১৯ জুলাই ২০২৬

কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
কুয়েতের সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বেশ কয়েকজন সেনা

ইরানের ড্রোন হামলায় শুক্রবার সকালে কুয়েতের কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এক বিবৃতিতে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি ড্রোন দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনা ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালালে কুয়েত ল্যান্ড ফোর্সের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ দিরজ সাদ আল-শুরাইয়ান এবং ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল সাবাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ আহত সেনাসদস্যদের হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

এ সময় চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আলোচনা চালাচ্ছে কুয়েত। বিনিময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অনুরোধ

একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কুয়েত তাদের দেশে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করতে চায়। এছাড়া যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে তারা। আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের হামলা ও কুয়েতের দুর্বলতা

চলমান যুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলায় তেলসমৃদ্ধ কুয়েত মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত শুক্রবারও ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত সহজেই ইরান ও ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি ও পাকিস্তানের ভূমিকা

কুয়েতের এই পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। সেখানে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল-সালেম’ নামের দুটি বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা অংশীদার। পাশাপাশি ইরানের সাথেও তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সুসম্পর্কের কারণে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে।

সৌদি আরবের পর কুয়েতের উদ্যোগ

কুয়েতের এই আলোচনা প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বা সহযোগী শক্তি হিসেবে পাকিস্তান উঠে আসছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবও মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল।

সৌদি আরব ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে বড় সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। রয়টার্সের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদিতে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

ঝুঁকিতে পাকিস্তান

কুয়েত ও পাকিস্তান ২০২৩ সালে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করেছিল। তবে সৌদি আরবের মতো কুয়েতের সঙ্গেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ এবং ইরানের ওপর তাদের প্রভাব কুয়েতের চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ কুয়েত সামরিক দিক থেকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’।

কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।

ওয়াশিংটনের সামরিক অবস্থান ধ্বংস করতেই এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি-র প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে তাদের চলমান ‘নাসর ২’ নামক বিশেষ সামরিক অভিযানের অষ্টম তরঙ্গের অংশ হিসেবে এই আকস্মিক হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া রাডার ব্যবস্থা এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যদের একটি প্রধান সমাবেশস্থলকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে তেহরানের সামরিক কমান্ড সেন্টকমের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছে যে মার্কিন প্রশাসন ইরানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য কুয়েতের মাটিকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কুয়েতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি তাদের দেশ থেকে সমস্ত মার্কিন সৈন্য ও সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি জানানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ
সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান। সূত্র: লকহিড মার্টিন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিমান বাহিনীর KC-130J রিফুয়েলিং বিমান বহরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কুয়েতের কাছে প্রায় ২৩৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অনুসারে, কুয়েত একটি পাঁচ বছর মেয়াদী সহায়তা প্যাকেজের জন্য অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কেসি-১৩০জে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত, সরবরাহ ও কর্মী প্রশিক্ষণ পরিষেবা। এই প্যাকেজে কেসি-১৩০জে বহরের দীর্ঘমেয়াদী পরিচালন ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য মেরামত পরিষেবা, সফটওয়্যার সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে, এই চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ-ন্যাটো মিত্র কুয়েতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সহায়তা প্যাকেজটি কুয়েতি বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করবে, মার্কিন বাহিনীর সাথে সমন্বয় বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

বর্তমানে কুয়েত বিমান বাহিনী সামরিক পরিবহন, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং রসদ সরবরাহ মিশনের জন্য কেসি-১৩০জে বিমান ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, এই নতুন সহায়তা প্যাকেজটি এই ধরনের বিমানের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সাথে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ বিমান কর্মসূচি দপ্তরকে কুয়েতের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকরভাবে কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।

ওয়াশিংটন আরও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের এই সরঞ্জাম ও পরিষেবাগুলো গ্রহণ এবং নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। একই সাথে তারা এও জোর দিয়েছে যে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করবে না।