১০ জুলাই ২০২৬

কাতারে প্রথম স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন, সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ-পানি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
কাতারে প্রথম স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন, সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ-পানি

কাতারে এই প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশটির এনডাওমেন্টস এবং ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বা আওকাফ মন্ত্রণালয় মইদার এলাকায় কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ নামে নতুন এই মসজিদ উদ্বোধন করে।

নগরায়ণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নতুন আবাসিক এলাকায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাতার সরকারের যে দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে, এই মসজিদ নির্মাণ তারই অংশ। এর মাধ্যমে মসজিদকে শুধু ধর্মীয় ইবাদতখানা নয়, বরং একটি সামাজিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ মসজিদটিকে মূলত একটি আধুনিক স্মার্ট মডেল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এখানে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি মসজিদের সার্বিক পরিচালনাকে আরও সহজ করবে এবং সম্পদের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখবে। মসজিদটিতে স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার এবং আলোকসজ্জার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। এর ফলে সনাতন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

এই মসজিদের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অজুখখানার পানি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ব্যবস্থা। অজুর পর ব্যবহৃত পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে মসজিদের টয়লেটে এবং চারপাশের বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং মসজিদের চারপাশ সবুজ ও মনোরম রাখতে সাহায্য করবে।

মন্ত্রণালয়ের দাওয়াহ এবং মসজিদ বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ বিন হামাদ আল কুয়ারি জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে নির্মাণকাজ যেমন নিখুঁত হয়েছে, তেমনি এর স্থায়িত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারজুড়ে আগামীতে এমন আরও বেশ কিছু স্মার্ট মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০৩০ সালের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মসজিদগুলোর অবকাঠামো উন্নত করা, ধর্মীয় সেবার মান বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপত্যশৈলী এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক চমৎকার মিশেলে তৈরি এই মসজিদটি মুসল্লিদের ইবাদতের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও সমৃদ্ধ করবে। একই সাথে এটি কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর টেকসই উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যের সাথেও পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

ইরান-সৌদি প্রতিনিধির সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ইরান-সৌদি প্রতিনিধির সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আত্মরক্ষার্থে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয় তেহরান। এতে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছ থেকে একটি ফোন কল পান এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। দোহার পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন জাহাজের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ফোনালাপে তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় কাতার ও সৌদি আরবের জাহাজগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের উপকূলরেখা বরাবর ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

টার্গেট যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও অবকাঠামো

কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা!

ইরানে রাতভর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। তাদের হামলার লক্ষ্য এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো।

ইরানের ছোড়া মিসাইল অথবা ড্রোনের কারণে ইতিমধ্যে কাতার ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটবর্তী নিরাপদস্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কুয়েতের একটি ঘাঁটি তাদের সেনাদের হামলায় কেঁপে উঠেছে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এরপর সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে কাতারি তেলবাহী জাহাজে হামলা, ইরানকে দায়ী করল দোহা

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ০৮, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে কাতারি তেলবাহী জাহাজে হামলা, ইরানকে দায়ী করল দোহা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ‘আল রেকায়াত’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছে কাতার। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

কাতারের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল-আনসারি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজে এই ধরনের আকস্মিক হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

আল-আনসারি বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রণালিতে যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলের যে আন্তর্জাতিক বিধান রয়েছে, এটি তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

কাতার ও ইরানের মধ্যকার নতুন উত্তেজনা

উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিতে কাতার ও ইরানের সম্পর্ক সাধারণত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং কাতার দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। তবে নিজেদের মালিকানাধীন বা পতাকাবাহী ‘আল রেকায়াত’ জাহাজে হামলার পর দোহার এই সরাসরি অভিযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কাতারের পক্ষ থেকে ইরানকে অবিলম্বে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মুক্ত নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে (সাপ্লাই চেইন) ঝুঁকির মুখে ফেলা থেকে ইরানকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

আইনি দায়বদ্ধতার হুঁশিয়ারি: কাতার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির জন্য ইরানই সম্পূর্ণভাবে আইনগত ও আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী থাকবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের ছায়া

বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশ কাতারের জাহাজে হামলার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও উদ্বায়ী হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এই রুটে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

এখন পর্যন্ত কাতারের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

কাতারে প্রথম স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন, সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ-পানি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
কাতারে প্রথম স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন, সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ-পানি

কাতারে এই প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশটির এনডাওমেন্টস এবং ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বা আওকাফ মন্ত্রণালয় মইদার এলাকায় কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ নামে নতুন এই মসজিদ উদ্বোধন করে।

নগরায়ণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নতুন আবাসিক এলাকায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাতার সরকারের যে দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে, এই মসজিদ নির্মাণ তারই অংশ। এর মাধ্যমে মসজিদকে শুধু ধর্মীয় ইবাদতখানা নয়, বরং একটি সামাজিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ মসজিদটিকে মূলত একটি আধুনিক স্মার্ট মডেল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এখানে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি মসজিদের সার্বিক পরিচালনাকে আরও সহজ করবে এবং সম্পদের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখবে। মসজিদটিতে স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার এবং আলোকসজ্জার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। এর ফলে সনাতন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

এই মসজিদের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অজুখখানার পানি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ব্যবস্থা। অজুর পর ব্যবহৃত পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে মসজিদের টয়লেটে এবং চারপাশের বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং মসজিদের চারপাশ সবুজ ও মনোরম রাখতে সাহায্য করবে।

মন্ত্রণালয়ের দাওয়াহ এবং মসজিদ বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ বিন হামাদ আল কুয়ারি জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে নির্মাণকাজ যেমন নিখুঁত হয়েছে, তেমনি এর স্থায়িত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারজুড়ে আগামীতে এমন আরও বেশ কিছু স্মার্ট মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০৩০ সালের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মসজিদগুলোর অবকাঠামো উন্নত করা, ধর্মীয় সেবার মান বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপত্যশৈলী এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক চমৎকার মিশেলে তৈরি এই মসজিদটি মুসল্লিদের ইবাদতের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও সমৃদ্ধ করবে। একই সাথে এটি কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর টেকসই উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যের সাথেও পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

দোহায় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
দোহায় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়। এতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ স্থগিত রাখতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৪ দফার ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা, ইরানের পুনর্গঠন তহবিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

দোহার সর্বশেষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে:

কী বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে

দোহা খেকে এএফপি জানায়, বুধবার দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’

ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত ও পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

তিনি জানান, ইরানের জব্দ করা সম্পদও আলোচনায় উঠে এসেছে। যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে এসব সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

গারিবাবাদি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অংশ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সরবরাহে সম্মতি হয়েছে।

এদিকে বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সবকিছু যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানায়, দোহার এই বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী দফার বৈঠকে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।

এরপর কী

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর বাসভবনে নিহত হন। এরপর দ্রুত তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার তেহরানে কেন্দ্রীয় প্রার্থনা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থলে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব’ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

মাঠের পরিস্থিতি

জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের’ জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে। কুয়েত ও বাহরাইন উভয়েই এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

তবে কাতারে আলোচনা শুরুর আগের কয়েক দিনে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।

অন্যদিকে লেবানন সীমান্তেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অনেকটাই কমেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়াহ শহরে একটি হামলার খবর দিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এতে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

লেবানন এখনও অপেক্ষা করছে তথাকথিত ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের জন্য। দুই দেশের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী এসব এলাকায় পরে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা।

তেহরান বরাবরই বলে আসছে, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন ফ্রন্টের সংঘাতেরও অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।