২১ জুন ২০২৬

‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে কাতার’

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে কাতার’
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি ইরানের জন্যও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পর থেকে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে শেখ তামিম বলেন, যখনই আমাদের বন্ধু ও অংশীদাররা সহযোগিতা চায়, কাতার তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এবং কাতার এ ধরনের উদ্যোগে ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এছাড়াও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো স্থিতিশীল পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে কাতার। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাতার এখনও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা বজায় রেখে চুক্তির সব শর্ত কার্যকর করতে দেশটি কাজ করে যাচ্ছে।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকার পরও গাজায় গণহত্যা পুরোপুরি থামেনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

স্বপ্নভঙ্গ মাত্র দুই ম্যাচেই! ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ‘তুরস্ক’

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
স্বপ্নভঙ্গ মাত্র দুই ম্যাচেই! ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ‘তুরস্ক’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল তুরস্ককে। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। এরপর মাঝে বিশ্বকাপের ৫টি আসর গেলেও খেলার সুযোগ হয়নি দলটির। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়াটা তাই বেশ হতাশারই। এর আরেকটা কারণ, তারকাবহুল দল। এই দলে কে ছিলেন না? আর্দা গুলের, কেনান ইয়িলদিজ, হাকান চালহানওগলুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাত্র দুই ম্যাচেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। কেন এই বিদায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

লক্ষ্যহীন আক্রমণ

একটি দলের মূল শক্তি হলো আক্রমণের নিশানা ঠিক থাকা। একের পর এক আক্রমণ করেও যদি জাল খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সব মূল্যহীন। তুরস্কের বেলায় মূল কারণ হিসেবে এটাই ধরা যায়, লক্ষ্যহীন আক্রমণ। যার ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, চালহানওগলুরা। পরিসংখ্যানের হিসাবটা বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। তুরস্কে দুই ম্যাচে মোট শট নিয়েছে ৬২টি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর মধ্যে একটি শটও তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে পারেনি। এর ফলে বিব্রতকর এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই ম্যাচে এতগুলো প্রচেষ্টা নিয়েও গোলশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে তারা।

ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা

তুরস্কের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ভয়াবহ ফিনিশিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অথচ ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—ম্যাচে আধিপত্য, বল দখল কিংবা আক্রমণের হিসেবে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়েই বারবার খেই হারিয়েছেন তুর্কিরা। ফলে যথাযথ ফিনিশিংয়ের অভাবে দুই ম্যাচে একটি গোলও দিতে পারেনি তারা।

নম্বর নাইনের অভাব

তুরস্কের ম্যাচগুলোয় মাঝমাঠে বেশ ভালো পজিশনে ছিলেন মিডফিল্ডাররা। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। আর্দা গুলের কিংবা কেনান ইয়িলদিজ সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো নির্ভরযোগ্য ‘নাম্বার নাইন’ ছিল না দলে। ফলে আক্রমণভাগে প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে দুই ম্যাচে। গোলের সামনে গিয়েও বারবার ভেঙে পড়তে হয়েছে তুর্কিদের। তুর্কি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দলের স্কোয়াড গঠনের এই দুর্বলতা পুরো টুর্নামেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্যর্থতা আরো বেশি হতাশাজনক। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ ১০ জন নিয়ে খেলেছে। সংখ্যাগত সুবিধা, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল এবং একের পর এক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল তুরস্কের পক্ষে। কিন্তু দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা কিংবা কার্যকর আক্রমণ কোনোটিই দেখা যায়নি। বরং অসংখ্য ক্রস ও দূরপাল্লার শট নষ্ট হয়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।

কোচের বেখাপ্পা কৌশল

কৌশলগত দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলাকে নিয়ে। তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা মাঝে মধ্যে রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে একপ্রকার ফাঁকা পোস্টের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ। অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণ থেকে যে দুটি গোল করেছে, সেগুলো কোচের বেখাপ্পা কৌশলের ফল। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোল হজম করে নিজের পরিকল্পনা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন মনতেলা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে চাপ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।

অতিরিক্ত নির্ভরতায় ভরাডুবি

তুরস্কের ভরাডুবির আরেকটি বড় কারণ তারকা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দলটি কয়েকজন তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর্দা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজকে ঘিরেই বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে উঠছিল। এ বিষয়টি প্রতিপক্ষও আঁচ করতে পেরে তাদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে দিয়েছে। তখন বিকল্প কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি তুরস্কের খেলায়। ফলে আক্রমণ হয়ে পড়েছিল একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য। এই সুযোগটাই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ।

বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফিরে এসে তুরস্কের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকা সত্ত্বেও গোল করার অক্ষমতা, কৌশলগত দুর্বলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তারা পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটিতে। দুই ম্যাচে ৬২ শট, শূন্য গোল এবং শূন্য পয়েন্ট—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রা।

কাতারে পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, আইন অমান্যে বড় জরিমানা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাতারে পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, আইন অমান্যে বড় জরিমানা

অভিবাসী ও পর্যটকদের রেসিডেন্সি ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে কাতার সরকার। এখন থেকে কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিলের পর দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। যার মেয়াদ আগে ছিল ৩০ দিন। এছাড়া, নির্দিষ্ট সময়সীমার পর দেশটিতে অবস্থান করলে পর্যটকদের গুণতে হবে মোটা অংকের জরিমানা। নতুন আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান প্রবাসী বাংলাদেশিদের।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সরকার। অভিবাসী ও পর্যটকদের ভিসার বৈধতা ও দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদের বিষয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন নির্দেশনার কথা জানায় কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগে রেসিডেন্সি পারমিট বাতিলের পর প্রবাসীরা ৩০ দিন পর্যন্ত কাতারে থাকার সুযোগ পেতেন। এখন এই মেয়াদ কমিয়ে করা হয়েছে দুই সপ্তাহ। নতুন নিয়মে আকামা বাতিলের পর নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে তাদের কাতার ত্যাগ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রবাসীদের প্রতিদিন গুণতে হবে কাতারি ১০ রিয়াল হারে বিলম্ব জরিমানা।

একইসঙ্গে কাতারে আসা পর্যটকদের জন্য দেয়া হয়েছে কড়া সতর্কবার্তা। এরইমধ্যে যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে ভিজিটর বা পর্যটকদের পাসপোর্টের ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ। ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য পর্যটকদের দিতে হবে বড় অঙ্কের ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা। এসব ঝামেলা এড়াতে নতুন আইনকানুন মেনে চলার আহবান প্রবাসী বাংলাদেশিদের।

ভ্রমণ জটিলতা এড়াতে কাতার ছাড়ার আগে প্রবাসীদের 'মেট্রাশ' মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বৈধতা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বকেয়া ট্রাফিক ফাইন, সরকারি পাওনা থাকলে তা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ভ্রমণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি এড়াতে ইলেকট্রনিক গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা জোরদারে কার্যকর অবদান রাখবে।

ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কাতারের আমির আরও বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি দোহা’র সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

দুই নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

৬ গোল আর দুই লাল কার্ডে বিধ্বস্ত কাতার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
৬ গোল আর দুই লাল কার্ডে বিধ্বস্ত কাতার

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই শক্তির প্রদর্শনী করলো স্বাগতিক কানাডা। কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কানাডা, আর পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য।

তবে ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার জন্যই নয়, দুই লাল কার্ড ও এক ভয়াবহ চোটের কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছে।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। জনাথন ডেভিড হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া সাইল লারিন ও নাথান সালিবা গোল করেন। কাতারের মোহাম্মদ আল-মান্নাইয়ের আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। এই জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই শক্ত করেছে কানাডা।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ঘটে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের ওপর ভয়াবহ ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিডিও রিভিউয়ের পর তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। গুরুতর চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন কোনে। ঘটনাটির পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাদিবোও।

এর আগেও প্রথমার্ধে কাতারের আরেক খেলোয়াড় হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচের বড় একটি অংশ নয়জন নিয়ে খেলতে হয় ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকদের। সংখ্যাগত সুবিধার পুরোটা কাজে লাগিয়ে গোলের পর গোল করে কানাডা।

এটি ছিল গ্রুপ ‘বি’র দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। একই দিনে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ৪-১ গোলে হারিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে। প্রথম ম্যাচে কানাডা বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল, কাতারও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতায় শেষ করেছিল।

কাতারে প্রফেশনাল ট্যুর গাইড হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! নিবন্ধন শুরু করল ‘কাতার ট্যুরিজম’

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
কাতারে প্রফেশনাল ট্যুর গাইড হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! নিবন্ধন শুরু করল ‘কাতার ট্যুরিজম’

দেশের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং স্থানীয় ও প্রবাসী প্রতিভাদের পেশাদার গাইড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু করেছে কাতার ট্যুরিজম (কিউটি)।

সংস্থার 'সার্ভিস এক্সিলেন্স একাডেমি' এবং 'কাতার ইয়ুথ হোস্টেলস'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পর্যটন উৎসাহী, তরুণ সমাজ এবং কমিউনিটির সদস্যদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামসের (কিউএম) সহযোগিতায় এতে থাকবে বিশেষ কর্মশালা, ব্যবহারিক কোর্স এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ফিল্ড ভিজিট।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর মানব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে কাতারের অনন্য ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য একঝাঁক দক্ষ 'পর্যটন রাষ্ট্রদূত' তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন বয়স ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচীকে কয়েকটি মডিউলে ভাগ করা হয়েছে:

সাধারণ লাইসেন্সিং মডিউল (১৮ বছর বা তার বেশি):

আগামী ৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো কাতারি নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা এতে অংশ নিতে পারবেন। এই মডিউলে অবসরপ্রাপ্ত ও প্রবীণদের অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন তারা নতুন প্রজন্মের সাথে কাতারের সংস্কৃতি নিয়ে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীরা কাতার ট্যুরিজমের আনুষ্ঠানিক ট্যুর গাইড লাইসেন্স পাবেন।

ইয়ুথ ট্যুর গাইড প্রোগ্রাম (১৩ থেকে ১৭ বছর):

তরুণ প্রতিভাদের লালনের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। কাতার মিউজিয়ামসের 'টিন সেন্টার'-এর সহযোগিতায় তরুণদের এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইয়ং ট্যুর গাইড সামার ক্যাম্প (৮ থেকে ১২ বছর):

শিশুদের জন্য 'কিডজমন্ডো'-তে আগামী ১৯ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এই ক্যাম্পের দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ জন করে মোট ৬টি দলে ভাগ করে শিশুদের কাতারের পর্যটন আকর্ষণগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে সফল করতে গত ১৪ জুন থেকে শুরু হয়েছে 'ট্রেইন দ্য ট্রেইনার' নামের একটি বিশেষ প্রোগ্রাম, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের একটি দল তৈরি করা হচ্ছে, যারা পরবর্তীতে যুব ও শিশু গাইডদের মেন্টরিং বা পরামর্শ দেবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাতার ট্যুরিজম এবং কাতার ইয়ুথ হোস্টেলসের এই ধারাবাহিক চতুর্থ যৌথ উদ্যোগের ফলে দেশের পর্যটন খাতে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী মেধা প্রবাহ তৈরি হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা কাতার ট্যুরিজমের নির্ধারিত অনলাইন লিংকের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনের সুবিধার্থে নিচে দেওয়া নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন: