৮ আগস্ট ২০২৬

কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হওয়ার ওপর এই সরবরাহ নির্ভর করবে।

এই পরিস্থিতি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সরবরাহ আবার কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে সুস্পষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

কাতার এনার্জির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি।

এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যে ২০টি কার্গো কম পাওয়া যাবে, সেগুলো ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট পরিকল্পিত ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির ৩৪.৮ শতাংশ।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কাতার এনার্জির উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি 'ফোর্স ম্যাজিউর' ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়, যখন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী হিসেবে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

গত বুধবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "২০২৬ সালের জন্য কাতার এনার্জির এলএনজি কার্গো সরবরাহ কমানোর বিষয়ে আমরা একটি ই-মেইল পেয়েছি। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা আগের নির্ধারিত কার্গোর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে।"

ঢাকা এ বিষয়ে দোহার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমরা কাতার এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কম সরবরাহের এই পরিস্থিতি ২০২৭ সাল এমনকি এর পরেও অব্যাহত থাকতে পারে।''

সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সরবরাহের উৎস খুঁজতে জ্বালানি বিভাগ জোরালোভাবে কাজ করছে।

এদিকে কাতার এনার্জির পর ৫ মার্চ ওমানভিত্তিক ওকিউটি এবং ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জিও ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জির ঘোষিত ফোর্স ম্যাজিউর আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, কাতার এনার্জি আরপিজিসিএলকে এও জানিয়েছে, উৎপাদন আবার স্বাভাবিক হওয়ার পরেও ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি থেকে আগে যে পরিমাণ এলএনজি কার্গো পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার অন্তত ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, "কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করতে পারে। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী পুরো সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।"

এলএনজিতে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার কোটি টাকার মূল বরাদ্দের প্রায় তিন গুণ। মূলত বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্যই ভর্তুকি বেড়েছে।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, "ইরান যুদ্ধের কারণে আমাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মার্চ থেকে অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী ফোর্স ম্যাজিউর বজায় রেখেছে। ফলে আমাদের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে।"

এছাড়া কিছু স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, সেসব চালানের লোডিং বন্দর ও জাহাজ চলাচলের পথ কাতার এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে

২০২৬ সালের বার্ষিক সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরে বাংলাদেশের মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে ৪০টি, ওকিউটি থেকে ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং থেকে ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি থেকে ৪টি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং থেকে ১৪টি কার্গো সরবরাহের কথা ছিল।

এছাড়া স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১২টি এবং স্পট মার্কেট থেকে আরও ১৭টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার এনার্জি মাত্র ৮টি কার্গো সরবরাহ করেছে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

সংঘাতের পর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নির্ধারিত ৯টি কার্গো কাতার এনার্জি ফোর্স ম্যাজিউরের আওতায় স্থগিত করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগস্ট থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ আবার শুরু হয়, তবুও কাতার এনার্জির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮টি কার্গোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১২টি কার্গো পেতে পারে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ২২ জুন কাতার এনার্জির রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও বহু মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার কারণে এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

কাতার এনার্জির সম্ভাব্য সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, এলএনজি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল থাকাও নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এসব প্রতিষ্ঠানের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, "এসব প্রতিষ্ঠান মূলত পুনঃবিক্রেতা (রিসেলার)। তারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবার চালু হওয়ার পরও এটি বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, তাদের নিজস্ব কোনো উৎপাদন স্থাপনায় হামলা হয়নি।"

কমিটি গঠন

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা গত সপ্তাহে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হায়াত মো. ফিরোজকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

কমিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ধরনের এলএনজি চুক্তিতে থাকা ফোর্স ম্যাজিউর সংক্রান্ত ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সরবরাহকারী বর্তমানে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তাদের সঙ্গে করা চুক্তি সংশোধন বা বাতিল করা যায় কি না, তা কমিটি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উপায়ে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোর্স ম্যাজিউর বহাল

বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ শুধু কাতার এনার্জিকে ঘিরেই নয়। ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড ও এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখনো ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালীন ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা যৌক্তিক ছিল। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানকে ওই সময় কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি সংগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হতো।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের বিকল্প লোডিং বন্দর থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরপিজিসিএলকে শেষবার যোগাযোগে এক্সিলারেট জানিয়েছে, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না।

অন্যদিকে, ওকিউ ট্রেডিংও তাদের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ কবে আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে সম্মত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানায়, এক্সিলারেট ও ওকিউ ট্রেডিং এই দুই প্রতিষ্ঠানই তাদের সরবরাহ পরিকল্পনায় রাস লাফানকেই নির্ধারিত লোডিং বন্দর হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যেহেতু রাস লাফানকে লোডিং পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই ওই বন্দর থেকে তাদের কাছে আবার সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিজেদের সরবরাহ স্থগিত রাখার অধিকার রয়েছে।

তবে আরেক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে রাস লাফানের বাইরে অন্য স্থান থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। ফলে ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বল্পমেয়াদি এলএনজি চুক্তির পথে বাংলাদেশ

সম্ভাব্য এলএনজি ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের নতুন বাজার থেকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এজন্য যেসব দেশ বিবেচনায় রয়েছে, সেগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, "সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে শুধু স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর না করে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির কথা বিবেচনা করছি। স্পট মার্কেটের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কম থাকে।"

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি সহজ হতে পারে।

জনশক্তি রপ্তানিতে বোয়েসেলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
জনশক্তি রপ্তানিতে বোয়েসেলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড!

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

বোয়েসেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৬ হাজার ৬৬ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করেন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ১৯৭ জনে পৌঁছেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী জর্ডানে গেছেন। এছাড়া ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন, রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, হংকংয়ে ৪ জন, কুয়েতে ৫ জন এবং ফিজিতে ৫ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া।’

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় জনশক্তি রফতানির বাজার একটি মাত্র সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রের দখলে ছিল। ফলে স্বল্প খরচে বিদেশে যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর সেই সুযোগ আবার ফিরে এসেছে। শুধু ফিরে আসেনি, যেসব বাজারে সিন্ডিকেট ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে বোয়েসেল সফল হয়েছে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের তৎপরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি শ্রমবাজার বোয়েসেলের উদ্যোগে আবার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, বোয়েসেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি করে। বিশ্বাস ও আস্থার এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে বোয়েসেল একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে।

সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বোয়েসেলের মাধ্যমে ঠিক কতজন কর্মী বিদেশে যেতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে মুক্ত করে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়াতে চায়, তাহলে বোয়েসেলকে কার্যকর করার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যত ভালোভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারব, ততই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজারও চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান, বন্ধ এবং সম্ভাবনাময়— এই তিনটি শ্রেণিতে বাজারগুলোকে ভাগ করে কোথায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি রফতানির নতুন সম্ভাবনা তৈরির ওপর।

জানতে চাইলে বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোয়েসেল।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্য পূরণ হলে বোয়েসেল গত অর্থবছরের রেকর্ড ভেঙে দ্বিগণের বেশি জনশক্তি রফতানি করে অনন্য রেকর্ড করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ বলেন, গত জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন করে বাজার বর্ধিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় বাজার বর্ধিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট। এ জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত এ জোটের নেতৃত্বে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বহুজাতিক এ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জোট গঠনের এক সপ্তাহ পর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এ জোটের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আল-শেহরি যৌথ নৌ-প্রতিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করবেন, সদস্য দেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে, আবার কেউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার আগে ঘোষণাপত্র ও সনদে সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সৌদি এ মন্ত্রণালয় জোটটিকে ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যেসব দেশ এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।

আল জাজিরা বলছে, আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা হবে। সেখানে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। আরও দেশকে এতে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হবে।

জোট গঠনকারী ১৪ দেশ জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষিত রাখাই এ জোটের মূল লক্ষ্য। ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এ সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের ঘটনায় মুহূর্তেই লাউঞ্জসহ আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক অপারেটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুনের সংবাদ শুনে ছয়জন কর্মকর্তা লাউঞ্জে গেছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ করে লাউঞ্জের ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পাই। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। সেখানে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাতে বলাকা লাউঞ্জের রান্নাঘরে একটি কেবল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় বলাকায় যাত্রীসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

উল্লেখ্য, বলাকা লাউঞ্জ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে যাত্রীদের অপেক্ষা ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত একটি লাউঞ্জ। সেখানে যাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া, বসার ব্যবস্থা, অপেক্ষার স্থানসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

আগামী ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। উদ্বোধনের দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচির সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম শুরু হবে। তবে একযোগে সারা দেশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকাভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।

এটি একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা, যেখানে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করা হবে না। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে পৃথক তদারকি ব্যবস্থা থাকবে।

পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন।

বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, গঠিত হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, গঠিত হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুনভাবে গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া জনসাধারণের মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া আইনে র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে বাহিনীটির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি গঠনের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জনমত গ্রহণের পর খসড়াটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান বহাল থাকবে।

ড. ইউনূসের চেয়ে হাজারগুণ ভালো দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী
খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যে কোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে সদস্য নিয়ে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাহিনীটির জন্য সরকার নির্ধারিত পৃথক লোগো, পতাকা ও নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে বলেও খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।