কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ‘আল রেকায়াত’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছে কাতার। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।
কাতারের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল-আনসারি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজে এই ধরনের আকস্মিক হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।
আল-আনসারি বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রণালিতে যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলের যে আন্তর্জাতিক বিধান রয়েছে, এটি তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
কাতার ও ইরানের মধ্যকার নতুন উত্তেজনা
উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিতে কাতার ও ইরানের সম্পর্ক সাধারণত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং কাতার দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। তবে নিজেদের মালিকানাধীন বা পতাকাবাহী ‘আল রেকায়াত’ জাহাজে হামলার পর দোহার এই সরাসরি অভিযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাতারের পক্ষ থেকে ইরানকে অবিলম্বে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মুক্ত নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে (সাপ্লাই চেইন) ঝুঁকির মুখে ফেলা থেকে ইরানকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
আইনি দায়বদ্ধতার হুঁশিয়ারি: কাতার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির জন্য ইরানই সম্পূর্ণভাবে আইনগত ও আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী থাকবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের ছায়া
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশ কাতারের জাহাজে হামলার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও উদ্বায়ী হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এই রুটে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
এখন পর্যন্ত কাতারের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।