৫ জুলাই ২০২৬

দোহায় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
দোহায় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়। এতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ স্থগিত রাখতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৪ দফার ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা, ইরানের পুনর্গঠন তহবিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

দোহার সর্বশেষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে:

কী বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে

দোহা খেকে এএফপি জানায়, বুধবার দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’

ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত ও পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

তিনি জানান, ইরানের জব্দ করা সম্পদও আলোচনায় উঠে এসেছে। যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে এসব সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

গারিবাবাদি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অংশ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সরবরাহে সম্মতি হয়েছে।

এদিকে বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সবকিছু যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানায়, দোহার এই বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী দফার বৈঠকে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।

এরপর কী

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর বাসভবনে নিহত হন। এরপর দ্রুত তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার তেহরানে কেন্দ্রীয় প্রার্থনা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থলে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব’ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

মাঠের পরিস্থিতি

জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের’ জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে। কুয়েত ও বাহরাইন উভয়েই এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

তবে কাতারে আলোচনা শুরুর আগের কয়েক দিনে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।

অন্যদিকে লেবানন সীমান্তেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অনেকটাই কমেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়াহ শহরে একটি হামলার খবর দিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এতে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

লেবানন এখনও অপেক্ষা করছে তথাকথিত ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের জন্য। দুই দেশের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী এসব এলাকায় পরে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা।

তেহরান বরাবরই বলে আসছে, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন ফ্রন্টের সংঘাতেরও অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, খামেনির দাফনের পর ফের বৈঠক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, খামেনির দাফনের পর ফের বৈঠক
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারী। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর আবারও আলোচনায় বসবে উভয়পক্ষ।

বুধবার (১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আজ দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষ করেছেন। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এবং লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’

মাজেদ আল-আনসারি আরও জানান, উভয় পক্ষ আগামী সময়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। আগামীকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০২, ২০২৬
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের বিষয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী। বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) কাতারের রাজধানী দোহায় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে গরিবাবাদী এবং শেখ মোহাম্মদ মার্কিন-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন 'চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবন্ধকতা' নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। একই সাথে এই সমস্যাগুলো কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়টি এই বৈঠকে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পায়।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী সালেহাবাদী এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদ ঘানবারি।

উল্লেখ্য, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ও পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে আসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। লেবানন ও সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দোহায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক

ইরানকে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ে প্রাথমিক সমঝোতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০২, ২০২৬
ইরানকে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ে প্রাথমিক সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় ইরানকে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। বুধবার সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি-আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়্যা।

সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় প্রতিটি অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার শর্ত দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওমানের নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। আলোচনার এ পর্ব শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে।

বুধবার দিনের শুরুতেই দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। এতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালায়।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, দোহার বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরান-ওয়াশিংটনের অন্তর্বর্তী সমঝোতা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ইরানি প্রতিনিধিদল কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং ইরান-কাতার-পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়।

রয়টার্সকে দেওয়া এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই দোহায় পরোক্ষ আলোচনা চলছে। সেখানে মূলত ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, এএফপিকে এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দোহার আলোচনা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এগোচ্ছে এবং সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনে হওয়া অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এই আলোচনা পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে নতুন পথে হাঁটছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে ১০ বছরের আবাসিক ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ ঘোষিত এই কর্মসূচি কাদের জন্য, কীভাবে আবেদন করা যাবে এবং কারা সুবিধা পাবেন— সবকিছুই স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে দেশটি ১০ বছরের আবাসিক ভিসা কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ এই ঘোষণা দেয়া হয়।


কারা আবেদন করতে পারবেন

এই কর্মসূচি কেবল দুই শ্রেণির জন্য। তারা হলেন— উদ্যোক্তা এবং শীর্ষ নির্বাহী। সাধারণ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার কিংবা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।


উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা

উদ্যোক্তাদের এমন উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন বা উদ্ভাবননির্ভর ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে, যা কাতারের বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এই ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা অর্জন করতে হলে কাতার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক (কিউএসটিপি)–এর মতো স্বীকৃত কাতারি ব্যবসা ইনকিউবেটরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে।

এছাড়া আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে গত তিন মাস ধরে ন্যূনতম ৩৬ হাজার ৫০০ কাতারি রিয়াল (প্রায় ১০ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখেরও বেশি টাকা) ব্যালান্স থাকা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এটি বিনিয়োগের বিকল্প নয়; বরং মৌলিক আর্থিক সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্যই নির্ধারিত।

শীর্ষ নির্বাহী

এই ক্যাটাগরিতে চেয়ারম্যান, সিইও, সিএফও, সিওও, সিটিও এবং নির্বাহী পরিচালকরা অন্তর্ভুক্ত। আবেদনকারীর কাতারের ভেতরে বা বাইরে যেকোনও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ বছরের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে বৈধ স্থানীয় চাকরির চুক্তি বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নির্বাহীরা আবেদন করতে পারবেন, সেগুলো হলো— কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক বা কাতার ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস অথরিটি নিয়ন্ত্রিত বীমা কোম্পানি এবং সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা, আর্থিক, আইনি বা হিসাবসেবা দেয়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

এই ভিসার বেতনসীমাও বেশি। চেয়ারম্যান ও সি-সুইট পদে ন্যূনতম মাসিক আয় হতে হবে ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ১৭ লাখ টাকা)। অন্য নির্বাহী পরিচালক পদে এই সীমা বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ হাজার রিয়াল (প্রায় ২২ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা)।

কীভাবে আবেদন করবেন

কর্মসূচিটি বর্তমানে চালুর পর্যায়ে রয়েছে। অবশ্য কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইনভেস্ট কাতার–এর মাধ্যমে যোগ্যতার শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতারের বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির চুক্তি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ পেশাগত ও আর্থিক নথি প্রস্তুতের মতো বিষয় থাকতে পারে।

উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ইনকিউবেটর বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Hukoomi পোর্টাল, ‘Start from Qatar’ বা Jusoor (Qatar Manpower Solutions & Co.) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। কারণ এখানে মেডিকেল পরীক্ষা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও যাচাই করা হয়ে থাকে। বিদ্যমান পাঁচ বছরের ভিসাধারীরা নতুন ১০ বছরের ভিসায় আপগ্রেড করতে পারবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্য কোনও বিকল্প আছে?

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতারে আবাসিক ভিসার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে। অনুমোদিত ফ্রি-হোল্ড আবাসিক এলাকায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা) বিনিয়োগ করলে স্পনসর ছাড়াই নবায়নযোগ্য আবাসিক ভিসা পাওয়া যায়।

আর ৩৬ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল (প্রায় ১০ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ২৪ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট কোটা সাপেক্ষে স্থায়ী আবাসনের আবেদন করা যায়।

স্থায়ী বসবাসকারীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুবিধাও থাকে। নতুন উদ্যোক্তা ও নির্বাহী ভিসার থেকে এটি আলাদা হলেও কাতারের সামগ্রিক দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক কৌশলের অংশ।

কাতারে সমুদ্রে নিখোঁজ নৌযান থেকে নিহত কাতারি নাগরিক ও আহত আরব প্রবাসীকে উদ্ধার করলো পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতারে সমুদ্রে নিখোঁজ নৌযান থেকে নিহত কাতারি নাগরিক ও আহত আরব প্রবাসীকে উদ্ধার করলো পুলিশ

কাতারে নির্ধারিত সময়ে ফিরে না আসা একটি সামুদ্রিক নৌযান উদ্ধারের পর এক কাতারি নাগরিকের মৃত্যু এবং এক আরব প্রবাসীর আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাতার জেনারেল ডিরেক্টরেট অব কোস্টস অ্যান্ড বর্ডার্স সিকিউরিটির নিয়মিত সামুদ্রিক নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাতার থেকে সমুদ্রে যাওয়া নৌযানটির অনুপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। নৌযানটিতে দুই জন ব্যক্তি ছিলেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ সন্ধ্যায় সামুদ্রিক টহল দল অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে। পরে রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ ভোরে জেনারেল ডিরেক্টরেট অব কোস্টস অ্যান্ড বর্ডার্স সিকিউরিটির মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম নিখোঁজ নৌযানটি খুঁজে পায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট শার্পনেলের আঘাতে নৌযানে থাকা কাতারি নাগরিক নিহত হন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম খালেদ মুহাম্মদ ইবরাহিম আসসাইয়েদ। কাতারবাসী তার ছবি শেয়ার করে তাকে শহীদ আখ্যা দিয়ে তার জন্য দোয়া করছেন।

একই ঘটনায় তার সাথে থাকা আরব প্রবাসী আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয় এবং আহত ব্যক্তির দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া প্রচলিত আইনগত কাঠামোর আওতায় অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।