২৭ জুলাই ২০২৬

সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের তরুণ প্রবাসী শামীম হোসেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের দামাম শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানো এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি বাসার ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড় তুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শামীম। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

তার বাবা আব্দুল ছালাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ঋণ ও ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শামীমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা তার পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, “একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শামীমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মাটিতে নিথর পড়ে থাকা শামীমের মরদেহ এখন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু যে মানুষটি একদিন পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরছেন না— ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।

ইয়েমেনে হামলার পর জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
ইয়েমেনে হামলার পর জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু গভর্নরেটে সাময়িকভাবে 'সম্ভাব্য বিপদের' জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট।

শনিবার (২৫ জুলাই) ডিরেক্টরেটের সাইরেন ও অফিশিয়াল বার্তার মাধ্যমে এই উচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দুই অঞ্চলের জন্যই বিপদমুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

জরুরি সতর্কতা জারির প্রাথমিক মুহূর্তে সৌদি সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট থেকে বিশেষ করে ইয়ানবু গভর্নরেটের অধিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সম্পূর্ণ শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। একই সাথে নাগরিকদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারি নির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পরম পরামর্শ দেওয়া হয়।

হঠাৎ এই উচ্চ সতর্কতা জারি এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সিভিল ডিফেন্সের বিজ্ঞপ্তিতে খোলসা করা হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট রূপ কিংবা ঠিক কী ধরনের আকাশপথ বা সীমান্তভিত্তিক হুমকি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারিভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সীমান্ত বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মাঝে মাঝেই প্রাক-সতর্কতামূলক নিরাপত্তামূলক প্রোটোকল সচল করা হয়। জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইয়েমেনের

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইয়েমেনের

সৌদি আরব বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানিবাহী জাহাজে আক্রমণ এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার জবাবে রিয়াদ শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইয়েমেনের হুদায়দাহ শহরের সামরিক ঘাটি এবং কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালায়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান যে বাণিজ্য জাহাজে হুমকি সৃষ্টিকারী হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ শেষ করেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় তেহরান ক্রমশ গুরুতর ও আন্তরিক হয়ে ওঠায় তিনি ইরানের ওপর এখনই বড় কোনো সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া চীন ও রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে না বলে ট্রাম্প নিজের বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

যুদ্ধের বিস্তৃতি বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার সতর্কতা দিয়েছে। ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করায় একটি মার্চেন্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে সেন্টকম, আর ওদিকে ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী ও তাদের সঙ্গীরা।

লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা 'করোনা'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় একে ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মৃত ওই যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষটি খোলার পর তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে যুবরাজের শরীরে মারাত্মক মাত্রায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতত্ত্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধ মাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর পাশাপাশি তার শরীরে ‘জিএইচবি’ নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার আলামত এবং জ্যানাক্সসহ (অ্যালপ্রাজোলাম) উদ্বেগ কমানোর বিভিন্ন ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে যুবরাজের কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, মদ ও একাধিক ওষুধের এই বিষাক্ত মিশ্রণই তার মৃত্যুর মূল কারণ।

তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় যুবরাজ একা হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন এবং একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন।

কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কক্ষ থেকে কোনো চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন তার রায়ে বলেন, ‘যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদকের বিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।’

শুনানিতে উপস্থাপন করা চিকিৎসা সনদের তথ্যমতে, মৃত্যুর আগে থেকেই এই সৌদি যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি লন্ডনের একটি রিহ্যাবে ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তি কাটানোর চিকিৎসা নেন।

পরে অক্টোবরে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকেরা তাকে মানসিক অবসাদমুক্ত জানালেও, পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসকদের নির্ধারিত অনলাইন ফলোআপ সেশনগুলোতে আর অংশ নেননি।

যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী একজন মানুষ।

রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কে স্রোতে ভেসে প্রাণ হারালেন সৌদি পর্যটক

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
তুরস্কে স্রোতে ভেসে প্রাণ হারালেন সৌদি পর্যটক

তুরস্কের উত্তর অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ত্রাবজোন প্রদেশের উজুনগোলে (Uzungöl) এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক সৌদি নাগরিক প্রবাল পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন। সকল আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ জন্মভূমি সৌদি আরবে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
তুর্কি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত উজুনগোল পরিদর্শনের সময় অসাবধানতাবশত বা প্রবল আকস্মিক পানির তোড়ে প্রবাল স্রোতে ভেসে যান ওই সৌদি ব্যক্তি। পরবর্তীতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

মৃতদেহ স্থানান্তর ও আঙ্কারাস্থ সৌদি দূতাবাসের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তুরস্কে অবস্থিত সৌদি রিয়্যাল দূতাবাস বিশেষ জরুরি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে এবং তুর্কি প্রশাসনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে:

মরদেহ ইস্তাম্বুলে স্থানান্তর: প্রয়োজনীয় স্থানীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ত্রাবজোন থেকে বিমানযোগে ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ইস্তাম্বুল থেকে বিমানযোগে মরহুমের মরদেহ নিজ দেশ সৌদি আরবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরদেহ পরিবহনসহ পরিবারটির সার্বিক প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার নিশ্চায়ন করেছেন।

সৌদিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ নিতে গিয়ে কর্মকর্তা আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
সৌদিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ নিতে গিয়ে কর্মকর্তা আটক

ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ ‘নাজাহা’।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে কিস্তিতে নয় লাখ রিয়াল ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন। এছাড়া জেদ্দা ইসলামিক বন্দরে এক সৌদি ব্যবসায়ী প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ রিয়ালের শুল্ক ফাঁকি দিতে ১৬ লাখ রিয়াল ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গ্রেপ্তার হন।

কাস্টমস ছাড়াও স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতেও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে কর্মরত এক ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ রিয়ালের জরিমানা থেকে বাঁচাতে দুই লাখ রিয়াল ঘুষ গ্রহণ করেন। প্রবাসীদের লেনদেন ও আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্রে অবৈধ পরিবর্তন আনার অভিযোগে পাসপোর্ট ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মী ধরা পড়েছেন। এদের মধ্যে পৌরসভা, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীরা রয়েছেন, যারা টাকার বিনিময়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ছাড়পত্র দিয়েছেন।

এমনকি ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়া, ভুয়া সনদে প্রবাসীদের স্পনসরশিপ বদলানো এবং মন্ত্রণালয়ের গুদাম থেকে কম্পিউটার চুরির মতো গুরুতর অপরাধও প্রকাশ্যে এসেছে।