১৭ জুলাই ২০২৬

এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তুলতে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়।

বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) আনইয়া টার্সটেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিনা।

আলোচনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিমান সংগ্রহের পাশাপাশি সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

সরকারের বিমান বহর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তুলতে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়।

বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) আনইয়া টার্সটেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিনা।

আলোচনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিমান সংগ্রহের পাশাপাশি সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

সরকারের বিমান বহর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ সৌদি আরবের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ সৌদি আরবের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের পরিবহন ও রসদ পরিষেবা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের সিইওসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তার সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জানায়, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি বে (Bay) টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় তাদের বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী।

এ ছাড়া রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগে আগ্রহী বলে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও উদ্যোগ সম্পর্কে সৌদি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

প্রতিনিধি দল জানায়, তারা বাংলাদেশে বন্দর, রেলওয়েসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে।

বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশের জন্য সৌদি প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন, সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সৌদি আরবের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী প্রকৌশলী আম্মার আল-তাফ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিইও আমের রেদা (Amer Reda), রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সিইও লার্স ভ্যাং (Lars Vang), বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ বিন আবিয়া এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কাতারের প্রয়াত ফাদার আমিরের স্মরণে ঢাকায় সড়কের নামকরণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
কাতারের প্রয়াত ফাদার আমিরের স্মরণে ঢাকায় সড়কের নামকরণ

কাতারের সাবেক ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে রাজধানীর একটি উপযুক্ত সড়কের নামকরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার বিকালে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনীত কাতারের সাবেক ফাদার আমিরের নামে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করা সম্পর্কিত এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা ইতিমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে মৌখিকভাবে দেয়ার কথা সংসদকে জানান।

তিনি বলেন, ‘যেটি প্রস্তাবনা সম্মানিত বিরোধী দলের নেতা উপস্থাপন করেছেন। আমি এরই ভিতরে গতকালকেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে একটি উপযুক্ত সড়ক নির্ধারণ করে সেটিকে মরহুমের নামের নামকরণের জন্য আমি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিরোধীদলীয় নেতা এই বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে সরকারের পক্ষ তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক ফাদার আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাতারের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। কাতার এমন একটি দেশ যারা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে এবং এখনো করছে।’

তিনি বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে কাতার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রাতেও অংশীদার। শুধু তাই নয় এর ভেতরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কাতার নিজেও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হওয়ার পরেও আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রবাসীকে তারা নিজেদের নাগরিকদের মতো টেককেয়ার করেছে। তাদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সব বিষয় বিবেচনা করে মরহুম শেখ হামদ বিন খলিফা আল থানির জন্য আজকে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আজকে আমাদের জাতীয় পতাকাকে হাফ মাস্ট করা হয়েছে।’

কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাবা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে কাতারের বর্তমান আমিরের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বুধবার বাংলাদেশ শোক পালন করছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের শোক ও সমবেদনা জানাতে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের দোহায় গেছেন।

স্পিকার মঙ্গলবার কাতারের লুসাইল আমিরি প্রাসাদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা গ্রহণ অনুষ্ঠানে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।

খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

ঢাকা সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে বাংলাদেশের সামনে একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাগুলো আবার চালু করতে সাহায্য করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাংলাদেশ এখন একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ যখন নতুন পথ খুঁজছে, এমন সময়ে এই সুযোগটি এলো।

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছিল সৌদি আরব। তবে ঢাকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি বড় প্রস্তাব আটকে যায়। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব ও দুর্বল সমন্বয়ের কারণেও এগুলো এগোয়নি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও সাবেক কর্মকর্তারা এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

রিয়াদ এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুবরাজের সফরের আগে বাংলাদেশের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অতীতের মতো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের একটি প্যাকেজ তৈরি করা দরকার।

যুবরাজের ঢাকা সফর
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই অগ্রগতির বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন রাষ্ট্রদূত। চিঠিতে যুবরাজ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের মৌখিক আমন্ত্রণও জানান। তারেক রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ শিগগিরই ঢাকা সফর করতে চান। তাছাড়া বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে একটি সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও দ্রুত বাংলাদেশ সফরে আসবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সফরগুলোকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রিয়াদ এখন প্রথাগত ‘নিয়োগকর্তা-শ্রমিক’ সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে চায়।

অমিমাংসিত সম্ভাবনার সম্পর্ক
সৌদি আরব দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিগত সাড়ে চার দশক ধরে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।

মানুষে মানুষে এই শক্তিশালী বন্ধন থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

গত এক দশকে রিয়াদ বারবার বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রস্তাব আলোচনা বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আর এগোয়নি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরবে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু করে। এটি একটি বড় সাফল্য ছিল। তবে এই সম্পর্ককে বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।

তারা মনে করেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রস্তাবিত সফর এই ঘাটতি দূর করার বড় সুযোগ।

ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ
বিগত সরকারের অধীনে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি ও স্থবিরতা ছিল। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে গভীর যোগাযোগসম্পন্ন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি শুরু হয়। তার নেতৃত্বে দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু করে। বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হয়। এটি একটি গতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

সৌদি আরব বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ঢাকাও মুসলিম বিশ্বের এই প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চায়।

তখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য বাংলাদেশের অ-যুদ্ধকালীন (নন-কমব্যাট) সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে এই সহযোগিতার বড় অংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে যায়, বাস্তবে কোনো ফল আসেনি।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশ সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের গুরুত্ব বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছিল। এই কারণে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

হাতছাড়া হওয়া বিনিয়োগের সুযোগ
বিনিয়োগ হাতছাড়া হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘আরামকো’।

২০২৫ সালে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসেফ ঈসা আল দুহাইলান জানান, আরামকো বাংলাদেশে একটি বড় বিনিয়োগের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি।

রাষ্ট্রদূতের মতে, মাতারবাড়িতে তেল শোধনাগার, এলএনজি টার্মিনাল ও পেট্রো-কেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এই বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরামকোর প্রতিনিধি দল তিনবার বাংলাদেশ সফর করে। তবে সফরকালে তারা প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায়নি।

রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, ‘তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়, সচিব ও আমলাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। বারবার তারা ব্যবস্থার (সিস্টেম) মধ্যে আটকে গেছে।’ এই ব্যর্থতার জন্য তিনি কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করেন। রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

এত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সৌদি আরব বাংলাদেশে বিনিয়োগে এখনও আগ্রহী। অতীত ভুলে উভয় দেশকে ভবিষ্যতের সহযোগিতায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আরামকো ছাড়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বড় সৌদি ব্যবসায়িক গ্রুপ একই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে। যেমন, জেমকো-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার সঙ্গে প্রথম যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটি গত পাঁচ বছর ধরে অকার্যকর। বাংলাদেশি পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবেই এমনটা হয়েছে।

ডানা মেলেনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে শুরুতে বেশ উৎসাহ দেখিয়েছিল দুই দেশ। ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়ার পর সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখায়। তারা অ-যুদ্ধকালীন কাজের জন্য প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ নিতে চেয়েছিল।

তবে এই প্রস্তাবটি গতি পায়নি। বাংলাদেশ এই উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি।

আলোচনা থমকে পড়ায় সৌদি আরব ২০২৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। সেই অংশীদারিত্ব এখন অনেক বেড়েছে। পাকিস্তান রিয়াদ থেকে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও বড় রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ একটি প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ হারিয়েছে।

আলোর মুখ দেখেনি বিমান চলাচল প্রকল্প
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতেও সৌদি বিনিয়োগের আরেকটি বড় প্রস্তাব ছিল। সৌদি আরব পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে একটি বড় বিমান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব দেয়। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল বোয়িংয়ের একটি যৌথ উদ্যোগ, ‘আল সালাম অ্যারোস্পেস’। তাদের পরিকল্পনা ছিল এই ঐতিহাসিক বিমানক্ষেত্রটিকে আঞ্চলিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা। সেখানে বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানাও হওয়ার কথা ছিল। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বড় সুযোগ তৈরি হতো। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিলম্ব ও আগ্রহের অভাবের কারণে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিনিয়োগটি পরবর্তীতে অন্য দেশে চলে যায়। ভারত এর বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর করতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার এটি আরেকটি বড় উদাহরণ।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
কূটনীতিক ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা নয়। আসল সমস্যা হলো সেই আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর করা।

তারা জমি বরাদ্দে বিলম্ব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের ওভারল্যাপিং ও দুর্বল জবাবদিহিতাও বড় সমস্যা।

অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী নীতির ধারাবাহিকতাহীন বাস্তবায়ন ও দীর্ঘায়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে নতুন সুযোগ
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ-সৌদি সহযোগিতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই কারণে সৌদি আরব তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বহুমুখীকরণ করতে চায়।

একই সময়ে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে চাইছে। বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রথাগত বন্ধুদের বাইরে গিয়ে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় দেশটি।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচিও বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অবকাঠামো, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে তারা শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

বাংলাদেশ এই খাতের বেশ কয়েকটিতে অংশীদার হতে পারে। দক্ষ জনশক্তি, শিল্প সহযোগিতা, ওষুধ শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তার মাধ্যমে এটি সম্ভব।

সৌদি আরব ২০৩০ সালে এক্সপো ও ২০৩৪ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করবে। এর জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন।

বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ও মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ এই আয়োজনে অবদান রাখতে পারে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী
মুসলিম বিশ্বে নিজস্ব প্রভাবের কারণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সৌদি-সমর্থিত একটি উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অগ্রগতি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ এই কূটনৈতিক যোগাযোগের চেয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে সেই প্রচেষ্টা আর এগোয়নি।

সতর্ক প্রস্তুতির সময়
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, বাংলাদেশ যেন সৌদি যুবরাজের সফরটিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে সুপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি প্রশাসন অত্যন্ত পেশাদার এবং কাজের ফলাফলে বিশ্বাসী। যুবরাজ বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী হবেন যদি তিনি নিশ্চিত হন যে এর থেকে বড় কোনো ফল আসবে। সেই ফল যেন উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হয়।’

গোলাম মসীহ উল্লেখ করেন, এর আগে দুই জন সিনিয়র সৌদি মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছিল। তবে তারা প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোতে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিষ্ক্রিয়তা। গোলাম মসীহ মনে করেন, বিডাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধুমাত্র অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও পরিচালনগত সহায়তা পর্যন্ত সমগ্র বিনিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাকে দেশের বিনিয়োগ নীতির সঙ্গে মিল রেখে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সত্যটি সবাইকে স্বীকার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘উভয় দেশেরই এমন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা প্রয়োজন যা পারস্পরিক সুবিধা দেবে।’

তার পরামর্শ হলো, সফরের আগে বিডা’র উচিত বিস্তারিত তথ্যসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা। বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারে এমন লাভজনক প্রস্তাব সেখানে থাকতে হবে।

সাধারণ বক্তব্য বা কেবল ইচ্ছা প্রকাশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত সুযোগগুলোই উপস্থাপন করতে হবে। এই তালিকায় শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, লজিস্টিকস, বিমান চলাচল ও অবকাঠামোর প্রকল্পগুলো থাকা উচিত।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একটি জরুরি সুপারিশ করেছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিডার মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় থাকা দরকার। এর ফলে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে।

তারা মনে করেন, বাংলাদেশের সৌদি যুবরাজের সফরকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা ভুল হবে। এর পরিবর্তে বিনিয়োগ চুক্তি ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে। স্পষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াসহ দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করা দরকার। এটি একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তৈরি করবে।

সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে মোহাম্মদ বিন সালমানের এই সফর গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এটি এখনকার শ্রমবাজার-ভিত্তিক সম্পর্ককে বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক সহযোগিতার মতো বড় একটি সম্পর্কে রূপান্তর করবে।

সৌদি আরব নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বাংলাদেশও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এতদিন ধরে অবিকশিত থাকা এই সম্পর্ককে জাগিয়ে তোলার জন্য আগামী মাসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী বছরগুলোতে লাখ লাখ বাংলাদেশি যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে বড় শ্রমবাজারের সুযোগ, নতুন ভিসা, বর্ধিত বিনিয়োগ ও ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

বরিশালের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
বরিশালের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানানিয়েছে, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সাথে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে।

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সঙ্কট মোকাবেলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনাসদস্যদের সাথে কথা বলা ও তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরো সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।