১০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

সৌদি সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি ঘোষণা করেছে। এই বৃত্তির আওতায় আবেদন দাখিল ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের রয়্যাল দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা studyinsaudi.moe.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃত্তিসংক্রান্ত যে-কোনো তথ্যের জন্য সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত লিয়াজোঁ অফিসার মোহাম্মদ বিন সাঈদ আল-যাহরানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা [email protected] এই ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তর ও বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

সৌদি সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি ঘোষণা করেছে। এই বৃত্তির আওতায় আবেদন দাখিল ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের রয়্যাল দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা studyinsaudi.moe.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃত্তিসংক্রান্ত যে-কোনো তথ্যের জন্য সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত লিয়াজোঁ অফিসার মোহাম্মদ বিন সাঈদ আল-যাহরানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা [email protected] এই ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তর ও বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।

সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, ভুল তথ্যে কোটি রিয়াল জরিমানা!

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, ভুল তথ্যে কোটি রিয়াল জরিমানা!

সৌদি আরব বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি ও রিয়েল এস্টেট কেনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন এই আইনে ডিসক্লোজার নীতি অনেক কঠোর করা হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং রিয়েল এস্টেট খাতে শৃঙ্খলা আনতে এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক পোর্টালই হবে নতুন কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু একটি সমন্বিত ডিজিটাল পোর্টাল। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তত্ত্বাবধানে চালিত এই পোর্টাল জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদারিত্বের সৌদি কোম্পানিগুলোকে সম্পত্তি কেনা, বিনিয়োগ ও লেনদেনের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেই হবে।

অনাবাসী বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার আগে অবশ্যই সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি নিতে হবে। পাশাপাশি নিজের নামে সৌদি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।

বিদেশি কোম্পানিগুলোকে প্রথমে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে। সব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধাভোগী মালিকের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। একজন অনুমোদিত সৌদি নাগরিককে আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কোম্পানির নামে সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে হবে।

কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কোনো কারণে অন্য কোনো পক্ষ যদি কোম্পানির সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেই ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে। তাদেরও মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং সৌদি প্রতিনিধি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে। বড় কোনো পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে হবে।

বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে একই পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে একাধিক বাড়ির মালিক হতে পারবেন না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা সন্তানের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে এই নিয়ম শিথিল করা যাবে।

মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা শুধুমাত্র মুসলিম নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোম্পানি বা বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি লেনদেনে ২ শতাংশ ফি দিতে হবে। তবে উত্তরাধিকার, আদালতের রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফসহ ১০টি বিশেষ ক্ষেত্রে এই ফি মাফ।

সব আর্থিক লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রথমে ১০ থেকে ১৮০ দিন সময় দেওয়া হবে সংশোধনের জন্য। মিথ্যা তথ্য দিলে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল) জরিমানা করা হতে পারে।

নতুন এই বিধিমালা সৌদি আরবে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, ভবিষ্যতে সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বা দেশটির বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার জবাবে সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং স্থল ও সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

হুথিদের দাবি, স্থানীয় সময় ওই দিন ভোর ৫টা ২০ মিনিটে সৌদি যুদ্ধবিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিরোধ করা হয়। ওই ইরানি বিমানে ২০০ জনের বেশি আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ ইয়েমেনি নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হুথিরা আরও জানিয়েছে, সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতি সত্ত্বেও অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিমানটি নিরাপদে সানায় অবতরণ করেছে এবং পরে হুথি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তেহরানে ফিরে গেছে।

এদিকে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের এসব অভিযোগ ও হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। হুথিদের দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

খামেনির জানাজায় সৌদি প্রতিনিধিদল, সমবেদনা বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
খামেনির জানাজায় সৌদি প্রতিনিধিদল, সমবেদনা বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে সমবেদনা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খুরাইজি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সৌদি নেতৃত্বের এই সমবেদনার বার্তা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কাছে পৌঁছে দেন বলে শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায় জানানার জন্য সপ্তাহব্যাপী আয়োজন করেছে ইরান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এটি শুরু হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। কাল শনিবার থেকে সাধারণ মানুষ দেখার জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

এতে করে এসব দেশের সঙ্গে সৌদির সম্পর্কে অবনতি ঘটে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশটি।

হামলার দিনই খামেনি তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। কিন্তু গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোক জানায়নি। এরমাধ্যমে তারা মূলত মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে অস্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে বলে ধারণা করা হয়।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সাথে দূরত্ব, নতুন পথে সৌদি আরব!

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সাথে দূরত্ব, নতুন পথে সৌদি আরব!

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানালেও পরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একপর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ মতবিনিময়ও হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও রিয়াদ তা নাকচ করে দেয়।

এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক জরুরি ফোনালাপ করেন। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন।

ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের গবেষক হুসেইন ইবিশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সুবিধা দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কাই সৌদি নেতৃত্বকে সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। এ কারণে তারা ওয়াশিংটনের প্রতি আগের মতো আস্থা রাখতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে মধ্যপন্থী কৌশল অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নেয় দেশটি।

এ সময় আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হয়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্ব এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনকে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের মতামতকে গুরুত্ব দিলেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সৌদি আরব এখন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারের চেয়ে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস