সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ হিসেবে প্রমাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল-খানি।
রোববার লুসার্ন লেক শীর্ষ সম্মেলনে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন। শেখ মোহাম্মদ বলেন, এই চুক্তি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত থেকে এই অঞ্চলকে দূরে সরিয়ে স্থিতিশীলতা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশের দিকে পরিচালিত করবে।
ঐতিহাসিক এই বৈঠকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দুই পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী দুই রাষ্ট্র—কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। সম্মেলনে কাতারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান। অন্যদিকে মার্কিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পরামর্শক পরিষদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা স্মারকটি মধ্যস্থতাকারীদের কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথেই কাজ শেষ হয়ে যায়নি বলে সতর্ক করেন তিনি।
এই পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে নেতৃত্ব ও সাহস দেখানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশংসা করেন শেখ মোহাম্মদ। পাশাপাশি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সহ এই চুক্তি সফল করতে যারা অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
একই সাথে এই উদ্যোগের শুরু থেকে প্রতিটি পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কাতারের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কূটনীতি ও উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করাটা দোহার জন্য গর্বের বিষয়।


