২৫ জুন ২০২৬

মিশরে অপহৃত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী; পাইপ বেয়ে নেমে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মিশরে অপহৃত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী; পাইপ বেয়ে নেমে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয়
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম/ছবি: সংগৃহীত

মিশরের রাজধানী কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে থেকে মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে সঙ্গে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা), পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নেয়। পরে একপর্যায়ে কৌশলে বন্দিদশা থেকে জানালা দিয়ে পালিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন ওই ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে নাসিমা আক্তার নামে এক মিশর প্রবাসী নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই নারী শরিফুলকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসায় মোটা অঙ্কের লাভের প্রলোভন দেখান।

নাসিমার পরামর্শ ও আশ্বাসে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি যখন বাইরে বের হন, তখন নাসিমা আক্তারের পাঠানো লোক পরিচয় দিয়ে ৫ বাংলাদেশি তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা প্রথমে শরিফুলকে একটি কফি শপে নিয়ে যায়। পরে কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর বাহানায় রাত ১টার দিকে একটি নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। সেখানে তাঁকে মারাত্মক মারধর করে তাঁর লাগেজে থাকা ৪৫ হাজার ডলার, পাসপোর্ট ও সব জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

পরদিন রাতে তাঁকে অন্য একটি ফ্ল্যাটে স্থানান্তর করা হয় এবং আবারও মারধর করে দেশে তাঁর পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শরিফুলের পরিবারকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

অবশেষে পরদিন রাত ৩টার দিকে শরিফুল ইসলাম বন্দি কক্ষের জানালা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন। এরপর দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে পৌঁছান এবং নিরাপদ আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ও নিরাপদে রয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাস কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

প্রথমবার বিমান ভ্রমণ? স্বস্তিদায়ক যাত্রার এ টু জেড গাইডলাইন

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
প্রথমবার বিমান ভ্রমণ? স্বস্তিদায়ক যাত্রার এ টু জেড গাইডলাইন

প্রথমবার বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর। তবে একইসঙ্গে কিছুটা দুশ্চিন্তাও কাজ করতে পারে। বিমানবন্দরে কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে বা কোন ধাপে কী ঘটবে—এসব নিয়ে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক। আগে থেকে কিছু বিষয় জানা থাকলে পুরো যাত্রাই অনেক সহজ মনে হতে পারে।

কী নেওয়া যাবে, কোথায় নেওয়া যাবে জেনে নিন
বিমান যাত্রার আগে কোন জিনিস কেবিন ব্যাগে নেওয়া যাবে, কোনটি চেকড লাগেজে রাখতে হবে এবং কোন জিনিস বহন করা যাবে না, সে সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো। অনেক সময় পাওয়ার ব্যাংক, লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত যন্ত্র, তরল পদার্থ বা ধারালো কিছু জিনিস নিয়ে যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিমানবন্দরে গিয়ে এসব কারণে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র সরানোর প্রয়োজনও হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো। এতে নিরাপত্তা তল্লাশি ও চেক-ইনের সময় ঝামেলা এড়ানো সহজ হয়।

সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টা আগে পৌঁছানো যথেষ্ট হতে পারে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও গেট খুঁজে বের করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়া এড়ানোই ভালো।

পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন
বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধাপে পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস বা ভিসাসংক্রান্ত নথি দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাই এগুলো এমন জায়গায় রাখুন, যেন সহজেই বের করা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে বারবার ব্যাগ খুলতে হলে অযথা ঝামেলা বাড়তে পারে।


চেক-ইন
চেক-ইনের সময় ফ্লাইট কর্তৃপক্ষ আপনার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে এবং বোর্ডিং পাস দেয়। যদি চেকড লাগেজ থাকে, সেটিও এই ধাপে জমা দিতে হয়। অনেক এয়ারলাইন অনলাইনে চেক-ইনের সুযোগ দেয়। তবে প্রথমবার ভ্রমণ করলে কাউন্টারে গিয়ে চেক-ইন করাই অনেকের কাছে সহজ মনে হয়।

লাগেজের ওজন আগে থেকেই মেপে নেওয়া ভালো। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ওজন হলে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে বা ব্যাগ থেকে কিছু জিনিস বের করার ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই বাসা থেকেই ওজন যাচাই করে নেওয়া সুবিধাজনক। চেকড লাগেজের পাশাপাশি ব্যাকপ্যাক বা কেবিন ব্যাগের ওজনসীমাও আগে থেকে জেনে সে অনুযায়ী ওজন মেপে নেওয়া ভালো। এতে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা কমে।

নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকুন
চেক-ইনের পর সাধারণত নিরাপত্তা তল্লাশির ধাপ আসে। এ সময় ব্যাগ স্ক্যান করা হয় এবং যাত্রীদেরও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করলেই সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।

ইমিগ্রেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনের একটি ধাপ থাকে। এ সময় একজন কর্মকর্তা আপনার পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু তথ্য যাচাই করতে পারেন। প্রথমবার ভ্রমণকারীদের অনেকেই এই ধাপটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে থাকলে এবং প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে দিতে পারলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকে না। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কোথায় যাচ্ছেন বা কত দিন থাকবেন—এ ধরনের কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হতে পারে।

গেট নম্বর দেখে নিন
বোর্ডিং পাসে সাধারণত গেট নম্বর উল্লেখ থাকে। তবে কখনো কখনো গেট পরিবর্তনও হতে পারে। তাই বিমানবন্দরের ডিসপ্লে বোর্ডে নিজের ফ্লাইটের তথ্য মাঝে মাঝে দেখে নেওয়া ভালো।

বোর্ডিং শুরু হলেই দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই
অনেক নতুন যাত্রী বোর্ডিং ঘোষণা শোনামাত্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু যাত্রীদের ধাপে ধাপে ফ্লাইটে ওঠানো হয়। আপনার গ্রুপ বা সারির ডাক আসলে স্বাভাবিকভাবেই লাইনে দাঁড়াতে পারেন।

কেবিন ব্যাগ কোথায় রাখবেন
ছোট ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক সামনের সিটের নিচে রাখা যায়। বড় কেবিন ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে হয়। ব্যাগ তুলতে সমস্যা হলে কেবিন ক্রু বা অন্য কোনো যাত্রীর সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।

সিটবেল্ট বাঁধতে ভুলবেন না
উড়োজাহাজে বসার পর সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় এটি বাধ্যতামূলক। সিটবেল্ট বাঁধার সংকেত বন্ধ থাকলেও অনেক নিয়মিত যাত্রী বসে থাকার সময় সিটবেল্ট আলগাভাবে বেঁধে রাখেন।

টার্বুলেন্স স্বাভাবিক বিষয়
প্রথমবার ভ্রমণকারীদের অনেকের কাছেই টার্বুলেন্স ভীতিকর মনে হতে পারে। এতে উড়োজাহাজ কিছুটা কাঁপতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক এবং পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত থাকেন। টার্বুলেন্সের সময় শান্ত থাকা এবং সিটবেল্ট বাঁধা রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজন হলে কেবিন ক্রুদের সাহায্য চাইতে পারেন
ফ্লাইটে ছোটখাটো অনেক বিষয়েই সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। পানির প্রয়োজন, আসনসংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অন্য কোনো প্রশ্ন থাকলে কেবিন ক্রুদের জানাতে পারেন। যাত্রীদের সহায়তা করা তাদের দায়িত্বের অংশ। তাই প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করার প্রয়োজন নেই।

ট্রানজিট থাকলে নির্দেশনা অনুসরণ করুন
একটি ফ্লাইট থেকে নেমে অন্য ফ্লাইট ধরতে হলে বিমানবন্দরের নির্দেশনা বোর্ড অনুসরণ করুন। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে বিমানবন্দর কর্মীদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

লাগেজ সংগ্রহের জায়গা আগে দেখে নিন
গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাদের চেকড লাগেজ আছে, তাদের ব্যাগেজ ক্লেইম বা লাগেজ সংগ্রহের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয়। ডিসপ্লে বোর্ডে সাধারণত কোন বেল্টে কোন ফ্লাইটের লাগেজ আসবে, তা উল্লেখ থাকে।

প্রথম উড়োজাহাজ যাত্রা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে একবার পুরো প্রক্রিয়াটি পার হয়ে গেলে দেখা যায়, বিষয়টি যতটা জটিল মনে হয়েছিল, বাস্তবে ততটা নয়। আগে থেকে কিছু ধারণা থাকলে প্রথম ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

মিশরে অপহৃত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী; পাইপ বেয়ে নেমে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মিশরে অপহৃত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী; পাইপ বেয়ে নেমে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয়
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম/ছবি: সংগৃহীত

মিশরের রাজধানী কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে থেকে মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে সঙ্গে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা), পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নেয়। পরে একপর্যায়ে কৌশলে বন্দিদশা থেকে জানালা দিয়ে পালিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন ওই ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে নাসিমা আক্তার নামে এক মিশর প্রবাসী নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই নারী শরিফুলকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসায় মোটা অঙ্কের লাভের প্রলোভন দেখান।

নাসিমার পরামর্শ ও আশ্বাসে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি যখন বাইরে বের হন, তখন নাসিমা আক্তারের পাঠানো লোক পরিচয় দিয়ে ৫ বাংলাদেশি তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা প্রথমে শরিফুলকে একটি কফি শপে নিয়ে যায়। পরে কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর বাহানায় রাত ১টার দিকে একটি নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। সেখানে তাঁকে মারাত্মক মারধর করে তাঁর লাগেজে থাকা ৪৫ হাজার ডলার, পাসপোর্ট ও সব জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

পরদিন রাতে তাঁকে অন্য একটি ফ্ল্যাটে স্থানান্তর করা হয় এবং আবারও মারধর করে দেশে তাঁর পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শরিফুলের পরিবারকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

অবশেষে পরদিন রাত ৩টার দিকে শরিফুল ইসলাম বন্দি কক্ষের জানালা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন। এরপর দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে পৌঁছান এবং নিরাপদ আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ও নিরাপদে রয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাস কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাষ্ট্র;

কাতার দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতার দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হন। নিহত পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানো এবং নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ শুরু করেছে।

এক শোকবার্তায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসব প্রবাসী কর্মীর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

মন্ত্রী নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি এলাকার কাদির আহমদ, ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং জুবায়ের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তারা কাতারে কর্মরত ছিলেন। রোববার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি ও গাড়িচালক নিহত হন। কানাইঘাটে নিহতদের বাড়িগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
কাতারে ৫ প্রবাসী তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু ; দূতাবাসকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশ

কাতারে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স warrior (যোদ্ধা) নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একসাথে ৫ তরুণের মৃত্যুর খবরে কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত প্রবাসীরা হলেন—কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের জুবের আহমদ (২৮) এবং বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের কাদির আহমদ (৩৩)।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকার তাগিদে কাতারে বসবাস করছিলেন। তাঁরা সেখানে একটি ‘মাজরা’ বা পশু খামারে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তাঁরা কাজ করার উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি গাড়িযোগে শাহানিয়া এলাকার সানিয়া নামক স্থানে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে আল শাহানিয়া এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা ৫ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির চালকও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহতদের সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং তাঁদের আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল। নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চার বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কাদির কাতারে পাড়ি দিয়েছিলেন। আগামী মাসেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আর জীবিত দেশে ফেরা হলো না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ৫ প্রবাসী নিহতের খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের সাথে কথা বলেছেন। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, উপহার দিতে এসে গুলিস্তান আবাসিক হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
ফেসবুকে বন্ধুত্ব, উপহার দিতে এসে গুলিস্তান আবাসিক হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, দীর্ঘ কয়েক মাসের কথোপকথন, এরপর সরাসরি সাক্ষাৎ। সেই বহুল প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী আল আমিন (৪০) রাজধানীর গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যদিও প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে পল্টন থানার আওতাধীন গুলিস্তান এলাকার হোটেল রমনায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৩ জুন তিনি দেশে ফেরেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আল আমিনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে আবারও কথা হয় এবং শুক্রবার রাজধানীতে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়।

নারী বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, আল আমিন তাকে জানিয়েছিলেন যে তার জন্য কিছু উপহার রয়েছে। সেই উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ঢাকায় আসেন। সকালে গুলিস্তানে তাদের সাক্ষাৎ হয়। পরে তারা হোটেল রমনায় একটি কক্ষে ওঠেন এবং কিছু সময় কথাবার্তা বলেন।

নারীটি জানান, একপর্যায়ে আল আমিন ওয়াশরুমে যান। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে হঠাৎ ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। উদ্বিগ্ন হয়ে ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা এবং আল আমিন মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তার চিৎকারে হোটেল কর্মচারীরা ছুটে আসেন।

পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি পল্টন থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে নিহতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানান, তার ভাই সৌদি আরব থেকে কিছু মালামাল ও উপহার নিয়ে দেশে এসেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে কিছু জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে ঢাকায় যাচ্ছেন। পরে তারা জানতে পারেন, একটি হোটেলের ওয়াশরুমে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর পেছনে কোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান করা সমীচীন হবে না। তবে ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।