৬ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ
সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান। সূত্র: লকহিড মার্টিন।
টপ স্টোরিজ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিমান বাহিনীর KC-130J রিফুয়েলিং বিমান বহরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কুয়েতের কাছে প্রায় ২৩৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অনুসারে, কুয়েত একটি পাঁচ বছর মেয়াদী সহায়তা প্যাকেজের জন্য অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কেসি-১৩০জে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত, সরবরাহ ও কর্মী প্রশিক্ষণ পরিষেবা। এই প্যাকেজে কেসি-১৩০জে বহরের দীর্ঘমেয়াদী পরিচালন ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য মেরামত পরিষেবা, সফটওয়্যার সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে, এই চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ-ন্যাটো মিত্র কুয়েতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সহায়তা প্যাকেজটি কুয়েতি বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করবে, মার্কিন বাহিনীর সাথে সমন্বয় বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

বর্তমানে কুয়েত বিমান বাহিনী সামরিক পরিবহন, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং রসদ সরবরাহ মিশনের জন্য কেসি-১৩০জে বিমান ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, এই নতুন সহায়তা প্যাকেজটি এই ধরনের বিমানের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সাথে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ বিমান কর্মসূচি দপ্তরকে কুয়েতের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকরভাবে কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।

ওয়াশিংটন আরও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের এই সরঞ্জাম ও পরিষেবাগুলো গ্রহণ এবং নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। একই সাথে তারা এও জোর দিয়েছে যে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করবে না।

কুয়েতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বিদেশী বিনিয়োগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কুয়েতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বিদেশী বিনিয়োগ
টপ স্টোরিজ

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ১ হাজার ৬০০ কোটি বা ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিদেশী বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। দেশটির জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্কে অংশীদার হয়েছে বিশ্বের তিন শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড। এটি কুয়েতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর এফটি।

চুক্তি অনুযায়ী, ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড যৌথভাবে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ৪৯ শতাংশ মালিকানা নেবে। যৌথ উদ্যোগটি কুয়েতের ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় পরিচালনা করবে। তবে পাইপলাইন ব্যবহারের অধিকার কুয়েতের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির কাছেই থাকবে।

অর্থাৎ অবকাঠামোর মালিকানা ও পরিচালনার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই বিদেশী পুঁজি নেয়া হচ্ছে।

চুক্তির মাধ্যমে কুয়েত তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার পাবে। সরকার এ অর্থ জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের মধ্যে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

কুয়েত সরকারের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম বড় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) উপ-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ নাওয়াফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, ‘কঠিন আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেও কুয়েত এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।’

ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যান বলেন, ‘বিপুল সম্পদ, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও অর্থনীতিকে বহুমুখী করার প্রচেষ্টার কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।’

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেই কুয়েত; মার্কিন মিডিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেই কুয়েত; মার্কিন মিডিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান
টপ স্টোরিজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুয়েত। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শেখা আল-জাইন আল-সাবাহ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, কুয়েত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি এবং দেশটির ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি।

এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিভিন্ন শহরে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া। আরব দেশগুলোতে হামলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস, বিমানে আগুন

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস, বিমানে আগুন
টপ স্টোরিজ

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার-ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এছাড়া, পৃথক হামলায় একটি বিমান সরঞ্জাম গুদাম ও মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়েছে, এতে বেশ কয়েকটি বিমানে আগুন লেগে যায়।

এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কারমানশাহ প্রদেশের এসলামাবাদ-ই ঘার্ব এলাকায় একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে ইরান।

মেহর নিউজ জানায়, ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স। সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।

বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করল কুয়েত

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করল কুয়েত
টপ স্টোরিজ

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ইরানকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে কুয়েত। দেশটি এ হামলার আইনি, নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য তেহরানকে দায় বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে।

শাফাক নিউজ জানায়, রোববার এক বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় ধারাবাহিক ও ইচ্ছাকৃত হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন।

কুয়েত আরও জানায়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করে দেশের নিরাপত্তা, ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র। হামলায় সেখানে আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা
টপ স্টোরিজ

ইরানের ড্রোন হামলায় শুক্রবার সকালে কুয়েতের কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এক বিবৃতিতে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি ড্রোন দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনা ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালালে কুয়েত ল্যান্ড ফোর্সের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ দিরজ সাদ আল-শুরাইয়ান এবং ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল সাবাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ আহত সেনাসদস্যদের হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

এ সময় চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।