১৭ জুলাই ২০২৬

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’।
টপ স্টোরিজ

কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।

ওয়াশিংটনের সামরিক অবস্থান ধ্বংস করতেই এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি-র প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে তাদের চলমান ‘নাসর ২’ নামক বিশেষ সামরিক অভিযানের অষ্টম তরঙ্গের অংশ হিসেবে এই আকস্মিক হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া রাডার ব্যবস্থা এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যদের একটি প্রধান সমাবেশস্থলকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে।

বিবৃতিতে তেহরানের সামরিক কমান্ড সেন্টকমের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছে যে মার্কিন প্রশাসন ইরানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য কুয়েতের মাটিকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কুয়েতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি তাদের দেশ থেকে সমস্ত মার্কিন সৈন্য ও সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি জানানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী শান্ত হতেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তৎপরতা; কুয়েতি বিমান বাহিনীর জন্য মেগা প্যাকেজ
সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান। সূত্র: লকহিড মার্টিন।
টপ স্টোরিজ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিমান বাহিনীর KC-130J রিফুয়েলিং বিমান বহরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কুয়েতের কাছে প্রায় ২৩৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অনুসারে, কুয়েত একটি পাঁচ বছর মেয়াদী সহায়তা প্যাকেজের জন্য অনুরোধ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কেসি-১৩০জে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত, সরবরাহ ও কর্মী প্রশিক্ষণ পরিষেবা। এই প্যাকেজে কেসি-১৩০জে বহরের দীর্ঘমেয়াদী পরিচালন ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য মেরামত পরিষেবা, সফটওয়্যার সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে, এই চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ-ন্যাটো মিত্র কুয়েতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সহায়তা প্যাকেজটি কুয়েতি বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নত করবে, মার্কিন বাহিনীর সাথে সমন্বয় বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

বর্তমানে কুয়েত বিমান বাহিনী সামরিক পরিবহন, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং রসদ সরবরাহ মিশনের জন্য কেসি-১৩০জে বিমান ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, এই নতুন সহায়তা প্যাকেজটি এই ধরনের বিমানের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সাথে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ বিমান কর্মসূচি দপ্তরকে কুয়েতের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকরভাবে কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।

ওয়াশিংটন আরও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের এই সরঞ্জাম ও পরিষেবাগুলো গ্রহণ এবং নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে। একই সাথে তারা এও জোর দিয়েছে যে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করবে না।