১ জুলাই ২০২৬

কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হওয়ার ওপর এই সরবরাহ নির্ভর করবে।

এই পরিস্থিতি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সরবরাহ আবার কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে সুস্পষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

কাতার এনার্জির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি।

এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যে ২০টি কার্গো কম পাওয়া যাবে, সেগুলো ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট পরিকল্পিত ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির ৩৪.৮ শতাংশ।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কাতার এনার্জির উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি 'ফোর্স ম্যাজিউর' ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়, যখন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী হিসেবে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

গত বুধবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "২০২৬ সালের জন্য কাতার এনার্জির এলএনজি কার্গো সরবরাহ কমানোর বিষয়ে আমরা একটি ই-মেইল পেয়েছি। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা আগের নির্ধারিত কার্গোর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে।"

ঢাকা এ বিষয়ে দোহার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমরা কাতার এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কম সরবরাহের এই পরিস্থিতি ২০২৭ সাল এমনকি এর পরেও অব্যাহত থাকতে পারে।''

সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সরবরাহের উৎস খুঁজতে জ্বালানি বিভাগ জোরালোভাবে কাজ করছে।

এদিকে কাতার এনার্জির পর ৫ মার্চ ওমানভিত্তিক ওকিউটি এবং ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জিও ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জির ঘোষিত ফোর্স ম্যাজিউর আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, কাতার এনার্জি আরপিজিসিএলকে এও জানিয়েছে, উৎপাদন আবার স্বাভাবিক হওয়ার পরেও ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি থেকে আগে যে পরিমাণ এলএনজি কার্গো পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার অন্তত ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, "কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করতে পারে। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী পুরো সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।"

এলএনজিতে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার কোটি টাকার মূল বরাদ্দের প্রায় তিন গুণ। মূলত বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্যই ভর্তুকি বেড়েছে।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, "ইরান যুদ্ধের কারণে আমাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মার্চ থেকে অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী ফোর্স ম্যাজিউর বজায় রেখেছে। ফলে আমাদের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে।"

এছাড়া কিছু স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, সেসব চালানের লোডিং বন্দর ও জাহাজ চলাচলের পথ কাতার এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে

২০২৬ সালের বার্ষিক সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরে বাংলাদেশের মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে ৪০টি, ওকিউটি থেকে ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং থেকে ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি থেকে ৪টি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং থেকে ১৪টি কার্গো সরবরাহের কথা ছিল।

এছাড়া স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১২টি এবং স্পট মার্কেট থেকে আরও ১৭টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার এনার্জি মাত্র ৮টি কার্গো সরবরাহ করেছে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

সংঘাতের পর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নির্ধারিত ৯টি কার্গো কাতার এনার্জি ফোর্স ম্যাজিউরের আওতায় স্থগিত করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগস্ট থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ আবার শুরু হয়, তবুও কাতার এনার্জির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮টি কার্গোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১২টি কার্গো পেতে পারে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ২২ জুন কাতার এনার্জির রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও বহু মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার কারণে এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

কাতার এনার্জির সম্ভাব্য সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, এলএনজি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল থাকাও নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এসব প্রতিষ্ঠানের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, "এসব প্রতিষ্ঠান মূলত পুনঃবিক্রেতা (রিসেলার)। তারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবার চালু হওয়ার পরও এটি বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, তাদের নিজস্ব কোনো উৎপাদন স্থাপনায় হামলা হয়নি।"

কমিটি গঠন

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা গত সপ্তাহে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হায়াত মো. ফিরোজকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

কমিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ধরনের এলএনজি চুক্তিতে থাকা ফোর্স ম্যাজিউর সংক্রান্ত ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সরবরাহকারী বর্তমানে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তাদের সঙ্গে করা চুক্তি সংশোধন বা বাতিল করা যায় কি না, তা কমিটি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উপায়ে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোর্স ম্যাজিউর বহাল

বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ শুধু কাতার এনার্জিকে ঘিরেই নয়। ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড ও এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখনো ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালীন ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা যৌক্তিক ছিল। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানকে ওই সময় কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি সংগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হতো।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের বিকল্প লোডিং বন্দর থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরপিজিসিএলকে শেষবার যোগাযোগে এক্সিলারেট জানিয়েছে, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না।

অন্যদিকে, ওকিউ ট্রেডিংও তাদের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ কবে আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে সম্মত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানায়, এক্সিলারেট ও ওকিউ ট্রেডিং এই দুই প্রতিষ্ঠানই তাদের সরবরাহ পরিকল্পনায় রাস লাফানকেই নির্ধারিত লোডিং বন্দর হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যেহেতু রাস লাফানকে লোডিং পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই ওই বন্দর থেকে তাদের কাছে আবার সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিজেদের সরবরাহ স্থগিত রাখার অধিকার রয়েছে।

তবে আরেক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে রাস লাফানের বাইরে অন্য স্থান থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। ফলে ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বল্পমেয়াদি এলএনজি চুক্তির পথে বাংলাদেশ

সম্ভাব্য এলএনজি ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের নতুন বাজার থেকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এজন্য যেসব দেশ বিবেচনায় রয়েছে, সেগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, "সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে শুধু স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর না করে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির কথা বিবেচনা করছি। স্পট মার্কেটের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কম থাকে।"

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি সহজ হতে পারে।

বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীন

বাংলা টিভি ডেস্ক: চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

বিডা চেয়ারম্যান জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। এ ইতিবাচক পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরার ফলে তাদের আস্থা আরও বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়ন, স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার উৎপাদন, কোল্ড-চেইন সুবিধা, পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা, লিথিয়াম ব্যাটারি, সৌরবিদ্যুৎ, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্প, আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণ এবং চীনা ভেষজ উদ্ভিদ চাষ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপন।

সব মিলিয়ে এসব বিনিয়োগ প্রস্তাবের সম্ভাব্য মূল্য ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লন্ডভণ্ড আমেরিকা, এবার বাংলাদেশেও থাবা বসাচ্ছে ‘জম্বি ড্রাগ’!

► আমেরিকার টেক্সাস থেকে আনছে চক্র ► বিশেষ অভিযানেও থামছে না অন্য মাদকের ঢল ► ইয়াবারই রাজত্ব, নতুন মাদকও হুমকি ► অধরাই থাকছে তালিকাভুক্ত গডফাদার
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
লন্ডভণ্ড আমেরিকা, এবার বাংলাদেশেও থাবা বসাচ্ছে ‘জম্বি ড্রাগ’!

বাংলাদেশেও চোখ রাঙাচ্ছে আমেরিকান ভয়ংকর মাদক জম্বি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে রাজধানী ঢাকার একটি মেট্রোরেল স্টেশন, গাজীপুরের টঙ্গী ও দিনাজপুরের হিলিতে জম্বি সেবনকারীদের অদ্ভুত আচরণের ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই মাদকটি সম্পর্কে অধিকতর অনুসন্ধান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ইতোমধ্যে জম্বি পাচারে জড়িত একটি দেশীয় চক্রের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

ডিএনসি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারতে জম্বি মাদকের প্রাদুর্ভাবের খবর আসা শুরু হলেও বাংলাদেশেও এটি আসতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও জম্বি মাদক আনা একটি চক্র শনাক্ত করা হয়েছে। যারা আমেরিকার টেক্সাস থেকে ভয়ংকর এ মাদক দেশে আনছে। দ্রুতই চক্রটি গ্রেপ্তার হবে।

তখন আরও বিস্তারিত বলা যাবে। সূত্র আরও জানায়, চক্রটি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের জন্য মাদকটি আনছে। তবে এখনো বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জম্বি দেশে ঢুকছে এমন সন্দেহ আমরাও করছি। কারা আনছে এবং ক্রেতা কারা এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এর নেপথ্যে যারা জড়িত, দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

ডিএনসির গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া দিনাজপুরের হিলির একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে সেটি জম্বি মাদকের প্রতিফলন। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল- ডেন্ডির কারণে এমনটি হতে পারে।

তবে ভিডিওটি জম্বি আছে এমন অন্য দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়েছে ডিএনসি। এরপর জম্বি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসির কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক এস এম রাজিবুর রহমান বলেন, মাংসখেকো ড্রাগ হিসেবে খ্যাত জম্বি সংশ্লিষ্ট কোনো আলামত পরীক্ষার জন্য আমাদের কাছে এখনো আসেনি। তবে জম্বি মাদক মূলত জাইলাজিন নামক চেতনানাশক ওষুধ।

যা বিভিন্ন পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফেনটানিল বা হেরোইনের মতো মাদকের সঙ্গে এটি মিশিয়ে সেবন করা হয়। এর ফলে সেবনকারীদের হাঁটাচলা, আচার-আচরণ জীবন্মৃত বা জম্বিদের মতো হয়ে যায় এবং শরীরের চামড়ায় পচন ধরে। এটি অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে জম্বি ছাড়াও দেশের মাদকের বাজার দখল করে রাখা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনের ঢল থামানো যাচ্ছে না। ক্রমেই নীরব বিস্তার ঘটছেই কিটামিন, কুশ, এলএসডি, আইস, ট্যাপেন্টাডলের মতো ভয়ংকর মাদকেরও।

গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে দেশের ৩২ জেলার দেড় শতাধিক সীমান্ত রুট দিয়ে দেদার ঢুকছে বিভিন্ন মাদক। যা দেশের তরুণ সমাজকে দিনদিন আরও বেশি হুমকিতে ফেলছে। মাদকের টাকা জোগাড়ে বাড়ছে দেশের অপরাধ চিত্র।

বিশেষ অভিযানেও কমেনি ঢল : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে। গত ১ মে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কিন্তু অভিযানের প্রায় ২ মাস হতে চললেও থামানো যায়নি মাদকের ঢল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো দেশের বাজারে ইয়াবারই রাজত্ব চলছে।

গডফাদাররা অধরাই থাকছে : গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে ৩ স্তরে সক্রিয় সাড়ে ২২ হাজারের বেশি কারবারি। এর মধ্যে খুচরা ব্যবসায়ী ১৪ হাজার ২৪৮ জন, পাইকারি ব্যবসায়ী ৭ হাজার ২৭ জন ও গডফাদার দেড় হাজারের বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- বিশেষ অভিযানেও কোনো গডফাদার ধরা পড়ছে না। যারা ধরা পড়ে তাদের বেশির ভাগই মাদকবহনের সঙ্গে জড়িত থাকে।

গডফাদাররা গ্রেপ্তার না হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। এদিকে ৩২ জেলার সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে মাদক।

মাদক নির্মূলে কঠোর বার্তা ডিএনসির : ডিএনসির ডিডি (অপারেশন্স) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্যেও ডিএনসি মাদক নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকার বিশেষ অভিযান ঘোষণার পর বিভিন্ন পর্যায়ের কারবারিদের আইনের আওতায় হয়েছে। সরকার দ্রুতই আমাদের অস্ত্র দিতে যাচ্ছে। তখন অভিযানিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।

সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপে ন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি গল্প নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

বেইজিংয়ে তারেক রহমান-লি কিয়াং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আজ, সই হতে পারে ১৫-১৭টি চুক্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
বেইজিংয়ে তারেক রহমান-লি কিয়াং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আজ, সই হতে পারে ১৫-১৭টি চুক্তি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন। আজ বৃহস্পতিবার চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়াা বিষয়ে তারা আলোচনা করবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

গতকাল চীনের বন্দরনগরী দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তিনি। চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন রেলওয়ে স্টেশনে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় শিশু-কিশোররা প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রেল স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে চীনের দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীসহ সফরসঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই থাকবেন। এর আগে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তারেক রহমান-লি কিয়াং বৈঠক আজ
বেইজিংয়ে আজ বিকালে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক কীভাবে আরো এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা আলোচনা করবেন।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি), ব্রিকস এবং অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে। এছাড়া, চীনের অর্থায়ন ও সহায়তায় বাংলাদেশে যেসব বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্যও চীনের অর্থায়ন চাইতে পারে ঢাকা। জানা যায়, বৈঠকে চীন থেকে জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অগ্রাধিকার খাত এবং নতুন বাজেটে ঘোষিত বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা তুলে ধরা হবে। চীনের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাতের প্রতিনিধিসহ শতাধিক বিনিয়োগকারী এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানাবেন বলে জানা যায়।

আগামীকাল শুক্রবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এদিন বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে তিনি বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর
বেইজিংয়ে রওয়ানা হওয়ার আগে চীনের দালিয়ানে ‘দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করেছেন। সম্মেলনে আসা বিশ্বনেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন।

এই ফোরামে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা এবং ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ও প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা বৃহত্ পরিসরে উদ্ভাবন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ। গতকাল চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের সাইডলাইনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজাখস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে একমত হন। এছাড়া রাজনৈতিক, ব্যাবসায়িক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে মত দেন তারা।

কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবসা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার

টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধিত কি না বা মেয়াদ আছে কি না, দেখে নিতে বলা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের তাগিদ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

রোববার এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩’ অনুযায়ী দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া www.regtravelagency.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

মন্ত্রণালয় বলছে, সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং গ্রাহকরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এভাবে ব্যবসা করা যে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’, তা মনে করিয়ে দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

যেকোন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকেট কেনা বা ট্যুর প্যাকেজ বুকিং দেওয়ার আগে সেগুলো নিবন্ধিত কি না এবং নিবন্ধনের মেয়াদ আছে কি না, তা ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম www.regtravelagency.gov.bd এর এজেন্সির তথ্য যাচাই বক্স থেকে যাচাই করে নিতে হবে।

অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আকাশপথে ভ্রমণ বা ট্যুর সংক্রান্ত কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ও সেবা গ্রহণ করা যাবে না বলে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে।