২৩ জুন ২০২৬

কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

কাতারে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স warrior (যোদ্ধা) নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একসাথে ৫ তরুণের মৃত্যুর খবরে কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত প্রবাসীরা হলেন—কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের জুবের আহমদ (২৮) এবং বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের কাদির আহমদ (৩৩)।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকার তাগিদে কাতারে বসবাস করছিলেন। তাঁরা সেখানে একটি ‘মাজরা’ বা পশু খামারে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তাঁরা কাজ করার উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি গাড়িযোগে শাহানিয়া এলাকার সানিয়া নামক স্থানে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে আল শাহানিয়া এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা ৫ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির চালকও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহতদের সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাঁদের আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল। নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চার বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কাদির কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আগামী মাসেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আর জীবিত দেশে ফেরা হলো না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ৫ প্রবাসী নিহতের খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের সাথে কথা বলেছেন। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাষ্ট্র;

কাতার দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতার দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হন। নিহত পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানো এবং নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ শুরু করেছে।

এক শোকবার্তায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসব প্রবাসী কর্মীর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

মন্ত্রী নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি এলাকার কাদির আহমদ, ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং জুবায়ের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তারা কাতারে কর্মরত ছিলেন। রোববার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি ও গাড়িচালক নিহত হন। কানাইঘাটে নিহতদের বাড়িগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

কাতারে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স warrior (যোদ্ধা) নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একসাথে ৫ তরুণের মৃত্যুর খবরে কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত প্রবাসীরা হলেন—কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের জুবের আহমদ (২৮) এবং বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের কাদির আহমদ (৩৩)।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকার তাগিদে কাতারে বসবাস করছিলেন। তাঁরা সেখানে একটি ‘মাজরা’ বা পশু খামারে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তাঁরা কাজ করার উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি গাড়িযোগে শাহানিয়া এলাকার সানিয়া নামক স্থানে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে আল শাহানিয়া এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা ৫ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির চালকও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহতদের সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাঁদের আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল। নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চার বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কাদির কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আগামী মাসেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আর জীবিত দেশে ফেরা হলো না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ৫ প্রবাসী নিহতের খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের সাথে কথা বলেছেন। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, উপহার দিতে এসে গুলিস্তান আবাসিক হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
ফেসবুকে বন্ধুত্ব, উপহার দিতে এসে গুলিস্তান আবাসিক হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, দীর্ঘ কয়েক মাসের কথোপকথন, এরপর সরাসরি সাক্ষাৎ। সেই বহুল প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী আল আমিন (৪০) রাজধানীর গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যদিও প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে পল্টন থানার আওতাধীন গুলিস্তান এলাকার হোটেল রমনায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৩ জুন তিনি দেশে ফেরেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আল আমিনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে আবারও কথা হয় এবং শুক্রবার রাজধানীতে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়।

নারী বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, আল আমিন তাকে জানিয়েছিলেন যে তার জন্য কিছু উপহার রয়েছে। সেই উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ঢাকায় আসেন। সকালে গুলিস্তানে তাদের সাক্ষাৎ হয়। পরে তারা হোটেল রমনায় একটি কক্ষে ওঠেন এবং কিছু সময় কথাবার্তা বলেন।

নারীটি জানান, একপর্যায়ে আল আমিন ওয়াশরুমে যান। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে হঠাৎ ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। উদ্বিগ্ন হয়ে ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা এবং আল আমিন মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তার চিৎকারে হোটেল কর্মচারীরা ছুটে আসেন।

পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি পল্টন থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে নিহতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানান, তার ভাই সৌদি আরব থেকে কিছু মালামাল ও উপহার নিয়ে দেশে এসেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে কিছু জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে ঢাকায় যাচ্ছেন। পরে তারা জানতে পারেন, একটি হোটেলের ওয়াশরুমে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর পেছনে কোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান করা সমীচীন হবে না। তবে ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার; বিশ্বমঞ্চে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশি

পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন
১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল! তালিকায় কাতার, আমিরাত ও সৌদি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল! তালিকায় কাতার, আমিরাত ও সৌদি

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল করল ইসিপ্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ না থাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য পাঠানো ২২ হাজার ৩৫২ জন প্রবাসী বাংলাদেশির আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আবেদন বাতিল হলেও প্রবাসীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, নিয়ম মেনে তাঁরা আবারও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসির প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বায়োমেট্রিক দিয়েছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন।

বাকি আবেদনগুলোর মধ্যে ১০ হাজার ১৪১টি সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ৩৭ হাজার ১৬টি আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ হাজার ১৮টি এনআইডি প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে এই ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম সচল রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে (২৩ হাজার ৯৪০টি) এবং সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে (১২৬টি)। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১৭ হাজার ৩০টি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ হাজার ৮১২টি, ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি, জাপান থেকে ৩০৯টি এবং মালদ্বীপ থেকে ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র [ফরম-২(ক)]-এর সাথে কিছু নথি বাধ্যতামূলকভাবে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদসহ বা মেয়াদহীন বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিনজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়নপত্র, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

তবে চট্টগ্রামের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা বা থানার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ‘বিশেষ তথ্য ফরম’, শিক্ষা সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি (মৃত হলে মৃত্যু সনদ), ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, নাগরিকত্ব সনদ এবং ইউটিলিটি বিলের কপিসহ কিছু বাড়তি কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করার পর নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার উপজেলায় তদন্ত পাঠিয়ে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে। তদন্তে সব ঠিকঠাক পাওয়া গেলেই কেবল আবেদন অনুমোদন করে এনআইডি প্রিন্ট করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।