২৫ জুন ২০২৬

২০৩৪ বিশ্বকাপ সৌদি আরবে, প্রয়োজন লাখ লাখ দক্ষ কর্মী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
২০৩৪ বিশ্বকাপ সৌদি আরবে, প্রয়োজন লাখ লাখ দক্ষ কর্মী

২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরব। এই বিশ্বযজ্ঞকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বিশাল উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে প্রয়োজন লাখ লাখ দক্ষ কর্মী। সেদিকে নজর রেখে এরই মধ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান।

সৌদির বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে প্রায় তিন থেকে চার লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে সৌদি আরবে আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমান চলাচল, পর্যটন ও সেবা খাতে বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী পাকিস্তানি কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৭১৯ জন কর্মীকে বিভিন্ন ‘সফট স্কিলস’ বা আচরণগত ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

পাকিস্তানের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জনশক্তি রপ্তানি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটিরও বেশি পাকিস্তানি কর্মী বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশের বেশি কর্মী কাজ করছেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে, যার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০২২ সালের পর থেকে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের কারণে দেশটিতে পাকিস্তানি কর্মীদের কর্মসংস্থান ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই রেকর্ড ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ জন পাকিস্তানি কর্মী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন, যা দেশটির মোট নিবন্ধিত জনশক্তি রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ।

উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি পাকিস্তান এখন ইউরোপের শ্রমবাজারেও নিজেদের পরিধি বাড়াচ্ছে। ‘পাকিস্তান-ইইউ মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি ডায়ালগ’-এর অধীনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনি উপায়ে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ইতালি আগামী তিন বছরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানি কর্মীর কোটা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, জার্মানি ও গ্রিসও দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে পাকিস্তান সরকার ডিজিটাল এইচআর পুল ও বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে, যা দালালের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি নিয়োগ নিশ্চিত করবে।

মক্কায় কোরআনের ৪০০ বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
মক্কায় কোরআনের ৪০০ বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কোরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইসলামি সভ্যতার শৈল্পিক উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অনন্য ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর, যা সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নকশা এবং নিপুণ ক্যালিগ্রাফির জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পাণ্ডুলিপিটিতে সে সময়কার ইসলামি শিল্পকলা, কারুশিল্প এবং নান্দনিকতার উচ্চমান ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীটি ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী দর্শনার্থীদের কাছে তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পাতা সূক্ষ্ম পুষ্পশোভিত নকশা এবং কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো হয়েছে। এটির শুরুতে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত অংশটিতে জ্যামিতিক নিখুঁততা এবং বিস্তারিত সোনালি কারুকাজের এক চমৎকার সমন্বয় রয়েছে।

জাদুঘরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাণ্ডুলিপিটি মূলত ইসলামি ক্যালিগ্রাফার এবং অলঙ্করণ শিল্পীদের দক্ষতার পরিচায়ক। এর মাধ্যমে ওই সময়ের শিল্পীরা নিপুণ হস্তাক্ষর ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের মিশেলে কোরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শৈল্পিক ঐতিহ্যে রূপান্তর করেছেন।

মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে কয়েক শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন এবং অলঙ্করণ শৈলীর বিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি, শিল্পের বিকাশ এবং পবিত্র কোরআনের প্রতি মুসলমানদের চিরন্তন শ্রদ্ধাবোধ অনুধাবনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কোরআন যে শুধু একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক অনুপ্রেরণারও এক অন্যতম উৎস, সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শতবর্ষী এই নিদর্শনটি ইসলামি ঐতিহ্যের সমৃদ্ধির এক জীবন্ত দলিল হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি বর্তমানে জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সারাবিশ্বের দর্শনার্থীদের কাছে কারুশিল্পের এক অনন্য উত্তরাধিকার হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।

সৌদি রাজকুমারীর মৃত্যুতে কাতারের আমির ও শীর্ষ নেতাদের শোক

সৌদি রাজকুমারী সারা বিনতে আহমেদ আল আব্দুল রহমান আল সৌদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
সৌদি রাজকুমারীর মৃত্যুতে কাতারের আমির ও শীর্ষ নেতাদের শোক

তিনি সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি রাজকুমারীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আমিরের পাশাপাশি পৃথক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কাতারের উপ-আমির শেখ আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-থানি। তিনিও সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের কাছে নিজের আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানিও রাজকুমারী সারার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহর কাছে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।

সৌদি রাজপরিবারের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্যের এই প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কূটনৈতিক সমবেদনা ও শোকবার্তা বিনিময়কে তাদের মধ্যকার সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা সৌদির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। এসব নির্দেশনা না মানলে শাস্তি পেতে হবে বলেও জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার বহু প্রবাসী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ার করেছেন। যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ক্ষোভ ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। সে প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব। যা অমান্য করলে আইনের আওতায়ও নেয়া হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে অনলাইনে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যটি করা হয় একটি ভ্রাতৃপ্রতিম আরব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ৬ জুন তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ওই কনটেন্ট শনাক্ত করা হয় এবং তা দেশটির ডিজিটাল ও মিডিয়া কনটেন্ট সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে বিবেচিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্তব্যগুলো সৌদি আরবের অ্যান্টি-সাইবারক্রাইম আইনের বিধান লঙ্ঘন করেছে। এ আইনে বন্ধুসুলভ বা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তাদের নেতা বা জাতীয় প্রতীককে অবমাননা করে এমন কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

এছাড়া জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত যে কোনো কিছুই দেশটিতে নিষিদ্ধ।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সৌদি তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি বলেন, বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেশটির মূল্যবোধ ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দেশের নীতি, রীতিনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না।

বিদেশিদের বসবাসে নতুন নিয়ম জারি করল সৌদি আরব

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
বিদেশিদের বসবাসে নতুন নিয়ম জারি করল সৌদি আরব

সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য পৃথক ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিউয়া’ এক নতুন নির্দেশনায় এ তথ্য জানিয়েছে। এ পারমিটের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ সৌদি রিয়াল।

মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কিউয়া প্ল্যাটফর্ম শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের নির্দেশনাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগ আবেদন এবং ভিসা-সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা।

কিউয়ার তথ্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করা হবে কোম্পানির আকার এবং ইউনিফায়েড নম্বরের আওতায় নিবন্ধিত মোট কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে।

এছাড়া তামহীর কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো এখন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করা যাবে। তবে এসব চুক্তি সৌদিকরণ নীতির হিসাবের মধ্যে ধরা হবে না এবং বিদ্যমান কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণের ক্ষেত্রেও গণ্য হবে না।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সেবা ফি ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর কিংবা কিউয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

পদত্যাগসংক্রান্ত নিয়মে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা যদি আবেদন গ্রহণ না করেন বা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখেন, তাহলে কর্মীরা আবেদন জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন।

ভেঙে গেল ৭ দশকের প্রথা;

সৌদিতে প্রথমবার অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ভারত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সৌদিতে প্রথমবার অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ভারত

ভারত সরকার সৌদি আরবে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিপুলকে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগকে ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম কোনো অমুসলিম কূটনীতিক দেশটিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে তাকে নিয়োগ দেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লি সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দাতে কনসাল জেনারেলের পদে জ্যেষ্ঠ মুসলিম কূটনীতিকদের নিয়োগ দিয়ে আসছিল। মূলত প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনায় ভারতীয় মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই প্রথা চালু ছিল।

তবে বিপুলের নিয়োগ ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে। ১৯৯৮ ব্যাচের সরকারি কর্মকর্তা বিপুল মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি এর আগে কায়রো, কলম্বো, জেনেভা ও দুবাই-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই নিয়োগ ভারতের সৌদি আরব নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ভারতের কূটনৈতিক নিয়োগে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও বহন করে।