হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাজছে বিমান হামলার সাইরেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের সিরিক শহর, বন্দর-ই লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এই হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করেছে।
সুতোয় ঝুলছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরান এই হামলা চালিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ‘এভার লাভলি’ নামের আরেকটি সিঙ্গাপুরের কনটেইনার জাহাজেও একই ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছিল। এই দুটি ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে।