১ জুলাই ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৪২ মিনিট) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে শুক্রবার শেষ হওয়া সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল। জুন মাসে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমার পথে রয়েছে, যা ঘটলে টানা চতুর্থ মাসে দাম কমার রেকর্ড হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও বাজারের উদ্বেগ
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ ফিরে আসতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর নীতির প্রত্যাশা আরও জোরালো হতে পারে।”

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণে চাপ
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ কোনও সুদ বা আয় প্রদান করে না।
বাজারে বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান তথ্য এবং বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থান (নন-ফার্ম পে-রোল) প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য থেকে ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এভানজেলিস্তা বলেন, “চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে ফেডের আরও কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে।
সোমবার স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৮ দশমিক ০১ ডলারে।

তবে পালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে। ধাতুটির দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। সূত্র: রয়টার্স

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৪২ মিনিট) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে শুক্রবার শেষ হওয়া সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল। জুন মাসে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমার পথে রয়েছে, যা ঘটলে টানা চতুর্থ মাসে দাম কমার রেকর্ড হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও বাজারের উদ্বেগ
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ ফিরে আসতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর নীতির প্রত্যাশা আরও জোরালো হতে পারে।”

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণে চাপ
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ কোনও সুদ বা আয় প্রদান করে না।
বাজারে বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান তথ্য এবং বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থান (নন-ফার্ম পে-রোল) প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য থেকে ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এভানজেলিস্তা বলেন, “চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে ফেডের আরও কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে।
সোমবার স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৮ দশমিক ০১ ডলারে।

তবে পালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে। ধাতুটির দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। সূত্র: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার পাশে বিশ্বনেতারা, সহায়তার ঘোষণা বিভিন্ন দেশের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার পাশে বিশ্বনেতারা, সহায়তার ঘোষণা বিভিন্ন দেশের

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কয়েকটি দেশ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, তাদের স্বজন এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রতি তার এবং স্পেনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার জন্য যা সম্ভব, তা করবে চীন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো চীনা নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইয়িব বুকেলে জানিয়েছেন, তার দেশ থেকে ৩০০ উদ্ধারকর্মী ও প্যারামেডিক, পাশাপাশি ৫০ টন সরঞ্জাম, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী কারাকাসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলাকে দ্রুত সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে তিনি সরকারের সব সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন সাত শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের দুষছেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের দুষছেন ট্রাম্প

তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের সময় কাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা না পাওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

তিনি দাবি করেছেন যে এই যুদ্ধে জয়ী হতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল না, তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন তিনি আশা করেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ন্যাটোর নবনিযুক্ত সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে এক যৌথ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর এই ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

যুদ্ধের মাঠের পরিস্থিতি উল্লেখ করে বৈঠকে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজনই ছিল না। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে বিষয়টি বেশ ভালো হতো।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে যুদ্ধের কঠিন সময়ে ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক মিত্রদের এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘দারুণ হতাশ’ হয়েছেন।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

একই সঙ্গে তিনি এই তালিকায় থাকা স্পেনের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে একটি ‘হরর শো’ বা ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে ইউরোপীয় দেশগুলো আমেরিকার এই যুদ্ধকালীন সংকটে পর্যাপ্ত সামরিক ও কৌশলগত লজিস্টিক সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিশেষ করে মাদ্রিদ প্রশাসন ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো মার্কিন বিমানবাহিনীকে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই স্পেনের ওপর ওয়াশিংটন চরম ক্ষুব্ধ ছিল।

চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)’ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই দেশের ‘টেকনিক্যাল পর্যায়ের’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

জানা যায়, এই মেগা বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে, ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে তেহরানের প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যেই জুরিখে এসে পৌঁছেছে।

সমঝোতা স্মারক সই হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এখনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি শিগগির সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে যেতে পারেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি।

একইসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তাদের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আজ আবার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের লুজানের নিকটবর্তী বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই বিশেষ কারিগরি ও রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার ঐতিহাসিক খসড়া সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই আগামী ৬০ দিনের জন্য এই রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অঞ্চলটিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করা।

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানই ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাতার সরকারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ মডেলের বিমানটি উন্মোচন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আরেকটি বিমান কখনো হবে না; এটি সত্যিই অনন্য।’ বিমানটি আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ উড্ডয়ন প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দেবে।

বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নতুন লাল-সাদা-নীল রঙের নকশা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন শেষে বিমানটি এখন চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত।

তিন দশকের পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ মডেলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই বিমানটি বিদেশি সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করায় স্বার্থের সংঘাত ও নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল।

তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, করদাতাদের শত শত মিলিয়ন ডলার বাঁচাতে এই বিনামূল্যে পাওয়া উপহার গ্রহণ না করাটা বোকামি হতো। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ২০২৮ সালে বোয়িংয়ের নতুন স্থায়ী বিমানবহর আসার পূর্ব পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হবে।