১৫ জুলাই ২০২৬

কাতারকে কীভাবে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত আমির শেখ হামাদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

আয়তনের দিক দিয়ে বেশ ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্র। একসময় টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দেশটি আজ বিপুল সম্পদ ও আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অনেক শক্তিশালী করেছে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে কাতারকে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেশটির সদ্য প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। যিনি বর্তমান আমি শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানির বাবা। তাঁকে কাতারে বাবা আমিরও বলা হয়ে থাকে।

রোববার কাতারের আমিরের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে শেখ হামাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

কাতারের রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর কোনো আড়ম্বর ছাড়াই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকাহত লোকজন কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে জানাজায় অংশ নেন।

এরপর প্রয়াত শেখ হামাদের ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা মসজিদ থেকে মরদেহ বের করে নিয়ে যান। শেখ হামাদকে দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দূরদর্শী শেখ হামাদ

শেখ হামাদ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রান্তিক অবস্থান থেকে কাতারকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, জাতীয় ও মানবিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন। এর পেছনে ছিল তাঁর এমন এক দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি, যা দেশের সীমিত আকার ও ছোট ভৌগোলিক সীমানাকে ছাড়িয়ে বৃহত্তর সম্ভাবনাকে দেখতে পেরেছিল।

শেখ হামাদের শাসনামলেই কাতার আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এই আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে। একই সঙ্গে কাতার রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকেও আশ্রয় দেয়। আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে দোহা খুব দূরে নয়।

শেখ হামাদকে কাছ থেকে যাঁরা চিনতেন, তাঁরা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কাতারের প্রচলিত শক্তির উপাদান সীমিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের প্রভাব বৃদ্ধি করতে ‘সফট পাওয়ার’–এ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

এ কারণে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই শেখ হামাদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতে বিশাল বিশাল প্রকল্প শুরু করেন এবং এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেন। সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি দেশের সম্পদকে শুধু নিজের জনগণের সমৃদ্ধির উৎস হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাবের শক্তিতে রূপান্তর করেন।

পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে জটিল বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে কাতারের কূটনীতি সফলভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।

২০০৮ সালে দোহা লেবাননের নেতাদের একত্র করে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করে, যার ফলে দেশটি আরেকটি গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায়।

উপসাগরীয় এই দেশ ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল এবং এমন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা স্পষ্টভাবে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পক্ষে ছিল।
দারফুর সংকট নিয়ে সুদানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ৩০ মাস ধরে চলা আলোচনার পৃষ্ঠপোষকতা করে কাতার। এর ফলে ২০১১ সালে ‘দোহা ডকুমেন্ট ফর পিস’ স্বাক্ষরিত হয়।

ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রেখে কূটনীতির ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি।

শেখ হামাদের শাসনামলেই কাতার আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এই আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে। একই সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকেও আশ্রয় দেয়। আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে দোহা খুব দূরে নয়।

ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখে কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

২০১২ সালে ইসরায়েলি যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকা সফরকারী প্রথম আরব নেতা ছিলেন শেখ হামাদ। সেখানে তিনি ৪০ কোটি ডলারের অনুদানের মাধ্যমে আবাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্প শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা দেশটির রাজনৈতিক নীতিগুলোকে, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারেনি। কারণ, সংঘাতের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা কাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এসব পক্ষের মধ্যে ইসরায়েলও রয়েছে।

উপসাগরীয় এই দেশ ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল এবং এমন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা স্পষ্টভাবে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পক্ষে ছিল।

স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়

প্রয়াত আমিরের শাসনামলে কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি এমন একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছিল, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

কাতারকে নিয়ে শেখ হামাদের স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে, সে সময়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছেলে দেশকে নিয়ে বাবার স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে দেশটির ঢাকাস্থ দূতাবাসে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানিয়েছেন, শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ গুলশানে কাতার দূতাবাসে গিয়ে সরকারের পক্ষে এই শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

শোকবার্তায় মন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে দুঃখ ও গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সরকার, জনগণ এবং তার নিজের পক্ষ থেকে তিনি কাতারের সরকার, রাজপরিবার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান।News

তিনি বলেন, কাতারের সাথে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত মূল্যায়ন করে।

মন্ত্রী ঘোষণা করেন, মরহুম সাবেক আমিরের সম্মানে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। এছাড়া, জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল কাতারের বর্তমান আমির, রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে দোহা সফর করবেন। বাসস

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক

আধুনিক কাতারের রূপকার ও সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জানাজায় কাতারের রাজপরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর ছেলে ও কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের সদস্যরা মরহুমের মরদেহ কাঁধে নিয়ে মসজিদ থেকে বের করেন। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লুসাইল প্রাসাদে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা গ্রহণ
শেখ হামাদের মৃত্যুতে কাতারে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

দেশী-বিদেশী প্রতিনিধি ও নাগরিকদের জন্য প্রতিদিনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে:

সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

লুসাইল প্রাসাদে এই নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকরা আমিরের কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁদের গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন।

সরকারি দপ্তরে এক সপ্তাহের ছুটি
প্রয়াত ফাদার আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কাতারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের সিদ্ধান্ত অনুসারে, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কাতারের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। টানা এক সপ্তাহের এই সাধারণ ছুটি শেষে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিশ্বনেতাদের শোক
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাতারকে একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রে পরিণত করার পেছনে তাঁর অবদানকে বিশ্বনেতারা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন।

এদিকে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটিও এই মহান নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ কমিউনিটি ও দূতাবাস কাতারি রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম কাতার সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

ইরানি হামলায় খসে পড়া ধ্বংসাবশেষে শিশুসহ আহত ৩: গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
ইরানি হামলায় খসে পড়া ধ্বংসাবশেষে শিশুসহ আহত ৩: গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

দোহা, ১২ জুলাই ২০২৬

কাতারের আকাশসীমায় ইরানি হামলা প্রতিরোধের (Interception Operations) সময় উপর থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন শিশুসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার (১২ জুলাই) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারিকৃত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আহতদের বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জরুরি পরিকল্পনা ও অ্যালার্ট নিয়ে স্পষ্টীকরণ

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলার পরপরই দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা (সিভিল ডিফেন্স) দলগুলো অনুমোদিত জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের উদ্ধার ও সাড়াদান কার্যক্রম শুরু করেছে।

দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারির বিষয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যখন অতিরিক্ত জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়, কেবল তখনই জাতীয় জননিরাপত্তা এবং জরুরি সতর্কতাগুলো সক্রিয় করা হয়।

গুজব ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার প্রবাসী ও নাগরিকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক সৃষ্টি প্রতিরোধে বলা হয়েছে:

  • সরকারি সূত্র: যেকোনো তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র অফিসিয়াল ও সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • শেয়ারিংয়ে নিষেধাজ্ঞা: আইনি দায়বদ্ধতা ও কঠোর শাস্তি এড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো অথবা যাচাইবিহীন তথ্য, ছবি বা ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিনরাত প্রস্তুত কাতারের নিরাপত্তা বাহিনী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে নিশ্চিত করেছে যে, তারা দ্রুত সাড়াদান, জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের সব ধরনের জরুরি জনসেবামূলক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ প্রস্তুতিতে কাজ করে চলেছে।

আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

দোহা, ১২ জুলাই

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্যের সময়সূচি ঘোষণা করেছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী তিন দিন লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণের সময়সূচি

আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, মহামান্য আমির আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মরহুম ফাদার আমিরের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

শোকবার্তা গ্রহণের প্রতিদিনের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

  • সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

  • বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই মহান নেতার প্রয়াণে আজ রবিবার থেকে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে এবং কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, সরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, সরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির স্মরণে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) থেকে এই শোক পালন শুরু হয়েছে। শোক প্রকাশকালীন সময়ে কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কাজ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ) জানিয়েছে, ফাদার আমিরের প্রয়াণে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হচ্ছে।

ঘোষণা অনুযায়ী:

আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কাতারের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজ স্থগিত থাকবে।

এই ছুটির পর আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই প্রধান কারিগরের প্রয়াণে পুরো দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।