করে না, যার ফলে এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এতে উল্লেখ করা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়, বরং ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।

মুফতি তাকি উসমানি স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি আইনে মালিকানার জন্য যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ লেনদেন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা বা লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন—যে নামেই এই ডিজিটাল সম্পদগুলো বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এগুলো সবই অবৈধ বলে গণ্য হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বৈধ মালিকানা এবং সম্পদের যে সংজ্ঞা রয়েছে, এই ডিজিটাল সম্পদগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সূত্র: সামা টিভি।

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একক এই কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, কমবে নগদ টাকার ব্যবহার ও প্রতারণার ঝুঁকি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই নিয়মের ফলে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ক্যাশলেস লেনদেন সহজ হবে। এখন থেকে একজন বিক্রেতার দোকানে নগদ, বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হবে না। একটিমাত্র সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করেই যেকোনো গ্রাহক সহজে তার পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ যেমন কমবে, তেমনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে আরেক ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল- সবখানেই নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাবে এই বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনে মোট প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ৮১ হাজার ৪২৩টি। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালু হলে এই ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দেবে আপনার হাতের স্মার্টফোন!

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দেবে আপনার হাতের স্মার্টফোন!

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাস না থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন কয়েক সেকেন্ড আগেই পাওয়া সম্ভব ভূমিকম্পের মারাত্মক কম্পনের খবর। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো যেখানে টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘন ঘন ভূকম্পনের ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে এই প্রযুক্তি জীবন রক্ষাকারী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম’, যা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে ব্যবহারকারীকে সতর্ক বার্তা পাঠায়।

গুগলের এই বিশেষ প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো একেকটি ছোট সিসমোমিটার (ভূকম্পন মাপক যন্ত্র) হিসেবে কাজ করে। ফোনের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর যখন কোনো অস্বাভাবিক কম্পন বা প্রাথমিক ধাক্কা সনাক্ত করে, তখন এটি তাৎক্ষণিকভাবে তার আনুমানিক লোকেশনসহ গুগলের মূল সার্ভারে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। যখন একই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অনেকগুলো ডিভাইস একসাথে এই ধরণের সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করে, তখন গুগলের কেন্দ্রীয় সিস্টেমটি ভূমিকম্প নিশ্চিত করে আক্রান্ত এলাকার মানুষের ফোনে দ্রুত অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনের মতো উন্নত অঞ্চলে গুগল সরাসরি ‘সেকঅ্যালার্ট‌’ নামক একটি নেটওয়ার্কের ১,৬০০টিরও বেশি শক্তিশালী সিসমিক সেন্সরের সাথে যুক্ত হয়ে এই সেবা দিয়ে থাকে।

গুগলের দুই ধরণের সতর্কবার্তা
১। ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ম্যাগনিচিউডের ওপর ভিত্তি করে গুগল সাধারণত দুই ধরণের অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাঠায়।

২। বি অ্যাওয়ার অ্যালার্ট সাধারণত ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার মৃদু কম্পনের ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এটি ফোনের সাধারণ নোটিফিকেশনের মতোই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।

৩। টেক অ্যাকশন অ্যালার্ট অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ও মারাত্মক কম্পনের ক্ষেত্রে এই জরুরি অ্যালার্টটি পাঠানো হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার ফোনটি যদি ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডেও থাকে, তবুও এই নোটিফিকেশনটি ফোনের সব সেটিংস ভেদ করে অত্যন্ত জোরালো ও জরুরি সাইরেন শব্দে বেজে উঠবে, যাতে ব্যবহারকারী দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সময় পান।

আপনার ফোনে যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
গুগলের এই আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সেটিংসটি চালু করতে হবে: আপনার ফোনটি অবশ্যই ‘অ্যান্ড্রয়েড ৫.০’ বা তার পরবর্তী সংস্করণের হতে হবে। ফোনে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ এবং লোকেশন সার্ভিস চালু থাকতে হবে।

চালু করার সহজ ধাপ:
১. প্রথমে আপনার ফোনের (সেটিংস) অপশনে প্রবেশ করুন।
২. স্ক্রল করে নিচে নেমে (নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থা) অপশনটিতে ট্যাপ করুন।
৩. যদি আপনার ফোনে এই অপশনটি সরাসরি না থাকে, তবে ‘লোকেশন’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাডভান্সে’ ক্লিক করুন।
৪. এবার মেনু থেকে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অপশনটি সিলেক্ট করুন।
৫. সেখানে থাকা মূল সুইচ বা টগল বাটনটি বন্ধ থাকলে, তা ক্লিক করে চালু ‘অন’ করে দিন।

একবার এই সেটিংসটি সচল হয়ে গেলে, আপনি যখন ফোন ব্যবহার করবেন না বা ফোন লক করা থাকবে, তখনও ব্যাকগ্রাউন্ডে এটি সক্রিয় থাকবে।

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে উচ্চগতির ইন্টারনেট কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অনলাইন মিটিং, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং—সবকিছুর জন্যই একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চড়া মূল্য চুকিয়ে বেশ ভালো গতির ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্পিড বা গতি পাওয়া যায় না।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

ইন্টারনেট ডাউন বা ধীরগতির এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের খরচ ছাড়াই কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান যে কারণটি কাজ করে, তা হলো ওয়াই-ফাই রাউটারটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই রাউটারকে আলমারি, টিভির পেছন বা মোটা দেয়ালের পাশে রাখেন, যা ওয়াই-ফাই সিগন্যালের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

রাউটারটি মাসের পর মাস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চালু থাকার কারণে এর অভ্যন্তরীণ প্রসেসর ও মেমোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ডিভাইসটির সার্বিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার বন্ধ করে পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করলে এর ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির সমস্যা দূর হয়।

রাউটারের অবস্থানও ইন্টারনেটের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসার এক কোণে রাউটার স্থাপন করলে দূরের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরো বাসায় তুলনামূলকভাবে সমান সিগন্যাল পৌঁছায়।

যদি এসব পদ্ধতিতেও সমস্যার সমাধান না হয়, অন্যান্য উপায়েও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে রাউটারের রিসেট অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ রাউটারে একটি ছোট রিসেট বাটন থাকে, যা চেপে ধরলে ডিভাইসটি ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যায়। এতে অনেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হতে পারে। তবে রিসেট করার পর পুনরায় নেটওয়ার্ক সেটআপ করতে হবে।

এ ছাড়া রাউটারের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ধীরগতির ইন্টারনেট মানেই যে নতুন বা আরও ব্যয়বহুল প্যাকেজ নিতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সঠিক ব্যবহার, অবস্থান পরিবর্তন, পুনরায় চালু করা, রিসেট করা কিংবা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সংযোগের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

৫ বছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে নিট মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
৫ বছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে নিট মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা

দেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে মোট ১৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বমোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্যাটেলাইটটি থেকে ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়। পরের ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিট লোকসান দেখায় সংস্থাটি। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, ওই বছরের ৩০ জুন স্যাটেলাইটের সম্পত্তি বিএসসিএল-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত হয়। ফলে ওই সময় থেকে হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ায় ‘অবচয়মূল্য’ (Depreciation) অন্তর্ভুক্ত করার কারণে কাগজে-কলমে লোকসান দেখা দিলেও পরবর্তী বছরগুলোতে সংস্থাটি আবার মুনাফায় ফিরেছে।


বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ডিটিএইচ (DTH) ও ভি-স্যাট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিদেশে ব্যান্ডউইথ বিক্রি এবং জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ মূলত একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রসীমায় জাহাজের অবস্থান শনাক্তকরণসহ সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পটি যেন ফলপ্রসূ হয়, সে জন্য বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নতুন সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের তিনটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাবনাগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পরই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নথিপত্রে এই উপগ্রহের নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। মন্ত্রীও তার জবাবে এই নতুন নাম ব্যবহার করেন।