৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
কম্বোডিয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি: দেশে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ২৮ বছর বয়সী যুবক মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ। কম্বোডিয়ায় একটি বৈধ আইটি প্রতিষ্ঠান বা শপিং মলে চাকরি পাবেন—এমনটাই আশা ছিল তার। কিন্তু সেই আশা নিয়ে দেশ ছাড়লেও মানবপাচারকারীরা তাকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার এমন অবৈধ বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরে আসা ২২১ জন বাংলাদেশির মধ্যে বায়েজিদ একজন। ভুয়া চাকরির প্রলোভনে পড়ে তারা সেখানে বন্দি ছিলেন।

দালাল কাউসার হাবিবের মাধ্যমে বায়েজীদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শুরু। বিদেশে কাজের জন্য কাউসার হাবিবের সাথে বায়েজিদের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং তার পাসপোর্ট দালালের হাতে তুলে দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি কম্বোডিয়ার টেচো বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরে নামার পর মিন্টু ও সাইফুল নামে স্থানীয় দুই দালাল তাকে রিসিভ করে একটি হোটেলে আটকে রাখে। পরে তারা বায়েজিদকে সাইবার অপরাধ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।

ওই বন্দিশালার ভেতরে এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে আটকে রেখে কঠোর পরিশ্রম ও নির্যাতন করতে থাকে। বায়েজিদের পরিবার ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। শেষ পর্যন্ত তিনি “ব্যাক মাইগ্রেশন” নামক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন এবং বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগেরই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ ছাড়পত্র ছিল। কিন্তু চীনা চক্রের সাথে হাত মেলানো বাংলাদেশি দালালদের একটি নেটওয়ার্কের কারণে তারা প্রতারণার শিকার হন।

নির্যাতন সেল এবং ইলেকট্রিক শক

ভুক্তভোগীরা শরীরে নির্যাতনের গভীর চিহ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তারা জানান, তাদেরকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে পারতেন না কিংবা কাজে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদেরকে নির্যাতন সেলে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চালায়। এই অভিযানের কারণে চীনা অপরাধীরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে বন্দি বাংলাদেশিরা সেখান থেকে পালিয়ে আসার সুযোগ পান।

কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা এই ভুক্তভোগীদের মনে এবং শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, বন্দিদের ছোট ছোট কামরায় আটকে রাখা হতো এবং কোটা পূরণের জন্য দিনরাত অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি করতে বাধ্য করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, কাজ করতে রাজি না হলে বা লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে নির্যাতন সেলে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক ব্যাপক অভিযানের পর চীনা ক্যাম্প পরিচালকেরা পালিয়ে গেলে এই চরম অত্যাচার বন্ধ হয়। মুক্ত হন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা।

দালাল অপুর ‘মানবপাচার’ সাম্রাজ্য

ফিরে আসা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা আব্দুল্লাহ আল মামুন অপু। তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দাম ২০১৫ সালের দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে কম্বোডিয়ার নমপেনে স্থায়ী হন। কম্বোডিয়ার পাসপোর্টধারী অপু নিজেকে কম্বোডিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি নজরদারি এড়িয়ে চলছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নেন অপু। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। এর ফলে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের যাওয়ার হার হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যও এই বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই ২ হাজার ৪০৮ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন।

যেভাবে পাতা হয় ফাঁদ

ভুক্তভোগী মো. তালাত মাহমুদ বায়েজিদ গত ১৫ জুন ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি সুসংগঠিত চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে তাকে এই ফাঁদে ফেলেছে। মামলায় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী ৫০ বছর বয়সী মো. কাউসার হাবিব, কম্বোডিয়া প্রবাসী কুষ্টিয়ার ৩২ বছর বয়সী দালাল মিন্টু এবং নোয়াখালীর ৪২ বছর বয়সী সাইফুলসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বায়েজিদের এক খালার মাধ্যমে তার সঙ্গে কাউসার হাবিবের পরিচয় হয়। কাউসার ২০২২ সালের আগস্টে বায়েজিদকে কম্বোডিয়ায় প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। এজন্য ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বায়েজিদের সঙ্গে কাউসারের ৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়। বায়েজিদ প্রথমে পাসপোর্টের সাথে নগদ এক লাখ টাকা দেন এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাঠান।

২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর বায়েজিদের ফ্লাইটের টিকেট কেনা হয়। এরপর ১ নভেম্বর যাত্রার দিন সকালে বায়েজিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাউসারের সাথে দেখা করে শেষ কিস্তির এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন।

কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর ‘বিক্রি’

বায়েজিদ কম্বোডিয়া পৌঁছে তাকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কাউসারকে মেসেজ দিলে কাউসার তার স্থানীয় সহযোগী মিন্টু ও সাইফুলকে বায়েজিদকে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা তাকে কাজের জায়গায় না নিয়ে “হোটেল রয়্যাল এ ওয়ান”-এ নিয়ে যান এবং সেখান থেকে দ্রুত একটি চীনা সাইবার ক্রাইম সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেন।

সেই বন্দিশালার ভেতরে কো ওয়াং নামের এক চীনা নাগরিক বায়েজিদকে ড্রেন পরিষ্কার করার মতো অত্যন্ত কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করেন। বায়েজিদ এতে বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বায়েজিদকে জানানো হয়, তাকে ৩ হাজার ডলারে কিনে নেওয়া হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য বায়েজিদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে তার পরিবারকে দেখানো হতো।

ছেলের জীবন বাঁচাতে বায়েজিদের পরিবার চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কো ওয়াংকে ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দেয়। মুক্তির পর বায়েজিদ একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে তিনি “জাক মাইগ্রেশন” নামক একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তাদের সহায়তায় বায়েজিদসহ আরও ৫৩ জন ভুক্তভোগী ২০২৬ সালের ১ জুন কম্বোডিয়া থেকে রওনা হয়ে ঢাকায় পৌঁছান। সেখানে জাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মানবপাচারের এক ভয়াবহ নতুন রূপ

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণেই এই যুবকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল সাইবার অপরাধ বা স্ক্যামিং হলো আধুনিক মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। যেহেতু একজন ভুক্তভোগী কঠোর মানবপাচার বিরোধী আইনে মামলা করেছেন, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা।

শরিফুল হাসান বলেন, সরকারি ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভুক্তভোগীদের ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হলো, সেই স্থানীয় রিক্রুটিং নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করা জরুরি। এই চক্রগুলো ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া আইটি বা কল সেন্টারের চাকরির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে নাগরিকদের থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার যেকোনো চাকরির প্রস্তাব ভালোভাবে যাচাই করার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রবাসে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার কার্যক্রমে ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন এনআইডি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের আগস্ট মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তিন হাজার ৫৩৬টি আবেদন। তদন্ত শেষে ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

তদন্তের পর বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯ জনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। এখনো ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন এসেছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে আবেদন পড়েছে ১৮ হাজার ৪৭২টি।

এ ছাড়া ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরবে প্রায় সাত হাজার, কুয়েতে পাঁচ হাজার ৯২১টি এবং কাতারে চার হাজার ৮২৯টি আবেদন এসেছে।

মালয়েশিয়া থেকে আবেদন করেছেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে তিন হাজার ৭৯৪টি এবং ওমানের মাসকাটে দুই হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন পড়েছে এক হাজার ৪৫৯টি।

জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদনের বিপরীতে বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপে ৩২৮টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ১৩৯টি আবেদন এসেছে। ইসির ২৭ আগস্ট পর্যন্ত করা সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য রয়েছে।

২০১৯ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় এবং ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

বর্তমানে ১৪টি দেশের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি দেশকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট সিঙ্গাপুরে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। উদ্বোধনের দিন তিন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

লিবিয়ার আটক আরও ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এই বাংলাদেশিরা লিবিয়া তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়ায় আনা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ থেকে লিবিয়া, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন ৬৬ জনদালাল ও মাফিয়ার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লিবিয়ায় পাড়ি জমানো অনেকে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনসচেতনতা বাড়াতে এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে ফেরত আসা প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এর বাইরে আর কিছু আনতে পারেননি তারা।

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

নড়াইলের নড়াগাতী থানার দক্ষিণ যোগানিয়া এলাকায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে গভীর রাতে প্রবেশের অভিযোগে শান্ত রহমান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে তাকে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়রা আটক করে ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্ত রহমান ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শান্ন্তকে বিজ্ঞ আদালতে চালান করা হয়। শান্ত রহমান ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

নড়াগাতী থানার এসআই মনির জানান, পরে ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং শান্ত রহমানকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তি শিগগির কমে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সৌদিআরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভায় একথা জানান তিনি।

সভায় ই-পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, সৌদিআরবে প্রায় দেড় মাস ধরে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ই-পাসপোর্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে সাময়িকভাবে প্রবাসীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রমও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের টিম প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করছে। এর ফলে অচিরেই প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোও অচিরেই সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও চ্যানেলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস প্রকল্পে পাইপ বিস্ফোরণে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা পরিবারের সদস্য। এছাড়া মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির নামে আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কুদ্দুসের বড় ভাই আব্দুল আলীম বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় জানতে পারছি আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এখন একটাই চাওয়া, ভাইয়ের লাশটা যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

এর আগে ২৫ আগস্ট রাশিয়ার এজিসিসি নামক প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির। পরে তাদের উদ্ধার করা গেলেও আব্দুল কদ্দুস আজ মারা গেছে। ওই ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশে শ্রমিক আহত হন বলে জানা গেছে।

নিহত আব্দুল কুদ্দুস জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি রাশিয়া যান। সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। কুদ্দুসের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন যে কোন উপায়ে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনে।

চিকিৎসাধীন মনির ফকির জেলার পাংশা পৌরসভাধীন চরমোদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রবাসীদের বরাতে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর মনির নিখোঁজ ছিল। এখন তার সন্ধান পওয়া গেছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মস্কো শহরে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

মুম্বাই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির স্বর্ণ, ৫ বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই: ছাত্রদল-বিএনপির দুই নেতা কারাগারে

প্রবাসী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনশীল রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ