কাতারে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বারজান লোকাল গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আজ ২২ জুন সোমবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কাতার এনার্জি কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনাটি রোববার রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা মাত্র, এর সাথে কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল না।
কাতার এনার্জির বিশেষ টিম এবং কাতারের সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

কাতার এনার্জি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন; তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত ব্যক্তিরা সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক। আহতদের মধ্যে কাতারি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, কেনিয়ান, ঘানাইয়ান, তানজানিয়ান, নাইজেরিয়ান ও নেপালি নাগরিক রয়েছেন। তবে কোন দেশের কতজন আহত হয়েছেন, তা পুরোপুরি এখনও জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বারজান প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ ছিল এবং দুই দিন আগে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনা কাতারের গ্যাস রপ্তানিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পটি স্থানীয় প্রকল্প এবং এটি কাতারের রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন এবং এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান।

কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে বারজান ও আশপাশের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। তবে কাতার এনার্জির এলএনজি স্থাপনা, রাস লাফান বন্দর, অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম এবং রপ্তানি সক্ষমতা এ ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
পুরো ঘটনার কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে।