২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হওয়ার ওপর এই সরবরাহ নির্ভর করবে।

এই পরিস্থিতি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সরবরাহ আবার কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে সুস্পষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

কাতার এনার্জির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি।

এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যে ২০টি কার্গো কম পাওয়া যাবে, সেগুলো ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট পরিকল্পিত ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির ৩৪.৮ শতাংশ।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কাতার এনার্জির উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি 'ফোর্স ম্যাজিউর' ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়, যখন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী হিসেবে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

গত বুধবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "২০২৬ সালের জন্য কাতার এনার্জির এলএনজি কার্গো সরবরাহ কমানোর বিষয়ে আমরা একটি ই-মেইল পেয়েছি। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা আগের নির্ধারিত কার্গোর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে।"

ঢাকা এ বিষয়ে দোহার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমরা কাতার এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কম সরবরাহের এই পরিস্থিতি ২০২৭ সাল এমনকি এর পরেও অব্যাহত থাকতে পারে।''

সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সরবরাহের উৎস খুঁজতে জ্বালানি বিভাগ জোরালোভাবে কাজ করছে।

এদিকে কাতার এনার্জির পর ৫ মার্চ ওমানভিত্তিক ওকিউটি এবং ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জিও ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জির ঘোষিত ফোর্স ম্যাজিউর আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, কাতার এনার্জি আরপিজিসিএলকে এও জানিয়েছে, উৎপাদন আবার স্বাভাবিক হওয়ার পরেও ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি থেকে আগে যে পরিমাণ এলএনজি কার্গো পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার অন্তত ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, "কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করতে পারে। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী পুরো সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।"

এলএনজিতে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার কোটি টাকার মূল বরাদ্দের প্রায় তিন গুণ। মূলত বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্যই ভর্তুকি বেড়েছে।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, "ইরান যুদ্ধের কারণে আমাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মার্চ থেকে অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী ফোর্স ম্যাজিউর বজায় রেখেছে। ফলে আমাদের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে।"

এছাড়া কিছু স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, সেসব চালানের লোডিং বন্দর ও জাহাজ চলাচলের পথ কাতার এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে

২০২৬ সালের বার্ষিক সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরে বাংলাদেশের মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে ৪০টি, ওকিউটি থেকে ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং থেকে ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি থেকে ৪টি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং থেকে ১৪টি কার্গো সরবরাহের কথা ছিল।

এছাড়া স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১২টি এবং স্পট মার্কেট থেকে আরও ১৭টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার এনার্জি মাত্র ৮টি কার্গো সরবরাহ করেছে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

সংঘাতের পর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নির্ধারিত ৯টি কার্গো কাতার এনার্জি ফোর্স ম্যাজিউরের আওতায় স্থগিত করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগস্ট থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ আবার শুরু হয়, তবুও কাতার এনার্জির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮টি কার্গোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১২টি কার্গো পেতে পারে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ২২ জুন কাতার এনার্জির রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও বহু মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার কারণে এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

কাতার এনার্জির সম্ভাব্য সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, এলএনজি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল থাকাও নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এসব প্রতিষ্ঠানের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, "এসব প্রতিষ্ঠান মূলত পুনঃবিক্রেতা (রিসেলার)। তারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবার চালু হওয়ার পরও এটি বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, তাদের নিজস্ব কোনো উৎপাদন স্থাপনায় হামলা হয়নি।"

কমিটি গঠন

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা গত সপ্তাহে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হায়াত মো. ফিরোজকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

কমিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ধরনের এলএনজি চুক্তিতে থাকা ফোর্স ম্যাজিউর সংক্রান্ত ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সরবরাহকারী বর্তমানে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তাদের সঙ্গে করা চুক্তি সংশোধন বা বাতিল করা যায় কি না, তা কমিটি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উপায়ে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোর্স ম্যাজিউর বহাল

বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ শুধু কাতার এনার্জিকে ঘিরেই নয়। ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড ও এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখনো ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালীন ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা যৌক্তিক ছিল। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানকে ওই সময় কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি সংগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হতো।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের বিকল্প লোডিং বন্দর থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরপিজিসিএলকে শেষবার যোগাযোগে এক্সিলারেট জানিয়েছে, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না।

অন্যদিকে, ওকিউ ট্রেডিংও তাদের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ কবে আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে সম্মত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানায়, এক্সিলারেট ও ওকিউ ট্রেডিং এই দুই প্রতিষ্ঠানই তাদের সরবরাহ পরিকল্পনায় রাস লাফানকেই নির্ধারিত লোডিং বন্দর হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যেহেতু রাস লাফানকে লোডিং পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই ওই বন্দর থেকে তাদের কাছে আবার সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিজেদের সরবরাহ স্থগিত রাখার অধিকার রয়েছে।

তবে আরেক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে রাস লাফানের বাইরে অন্য স্থান থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। ফলে ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বল্পমেয়াদি এলএনজি চুক্তির পথে বাংলাদেশ

সম্ভাব্য এলএনজি ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের নতুন বাজার থেকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এজন্য যেসব দেশ বিবেচনায় রয়েছে, সেগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, "সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে শুধু স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর না করে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির কথা বিবেচনা করছি। স্পট মার্কেটের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কম থাকে।"

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি সহজ হতে পারে।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে ১৫০টি নতুন ট্রলি উপহার!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে ১৫০টি নতুন ট্রলি উপহার!

প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহন সহজ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সুবিধার্থে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগে ২৫টি করে ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে।

জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ’ পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের প্রতি বৈষম্য রোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে বোমা হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তাঁদের একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজনের কুমিল্লায়।

আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য জানতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন করা যাবে। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা এবং মেধার বিকাশে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

জানা যায়, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে শিক্ষাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনের শেষ তারিখ এবং শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ রয়েছে।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনে কোনো ভুল বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা বিবেচনায় সমস্যা হতে পারে।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁকে তলব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করার ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানানো হয়নি। তবে চিঠির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে ঘটা এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাঠানো বার্তা অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক বা ‘ব্যভিচার’ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন ওই দুই প্রবাসী—যা সৌদি আইনে অত্যন্ত গর্হিত ও গুরুতর অপরাধ।

সেই দেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো নথিপত্র না পাওয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরবের তরফ থেকে জবাব এলে নিহতদের মরদেহ ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

উল্লেখ্য, গত বুধবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসী হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ এক ভারতীয় নারীকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাশতায় নিয়মিত পাউরুটি খেলে কী হয়

যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই নারীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতের নাগরিক। তাঁর সঙ্গে উড়োজাহাজে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। যাত্রীতালিকায় তাঁদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। এর মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। উড়োজাহাজটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে এ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা এয়ারপোর্টে লাগেজ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখা যাবে

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যাত্রী ও ক্রুদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে উড়োজাহাজটির দরজা কী কারণে খুলে গিয়েছিল, সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, দরজার লকিং ব্যবস্থার সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে অঞ্জনা ভৌমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির পর উড়োজাহাজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া না পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা ছিল সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। ফাঁকা আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল, গাড়িশূন্য পার্কিং এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনুপস্থিতিতে বিমানবন্দরের চেনা চিত্রই যেন বদলে গেছে।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। বিমানবন্দরের সামনের গাড়ি পার্কিং এলাকাও ছিল প্রায় ফাঁকা। আগে যেখানে যাত্রীদের নিতে আসা স্বজনদের ভিড়, গাড়ির চাপ এবং টার্মিনালে প্রবেশের তাড়াহুড়ো দেখা যেত, সেখানে এখন অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় দেশে প্রবাসীদের আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সৌদিগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বহির্গমন টার্মিনালেও যাত্রীর চাপ কমে গেছে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের ফ্লাইট অবতরণের সময় বিমানবন্দরে স্বজনদের ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। একজন প্রবাসীকে নিতে অনেক সময় সাত থেকে আটজন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন। এতে টার্মিনালের বাইরের অংশ এবং গাড়ি পার্কিং এলাকায় প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। জায়গার অভাবে অনেককে যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

দুবাই থেকে আসা ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, আগেও একাধিকবার বিমানবন্দরে এসেছেন, তবে এবারকার মতো এতটা ফাঁকা পরিবেশ আগে দেখেননি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যাত্রী কম থাকায় বিমানবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সামলাতে যে চাপ ছিল, বর্তমানে তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।

বহির্গমন টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমেছে। কিছু ওমরাহযাত্রী দেখা গেলেও আগের মতো ভিড় ছিল না। কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে বিমানবন্দরে এসে যে ভিড় দেখেছিলেন, এবার তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র চোখে পড়েছে।

যাত্রী কমে যাওয়ায় কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও আপাতত কাজের চাপ কম অনুভব করছেন। তবে দীর্ঘদিনের ব্যস্ত পরিবেশে অভ্যস্ত কর্মীদের কাছে এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আট দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও হাজারো প্রবাসী।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স