কাতারে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স warrior (যোদ্ধা) নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একসাথে ৫ তরুণের মৃত্যুর খবরে কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত প্রবাসীরা হলেন—কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের জুবের আহমদ (২৮) এবং বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের কাদির আহমদ (৩৩)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকার তাগিদে কাতারে বসবাস করছিলেন। তাঁরা সেখানে একটি ‘মাজরা’ বা পশু খামারে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তাঁরা কাজ করার উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি গাড়িযোগে শাহানিয়া এলাকার সানিয়া নামক স্থানে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে আল শাহানিয়া এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা ৫ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির চালকও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।
নিহতদের সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাঁদের আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল। নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চার বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কাদির কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আগামী মাসেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আর জীবিত দেশে ফেরা হলো না।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ৫ প্রবাসী নিহতের খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের সাথে কথা বলেছেন। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।