৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্য দেশের কাছে থাকলে ইরানের কাছে না থাকাটা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অঞ্চলের অন্যান্য দেশের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তবে ইরানের কাছে তা না থাকাটা ‘অন্যায়’।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকটি আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্নটি করেন। তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকাকে সমর্থন করা নিয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চান।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা বিষয়টি বুঝি। যদি অন্য দেশের কাছে এটা (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র) থাকে, এটা কিছুটা অন্যায় যে ইরানের থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ে কথা বলছি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেটা নয়। যদি সৌদি আরব-কাতারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, আমি বলতে চাই, প্রাসঙ্গিক অনুপাতে এটা ইরানের কাছে থাকা ঠিক আছে বলে মনে করি।’

ট্রাম্পের এই অবস্থান ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ের বিপরীত। হামলার পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি। এমনকি ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে বলেও দাবি তুলেছিলেন তিনি।

ইরানে ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্যও ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেওয়া। পুরো সময়জুড়ে ক্রমাগত হামলা হয় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলোতে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানের অনেকটা বিপরীত। যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে সেখানেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সীমিত করার কোনো আলাপ দেখা যায়নি।

ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ আগস্ট এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণের বেশি করবে। একই সঙ্গে, মার্কিণ নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবে এই চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অল্প সময়ে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন (৩০ হাজার ৩০০ কোটি) ব্যারেল। এটি বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবে। এটি দেশটির মোট পরিচিত তেল মজুতের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি।

তবে ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।

কার হাতে যাচ্ছে তেলের নিয়ন্ত্রণ
হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের সঙ্গে একটি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক ভেনেজুয়েলার ধনকুবের আলেহান্দ্রো বেতানকুর্ট। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সাবেক মিত্র ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদনে মার্কিন কোম্পানি শেভরনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স। চুক্তিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটালের ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে।

যৌথ উদ্যোগটির দৈনিক প্রায় দুই লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচের দামে কেনার অধিকার পাবে।

এখনই কমছে না তেলের দাম
চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বরং বেড়েছে।

কোপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল বলেন, চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল প্রতি ব্যারেল ৮৩ থেকে ৮৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৮৮ ডলারের মধ্যে। এরপর ডব্লিউটিআই ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্রেন্টের দামও ৯৫ ডলারের ওপরে ওঠে।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলার তেল তুলতে লাগবে বহু বছর
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত থাকলেও তা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব নয়।

দেশটির তেল অবকাঠামোর বড় অংশ পুরোনো। পাইপলাইন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়।

এ ছাড়া ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতের জন্য বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।

রাউবালের মতে, চুক্তির কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলোও এরই মধ্যে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল এলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের দাম কমানোর মতো প্রভাব তৈরি হবে না।

হরমুজ প্রণালির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে ভেনেজুয়েলা?
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর ব্রেন্ট তেলের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ফ্রেডেরিক স্নাইডার বলেন, হরমুজ দিয়ে বাজারে আসা তেলের ঘাটতি ভেনেজুয়েলা পূরণ করতে পারবে না।

এর একটি কারণ হলো, ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা অনেক তেল তুলনামূলকভাবে হালকা। ফলে দুই ধরনের তেল একইভাবে বাজারে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

আসল লাভ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো।

চুক্তি ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে সক্রিয় বড় মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে শেভরন, ইতালির এনিই, ভারতের ওএনজিসি, কলম্বিয়ার জিওপার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের জিই ভারনোভা থাকার কথা রয়েছে।

আছে তেলের ভাণ্ডার, সঙ্গে ঝুঁকিও
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। এরপর বিনিয়োগের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।

ভেনেজুয়েলায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তাই দীর্ঘমেয়াদে তেল উৎপাদন বাড়লেও কতটা বাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে জ্বালানির কম দাম পাবেন— এমন সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

বরং চুক্তির তাৎক্ষণিক ও সবচেয়ে স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির ইরানি লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। হামলা-পাল্টা হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও আড়াই শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫১ ডলার বা ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১৩ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৫৩ ডলারে ওঠে। এর আগে রবিবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষের পর উপসাগরীয় এই দেশটিতে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।

এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে চালানো ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মনে হচ্ছে আমরা আবারও উত্তেজনা বাড়ার একটি পর্যায়ে ঢুকেছি। এটি কত দিন চলবে, তা বলা কঠিন। কয়েক দিনও হতে পারে, আবার কয়েক সপ্তাহও চলতে পারে।

সাইকামোরের মতে, বাজারের কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সংঘাত আরও বাড়লে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৯০ ডলারের প্রতিরোধের স্তর অতিক্রম করতে পারে। সেটি হলে দাম আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রথমে গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে ডব্লিউটিআই।

এদিকে সংঘাত বন্ধে চলমান আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌ চলাচল শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

রবিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সপ্তাহে নতুন করে ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’ জারি করতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে আগস্টে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম সামান্য কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সমাধান না এলেও এই পথে তেল পরিবহন বাড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে এএনজেডের বিশ্লেষকেরা। গ্রাহকদের পাঠানো এক নোটে তারা এ কথা উল্লেখ করেন।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। জাহাজে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস রবিবার জানায়, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত আবার পূরণ করা হবে। দেশটির এই মজুত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে গেছে।

ইরান যুদ্ধ: হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ: হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও বড় আকারের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। বিশ্বজুড়ে দেশটির সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে দেওয়া এক মূল্যায়নে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের শীর্ষ জেনারেল ও চার-তারকা কমান্ডাররা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটকে দেওয়া তাদের নিয়মিত প্রতিবেদনে (এসডিওবি) এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা মার্কিন কমান্ডগুলো থেকে জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে ইরান সংঘাতের কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলে নিজেদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সামরিক নেতারা জানিয়েছেন।

বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে। নৌপ্রধান সতর্ক করেছেন যে, সংঘাতের কোন স্পষ্ট সমাপ্তির তারিখ না থাকায় বর্তমান স্তরের সমর্থন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিটের মোতায়েন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাহিনীর ওপর চাপ আরো বাড়ছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

“তারা রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। আমরা যদি এসব হত্যাকাণ্ড এবং সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারি, তবে বিশ্বকে দেখাতে পারব আসলে সেখানে কী ঘটছে”—মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্য থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক সাংবাদিকের এই আর্তনাদই বলে দেয় সেখানে চলমান সংকটের ভয়াবহতা।

গোপন নথি, এক্সক্লুসিভ ভিডিও এবং ফেকোলজিক্যাল বা ফরেনসিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আল জাজিরার অনুসন্ধানী দল তৈরি করেছে নতুন একটি তথ্যচিত্র—‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’ (Bloodshed on the Border)। এই ডকুমেন্টারিতে উন্মোচিত হয়েছে কীভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবপাচার করা হচ্ছে এবং একটি জাতিগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা এবং স্থানীয় ক্ষমতাশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের ক্রসফায়ারে আটকা পড়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। রাখাইনের এই সংঘাতে এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষ দ্বারাই টার্গেট হয়েছে। তাদের ব্যবহার, শোষণ, নির্যাতন ও লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারহীন এই বন্ধ রাজ্যে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের সময়কার বর্বরতার মতোই বর্তমান গৃহযুদ্ধেও উভয় পক্ষ থেকে রোহিঙ্গারা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশর একটি শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা সেতেরা বেগম জানান, বিদ্রোহীরা গ্রামে ঢুকে পরিখা খনন ও চেকপোস্ট তৈরি করেছিল, যার ফলে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ হারান।

‘মিয়ানমার উইটনেস’-এর ফরেনসিক গবেষকদের বিশ্লেষণ এবং রোহিঙ্গা নাগরিক সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা দেখিয়েছে, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্য দখল করার পর এই মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কী ধরনের নির্যাতন নেমে এসেছে। পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে মানবপাচারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থ কামাচ্ছে, তাতিও উঠে এসেছে এতে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও নারীদের জোরপূর্বক নৌকায় তুলে অন্য দেশে পাচার এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। ১৪ বছরের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী আয়শা জানিয়েছে, তাদের ওপর কতটা অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

আল জাজিরার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আরাকান আর্মি লিখিত উত্তর বা ইন্টারভিউ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর আগে তাদের নেতারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা ‘নৃশংসতা’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিনিয়র কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো আলোর দিশা না পেয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তাদের চুপ করে বসে থাকার আশা করা যায় না।

আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটের ‘মিয়ানমার এক্সপোজড’ (Myanmar Exposed) প্রতিবেদনের একটি অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে এই ডকুমেন্টারিটি, যা ২০২১ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী মিয়ানমারের অজানা ও লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।

মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলল ইসরায়েল

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলল ইসরায়েল

মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালে দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি ছিল প্রায় ২৬৩ মার্কিন ডলার। একই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ ডলার এবং রাশিয়ার ১৪ ডলার।

ফিলিস্তিনি মার্কিন লেখিকা সুজান আবুলহাওয়ারের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিপরি পরিসংখ্যানের ওপর মূলত ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়েছে।

শুধু ইসরায়েলের ইহুদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি দাঁড়ায় প্রায় ৩৪০ ডলার। এই হিসাবে তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় আট গুণ এবং রাশিয়ার তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।

মোট অস্ত্র রপ্তানির হিসাবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল ছিল সপ্তম অবস্থানে। এ তালিকায় ইসরায়েলের আগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালি।

তবে জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে চিত্র বদলে যায়। ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি নরওয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি ছিল।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই অবস্থান কোনো এক বছরের ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। গত ২৫ বছরের প্রায় প্রতিটি বছরেই মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অথবা শীর্ষ সারিতে ছিল।

১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের হিসাবেও মাথাপিছু গড় অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল ছিল বিশ্বের শীর্ষে। এই সময়ে দেশটি প্রতিবছর গড়ে জনপ্রতি ৫৬ ডলার সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে।

অর্থনীতির আকারের তুলনায়ও ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির অনুপাত উল্লেখযোগ্য। সিপরির হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশটির অস্ত্র রপ্তানি ছিল মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। এই হার ফ্রান্সের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।

তবে সিপরির হিসাবে ড্রোন, গোলাবারুদ, ছোট অস্ত্র, সাইবার প্রযুক্তি, নজরদারি সরঞ্জাম, সেবা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সরকারের নিজস্ব বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির কথা জানিয়েছিল। এই পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্থনীতির অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় সাড়ে আট গুণ এবং ফ্রান্সের তুলনায় প্রায় নয় গুণ।

তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়, বৃহৎ পরাশক্তিগুলো মোট হিসাবে অস্ত্র রপ্তানি করে বেশি অর্থ আয় করলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারের অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি অন্য তুলনীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর