২৬ জুলাই ২০২৬

কাতার সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
কাতার সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

কাতারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানি কাতার সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিব এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

বৈঠকের শুরুতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় এড মিলিব্যান্ডকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

বৈঠকে কাতার ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং তা আরও সুদৃঢ় করার কার্যকরী উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল পক্ষকে শান্ত থেকে সংলাপ ও কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। এর আওতায় মূল অগ্রাধিকারসমূহ হলো:

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যগুলো বজায় রেখে সমগ্র অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সার্বিক ও সংহত চুক্তিতে পৌঁছাতে উত্তেজনা হ্রাসের সকল ইতিবাচক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কাতার রাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা জোরদারে কাতারের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬

কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনী 'লেখুইয়া'র প্রধান শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এক বিশেষ সামরিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ একাডেমিতে 'নিরাপত্তা কমান্ড ও স্টাফ প্রোগ্রাম'-এর দ্বিতীয় ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসারদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা তুলে দেন।

কেন এই আয়োজন?

পুলিশ একাডেমির উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ এই বিশেষ কোর্সের আয়োজন করে। মূলত অফিসারদের কাজের মান আরও উন্নত করতেই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল:

  • অফিসারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো।

  • দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো আধুনিক ঝুঁকি সামলানোর সঠিক পদ্ধতি শেখানো।

কোর্সের কঠোর নিয়মকানুন ও পরীক্ষা সফলভাবে পার করার পরই অফিসারদের এই চূড়ান্ত সনদ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শীর্ষ কর্তারা

অনুষ্ঠানে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেখুইয়া এবং পুলিশ একাডেমির উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতকার্য অফিসারদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে নতুন এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্ত হাতে সামলানোর আহ্বান জানান।

বাহরাইন, কুয়েত ও এরবিলে ফ্লাইট স্থগিত করল কাতার এয়ারওয়েজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের এরবিলগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ।
প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বাহরাইন, কুয়েত ও এরবিলে ফ্লাইট স্থগিত করল কাতার এয়ারওয়েজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের এরবিলগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। ২২ জুলাই প্রকাশিত এক ভ্রমণ সতর্কতায় (ট্রাভেল অ্যালার্ট) এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি যাচাই করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতার এয়ারওয়েজের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাহরাইন ও এরবিল রুটে ফ্লাইট ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে কুয়েত রুটে ফ্লাইট স্থগিত থাকবে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে এসব রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যদিও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ফ্লাইট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনছে। সেই ধারাবাহিকতায় কাতার এয়ারওয়েজও যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর টিকিট ইতোমধ্যে বুকিং করা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে সংস্থার ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেবেন। প্রয়োজনে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থা বা টিকিট পুনঃনির্ধারণের সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট এয়ারলাইন হিসেবে কাতার এয়ারওয়েজ প্রতিদিন শতাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি, আকাশসীমা বন্ধ বা অপারেশনাল ঝুঁকি দেখা দিলে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আরও কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইট সীমিত বা স্থগিত রাখতে পারে। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে যেসব যাত্রী দোহা হয়ে বাহরাইন, কুয়েত বা ইরাকের এরবিলে যাতায়াত করেন।

কাতার এয়ারওয়েজ যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য নিয়মিতভাবে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু বা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সৌদি ট্যাংকারে হুথি হামলার নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
সৌদি ট্যাংকারে হুথি হামলার নিন্দা জানাল কাতার
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি গোষ্ঠীর হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। হুথিদের এ কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে দোহা।

এক বিবৃতিতে কাতার সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচল সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এ ছাড়া ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে ওমানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার।

এর আগে ফ্রান্সও সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালির নৌ চলাচল কার্যকরভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে জ্বালানির পাইকারি দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্নুনু-র ১০ লাখ রিয়াল পুরস্কার জিতে পুরোটাই দান করলেন কাতারি নারী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
স্নুনু-র ১০ লাখ রিয়াল  পুরস্কার জিতে পুরোটাই দান করলেন কাতারি নারী

একটিমাত্র ফোন কল যা সাধারণত জীবনে এক অবিশ্বাস্য সুযোগ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তা পরিণত হলো এক মহৎ ও অনন্য মানবিক দৃষ্টান্তে। কাতারের জনপ্রিয় ই-কমার্স ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ‘স্নুনু’ (Snoonu)-র জনপ্রিয় “বি দ্য নেক্সট মিলিয়নেয়ার” প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনের অষ্টম ড্র-এর বিজয়ী ১০ লাখ কাতারি রিয়ালের (QAR 1,000,000) পুরো গ্র্যান্ড প্রাইজ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে এক অসামান্য নজির স্থাপন করেছেন।

বিজয়ী হিসেবে এক কাতারি মহিলার নাম ঘোষণা করার পর সেই মুহূর্তের আনন্দকে তিনি ব্যক্তিগত লাভে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করার এক তাত্পর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।

৩টি প্রধান মানবিক সংস্থায় ১০ লাখ রিয়াল বণ্টন

কোনো দ্বিধা ছাড়াই বিজয়ী তাঁর অর্জিত সম্পূর্ণ পুরস্কারের অর্থ কাতারের তিনটি প্রধান ও স্বনামধন্য মানবিক সংস্থায় সমানভাবে দান করার ঘোষণা দেন:

  • কাতার চ্যারিটি (Qatar Charity)

  • কাতার রেড ক্রিসেন্ট (Qatar Red Crescent)

  • কাতার ক্যান্সার সোসাইটি (Qatar Cancer Society)

এই তিন শীর্ষ সংস্থাকে বেছে নেওয়ার উদ্যোগটি দুস্থ, ব্যাধিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের সহায়তায় তাঁর সুচিন্তিত ও গভীর সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটায়।

“দানের মূল্য যেকোনো ব্যক্তিগত লাভের ঊর্ধ্বে”

বিজয় ঘোষণা শোনার পর তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজয়ী কাতারি মহিলা জানান, তিনি ঘটনাটিকে কেবল নিজের ভাগ্য বা জয় হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে অর্পিত একটি বড় দায়িত্ব ও আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কিছু করার যে দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা তাঁর মনে ছিল, এই পুরস্কার তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও অঞ্চলের চলমান চরম মানবিক সংকট, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও নিঃস্ব জনগণের অসীম দুর্ভোগ তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আর এই মানবিক অনুভূতির ফলেই তিনি ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে আর্তমানবতার সেবাকে অগ্রাধিকার দেন।

তাঁর পরিবারও এই মানবিক সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গর্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং এটিকে তাঁদের পরিবার থেকে প্রাপ্ত মূল্যবোধ ও সুশিক্ষার এক স্বাভাবিক প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে কাতারজুড়ে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ এই ঘটনাকে কাতারি সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত উদারতা, দানশীলতা ও সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

অনুকূল সুযোগকে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাবে রূপান্তর করতে হয়—এই ঘটনাটি সারা বিশ্বের কাছে সেই বাস্তব বার্তাই পৌঁছে দিল। ১০ লাখ রিয়াল জেতার সাধারণ এক গল্পকে একটি মাত্র সিদ্ধান্ত স্থায়ী মানবিক অবদানে পরিণত করেছে।

‘স্নুনু’-র “বি দ্য নেক্সট মিলিয়নিয়ার” প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনটি আগামী আগস্ট মাসজুড়ে অব্যাহত থাকছে। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ড্র-এর ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতে হয়তো আরও বিজয়ী তৈরি হবে, তবে কাতারি মহিলার নেওয়া এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সুযোগকে সুমহান অর্থে পরিণত করার এক কালজয়ী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কাতারে ২৫০ রিয়ালের কেনাকাটায় ১ মিলিয়ন শুকরান পয়েন্ট পেলেন মুজা আলনায়েমি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
কাতারে ২৫০ রিয়ালের কেনাকাটায় ১ মিলিয়ন শুকরান পয়েন্ট পেলেন মুজা আলনায়েমি

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল ও হসপিটালিটি সংস্থা ল্যান্ডমার্ক গ্রুপ (Landmark Group) কাতারে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয় “শুকরান মিলিয়নেয়ার – শপ অ্যান্ড উইন” (Shukran Millionaire – Shop & Win) ক্যাম্পেইনের বিজয়ীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কেনাকাটায় সেরা অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া এবং তাদের মূল্যবান কেনাকাটার স্বীকৃতি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সরকারি ইলেকট্রনিক র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে মিসেস মুজা আলনায়েমি-এর নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) শুকরান পয়েন্ট, যার নগদ বাজারমূল্য ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) কাতারি রিয়াল।

কেনাকাটায় বড় সুযোগ ও লটারির নিয়ম

২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হওয়া এই বিশেষ প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে গ্রাহকদের ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট আউটলেটগুলো থেকে ন্যূনতম ২৫০ কাতারি রিয়ালের কেনাকাটা করতে হয়েছিল।

অংশগ্রহণকারী জনপ্রিয় ব্র্যান্ডসমূহ:

  • ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল: সেন্টারপয়েন্ট, স্প্ল্যাশ, লাইফস্টাইল, পাবলোস্কি।

  • শিশু ও জুতো: বেবিশপ, শুমার্ট, শুএক্সপ্রেস।

  • হোম ডেকোর ও ফার্নিচার: হোম সেন্টার, হোম বক্স।

  • ইলেকট্রনিক্স: ইম্যাক্স (Emax)।

ক্যাম্পেইনটির অভূতপূর্ব সাফল্য এবং গ্রাহকদের আগ্রহ প্রসঙ্গে ল্যান্ডমার্ক গ্রুপ কাতারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি হেড জনাব শুমালান নাইকার বলেন:

"আমাদের শুকরান মিলিয়নেয়ার বিজয়ী হওয়ায় আমরা মিসেস মুজা আলনায়েমিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই ক্যাম্পেইনের প্রতি গ্রাহকদের বিপুল সাড়া আমাদের সাথে তাদের সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত সম্পর্কেরই প্রতিফলন। শুকরান লয়ালটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা সদস্যদের জন্য চমৎকার সব পুরস্কৃত অভিজ্ঞতা তৈরি করে চলেছি। আগামী দিনগুলোতে আমাদের অনুগত সদস্যদের জন্য আরও নতুন অফার ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

'শুকরান মিলিয়নেয়ার' ক্যাম্পেইনের এই সাফল্য মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় লয়ালটি প্রোগ্রাম হিসেবে শুকরানের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটায় গ্রাহকরা যেভাবে নিয়মিত পয়েন্টের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্য ফেরত পান, এই আয়োজন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।