আধুনিক কাতারের রূপকার ও সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জানাজায় কাতারের রাজপরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর ছেলে ও কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের সদস্যরা মরহুমের মরদেহ কাঁধে নিয়ে মসজিদ থেকে বের করেন। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।
লুসাইল প্রাসাদে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা গ্রহণ
শেখ হামাদের মৃত্যুতে কাতারে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।
দেশী-বিদেশী প্রতিনিধি ও নাগরিকদের জন্য প্রতিদিনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে:
সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।
বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।
লুসাইল প্রাসাদে এই নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকরা আমিরের কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁদের গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন।
সরকারি দপ্তরে এক সপ্তাহের ছুটি
প্রয়াত ফাদার আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কাতারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের সিদ্ধান্ত অনুসারে, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কাতারের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। টানা এক সপ্তাহের এই সাধারণ ছুটি শেষে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিশ্বনেতাদের শোক
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাতারকে একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রে পরিণত করার পেছনে তাঁর অবদানকে বিশ্বনেতারা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন।
এদিকে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটিও এই মহান নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ কমিউনিটি ও দূতাবাস কাতারি রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম কাতার সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।