১২ জুলাই ২০২৬

জীবনযাত্রার মানে যেভাবে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
জীবনযাত্রার মানে যেভাবে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কাতার

একটা সময় ছিল যখন জীবনযাত্রার মান বলতে কেবল অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়াকেই বোঝানো হতো। তবে একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে উন্নত বিশ্বে বাসযোগ্যতার সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন মৌলিক চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরিবেশের মান এবং নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশগুলোর এই মানদণ্ড বা সূচক নির্ণয় করে থাকে। এর মধ্যে বৈশ্বিক ডেটাবেস ‘নাম্বিও’ (Numbeo) তাদের জীবনযাত্রার মানসূচকে মূলত নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার মান, জীবনযাত্রার খরচ, আবাসন কেনার সামর্থ্য, যানজট, দূষণ এবং জলবায়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যৌথভাবে বিবেচনা করে থাকে।

নাম্বিও-এর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের জীবনযাত্রার মান সূচকে (Quality of Life Index) এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে কাতার। আগের বছরের তুলনায় এক লাফে ৬ ধাপ এগিয়ে বৈশ্বিক তালিকায় দ্বাদশ (১২তম) স্থানে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি। এর ফলে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ ১৫টি দেশের তালিকায় যেমন কাতার নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে, তেমনি এশিয়া এবং উপসাগরীয় (জিসিসি) অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ বাসযোগ্য দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

কাতারের জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান সূচকের স্কোর ১৮২ দশমিক ৭ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে এবার ১৮৮ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে। টেকসই অবকাঠামো, আধুনিক ও উন্নত জনসেবা, বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা, শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা এবং নিটোল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

বিশ্বমঞ্চে কাতার: পেছনে পড়ল পশ্চিমা পরাশক্তিরা

নাম্বিও-এর ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস, যার স্কোর ২০৫ দশমিক ৬। এর পরবর্তী শীর্ষ স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে রয়েছে লুক্সেমবার্গ, ওমান, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড।

তবে এবারের সূচকের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও আলোচিত বিষয় হলো কাতারের দুর্দান্ত উত্থান। ১৮৮ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে কাতার ঐতিহ্যগতভাবে শীর্ষ বাসযোগ্য হিসেবে পরিচিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন (১৮৭.৬)-কে টপকে গেছে। শুধু সুইডেনই নয়, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে কাতার এখন অস্ট্রেলিয়া (১৮৬.৮), নিউজিল্যান্ড (১৮৬.২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৮৪.৭) এবং স্পেন (১৮৩.৪)-এর মতো পশ্চিমা পরাশক্তি ও উন্নত দেশগুলোর চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। বৈশ্বিক তালিকার আরও নিচে অবস্থান করছে যুক্তরাজ্য (১৭৩.৮) ও ফ্রান্স (১৭২.৬)।

এক দশক আগেও যারা মরুভূমির এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাদের জন্য কাতার এবং ওমানের এই বৈশ্বিক অবস্থান একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত জবাব বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।

কাতারের মূল শক্তি যেখানে

নাম্বিও সূচকের চুলচেরা উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কাতার মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নত দেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে রয়েছে:

  • উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power): কাতারের ক্রয়ক্ষমতার স্কোর ১৭৩.৫, যা বৈশ্বিক স্তরে অন্যতম সর্বোচ্চ। এই অঞ্চলে কেবল প্রতিবেশী কুয়েত (১৭৯.৭) কাতারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের উপার্জিত রিয়ালের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মুদ্রার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও ভারসাম্যপূর্ণ।

  • অনন্য নিরাপত্তা স্কোর (Safety): কাতারের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৮৪.৮ স্কোর নিয়ে কাতার বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এই সূচকে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত (৮৬.৩) কাতারের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে।

  • সহজলভ্য আবাসন (Property Affordability): ইউরোপ বা পূর্ব এশিয়ার জনবহুল ও উন্নত রাজধানীগুলোর তুলনায় দোহায় আবাসন বা ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি সহজলভ্য। কাতারের সম্পত্তি মূল্য ও আয়ের অনুপাত (Property Price-to-Income Ratio) মাত্র ৪.৫, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোতে এই অনুপাত নিয়মিতভাবে দুই অঙ্কের ঘরে (Double Digit) অবস্থান করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের (GCC) দেশগুলোর মধ্যে ওমান ২০৩.৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বে তৃতীয় এবং এশিয়ায় শীর্ষস্থান দখল করে এই অঞ্চলের নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। ওমানের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাতার। অন্যদিকে, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৬৮.৫), কুয়েত (১৫৮.৬) এবং সৌদি আরব (১৫৪.৫) জীবনযাত্রার মানে কাতারের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১২টি দেশের মধ্যে দুটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন কেবল জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি বা তেল-গ্যাস বিক্রির কাগুজে অর্থনীতির পেছনে ছুটছে না, বরং নাগরিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত মানোন্নয়নকেই সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্র: তবে এই অনন্য অর্জনের পরও কাতারের জন্য আগামীতে আরও উন্নতির পথ খোলা রয়েছে। তীব্র গ্রীষ্মকালীন জলবায়ু এবং মরু অঞ্চলের দূষণ সংক্রান্ত প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কাতারের সামগ্রিক স্কোরের ওপর কিছুটা নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতার সরকার যদি বর্তমানে চলমান তাদের পরিবেশগত সবুজ প্রকল্প ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর কর্মসূচিগুলো আরও জোরদার করে, তবে আগামী দিনে বৈশ্বিক শীর্ষ ১০টি দেশের ভেতরে কাতারের স্থান পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করল কাতার!

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করল কাতার!

আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ান্টেড এক এশীয় নাগরিককে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণ করেছে কাতার। শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধী পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর সাথে কাতারের যৌথ ও সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযানের পর এই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্পন্ন হয়। কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ) এই খবর জানিয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় যৌথ নিরাপত্তা অভিযান

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পলাতক সন্দেহভাজনকে আটক এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি সফল করতে একটি অত্যন্ত গোপন ও নিখুঁত যৌথ নিরাপত্তা অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়:

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Interior),

কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী—লেখুইয়া (Lekhwiya), এবং

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI)।

আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তর

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আটককৃত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত থেকে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মার্কিন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।

কাতারের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা প্রোটোকল অনুসারে, ওই ব্যক্তিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত জারির আগে প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সন্দেহভাজনকে প্রথমে কাতারের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অনন্য নজির

রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি বৈশ্বিক অপরাধ দমন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কাতার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দৃঢ় ও দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্বেরই একটি অনন্য নজির। কাতার যে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লেখুইয়া বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপ তা আবারও প্রমাণ করল।

টানা দ্বিতীয়বার ডব্লিউএসআইএস (WSIS) সাইবার নিরাপত্তা পুরস্কার জিতল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
টানা দ্বিতীয়বার ডব্লিউএসআইএস (WSIS) সাইবার নিরাপত্তা পুরস্কার জিতল কাতার

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে কাতার। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত তথ্য সমাজের বিশ্ব সম্মেলন বা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) ২০২৬-এ ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে আস্থা ও নিরাপত্তা নির্মাণ’ (ALC5) বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতেছে দেশটি।

কাতারের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার (NCSA) অনন্য এবং যুগোপযোগী উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ বৈশ্বিক এই সম্মাননা দেওয়া হলো।

জেনেভায় পুরস্কার গ্রহণ

জেনেভায় আয়োজিত এক জমকালো ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কাতারের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার মহাপরিচালক আহমেদ মোহাম্মদ আল-মুতাওয়া আল-হাম্মাদি দেশের পক্ষে এই বিশ্বমানের পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের শত শত অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও অত্যাধুনিক প্রকল্পের অংশগ্রহণে একটি কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাতারকে এই শীর্ষ পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

যেভাবে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিল কাতার

কাতারের ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ (National Cyber Security Training Program) মূলত এই ক্যাটাগরিতে বিজয়ী প্রকল্প হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বিজয়ের আগে এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত জটিল ও ব্যাপক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:

  • বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত গণভোট (Public Voting),

  • আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন (Expert Evaluation), এবং

  • ডব্লিউএসআইএস-এর বিশেষায়িত কমিটির সূক্ষ্ম পর্যালোচনা।

জাতিসংঘ ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডায় অবদান

জাতিসংঘের এই বিশেষায়িত সংস্থা জানায়, ডব্লিউএসআইএস-এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাতার এই কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকরী অবদান রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে: মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে যখন সাইবার হামলার ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক ডিজিটাল যুদ্ধ প্রকট হচ্ছে, তখন কাতার তাদের জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে যে দূরদর্শী কাঠামো তৈরি করেছে—এই পুরস্কার তারই এক বৈশ্বিক প্রমাণ। এই অর্জন কাতারকে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা মানচিত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ইস্যুতে কাতারের আমির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
আঞ্চলিক উত্তেজনা ইস্যুতে কাতারের আমির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

কাতারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফোনালাপে দুই নেতা অঞ্চলের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও একমত হন।

দুই নেতা আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

এছাড়া অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংলাপভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

কাতারে শ্রমজীবী রাইডারদের মধ্যে বন্ধুসভার ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
কাতারে শ্রমজীবী রাইডারদের মধ্যে বন্ধুসভার ঠান্ডা পানীয় ও খাবার বিতরণ

কাতারে চলছে তীব্র দাবদাহ। দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এমন অসহনীয় গরমেও থেমে নেই জীবিকার তাগিদে মানুষের পথচলা। বিশেষ করে ফুড ডেলিভারি রাইডাররা—যাঁরা প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে সময়মতো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন—এই তপ্ত আবহাওয়ার অন্যতম ভুক্তভোগী।

এই শ্রমজীবী রাইডারদের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা জানাতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও এগিয়ে এসেছে কাতার প্রবাসী বন্ধুসভা। শুক্রবার, ১০ জুলাই বিকেলে কাতারের আল নাছর এলাকায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ফুড ডেলিভারি রাইডারদের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় ও হালকা খাবার বিতরণ করেন সংগঠনের তরুণ সদস্যরা।

আয়োজনে প্রায় দুই শতাধিক রাইডারের হাতে পানি, ফলের রস ও খাবার তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা ক্লান্ত রাইডাররা এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল কৃতজ্ঞতার ছাপ—এই ছোট্ট আয়োজন যেন তপ্ত দিনের ভেতর এক মুহূর্তের প্রশান্তি হয়ে আসে।

বন্ধুসভার এই মানবিক কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করে ভিআইপি মডার্ন ফার্নিচার। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুমন বাবু বলেন, মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষের কল্যাণে বন্ধুসভা কাতারের এমন সামাজিক উদ্যোগে পাশে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করে মিরাস ডেলিভারি কোম্পানিও।

সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বন্ধুসভা কাতারের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সানি বলেন, ‘আমরা আমাদের স্পনসরদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা এগিয়ে এসেছেন বলেই এমন সুন্দর একটি মানবিক আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।’

বন্ধুসভা কাতারের সভাপতি শাকিল আহমদের নেতৃত্বে এ কার্যক্রমে অংশ নেন সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্য রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মৃধা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জিহাদ, অর্থ সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক মো. নাহিদ ইসলাম, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জিয়াউল হক, বইমেলা সম্পাদক শরিফ হোসাইন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ জনি প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা কাতারের উপদেষ্টা তামীম রায়হান ও বুরহান উদ্দীন।

কর্মসূচী শেষে সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শাকিল আহমদ বলেন, তপ্ত মরুর দেশ কাতারে গ্রীষ্মকারীন এমন আয়োজন শুধু পানি বা খাবার বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আমাদের সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রকাশ, যা আমাদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা চর্চায় অনুপ্রেরণা যোগায়। ভবিষ্যতেও এমন যে কোনো আয়োজনে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ইরান-সৌদি প্রতিনিধির সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ইরান-সৌদি প্রতিনিধির সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আত্মরক্ষার্থে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয় তেহরান। এতে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছ থেকে একটি ফোন কল পান এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। দোহার পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন জাহাজের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ফোনালাপে তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় কাতার ও সৌদি আরবের জাহাজগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের উপকূলরেখা বরাবর ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।