মাস্কাট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এই পথ খুলে যাওয়ার পরপরই ওমান উপকূলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের দীর্ঘ সারি ও ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারের পর গত ২৪ ঘণ্টায় এই রুটে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলের জাহাজের ট্রাফিক বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মূল রুট সচল হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তেহরানের নতুন শর্ত
দীর্ঘদিন পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও ট্রানজিট ব্যবস্থা নিয়ে নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই রুটের নিরাপত্তা এবং ট্রানজিট পাসের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও আইনি বিধিবিধান কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার পর কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নেওয়া বিভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পদক্ষেপের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রণালি সচল হলেও ইরানের দেওয়া নতুন শর্তগুলো এই রুটে চলাচলকারী পশ্চিমা জাহাজগুলোর জন্য কতটুকু জটিলতা তৈরি করে, তা এখন দেখার বিষয়।