৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ গোল বাতিল ও পেনাল্টি বিতর্ক: ফুটবল আইনের সঠিক প্রয়োগে বাঁচল আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
২ গোল বাতিল ও পেনাল্টি বিতর্ক: ফুটবল আইনের সঠিক প্রয়োগে বাঁচল আর্জেন্টিনা

‘ফুটবল আপনাকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে শেখায়’—চিরন্তন এ সত্যই যেন আবার জীবন্ত হয়ে ফিরল মিয়ামির বিশ্বকাপের রাতে!
৬৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন আর্জেন্টিনা ০, মিসর ২। জি, আপনি ভুল পড়ছেন না!

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তখন প্রায় অচেনা, বিধ্বস্ত, মুখ শুকনো, দুশ্চিন্তায় কাহিল। আর মিসর? তারা যেন ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছিল। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে সত্যিকার নিষ্ঠুরতার ধারালো ছুরি! শেষ ১৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা বাকি ম্যাচটি দুই ধার চাকু দিয়ে এমনভাবে চিরল যে, এই রক্তক্ষরণের যন্ত্রণা সম্ভবত আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে মিসরকে!

লড়াই জেতার জেদে পুরো আর্জেন্টিনা এমন এক মহাকাব্য লিখল, যার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে ছিল লিওনেল মেসির ছায়া, সরব উপস্থিতি, লিডারশিপ-যাকে বলে লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট। সে সাহসেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং মিসরের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস। অথচ এ দলটিই ম্যাচের বেশিরভাগ সময় পর্যন্ত আনন্দের রেশে আপ্লুত ছিল।

ওই যে শুরুতে বলা সে কথাটা মনে পড়ছে-শেষ বাঁশি পর্যন্ত বিশ্বাস ও সাহস ধরে রাখা। মাত্র ১৩ মিনিটের তিন গোলে এই ম্যাচের সবকিছুই এক লহমায় বদলে গেল। বদলে গেল জয়ী দলের নামও!
ম্যাচ আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জিতেছে। কিন্তু এক ঝটিকায় এ তিন গোলের গল্পে লুকিয়ে আছে আরো বড় গল্প—একটি প্রায় নিখুঁত কৌশলের, একটি মিস পেনাল্টি শটের, একটি বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তের সঠিক ব্যাখ্যার এবং একজন কিংবদন্তির সময়কে নিজ ইচ্ছেমতো আবার নিজের দিকে বাঁকিয়ে দেওয়ার গল্প। এক ম্যাচে এক সঙ্গে এত গল্পের সমাহার কে কবে দেখেছিল?

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক ক্ল্যাসিক আছে। অনেক প্রত্যাবর্তন আছে। অনেক ট্র্যাজেডিও আছে; কিন্তু এক ম্যাচে এত নাটক, এত সৌন্দর্য, এত নিষ্ঠুরতা, এত বীরত্ব, এত নায়ক, এত পার্শ্বনায়ক-সব একসঙ্গে খুব কমই দেখা গেছে। এ রাত তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়; এটি ফুটবলের নিজস্ব নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হওয়া এক মহাকাব্য।

আর এই ক্ল্যাসিক ম্যাচে মিসরের শুরুর পরিকল্পনা ছিল সাহসী, উদ্যমী ও দুরন্ত! তারা শুধু রক্ষণে দেয়াল তুলে বসে থাকেনি; বরং মাঝমাঠকে এমনভাবে সংকুচিত করেছিল যে, এনজো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এমনকি মেসিকেও বারবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে। আর্জেন্টিনা বলের দখল রেখেছিল; কিন্তু সেই দখল বেশিরভাগ সময়ই ছিল নিষ্ফলা। কারণ, সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হাফস্পেস প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল মিসর।

আক্রমণে তাদের পরিকল্পনাও ছিল অসাধারণ। মোহাম্মদ সালাহ বারবার টাচলাইন ছেড়ে ভেতরে ঢুকছিলেন। এতে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাকরা দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছিলেন—সালাহকে অনুসরণ করবেন, নাকি বাইরের দৌড় সামলাবেন? সেই এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতার ফাঁকেই উঠে আসছিলেন মোস্তফা জিকো। প্রথম গোল, পরে বৈধ দ্বিতীয় গোল—দুটোই একই নকশায় আঁকা।

এর সঙ্গে যোগ হয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের অবিশ্বাস্য রাত। মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে তিনি শুধু একটি গোলই বাঁচাননি, পুরো দলকে বিশ্বাস উপহার দিয়েছিলেন। তিনি যেন প্রাচীর। মিসরের পিরামিডের দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ফিরিয়ে দিলেন। আলভারেজের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিলেন হাতের পাঞ্জায়। আরেকটি শট ঠেলে দিলেন পোস্টের বাইরে।

আর্জেন্টিনা যতবার আক্রমণ করেছে, ততবারই মনে হয়েছে মিসরের গোলপোস্টে গোলকিপার নয়, দাঁড়িয়ে আছে এক অদৃশ্য দুর্গ। সে দুর্গের করিডোরে আর্জেন্টিনার সব আক্রমণ-বাধা পিছু হটছে।

ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত অবশ্য ভিএআরের সিদ্ধান্ত। যেটা সম্ভবত শুধু ম্যাচে নয়, ম্যাচ শেষেও ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর প্রথম গোলটি বাতিল হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন; কিন্তু ফুটবলের আইন জানাচ্ছে এই গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল নেই।

রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরু হওয়ার ঠিক আগে মারওয়ান আতিয়া বল দখলে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে তাকে বাধা দেন। এটি একই অ্যাটাকিং পজিশন ফেইজের (এপিপি) অংশ ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের আগের বিল্ডআপে যদি ফাউল ঘটে এবং সেটি গোলের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে ভিএআর সে ঘটনায় ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করতে পারে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত মনে হলেও আইনের দৃষ্টিতে সেটি সঠিক ছিল।

একইভাবে ম্যাচের শেষদিকে সালাহর পেনাল্টির দাবিও গ্রহণযোগ্য হয়নি। রিপ্লে স্পষ্ট বলছে, হুলিয়ান আলভারেজ প্রথমে বৈধভাবে বলে স্পর্শ করেন; এরপর দুজনের স্বাভাবিক সংঘর্ষ হয়। ফুটবলের নিয়মে এটিকে ফাউল ধরা হয় না। ফলে দুই বিতর্কেই রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়—দুই গোলে এগিয়ে থেকেও মিসর কেন হারল?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে ৭০ মিনিটের পরের ক্লান্তিতে। প্রথম এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যে কমপ্যাক্ট ডিফেন্স কাঠামো মিসর ধরে রেখেছিল, সেটি বজায় রাখতে বিপুল শারীরিক শক্তি ব্যয় হয়েছে। ঠিক তখনই লিওনেল স্কালোনি মেসিকে নির্দিষ্ট অবস্থানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে দেন। তিনি কখনো ডানদিকে, কখনো মাঝখানে, কখনো আবার নিচে নেমে খেলতে শুরু করেন। একজন নির্দিষ্ট মার্কারের পক্ষে তাকে অনুসরণ করা তখন আর সম্ভব ছিল না।

ফলাফল?
মেসির অ্যাসিস্টে রোমেরোর হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আর্জেন্টিনা। এরপর মেসির চোখ জুড়ানো দুর্বার গতির ভলি। দুই গোলের মাঝখানে মিসরের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিল মনোযোগ হারানো। বিশেষ করে সেট-পিস মার্কিংয়ে তাদের রক্ষণের শক্তি ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেসের হেডে আসে জয়সূচক গোল—যেন মানসিক জোয়ারে ভেসে যাওয়া এক ক্লান্ত প্রতিরক্ষার শেষ আত্মসমর্পণ। ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে, সে সময় কেন ডিফেন্সে মাত্র একজন খেলোয়াড় ডি-বক্সে থাকবেন? বাকিরা কোথায়? উত্তর একটাই- ক্লান্তি। ফুটবল নিষ্ঠুরতা দেখায় যদি আপনি শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াইয়ের যথেচ্ছ শক্তি ধরে রাখতে না পারেন!

শেষ শক্তি ঢেলে দিয়ে আর্জেন্টিনা এ ম্যাচ জিতলেও তারা কিন্তু মোটেও নিখুঁত ছিল না। দলের দুই সেন্টার-ব্যাকের মধ্যকার দূরত্ব বারবার উদ্বেগের কারণ হয়েছিল। সালাহ যখন ভেতরে ঢুকছিলেন, মোস্তফা জিকো তখন সেই ফাঁকা করিডোর ব্যবহার করছিলেন। দ্বিতীয় গোলে এই দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট। এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়।

শক্তিশালী ও সংগঠিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রাখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে রক্ষণে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি করেছে। মেসির প্রতিভা সেই ক্ষত হয়তো ঢেকে দিচ্ছে; কিন্তু প্রতিবার এমন অলৌকিক প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইংল্যান্ড বা স্পেন-ফ্রান্স সম্ভবত আর্জেন্টিনাকে সে সুযোগ দেবে না।

আর মেসি? পেনাল্টি মিস করার পর তার চেহারাই বলে দিচ্ছিল ভুলটা কেমন ছিল। মিসর স্কোরলাইন ২-০ করার পর তার মুখ আরো শুকনো হয়ে গেল। জানতেন, এভাবে বিদায় নিলে এ বিশ্বকাপ তার বাকি সবকিছুকে ভুলে যাবে। তাই লড়াইয়ে ফিরতে চোয়াল-শক্ত পণ করলেন। খেলার কৌশল বদলালেন। আক্রমণের পথও বদল করলেন। নিজের পরিচিত সেই ছকে রইলেন না।

জেতার জেদের সেই অবিশ্বাস্য শক্তিতে মেসি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ছন্দ, গতি, বিশ্বাস—সবকিছুর পরিচালক হয়ে উঠলেন। কর্নার থেকে একটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট, একটি অসাধারণ ভলি, অসংখ্য সঠিক সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত পুরো দলকে বিশ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া—এটাই কিংবদন্তিদের আলাদা করে। তারা ভুল করেন; কিন্তু সেই ভুলকেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম বাক্যেও পরিণত করেন।

মিসর ম্যাচ হেরেছে; কিন্তু তাদের পরিকল্পনা, সাহস আর লড়াই বিশ্বফুটবলের শ্রদ্ধা কুড়িয়েছে। আর আর্জেন্টিনা জিতেছে শুধু তিনটি গোলের জন্য নয়; জিতেছে কারণ তাদের দলে এখনো এমন একজন আছেন, যিনি অসম্ভবকে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কখনো ‘অসম্ভব’ মনে করেন না।

ফুটবলের অভিধানে তাই নতুন করে আরেকটি লাইন লেখা হলো—স্বপ্ন ভাঙে, কৌশল ভাঙে, শরীরও হয়তো ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে; কিন্তু বিশ্বাসের নাম যদি লিওনেল মেসি হয়, তবে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ‘মেসির গল্পের’ সমাপ্তি হয় না।
এ বিশ্বকাপে মেসির সেই সুন্দর গল্প এখনো ক্রমশ…!

মেসির ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
মেসির ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?

যেই দিনটি কেউ চাইছিল না, সেটাই এসে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন লিওনেল মেসি। হাতে লেখা একটি বার্তা ও এক আবেগঘন ভিডিও দিয়ে রোজারিওর জাদুকর তার সাফল্যে ভরা অধ্যায়ের ইতি টানলেন। এখন আলবিসেলেস্তের ১০ নম্বর জার্সি উঠবে নতুন কারও গায়ে। আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে এই জার্সির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রহস্যই থেকে যাবে।

মেসি প্রথমবার এই আইকনিক জার্সি পরেছিলেন ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ, জাতীয় দলে যখন কোচ ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এই জার্সিতে অভিষেকেই তার ক্যারিয়ারের দারুণ সূচনা এনে দেন, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৪-০ গোলে ম্যাচটি জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তারপর থেকে এই জার্সি তার গায়েই শোভা পেয়েছে।

মেসি অবসর নেওয়ায় নতুন নাম্বার টেন খুঁজে বের করা এখন বাধ্যতামূলক। মেসি বাদে এই জার্সি শেষবার পরেছিলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। ১-০ গোলে হারের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে এই জার্সি পরে মাঠে নামেন তিনি। তারও আগে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেল কোরেয়া ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলে। পাওলো দিবালাও পেয়েছিলেন ১০ নম্বর জার্সি পরার সুযোগ, চিলির বিপক্ষে। কিন্তু এই তিনজনের কেউই শেষ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন না।

লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দলে নিয়মিত ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে নিজ ক্লাবের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। ইন্টার মিলানের হয়ে লাউতারো মার্টিনেজ, লিভারপুলে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোমার নিকোলাস পাজ। তাদের আগেও নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে একটা সময় এই জার্সি পরেছিলেন রদ্রিগো দি পল (রেসিং ও উদিনেসে), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা), থিয়াগো আলমাদা (ভেলেজ ও আতলান্তা ইউনাইটেড), জিওভানি লু সেলসো (রোজারিও সেন্ট্রাল) ও নিকোলাস গঞ্জালেজ (আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও ফিওরেন্তিনা)।

তবে মাঠে মেসির স্থলাভিষিক্ত হওয়া অনেক বেশি কঠিন। শুধু তিনি যা প্রতিনিধিত্ব করেন তার জন্যই নয়, বরং এই বয়সেও মাঠে তিনি যা কিছু অবদান রেখেছেন, তার জন্যও। গত দুটি বিশ্বকাপেই অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাকে ঘিরেই যেন দল আবর্তিত ছিল। যদিও শেষটা ভুলে যাওয়ার মতো হয়েছে উত্তর আমেরিকায়।

গত বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসি সেন্টার ফরোয়ার্ডের স্ট্রাইক পার্টনার হিসেবে খেলেছেন, যে ভূমিকায় শুরুতে ছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ, পরে হুলিয়ান আলভারেজ। জর্ডানের বিপক্ষে যে ম্যাচেই কেবল বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, সেই ম্যাচে লাউতারো ও আলভারেজ জুটি বেঁধে আক্রমণে খেলেছেন। সম্ভবত এই পজিশন থেকেই কেউ মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হবেন।

আরও পড়ুন

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি

দুবাইয়ে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দুবাইয়ে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসর শুরু করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস থামে মাত্র ৫৮ রানে।

আরও পড়ুন

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

মেসির ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় ওভারে ৭ বলে ৮ রান করে ফেরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। এরপর দিলারা আক্তার দোলা ও সোবহানা মোস্তারি দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন। ৪ চারে ৩১ বলে ২৭ রান করেন দিলারা। পরে জ্যোতির সঙ্গে সোবহানার ২৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়। অধিনায়ক ১১ বলে ১০ রান করে ফিরলেও সোবহানা করেন ৪২ বলে ৪০ রান। GeographicReference

শেষ দিকে ঝড় তোলেন স্বর্ণা আক্তার। মাত্র ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করে বাংলাদেশের সংগ্রহকে ১২৯-এ নিয়ে যান। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে নি কাদেক আরিয়ানি ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে ইন্দোনেশিয়া। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুটি উইকেট তুলে নেন মারুফা আক্তার। এরপর স্পিনারদের ঘূর্ণিতে দ্রুত গুটিয়ে যায় তাদের ব্যাটিং। নাহিদা আক্তার ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট নেন। মারুফা ৩ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। সানজিদা আক্তার মেঘলা ও ফাহিমা খাতুন নেন একটি করে উইকেট। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন মারিয়া করাজোন।

আগামী রোববার একই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৯/৮ (সোবহানা ৪০, স্বর্ণা ৩১*, দিলারা ২৭; আরিয়ানি ৩/২৮)

ইন্দোনেশিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৫৮/১০ (করাজোন ১২, পাঙ্গেসতুতি ৯; নাহিদা ৩/১৫, মারুফা ২/৬)

ফল: বাংলাদেশ ৭১ রানে জয়ী

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

২০১৬ সালে মেসি কেন এতটা ভেঙে পড়েছিলেন যে অবসর ঘোষণা করেছিলেন?
প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

লিওনেল মেসির জীবনে ২০১৬ সালের সেই রাতটা ছিল সবচেয়ে যন্ত্রণার। আর্জেন্তিনার হয়ে আরও একটি ফাইনালে হার, তার উপর টাইব্রেকারে নিজের পেনাল্টি মিস। সেই ধাক্কা এতটাই গভীর ছিল যে, ম্যাচ শেষেই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন মেসি।

কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। দেশের প্রতি ভালোবাসায় ফের আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামেন তিনি। তার পরের গল্পে এসেছে বিশ্বকাপ-সহ একের পর এক সাফল্য। আজ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় নেওয়ার পর তাই ফিরে দেখা যাক, কেন ২০১৬ সালে এতটা ভেঙে পড়েছিলেন মেসি?

ফাইনালে হার, নিজের পেনাল্টি মিস
২০১৬ সালের জুনে কোপা আমেরিকা শতবর্ষের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্তিনা ও চিলি। নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই চিলির কাছে হেরে যায় আর্জেন্তিনা। আর সেই টাইব্রেকারে নিজের পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। এই হার মেসির কাছে ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণার। কারণ তার আগেও বড় মঞ্চের ফাইনালে বারবার হতাশ হতে হয়েছিল তাঁকে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার। তার পর ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হার। ২০১৬ সালেও একই দলের কাছে একই ভাবে হার। অর্থাৎ ন’ বছরের মধ্যে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চারটি ফাইনালে হারের সাক্ষী হয়েছিলেন মেসি।

তখন আর সেই হতাশা সামলাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের পরই জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন লিও। সেই সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ। আমি যা যা করতে পারতাম, সব করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা খুব কষ্টের। চারটি ফাইনাল খেলেছি, চেষ্টা করেছি। এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারিনি। তাই মনে হয়, এ বার শেষ।’

আরও পড়ুন

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি

কয়েক সপ্তাহেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত
তবে সেই অবসর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন মেসি। ২০১৬ সালের অগস্টে জানিয়ে দেন, আবার আর্জেন্তিনার হয়ে খেলতে চান। আসলে জাতীয় দলের প্রতি মেসির টান এতটাই গভীর ছিল যে, ফাইনালের সেই তীব্র হতাশা ধীরে ধীরে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। নিজের দেশ এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে ফের মাঠে টেনে আনে। অবসর ভেঙে ফিরে এসে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি এই দেশ এবং এই জার্সিটাকে খুব বেশি ভালোবাসি।’

শুধু ফিরে আসাই নয়, আর্জেন্তিনার ফুটবলের সমস্যাগুলির সমাধানও ভিতর থেকে করতে চেয়েছিলেন তিনি। বাইরে থেকে সমালোচনা না করে দলের সঙ্গেই থেকে পরিবর্তনের অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি বাইরে থেকে সমালোচনা করার চেয়ে ভিতর থেকে এই কাজটা করতেই বেশি পছন্দ করি।’

সেই প্রত্যাবর্তনই বদলে দিল মেসির গল্প
২০১৬ সালে যে মেসি একটি ফাইনালে হারের পর ভেঙে পড়ে জাতীয় দল ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই মেসিই কয়েক বছর পর আর্জেন্তিনার ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্যের নায়ক হয়ে ওঠেন। অবসর থেকে ফেরার পাঁচ বছর পর ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্তিনা। সেটিই ছিল মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় সাফল্য পাওয়ার পর যেন বদলে যায় তাঁর গল্প।

তার পর হয় মেসির সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জেতেন তিনি। সাতটি গোল করে জেতেন গোল্ডেন বলও। এর পর ২০২২ সালের ফাইনালিসিমায় ইতালিকে হারায় আর্জেন্তিনা। ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকা জেতে তারা। অর্থাৎ ২০১৬ সালে যে মেসি মনে করেছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে আর কিছু দেওয়ার নেই, তিনিই পরের কয়েক বছরে আর্জেন্তিনাকে একের পর এক বড় ট্রফি এনে দেন।

এর পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্তিনার নেতৃত্বে ছিলেন মেসি। দলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন ফাইনালে। কিন্তু সেখানে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবু এ বারের বিদায় ২০১৬ সালের মতো কোনও হতাশার মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। বরং আর্জেন্তিনার হয়ে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ-সহ প্রায় সব বড় সাফল্য ছুঁয়ে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করেই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেন মেসি।

সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি

দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। জাতীয় দলে অসাধারণ সময় কাটানোর জন্য বিদায়বেলায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একইসঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১২৫ গোল, যা দলটির পক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপার পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) জিতেছেন তিনি। নিজের ঝুলিতে আরও পুরেছেন ফিনালিসিমা।

আরও পড়ুন
আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

মেসির অবসরের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইন্সটাগ্রামে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য (লিওনেল মেসিকে) অভিনন্দন, যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সুন্দর এই (ফুটবল) খেলাটিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘২০২২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী, আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের অধিকারী— তোমার এই জাদুকরী প্রতিভা ও বিনয় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ফিফা প্রধান আরও লিখেছেন, ‘(আর্জেন্টিনার) জার্সিতে অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি উপহার দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।’

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের দুই দিন পর জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। এর এক মাসেরও বেশি সময় পর তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা এই ফুটবলার প্রকাশ করেছেন তার সিদ্ধান্ত।

ইন্সটাগ্রামে হাতে লেখা নোট পোস্ট করে বিদায় জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর এতদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি...।’

আরও পড়ুন
এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

সবশেষে একটি টীকায় তিনি লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি লিখেছিলাম গত ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার (মৃত্যু) পর, আমি আগের চেয়েও এই বিষয়ে (আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে অবসর নেওয়া) বেশি নিশ্চিত।’

গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর রোসারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে মেসির গোটা ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব শিরোপা জিতেছেন মেসি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব শিরোপা জিতেছেন মেসি

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা এসেছে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মধ্য দিয়ে। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া পথচলার ২১ বছর পর ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন তিনি। এ দীর্ঘ সময়ে শুধু আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারই হননি শুধু, জিতেছেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সব আন্তর্জাতিক শিরোপাও।

বিশ্বকাপ জয়
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলও জেতেন মেসি।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির আরও কিছু অনন্য কীর্তি রয়েছে। তিনি ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং মোট ২১ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট ১২টি, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ তিনি বিশ্বকাপে মোট ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে সেবার শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপেও প্রায় একক নৈপূন্যে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে তুলে আনেন মেসি। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি তারা।

দুইবার কোপা আমেরিকা জয়
মেসির ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক শিরোপার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা জয় করে। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। সে সঙ্গে ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনাকে কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা উপহার দেন তিনি।

এরপর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। ফলে মেসির ট্রফির তালিকায় যোগ হয় দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা। তিনি কোপা আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৯ ম্যাচ খেলা ফুটবলারও। সাতটি আসরে অংশ নিয়ে করেছেন ১৪ গোল।

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

ফাইনালিসিমা জয়
২০২২ সালে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে ফাইনালিসিমা জয়েও আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দেন মেসি। ওয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। মেসি ম্যাচে দুটি গোলে সহায়তা করেন।

অলিম্পিক স্বর্ণ ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ
মূল জাতীয় দলের বাইরে বয়সভিত্তিক পর্যায়েও আর্জেন্টিনার হয়ে সাফল্যের সাক্ষী মেসি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনাকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতান তিনি। একই আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জয় করেন।

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন মেসি। ফলে যুব পর্যায় থেকেই দেশের জার্সিতে তার সাফল্যের শুরু হয় তার।

আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা
জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যান- ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল। তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার।

২০০৫ সালে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক ধরে দেশের জার্সিতে গোলের পর গোল করেছেন তিনি। তার ১২৫ গোল আর্জেন্টিনার আর কোনো খেলোয়াড়ের কাছাকাছিও নেই। মেসির পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তিনি করেছেন ৫৬ গোল। দিয়েগো ম্যারাডোনার গোল ৩৪টি। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার হলেন হ্যাভিয়ের মাচেরানো, ১৪৭টি।

বিশ্বকাপের দুই গোল্ডেন বল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুইবার গোল্ডেন বল জয় করেন- ২০১৪ ও ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পর এবং ২০২২ সালে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পথে তিনি এই পুরস্কার জেতেন।

আরও পড়ুন

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সোনালি অধ্যায় শুরু হয় ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকে। এরপর ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা, একই বছর বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা- টানা চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

এর আগে অবশ্য হতাশাও কম ছিল না। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ- চারটি বড় ফাইনালে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিলেন মেসি। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর একপর্যায়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফেরেন।

শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাবর্তনই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন। যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, তিনিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ, দুই কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, অলিম্পিক সোনা ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ- আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক সম্মান জিতে বিদায় নিলেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার এক নজরে
ম্যাচ: ২০৭
গোল: ১২৫
বিশ্বকাপ: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
কোপা আমেরিকা: ২০২১ ও ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন
ফাইনালিসিমা: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
অলিম্পিক: ২০০৮ স্বর্ণ
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: ২০০৫ চ্যাম্পিয়ন
বিশ্বকাপ গোল: ২১
বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট: ১২
বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল: ২০১৪ ও ২০২২
বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ৬টি
আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১২৫
আর্জেন্টিনার সর্বাধিক ম্যাচ: ২০৭
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: ৬৮টি।

অর্থাৎ, মেসির বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি।