৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আলোচনা চালাচ্ছে কুয়েত। বিনিময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অনুরোধ

একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কুয়েত তাদের দেশে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করতে চায়। এছাড়া যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে তারা। আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের হামলা ও কুয়েতের দুর্বলতা

চলমান যুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলায় তেলসমৃদ্ধ কুয়েত মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত শুক্রবারও ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত সহজেই ইরান ও ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি ও পাকিস্তানের ভূমিকা

কুয়েতের এই পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। সেখানে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল-সালেম’ নামের দুটি বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা অংশীদার। পাশাপাশি ইরানের সাথেও তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সুসম্পর্কের কারণে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে।

সৌদি আরবের পর কুয়েতের উদ্যোগ

কুয়েতের এই আলোচনা প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বা সহযোগী শক্তি হিসেবে পাকিস্তান উঠে আসছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবও মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল।

সৌদি আরব ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে বড় সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। রয়টার্সের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদিতে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

ঝুঁকিতে পাকিস্তান

কুয়েত ও পাকিস্তান ২০২৩ সালে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করেছিল। তবে সৌদি আরবের মতো কুয়েতের সঙ্গেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ এবং ইরানের ওপর তাদের প্রভাব কুয়েতের চেয়ে অনেক বেশি। মাত্র ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ কুয়েত সামরিক দিক থেকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

কুয়েতের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা শত্রুতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। এর একদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া শত্রুতা ‘খুব বেশি দিন’ স্থায়ী হবে না।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, দেশটিতে শোনা যেকোনো বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার কারণে হচ্ছে।

এর আগে বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি মনে করি না এটি (যুদ্ধ) আর খুব বেশি সময় চলবে... আমি জানি না তারা (ইরান) আর কতটা সহ্য করতে পারবে। তিনি মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাকে ‘খুবই ব্যাপক’ হিসেবেও বর্ণনা করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো সময়’ আরও সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত।

মঙ্গলবারের হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের যুদ্ধ যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান সংঘাতকে তুলনামূলকভাবে ‘নীরব’ রাখার চেষ্টা করছেন।

আলোচনাগুলোর বিষয়ে অবগত চারজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, এর উদ্দেশ্য হলো এই সংঘাতের কারণে রিপাবলিকানদের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা। কারণ এই যুদ্ধ আমেরিকানদের মধ্যে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন

কাতারে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

পাকিস্তানের পর ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী কুয়েত

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
পাকিস্তানের পর ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী কুয়েত

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মধ্যে এবার ভারতের সঙ্গেও একই খাতে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে কুয়েত। এরই ধারাবাহিকতায় চুক্তির সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব অমিতাভ প্রসাদ। বৈঠকে তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিভাগের তিন বাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও), আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আল সাক্রান।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশটির বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়েত সফর করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সফরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। এখন সেই সমঝোতা স্মারককে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ একটি চুক্তিতে রূপ দিতে চায় ভারত ও কুয়েত।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির চূড়ান্ত কাঠামো বা বিষয়বস্তু এখনো নির্ধারিত হয়নি। শুক্রবারের বৈঠকে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণার বিষয়গুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি

এর আগে গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে কুয়েত। চুক্তির পর কুয়েতের সামরিক বাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।

পাকিস্তানের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ দেখাল কুয়েত। ফলে একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গেই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট।

পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান ও কুয়েত। এই চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে “প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬”।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ এই চুক্তিতে সই করেন। এর আগে ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হয়েছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে সামরিক প্রশিক্ষণ, নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের সম্মতিক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি আরও অনেক বেড়ে যাবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের মন্ত্রীরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল কাজের সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে গত কিছুদিন ধরে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বেশ বাড়িয়ে চলেছে পাকিস্তান। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সাথে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল পাকিস্তান। এরপর চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

কুয়েতে ভিজিট ভিসা ও প্রবাসীদের ছুটির অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আইনি নিয়ম কার্যকর হবে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে।

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ত্যাগ করতে পারেননি। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও সময়মতো দেশটিতে ফিরতে পারেননি।

এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।

তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা আইন ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেয়া একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই এটি চালু করা হয়েছিল।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীকে ভিসায় উল্লেখিত বৈধতার শেষ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না।

কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা আগে থেকেই যাচাই করতে হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা বা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে-এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নির্ভর করবে।

কুয়েতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বিদেশী বিনিয়োগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কুয়েতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বিদেশী বিনিয়োগ

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ১ হাজার ৬০০ কোটি বা ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিদেশী বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। দেশটির জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্কে অংশীদার হয়েছে বিশ্বের তিন শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড। এটি কুয়েতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর এফটি।

চুক্তি অনুযায়ী, ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড যৌথভাবে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ৪৯ শতাংশ মালিকানা নেবে। যৌথ উদ্যোগটি কুয়েতের ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় পরিচালনা করবে। তবে পাইপলাইন ব্যবহারের অধিকার কুয়েতের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির কাছেই থাকবে।

অর্থাৎ অবকাঠামোর মালিকানা ও পরিচালনার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই বিদেশী পুঁজি নেয়া হচ্ছে।

চুক্তির মাধ্যমে কুয়েত তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার পাবে। সরকার এ অর্থ জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের মধ্যে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

কুয়েত সরকারের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম বড় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) উপ-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ নাওয়াফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, ‘কঠিন আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেও কুয়েত এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।’

ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যান বলেন, ‘বিপুল সম্পদ, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও অর্থনীতিকে বহুমুখী করার প্রচেষ্টার কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।’