২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতারকে কীভাবে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত আমির শেখ হামাদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

আয়তনের দিক দিয়ে বেশ ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্র। একসময় টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দেশটি আজ বিপুল সম্পদ ও আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অনেক শক্তিশালী করেছে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে কাতারকে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেশটির সদ্য প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। যিনি বর্তমান আমি শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানির বাবা। তাঁকে কাতারে বাবা আমিরও বলা হয়ে থাকে।

রোববার কাতারের আমিরের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে শেখ হামাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

কাতারের রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর কোনো আড়ম্বর ছাড়াই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকাহত লোকজন কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে জানাজায় অংশ নেন।

এরপর প্রয়াত শেখ হামাদের ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা মসজিদ থেকে মরদেহ বের করে নিয়ে যান। শেখ হামাদকে দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দূরদর্শী শেখ হামাদ

শেখ হামাদ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রান্তিক অবস্থান থেকে কাতারকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, জাতীয় ও মানবিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন। এর পেছনে ছিল তাঁর এমন এক দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি, যা দেশের সীমিত আকার ও ছোট ভৌগোলিক সীমানাকে ছাড়িয়ে বৃহত্তর সম্ভাবনাকে দেখতে পেরেছিল।

শেখ হামাদের শাসনামলেই কাতার আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এই আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে। একই সঙ্গে কাতার রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকেও আশ্রয় দেয়। আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে দোহা খুব দূরে নয়।

শেখ হামাদকে কাছ থেকে যাঁরা চিনতেন, তাঁরা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কাতারের প্রচলিত শক্তির উপাদান সীমিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের প্রভাব বৃদ্ধি করতে ‘সফট পাওয়ার’–এ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

এ কারণে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই শেখ হামাদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতে বিশাল বিশাল প্রকল্প শুরু করেন এবং এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেন। সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি দেশের সম্পদকে শুধু নিজের জনগণের সমৃদ্ধির উৎস হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাবের শক্তিতে রূপান্তর করেন।

পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে জটিল বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে কাতারের কূটনীতি সফলভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।

২০০৮ সালে দোহা লেবাননের নেতাদের একত্র করে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করে, যার ফলে দেশটি আরেকটি গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায়।

উপসাগরীয় এই দেশ ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল এবং এমন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা স্পষ্টভাবে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পক্ষে ছিল।
দারফুর সংকট নিয়ে সুদানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ৩০ মাস ধরে চলা আলোচনার পৃষ্ঠপোষকতা করে কাতার। এর ফলে ২০১১ সালে ‘দোহা ডকুমেন্ট ফর পিস’ স্বাক্ষরিত হয়।

ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রেখে কূটনীতির ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি।

শেখ হামাদের শাসনামলেই কাতার আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এই আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে। একই সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকেও আশ্রয় দেয়। আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে দোহা খুব দূরে নয়।

ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখে কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

২০১২ সালে ইসরায়েলি যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকা সফরকারী প্রথম আরব নেতা ছিলেন শেখ হামাদ। সেখানে তিনি ৪০ কোটি ডলারের অনুদানের মাধ্যমে আবাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্প শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা দেশটির রাজনৈতিক নীতিগুলোকে, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারেনি। কারণ, সংঘাতের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা কাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এসব পক্ষের মধ্যে ইসরায়েলও রয়েছে।

উপসাগরীয় এই দেশ ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল এবং এমন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা স্পষ্টভাবে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পক্ষে ছিল।

স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়

প্রয়াত আমিরের শাসনামলে কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি এমন একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছিল, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

কাতারকে নিয়ে শেখ হামাদের স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে, সে সময়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছেলে দেশকে নিয়ে বাবার স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন।

নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার দেশ।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রী আল-থানি বলেন, সম্প্রতি কাতার তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এ ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন হামলা মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আল-থানি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৌলিক বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে।’

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তার দাবি, চলমান সংঘাতের সময় যৌথ অভিজ্ঞতা ও কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগের ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

তার আশঙ্কা, আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে এর আরও প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে।

গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আল থানি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম।

তবে ওই ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। এই নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার : ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দোহা বলে জানিয়েছেন আল থানি। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন।

এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কাতার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। চলমান সংঘাতের সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল।

কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব। তবে এ উদ্যোগে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজেদের ভূখ- রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

লেবাননের দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সমাধানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লেবানন ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনে তাঁরা একমত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবাননের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এটি পুরোনো একটি উদ্যোগ হলেও এখন বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের এই উদ্যোগ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দেশটির জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডন