২০ অক্টোবর ২০২৬

২ গোল বাতিল ও পেনাল্টি বিতর্ক: ফুটবল আইনের সঠিক প্রয়োগে বাঁচল আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
২ গোল বাতিল ও পেনাল্টি বিতর্ক: ফুটবল আইনের সঠিক প্রয়োগে বাঁচল আর্জেন্টিনা
টপ স্টোরিজ

‘ফুটবল আপনাকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে শেখায়’—চিরন্তন এ সত্যই যেন আবার জীবন্ত হয়ে ফিরল মিয়ামির বিশ্বকাপের রাতে!
৬৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন আর্জেন্টিনা ০, মিসর ২। জি, আপনি ভুল পড়ছেন না!

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তখন প্রায় অচেনা, বিধ্বস্ত, মুখ শুকনো, দুশ্চিন্তায় কাহিল। আর মিসর? তারা যেন ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছিল। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে সত্যিকার নিষ্ঠুরতার ধারালো ছুরি! শেষ ১৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা বাকি ম্যাচটি দুই ধার চাকু দিয়ে এমনভাবে চিরল যে, এই রক্তক্ষরণের যন্ত্রণা সম্ভবত আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে মিসরকে!

লড়াই জেতার জেদে পুরো আর্জেন্টিনা এমন এক মহাকাব্য লিখল, যার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে ছিল লিওনেল মেসির ছায়া, সরব উপস্থিতি, লিডারশিপ-যাকে বলে লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট। সে সাহসেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং মিসরের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস। অথচ এ দলটিই ম্যাচের বেশিরভাগ সময় পর্যন্ত আনন্দের রেশে আপ্লুত ছিল।

ওই যে শুরুতে বলা সে কথাটা মনে পড়ছে-শেষ বাঁশি পর্যন্ত বিশ্বাস ও সাহস ধরে রাখা। মাত্র ১৩ মিনিটের তিন গোলে এই ম্যাচের সবকিছুই এক লহমায় বদলে গেল। বদলে গেল জয়ী দলের নামও!
ম্যাচ আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জিতেছে। কিন্তু এক ঝটিকায় এ তিন গোলের গল্পে লুকিয়ে আছে আরো বড় গল্প—একটি প্রায় নিখুঁত কৌশলের, একটি মিস পেনাল্টি শটের, একটি বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তের সঠিক ব্যাখ্যার এবং একজন কিংবদন্তির সময়কে নিজ ইচ্ছেমতো আবার নিজের দিকে বাঁকিয়ে দেওয়ার গল্প। এক ম্যাচে এক সঙ্গে এত গল্পের সমাহার কে কবে দেখেছিল?

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক ক্ল্যাসিক আছে। অনেক প্রত্যাবর্তন আছে। অনেক ট্র্যাজেডিও আছে; কিন্তু এক ম্যাচে এত নাটক, এত সৌন্দর্য, এত নিষ্ঠুরতা, এত বীরত্ব, এত নায়ক, এত পার্শ্বনায়ক-সব একসঙ্গে খুব কমই দেখা গেছে। এ রাত তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়; এটি ফুটবলের নিজস্ব নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হওয়া এক মহাকাব্য।

আর এই ক্ল্যাসিক ম্যাচে মিসরের শুরুর পরিকল্পনা ছিল সাহসী, উদ্যমী ও দুরন্ত! তারা শুধু রক্ষণে দেয়াল তুলে বসে থাকেনি; বরং মাঝমাঠকে এমনভাবে সংকুচিত করেছিল যে, এনজো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এমনকি মেসিকেও বারবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে। আর্জেন্টিনা বলের দখল রেখেছিল; কিন্তু সেই দখল বেশিরভাগ সময়ই ছিল নিষ্ফলা। কারণ, সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হাফস্পেস প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল মিসর।

আক্রমণে তাদের পরিকল্পনাও ছিল অসাধারণ। মোহাম্মদ সালাহ বারবার টাচলাইন ছেড়ে ভেতরে ঢুকছিলেন। এতে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাকরা দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছিলেন—সালাহকে অনুসরণ করবেন, নাকি বাইরের দৌড় সামলাবেন? সেই এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতার ফাঁকেই উঠে আসছিলেন মোস্তফা জিকো। প্রথম গোল, পরে বৈধ দ্বিতীয় গোল—দুটোই একই নকশায় আঁকা।

এর সঙ্গে যোগ হয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের অবিশ্বাস্য রাত। মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে তিনি শুধু একটি গোলই বাঁচাননি, পুরো দলকে বিশ্বাস উপহার দিয়েছিলেন। তিনি যেন প্রাচীর। মিসরের পিরামিডের দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ফিরিয়ে দিলেন। আলভারেজের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিলেন হাতের পাঞ্জায়। আরেকটি শট ঠেলে দিলেন পোস্টের বাইরে।

আর্জেন্টিনা যতবার আক্রমণ করেছে, ততবারই মনে হয়েছে মিসরের গোলপোস্টে গোলকিপার নয়, দাঁড়িয়ে আছে এক অদৃশ্য দুর্গ। সে দুর্গের করিডোরে আর্জেন্টিনার সব আক্রমণ-বাধা পিছু হটছে।

ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত অবশ্য ভিএআরের সিদ্ধান্ত। যেটা সম্ভবত শুধু ম্যাচে নয়, ম্যাচ শেষেও ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর প্রথম গোলটি বাতিল হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন; কিন্তু ফুটবলের আইন জানাচ্ছে এই গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল নেই।

রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরু হওয়ার ঠিক আগে মারওয়ান আতিয়া বল দখলে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে তাকে বাধা দেন। এটি একই অ্যাটাকিং পজিশন ফেইজের (এপিপি) অংশ ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের আগের বিল্ডআপে যদি ফাউল ঘটে এবং সেটি গোলের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে ভিএআর সে ঘটনায় ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করতে পারে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত মনে হলেও আইনের দৃষ্টিতে সেটি সঠিক ছিল।

একইভাবে ম্যাচের শেষদিকে সালাহর পেনাল্টির দাবিও গ্রহণযোগ্য হয়নি। রিপ্লে স্পষ্ট বলছে, হুলিয়ান আলভারেজ প্রথমে বৈধভাবে বলে স্পর্শ করেন; এরপর দুজনের স্বাভাবিক সংঘর্ষ হয়। ফুটবলের নিয়মে এটিকে ফাউল ধরা হয় না। ফলে দুই বিতর্কেই রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়—দুই গোলে এগিয়ে থেকেও মিসর কেন হারল?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে ৭০ মিনিটের পরের ক্লান্তিতে। প্রথম এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যে কমপ্যাক্ট ডিফেন্স কাঠামো মিসর ধরে রেখেছিল, সেটি বজায় রাখতে বিপুল শারীরিক শক্তি ব্যয় হয়েছে। ঠিক তখনই লিওনেল স্কালোনি মেসিকে নির্দিষ্ট অবস্থানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে দেন। তিনি কখনো ডানদিকে, কখনো মাঝখানে, কখনো আবার নিচে নেমে খেলতে শুরু করেন। একজন নির্দিষ্ট মার্কারের পক্ষে তাকে অনুসরণ করা তখন আর সম্ভব ছিল না।

ফলাফল?
মেসির অ্যাসিস্টে রোমেরোর হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আর্জেন্টিনা। এরপর মেসির চোখ জুড়ানো দুর্বার গতির ভলি। দুই গোলের মাঝখানে মিসরের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিল মনোযোগ হারানো। বিশেষ করে সেট-পিস মার্কিংয়ে তাদের রক্ষণের শক্তি ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেসের হেডে আসে জয়সূচক গোল—যেন মানসিক জোয়ারে ভেসে যাওয়া এক ক্লান্ত প্রতিরক্ষার শেষ আত্মসমর্পণ। ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে, সে সময় কেন ডিফেন্সে মাত্র একজন খেলোয়াড় ডি-বক্সে থাকবেন? বাকিরা কোথায়? উত্তর একটাই- ক্লান্তি। ফুটবল নিষ্ঠুরতা দেখায় যদি আপনি শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াইয়ের যথেচ্ছ শক্তি ধরে রাখতে না পারেন!

শেষ শক্তি ঢেলে দিয়ে আর্জেন্টিনা এ ম্যাচ জিতলেও তারা কিন্তু মোটেও নিখুঁত ছিল না। দলের দুই সেন্টার-ব্যাকের মধ্যকার দূরত্ব বারবার উদ্বেগের কারণ হয়েছিল। সালাহ যখন ভেতরে ঢুকছিলেন, মোস্তফা জিকো তখন সেই ফাঁকা করিডোর ব্যবহার করছিলেন। দ্বিতীয় গোলে এই দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট। এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়।

শক্তিশালী ও সংগঠিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রাখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে রক্ষণে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি করেছে। মেসির প্রতিভা সেই ক্ষত হয়তো ঢেকে দিচ্ছে; কিন্তু প্রতিবার এমন অলৌকিক প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইংল্যান্ড বা স্পেন-ফ্রান্স সম্ভবত আর্জেন্টিনাকে সে সুযোগ দেবে না।

আর মেসি? পেনাল্টি মিস করার পর তার চেহারাই বলে দিচ্ছিল ভুলটা কেমন ছিল। মিসর স্কোরলাইন ২-০ করার পর তার মুখ আরো শুকনো হয়ে গেল। জানতেন, এভাবে বিদায় নিলে এ বিশ্বকাপ তার বাকি সবকিছুকে ভুলে যাবে। তাই লড়াইয়ে ফিরতে চোয়াল-শক্ত পণ করলেন। খেলার কৌশল বদলালেন। আক্রমণের পথও বদল করলেন। নিজের পরিচিত সেই ছকে রইলেন না।

জেতার জেদের সেই অবিশ্বাস্য শক্তিতে মেসি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ছন্দ, গতি, বিশ্বাস—সবকিছুর পরিচালক হয়ে উঠলেন। কর্নার থেকে একটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট, একটি অসাধারণ ভলি, অসংখ্য সঠিক সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত পুরো দলকে বিশ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া—এটাই কিংবদন্তিদের আলাদা করে। তারা ভুল করেন; কিন্তু সেই ভুলকেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম বাক্যেও পরিণত করেন।

মিসর ম্যাচ হেরেছে; কিন্তু তাদের পরিকল্পনা, সাহস আর লড়াই বিশ্বফুটবলের শ্রদ্ধা কুড়িয়েছে। আর আর্জেন্টিনা জিতেছে শুধু তিনটি গোলের জন্য নয়; জিতেছে কারণ তাদের দলে এখনো এমন একজন আছেন, যিনি অসম্ভবকে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কখনো ‘অসম্ভব’ মনে করেন না।

ফুটবলের অভিধানে তাই নতুন করে আরেকটি লাইন লেখা হলো—স্বপ্ন ভাঙে, কৌশল ভাঙে, শরীরও হয়তো ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে; কিন্তু বিশ্বাসের নাম যদি লিওনেল মেসি হয়, তবে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ‘মেসির গল্পের’ সমাপ্তি হয় না।
এ বিশ্বকাপে মেসির সেই সুন্দর গল্প এখনো ক্রমশ…!

ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি
টপ স্টোরিজ

পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্বাসনের মুখে। পর্তুগালের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক এবং সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, তাকে জরিমানা করা হলে তিনি সেটা মেনে নেবেন।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সিআরসেভেন। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনও ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ বা দলের কোনও কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আলমেইদা ফিফার বিচারকও। তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আলমেইদা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। রোনালদোকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে রোনালদোর জন্য স্বস্তির জায়গাও রয়েছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুটবলার তদন্তের আওতায় থাকা ঘটনার কথা স্বীকার করলে, শাস্তির সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হল, স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে। তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা চলবে না।

আলমেইদার মতে, রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুলের কথা কোনওরকম শর্ত ছাড়াই স্বীকার করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নির্বাসন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শাস্তি কার্যকর হলে, সেটা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন
শেষ ম্যাচে মেসিকে ঘিরে ধরেছেন বেনিনের ডিফেন্ডাররা
টপ স্টোরিজ

জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেও জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, বেনিনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে সক্রিয় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম কয়েক মিনিটেই বেনিনের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২ ও ৩ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।

তবে ৪ মিনিটে উল্টো আক্রমণ থেকে ফাউলের শিকার হয় বেনিন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলে ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকার দলটি। ৫ম মিনিটেই বেনিনকে আক্রমণে দেখা যায়। জুনিয়র ওলাইতানের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। একই মিনিটে মোহামেদ তিজানির পাস থেকে ইয়োহান রোশের বক্সের মাঝামাঝি থেকে নেওয়া শটও ব্লক হয়ে যায়।

৭ম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় সুযোগটি আসে মেসির কাছ থেকে। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে বাম পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু নিচের বাঁ দিকে যাওয়া শটটি বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ঠেকিয়ে দেন।

একই মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ডান পায়ের শটও বেনিন গোলরক্ষক রক্ষা করেন।

১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বেনিন। কর্নার থেকে জুনিয়র ওলাইতানের ক্রসে তসিন আইয়েগুনের হেড লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। রোদলফো আলোকোর ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সের ডান দিকে রদ্রিগো দে পল শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে মেসি আবারও গোলের খুব কাছে চলে যান। ডি পলের থ্রু বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট সামান্য বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মেসির ওপর বেনিনের রক্ষণও বেশ চাপ তৈরি করছিল। ২৫ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি। এক মিনিট পর আবারও মেসির শট। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও নিচের বাঁ দিকে যাওয়া বলটি দান্দজিনু অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৯ মিনিটে ডি পলের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড বেনিনের রক্ষণে আটকে যায়। একই সময়ে কর্নারও পায় আর্জেন্টিনা। ৩২ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের সহায়তায় বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শট নেন তিনি। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ অফসাইডে ধরা পড়েন। ৩৭ মিনিটে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান হ্যান্ডবলের কারণে ফাউল করেন।

৪৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। বক্সের ডান দিক থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট গোলের বাঁদিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু দান্দজিনু আবারও দুর্দান্তভাবে সেই বল ঠেকিয়ে দেন।

এরমাত্র কিছুক্ষণ পরই বেনিনের পাল্টা আক্রমণ। ইয়ামিরু ওউরুর বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট নিচের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন। ৪৩ মিনিটেই বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেটিও নিচের বাঁ দিকে যাচ্ছিল, তবে মার্তিনেজ আবারও সেটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি কর্নার পায়। প্রথমার্ধে কয়েক দফা ভালো সুযোগ তৈরি করেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। মেসি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু ওউরুও আর্জেন্টিনার গোলমুখে বিপদ তৈরি করেছেন।

তবে দুই দলের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাই দ্বিতীয়ার্ধেই এখন নির্ধারিত হবে ম্যাচের ভাগ্য।