২১ জুন ২০২৬

কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন
১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন
১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রবাসে এনআইডি নিতে গিয়ে ২২ হাজার আবেদন বাতিল! তালিকায় কাতার, আমিরাত ও সৌদি প্রবাসীরা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
প্রবাসে এনআইডি নিতে গিয়ে ২২ হাজার আবেদন বাতিল! তালিকায় কাতার, আমিরাত ও সৌদি প্রবাসীরা

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল করল ইসিপ্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ না থাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য পাঠানো ২২ হাজার ৩৫২ জন প্রবাসী বাংলাদেশির আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আবেদন বাতিল হলেও প্রবাসীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, নিয়ম মেনে তাঁরা আবারও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসির প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বায়োমেট্রিক দিয়েছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন।

বাকি আবেদনগুলোর মধ্যে ১০ হাজার ১৪১টি সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ৩৭ হাজার ১৬টি আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ হাজার ১৮টি এনআইডি প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে এই ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম সচল রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে (২৩ হাজার ৯৪০টি) এবং সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে (১২৬টি)। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১৭ হাজার ৩০টি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ হাজার ৮১২টি, ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি, জাপান থেকে ৩০৯টি এবং মালদ্বীপ থেকে ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র [ফরম-২(ক)]-এর সাথে কিছু নথি বাধ্যতামূলকভাবে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদসহ বা মেয়াদহীন বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিনজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়নপত্র, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

তবে চট্টগ্রামের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা বা থানার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ‘বিশেষ তথ্য ফরম’, শিক্ষা সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি (মৃত হলে মৃত্যু সনদ), ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, নাগরিকত্ব সনদ এবং ইউটিলিটি বিলের কপিসহ কিছু বাড়তি কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করার পর নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার উপজেলায় তদন্ত পাঠিয়ে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে। তদন্তে সব ঠিকঠাক পাওয়া গেলেই কেবল আবেদন অনুমোদন করে এনআইডি প্রিন্ট করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জর্ডানে অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য বিশাল সুখবর! ঘোষিত হলো সাধারণ ক্ষমা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
জর্ডানে অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য বিশাল সুখবর! ঘোষিত হলো সাধারণ ক্ষমা

জর্ডানে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে তারা সেখানে বৈধ হতে পারবেন অথবা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন।
বুধবার (১৭ জুন) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস।

এতে বলা হয়, জর্ডান সরকার দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় কোনো অবৈধ শ্রমিক চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। অথবা শর্তসাপেক্ষে জর্ডানে থেকে কাজও করতে পারবেন।

শুধু তাই নয়, সাধারণ ক্ষমার আওতায় চাইলে কোনো শ্রমিক তার কর্মস্থল পরিবর্তন করতে পারবেন। গৃহকর্মীরা চাইলে নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া যারা ভ্রমণ ভিসায় জর্ডান গিয়েছে, তারা চাইলে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন।
সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রযোজ্য যে কোন সুবিধা নিতে দূতাবাসের সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ২৮ বছর বয়সী যুবক মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ। কম্বোডিয়ায় একটি বৈধ আইটি প্রতিষ্ঠান বা শপিং মলে চাকরি পাবেন—এমনটাই আশা ছিল তার। কিন্তু সেই আশা নিয়ে দেশ ছাড়লেও মানবপাচারকারীরা তাকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার এমন অবৈধ বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরে আসা ২২১ জন বাংলাদেশির মধ্যে বায়েজিদ একজন। ভুয়া চাকরির প্রলোভনে পড়ে তারা সেখানে বন্দি ছিলেন।

দালাল কাউসার হাবিবের মাধ্যমে বায়েজীদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শুরু। বিদেশে কাজের জন্য কাউসার হাবিবের সাথে বায়েজিদের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং তার পাসপোর্ট দালালের হাতে তুলে দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি কম্বোডিয়ার টেচো বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরে নামার পর মিন্টু ও সাইফুল নামে স্থানীয় দুই দালাল তাকে রিসিভ করে একটি হোটেলে আটকে রাখে। পরে তারা বায়েজিদকে সাইবার অপরাধ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।

ওই বন্দিশালার ভেতরে এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে আটকে রেখে কঠোর পরিশ্রম ও নির্যাতন করতে থাকে। বায়েজিদের পরিবার ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। শেষ পর্যন্ত তিনি “ব্যাক মাইগ্রেশন” নামক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগেরই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ ছাড়পত্র ছিল। কিন্তু চীনা চক্রের সাথে হাত মেলানো বাংলাদেশি দালালদের একটি নেটওয়ার্কের কারণে তারা প্রতারণার শিকার হন।

নির্যাতন সেল এবং ইলেকট্রিক শক

ভুক্তভোগীরা শরীরে নির্যাতনের গভীর চিহ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তারা জানান, তাদেরকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে পারতেন না কিংবা কাজে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদেরকে নির্যাতন সেলে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চালায়। এই অভিযানের কারণে চীনা অপরাধীরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে বন্দি বাংলাদেশিরা সেখান থেকে পালিয়ে আসার সুযোগ পান।

কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা এই ভুক্তভোগীদের মনে এবং শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, বন্দিদের ছোট ছোট কামরায় আটকে রাখা হতো এবং কোটা পূরণের জন্য দিনরাত অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি করতে বাধ্য করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, কাজ করতে রাজি না হলে বা লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে নির্যাতন সেলে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক ব্যাপক অভিযানের পর চীনা ক্যাম্প পরিচালকেরা পালিয়ে গেলে এই চরম অত্যাচার বন্ধ হয়। মুক্ত হন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা।

দালাল অপুর ‘মানবপাচার’ সাম্রাজ্য

ফিরে আসা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা আব্দুল্লাহ আল মামুন অপু। তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দাম ২০১৫ সালের দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে কম্বোডিয়ার নমপেনে স্থায়ী হন। কম্বোডিয়ার পাসপোর্টধারী অপু নিজেকে কম্বোডিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি নজরদারি এড়িয়ে চলছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নেন অপু। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। এর ফলে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের যাওয়ার হার হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যও এই বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই ২ হাজার ৪০৮ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন।

যেভাবে পাতা হয় ফাঁদ

ভুক্তভোগী মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ গত ১৫ জুন ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি সুসংগঠিত চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে তাকে এই ফাঁদে ফেলেছে। মামলায় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী ৫০ বছর বয়সী মো. কাউসার হাবিব, কম্বোডিয়া প্রবাসী কুষ্টিয়ার ৩২ বছর বয়সী দালাল মিন্টু এবং নোয়াখালীর ৪২ বছর বয়সী সাইফুলসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বায়েজিদের এক খালার মাধ্যমে তার সঙ্গে কাউসার হাবিবের পরিচয় হয়। কাউসার ২০২২ সালের আগস্টে বায়েজিদকে কম্বোডিয়ায় প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। এজন্য ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বায়েজিদের সঙ্গে কাউসারের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ প্রথমে পাসপোর্টের সাথে নগদ এক লাখ টাকা দেন এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাঠান।

২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর বায়েজিদের ফ্লাইটের টিকেট কেনা হয়। এরপর ১ নভেম্বর যাত্রার দিন সকালে বায়েজিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাউসারের সাথে দেখা করে শেষ কিস্তির এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন।

কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর ‘বিক্রি’

বায়েজিদ কম্বোডিয়া পৌঁছে তাকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কাউসারকে মেসেজ দিলে কাউসার তার স্থানীয় সহযোগী মিন্টু ও সাইফুলকে বায়েজিদকে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা তাকে কাজের জায়গায় না নিয়ে “হোটেল রয়্যাল এ ওয়ান”-এ নিয়ে যান এবং সেখান থেকে দ্রুত একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেন।

সেই বন্দিশালার ভেতরে কো ওয়াং নামের এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে ড্রেন পরিষ্কার করার মতো অত্যন্ত কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করেন। বায়েজিদ এতে বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বায়েজিদকে জানানো হয়, তাকে ৩ হাজার ডলারে কিনে নেওয়া হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য বায়েজিদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে তার পরিবারকে দেখানো হতো।

ছেলের জীবন বাঁচাতে বায়েজিদের পরিবার চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কো ওয়াংকে ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেয়। মুক্তির পর বায়েজিদ একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে তিনি “জাক মাইগ্রেশন” নামক একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তাদের সহায়তায় বায়েজিদসহ আরও ৫৩ জন ভুক্তভোগী ২০২৬ সালের ১ জুন কম্বোডিয়া থেকে রওনা হয়ে ঢাকায় পৌঁছান। সেখানে জাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মানবপাচারের এক ভয়াবহ নতুন রূপ

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণেই এই যুবকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল সাইবার অপরাধ বা স্ক্যামিং হলো আধুনিক মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। যেহেতু একজন ভুক্তভোগী কঠোর মানবপাচার বিরোধী আইনে মামলা করেছেন, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা।

শরিফুল হাসান বলেন, সরকারি ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভুক্তভোগীদের ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হলো, সেই স্থানীয় রিক্রুটিং নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করা জরুরি। এই চক্রগুলো ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া আইটি বা কল সেন্টারের চাকরির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে নাগরিকদের থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার যেকোনো চাকরির প্রস্তাব ভালোভাবে যাচাই করার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী ও প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্টসেবা আরও সহজ ও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালের ৪ জুন পর্যন্ত দেশে সক্রিয় পাসপোর্টধারীর সংখ্যা ২ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩ জন।

তিনি জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ফি কমানোর বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত একটি প্রস্তাব বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের আবেদন সহজ করতে বিভিন্ন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের (এমইকে) মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের পাসপোর্টসেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডএক্সের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠাচ্ছে বলেও জানান তিনি।