২৩ জুন ২০২৬

কাতারে রাসলাফফান বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতারে রাসলাফফান বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৬৬
কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাদ শেরিদা আল-কাবি

কাতারে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বারজান লোকাল গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আজ ২২ জুন সোমবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কাতার এনার্জি কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনাটি রোববার রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা মাত্র, এর সাথে কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল না।

কাতার এনার্জির বিশেষ টিম এবং কাতারের সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

কাতার এনার্জি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন; তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত ব্যক্তিরা সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক। আহতদের মধ্যে কাতারি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, কেনিয়ান, ঘানাইয়ান, তানজানিয়ান, নাইজেরিয়ান ও নেপালি নাগরিক রয়েছেন। তবে কোন দেশের কতজন আহত হয়েছেন, তা পুরোপুরি এখনও জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বারজান প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ ছিল এবং দুই দিন আগে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনা কাতারের গ্যাস রপ্তানিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পটি স্থানীয় প্রকল্প এবং এটি কাতারের রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন এবং এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান।

কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে বারজান ও আশপাশের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। তবে কাতার এনার্জির এলএনজি স্থাপনা, রাস লাফান বন্দর, অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম এবং রপ্তানি সক্ষমতা এ ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

পুরো ঘটনার কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট

কাতারে গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতারে গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

কাতারে রবিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় কাতারের রাজধানী দোহাসহ পুরো দেশজুড়ে ঘরবাড়ির জানালা দরজা কেঁপে ওঠে। অনেকে এটিকে ভূমিকম্প বা আবারও নতুন করে হামলা ভেবে বসেন।

পরে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এটি কাতারের বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র রাসলাফফানের ভেতরে টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে একটি বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে।

সর্বশেষ জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৪ জন। অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন। আহতদের উদ্ধার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে কাতারের বিশেষ বাহিনী।

ফায়ার সার্ভিস বাহিনী রাতভর পুরো দমে সেটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এখনও দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে গ্যাস বা কোনো বিপদজনক পদার্থ লিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েনি।

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর জানায় কাতার পুলিশ।

আরও পড়ুন

কাতারে চাকরির বাজারে যেসব পেশায় কাজের চাহিদা বেশি

কাতারে প্রবাসীদের জন্য কিছু চাকরির খবর

কাতারে চাকরির বাজারে এখন যেসব পেশার চাহিদা বেশি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাতারে চাকরির বাজারে এখন যেসব পেশার চাহিদা বেশি

কাতারের শ্রমবাজারে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে অ্যাকাউন্টিং,আইটি এবং প্রকশল ইঞ্জিনিয়ারিংখাতগুলোকে চিহ্নিত করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি কাতার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতার শ্রম মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালেম আল খুলাইফি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের শ্রমবাজারে নানারকম পরিবর্তন ঘটছে এবং কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।

মোহাম্মদ সালেম আল খুলাইফি জানান, কাতারে চাকুরীর বাজারে অ্যাকাউন্টিংয়ের চাহিদা বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। এর পাশাপাশি এইচআর,আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখা—বিশেষ করে কম্পিউটার, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা এখন শীর্ষে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পেশাগত পদগুলোও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরগুলোতে এই চাহিদার ধরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সফলভাবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়েছেন আল খুলাইফি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের কারণে অনেক সময় যোগ্য প্রার্থীরা উপযুক্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অথবা এমন পদের সাথে তাঁদের প্রোফাইল মিলে যেতে পারে যা তাঁদের অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কাতার প্রবাসীদের জন্য চাকরির খবর: ২১ জুন ২০২৬

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাতার প্রবাসীদের জন্য চাকরির খবর: ২১ জুন ২০২৬

কাতারের পত্র-পত্রিকায় আজ প্রকাশিত কয়েকটি চাকরির খবর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে। সঠিক নিয়মে নিচের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে উল্লেখিত নাম্বারে বা ই-মেইলে আপনার সিভি সহ যোগাগোগ করুন।

গালফ বাংলা নিউজে প্রকাশিত বিভিন্ন চাকরির খবরগুলো আপনাদের সুবিধার্থে শুধুমাত্র তথ্য হিসেবে শেয়ার করা হয়। যে কোনো চাকরিতে আবেদন করার আগে অনুগ্রহ করে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:

  • গালফ বাংলা সবসময় কাতারের প্রচলিত আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তথ্য প্রকাশ করে।
  • প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ওপর ভিত্তি করে নিজের যোগ্যতা যাচাই করে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
  • কোনো চাকরিদাতা বা মধ্যস্থতাকারী যদি চাকরির বিনিময়ে টাকা-পয়সা বা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের দাবি করে, তবে তা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
  • চাকরির আবেদন বা কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক লেনদেনের কারণে কোনো ক্ষতি বা প্রতারণার শিকার হলে গালফ বাংলা নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।
  • চাকরি পাওয়ার জন্য কাউকে অগ্রিম টাকা দেবেন না। নিজে সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

স্বপ্নভঙ্গ মাত্র দুই ম্যাচেই! ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ‘তুরস্ক’

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
স্বপ্নভঙ্গ মাত্র দুই ম্যাচেই! ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ‘তুরস্ক’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল তুরস্ককে। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। এরপর মাঝে বিশ্বকাপের ৫টি আসর গেলেও খেলার সুযোগ হয়নি দলটির। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়াটা তাই বেশ হতাশারই। এর আরেকটা কারণ, তারকাবহুল দল। এই দলে কে ছিলেন না? আর্দা গুলের, কেনান ইয়িলদিজ, হাকান চালহানওগলুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাত্র দুই ম্যাচেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। কেন এই বিদায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

লক্ষ্যহীন আক্রমণ

একটি দলের মূল শক্তি হলো আক্রমণের নিশানা ঠিক থাকা। একের পর এক আক্রমণ করেও যদি জাল খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সব মূল্যহীন। তুরস্কের বেলায় মূল কারণ হিসেবে এটাই ধরা যায়, লক্ষ্যহীন আক্রমণ। যার ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, চালহানওগলুরা। পরিসংখ্যানের হিসাবটা বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। তুরস্কে দুই ম্যাচে মোট শট নিয়েছে ৬২টি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর মধ্যে একটি শটও তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে পারেনি। এর ফলে বিব্রতকর এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই ম্যাচে এতগুলো প্রচেষ্টা নিয়েও গোলশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে তারা।

ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা

তুরস্কের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ভয়াবহ ফিনিশিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অথচ ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—ম্যাচে আধিপত্য, বল দখল কিংবা আক্রমণের হিসেবে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়েই বারবার খেই হারিয়েছেন তুর্কিরা। ফলে যথাযথ ফিনিশিংয়ের অভাবে দুই ম্যাচে একটি গোলও দিতে পারেনি তারা।

নম্বর নাইনের অভাব

তুরস্কের ম্যাচগুলোয় মাঝমাঠে বেশ ভালো পজিশনে ছিলেন মিডফিল্ডাররা। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। আর্দা গুলের কিংবা কেনান ইয়িলদিজ সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো নির্ভরযোগ্য ‘নাম্বার নাইন’ ছিল না দলে। ফলে আক্রমণভাগে প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে দুই ম্যাচে। গোলের সামনে গিয়েও বারবার ভেঙে পড়তে হয়েছে তুর্কিদের। তুর্কি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দলের স্কোয়াড গঠনের এই দুর্বলতা পুরো টুর্নামেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্যর্থতা আরো বেশি হতাশাজনক। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ ১০ জন নিয়ে খেলেছে। সংখ্যাগত সুবিধা, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল এবং একের পর এক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল তুরস্কের পক্ষে। কিন্তু দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা কিংবা কার্যকর আক্রমণ কোনোটিই দেখা যায়নি। বরং অসংখ্য ক্রস ও দূরপাল্লার শট নষ্ট হয়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।

কোচের বেখাপ্পা কৌশল

কৌশলগত দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলাকে নিয়ে। তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা মাঝে মধ্যে রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে একপ্রকার ফাঁকা পোস্টের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ। অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণ থেকে যে দুটি গোল করেছে, সেগুলো কোচের বেখাপ্পা কৌশলের ফল। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোল হজম করে নিজের পরিকল্পনা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন মনতেলা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে চাপ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।

অতিরিক্ত নির্ভরতায় ভরাডুবি

তুরস্কের ভরাডুবির আরেকটি বড় কারণ তারকা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দলটি কয়েকজন তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর্দা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজকে ঘিরেই বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে উঠছিল। এ বিষয়টি প্রতিপক্ষও আঁচ করতে পেরে তাদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে দিয়েছে। তখন বিকল্প কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি তুরস্কের খেলায়। ফলে আক্রমণ হয়ে পড়েছিল একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য। এই সুযোগটাই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ।

বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফিরে এসে তুরস্কের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকা সত্ত্বেও গোল করার অক্ষমতা, কৌশলগত দুর্বলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তারা পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটিতে। দুই ম্যাচে ৬২ শট, শূন্য গোল এবং শূন্য পয়েন্ট—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রা।

কাতারে পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, আইন অমান্যে বড় জরিমানা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাতারে পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, আইন অমান্যে বড় জরিমানা

অভিবাসী ও পর্যটকদের রেসিডেন্সি ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে কাতার সরকার। এখন থেকে কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিলের পর দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। যার মেয়াদ আগে ছিল ৩০ দিন। এছাড়া, নির্দিষ্ট সময়সীমার পর দেশটিতে অবস্থান করলে পর্যটকদের গুণতে হবে মোটা অংকের জরিমানা। নতুন আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান প্রবাসী বাংলাদেশিদের।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সরকার। অভিবাসী ও পর্যটকদের ভিসার বৈধতা ও দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদের বিষয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন নির্দেশনার কথা জানায় কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগে রেসিডেন্সি পারমিট বাতিলের পর প্রবাসীরা ৩০ দিন পর্যন্ত কাতারে থাকার সুযোগ পেতেন। এখন এই মেয়াদ কমিয়ে করা হয়েছে দুই সপ্তাহ। নতুন নিয়মে আকামা বাতিলের পর নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে তাদের কাতার ত্যাগ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রবাসীদের প্রতিদিন গুণতে হবে কাতারি ১০ রিয়াল হারে বিলম্ব জরিমানা।

একইসঙ্গে কাতারে আসা পর্যটকদের জন্য দেয়া হয়েছে কড়া সতর্কবার্তা। এরইমধ্যে যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে ভিজিটর বা পর্যটকদের পাসপোর্টের ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ। ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য পর্যটকদের দিতে হবে বড় অঙ্কের ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা। এসব ঝামেলা এড়াতে নতুন আইনকানুন মেনে চলার আহবান প্রবাসী বাংলাদেশিদের।

ভ্রমণ জটিলতা এড়াতে কাতার ছাড়ার আগে প্রবাসীদের 'মেট্রাশ' মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বৈধতা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বকেয়া ট্রাফিক ফাইন, সরকারি পাওনা থাকলে তা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ভ্রমণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি এড়াতে ইলেকট্রনিক গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে।