২১ জুন ২০২৬

ফ্রান্সে ট্রাম্প-মোদির সাক্ষাৎ, চিরচেনা আলিঙ্গন অনুপস্থিত

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
ফ্রান্সে ট্রাম্প-মোদির সাক্ষাৎ, চিরচেনা আলিঙ্গন অনুপস্থিত

বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ১৬ মাস পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাক্ষাৎ করলেও মোদির ট্রেডমার্ক আলিঙ্গন অনুপস্থিত ছিল। গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বঁ শহরে আয়োজিত জি-৭ নেতাদের সমাবেশে তাঁরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আলোচনা করেন। দুই দেশের সম্পর্কে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সম্মেলনস্থলে মোদি ও ট্রাম্প করমর্দনের পর সংক্ষিপ্ত আলাপে অংশ নেন। যদিও তাঁদের ওই আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, তা জানা যায়নি। তবে বুধবার সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের পর থেকে দুই দেশ আবারও সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগে এগোচ্ছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ এবং গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর।

পরবর্তী কয়েক মাসে ট্রাম্প বারবার প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত প্রশমিত করেছেন এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান ছিল, সংঘাতের অবসান হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি এবং এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও দুই দেশের সম্পর্কের অবনতিতে ভূমিকা রাখে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশ সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকেও অগ্রগতি হয়েছে।

তবে গত সপ্তাহে নতুন করে সম্পর্কে চাপ তৈরি হয় ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর। একটি জাহাজে থাকা তিন ভারতীয় নিহত হওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে। ভারত জানায়, ভারতীয় নাবিক থাকা বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী ও মারাত্মক’ হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এ বিষয়ে মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের এই অবস্থান ও উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ মার্কিন অনুমতি ছাড়া তেল পরিবহন করতে পারবে না। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ৮ জুন মারিভেক্স, ৯ জুন সেট্টেবেলো এবং ১১ জুন এমটি জলভির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজগুলো ইরানের বন্দর অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল।

মোদি-ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎ ছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওয়াশিংটন ডিসি সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। আজ বুধবারের বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর পর্যালোচনা করতে পারেন। আলোচনায় চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

এই বাণিজ্য চুক্তিকে একটি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করতে পারেন। গত মাসে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় রুবিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘নিকট ভবিষ্যতে’ হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান। রুবিও ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলের ‘ভিত্তিস্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, জি-৭ সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিতে মোদি বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন। গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির জোট। সদস্য দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই জোটের সদস্য। বিশ্বের অর্থনৈতিক, আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম প্রধান ফোরাম হিসেবে কাজ করে জি–৭।

চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)’ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই দেশের ‘টেকনিক্যাল পর্যায়ের’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

জানা যায়, এই মেগা বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে, ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে তেহরানের প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যেই জুরিখে এসে পৌঁছেছে।

সমঝোতা স্মারক সই হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এখনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি শিগগির সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে যেতে পারেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি।

একইসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তাদের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আজ আবার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের লুজানের নিকটবর্তী বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই বিশেষ কারিগরি ও রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার ঐতিহাসিক খসড়া সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই আগামী ৬০ দিনের জন্য এই রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অঞ্চলটিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করা।

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানই ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাতার সরকারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ মডেলের বিমানটি উন্মোচন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আরেকটি বিমান কখনো হবে না; এটি সত্যিই অনন্য।’ বিমানটি আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ উড্ডয়ন প্রদর্শনীর নেতৃত্ব দেবে।

বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নতুন লাল-সাদা-নীল রঙের নকশা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন শেষে বিমানটি এখন চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত।

তিন দশকের পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ মডেলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই বিমানটি বিদেশি সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করায় স্বার্থের সংঘাত ও নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল।

তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, করদাতাদের শত শত মিলিয়ন ডলার বাঁচাতে এই বিনামূল্যে পাওয়া উপহার গ্রহণ না করাটা বোকামি হতো। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ২০২৮ সালে বোয়িংয়ের নতুন স্থায়ী বিমানবহর আসার পূর্ব পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হবে।

ইসরায়েলকে সতর্ক করে ভ্যান্স বললেন ‘আমরা ছাড়া তোমাদের আর কেউ নেই’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
ইসরায়েলকে সতর্ক করে ভ্যান্স বললেন ‘আমরা ছাড়া তোমাদের আর কেউ নেই’

ইরানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কঠোর সমালোচনার জবাবে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ইসরায়েলকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তাদের একমাত্র বন্ধু অবশিষ্ট রয়েছে এবং কেবল ‘হত্যা’ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, হোয়াইট হাউসের এই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে তারা মূলত নিজেদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকেই অপমান করছে। একইসঙ্গে লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালিয়ে ইসরাইল শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করছে বলেও তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত এই ‌‘সহযোগিতা স্মারক’ বা চুক্তিটি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য পর্দার আড়ালে চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ৯ মিলিয়নের একটি দেশ কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে না। গত তিন মাসে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ অস্ত্রই মার্কিন করদাতাদের টাকায় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ইসরাইলকে ‘বাস্তবতার ঘ্রাণ’ নেওয়ার পরামর্শ দেন। অবশ্য বেন-গ্যভিরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাবে বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর নাজিদের (ইরান) সঙ্গে ঠিক সেভাবেই মোকাবিলা করতে হবে যেভাবে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র আসল নাজিদের দমন করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ফ্রিজড বা অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দেওয়া, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে রাজি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গত মার্চের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় খোদ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটিকে ইরানের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসরাইলের অভ্যন্তরেও এই চুক্তিকে একটি ‘বিপর্যয়’ এবং ‘মারাত্মক আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। অন্যদিকে, গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, নিরুপায় হয়েই ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরান শত্রুর কোনো শর্ত মেনে নেবে না। তবে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে, যা তিনি এখন মার্কিন ভোটারদের কাছেও প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: ওবামা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি শোচনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তেহরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিচালনার মূল যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে ওবামা এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘আমরা এখন একটি যুদ্ধ লড়েছি, শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছি, আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছি। অনেক মানুষ মারা গেছে। আর এখন মনে হচ্ছে আমরা যুদ্ধ শুরু করার আগে যেখানে ছিলাম ঠিক সেখানেই ফিরে এসেছি, তবে সম্ভবত আগের চেয়ে একটু বেশি খারাপ অবস্থায় আছি।’ ওবামা তার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ‘আমি একটি যুদ্ধবিরতি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমি আশাবাদী যে এটি স্থায়ী হবে।’

তবে একই সঙ্গে ওবামা স্মরণ করিয়ে দেন যে তার নিজের প্রশাসনের আমলে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তিটি বাতিল করায় ইরান পরবর্তীতে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ পায়।

গত বুধবার প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এই সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষর করেন, যা স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে নীতি নির্ধারকদের আগামী ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওবামা তার নবনির্মিত প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার নিয়ে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে আমেরিকা বর্তমানে একটি বড় ধরনের বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তার এই নতুন কেন্দ্রটি সবার ভেতরে থাকা নাগরিক দায়িত্ববোধকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে নতুন আইনের উদ্যোগ নরওয়ের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে নতুন আইনের উদ্যোগ নরওয়ের

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশটির সরকার একটি গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মাধ্যমে এ বিষয়ে জনমত যাচাই করা হবে।

নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত যেকোনো পণ্য আমদানি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে আইনটিতে ওই বসতিগুলোতে পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ, সেখানে সম্পত্তি কেনা, বসতি নির্মাণ বা বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সেবা প্রদান নিষিদ্ধ করা এবং বসতিতে অবস্থিত কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে এই উদ্যোগের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করাই নরওয়ের মূল লক্ষ্য।

নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, এই আইনটির বিষয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। এই গণপরামর্শ থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে যে, প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে কি না।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আসছে। নরওয়ের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক মহলে অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।