আবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সাত মিনিটে যেন নতুন করে লেখা হলো মেসিদের রুপকথা।
আটলান্টার স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা লিওনেল স্কালোনির দল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে।
এতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা। এবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের শেষ প্রতিপক্ষ স্পেন। তবে এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াইয়ে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণের চেয়ে বেশি লড়েছে মাঝমাঠের দখল নিয়ে। শুরু থেকেই ছিল ফাউল, সংঘর্ষ আর স্নায়ুযুদ্ধ।
ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পান এনজো ফার্নান্দেজ, তবে তার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের ট্যাপ-ইনে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতা ফেরাতে পারছিল না আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে মেসির পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্তে জেড স্পেন্সকে কাটিয়ে নিখুঁত ক্রস তোলেন মেসি। দূরের পোস্টে অরক্ষিত থাকা লাওতারো মার্তিনেজ হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে দেন।
আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের পাতায় নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১২তম অ্যাসিস্ট (গোল করানো)।ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে তিনি এই চোখধাঁধানো কীর্তি গড়লেন। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে এই যাত্রার শুরু হয়েছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান বিশ্বকাপের প্রতিটি বিশ্বকাপেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর এই ধারা বজায় রেখেছেন তিনি। ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে দুইয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা।