২৫ আগস্ট ২০২৬

প্যাকেজ ভিসা চালু করল সৌদি আরব, একসঙ্গেই মিলবে ভিসা, টিকিট ও হোটেল বুকিং

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
প্যাকেজ ভিসা চালু করল সৌদি আরব, একসঙ্গেই মিলবে ভিসা, টিকিট ও হোটেল বুকিং

বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের মধ্যেই পর্যটন ভিসা, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিংসহ প্রয়োজনীয় ভ্রমণসেবা পাওয়া যাবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি প্যাকেজের মাধ্যমেই পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্যাকেজে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বা আবাসনের ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সুযোগও যুক্ত করা যাবে।

এ উদ্যোগের ফলে আলাদাভাবে বিমান টিকিট, আবাসন ও ভিসা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন কমে যাবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা প্রদানে সক্ষম অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোই এই সেবা দিতে পারবে।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে।

সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব বলেন, নতুন এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের জন্য আরও সহজ, স্মার্ট ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। তার ভাষায়, ‘প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পর্যটনসেবাকে আরও সহজ করছি এবং সৌদি আরব ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন করে তুলছি।’

হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব
জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ট্যাঙ্কার বহরে হামলার ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর, অবশেষে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বোঝাই (লোডিং) ও বিক্রি ফের শুরু করেছে সৌদি আরামকো। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা এবং বাণিজ্য সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি জায়ান্ট— খোলাবাজার বা স্পট মার্কেটে ভারী অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায়—আরও বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজের ভেতরে তেল বোঝাইয়ের অপেক্ষায় নোঙর করে আছে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক এই প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে 'শিপ-টু-শিপ' বা এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগারকে 'আরব মিডিয়াম' এবং 'আরব হেভি' গ্রেডের তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

হরমুজ দিয়ে সৌদি রপ্তানি ফের শুরুর এই পদক্ষেপ, বাজারে ভারী গ্রেডের তেলের তীব্র সংকট কমাতে সহায়তা করবে। এ ধরনের ভারী অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড মূলত জাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রেসিডিউ ফুয়েল তৈরিতে এবং শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো উচ্চমানের জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা– ভোর্টেক্সা ও কেপলার-এর উপাত্তে দেখা যায়, বন্দর দুটি থেকে সর্বশেষ তেল বোঝাই করার পর মাঝখানে প্রায় তিন সপ্তাহের একটি দীর্ঘ বিরতি ছিল। তবে ভিএলসিসি জাহাজগুলো ঠিক কোন গ্রেডের তেল বহন করছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ভিএলসিসি জাহাজগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'সিনোকোর'-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আরও অন্তত ছয়টি ভিএলসিসি সৌদি তেল বোঝাই করতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের জন্য সিনোকোরের জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরামকো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন সৌদি ট্যাঙ্কারও ব্যবহার করতে পারে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা শিপিং তথ্যে দেখা গেছে, সৌদিভিত্তিক অপারেটর 'বাহরি'-র মালিকানাধীন সাতটি ভিএলসিসি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান উপকূলে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ ফুজাইরাহের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সিদি কেরির রুট ও লোহিত সাগরের চ্যালেঞ্জ

তবে হরমুজ দিয়ে রপ্তানি শুরু হলেও, সৌদি আরবের সার্বিক তেল রপ্তানি এখনো বেশ সীমিত। কারণ লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের টানা অবরোধের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরামকো তাদের প্রধান রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর বেশি নির্ভর করছিল। কিন্তু, সেখানেও বাধ সাধে ইরান-সমর্থিত হুথিদের অবরোধ।

বিকল্প হিসেবে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের প্রস্তাব দেয় সৌদি আরামকো। কিন্তু ইয়ানবু বন্দর অবরুদ্ধ হওয়ার আগে সেখান থেকে দৈনিক যে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো, সিদি কেরির দিয়ে প্রস্তাবিত তেল রপ্তানির পরিমাণ তার তুলনায় খুবই কম। তা ছাড়া বাড়তি শিপিং খরচ এবং ঘুরপথের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে এশীয় ক্রেতারা সেখান থেকে তেল কিনতে খুব একটা উৎসাহও দেখাচ্ছে না।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসে এশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৬,৭০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সিদি কেরির বন্দরে বোঝাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিগত তিন মাসে ছিল শূন্যের কোঠায়।

ভোর্টেক্সার চীন বাজার বিশ্লেষক এমা লি এ বিষয়ে বলেন, "এই উপাত্ত প্রমাণ করে যে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য সিদি কেরির বন্দরের প্রস্তাবটি হয়তো আশানুরূপ কাজ করছে না। কারণ সেখানকার ক্রেতারা—বিশেষ করে চীনা ক্রেতারা—দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং অতিরিক্ত পরিবহন খরচ নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন।"

ফের সৌদি আরামকোর শোধনাগারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
ফের সৌদি আরামকোর শোধনাগারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট 'সৌদি আরামকো'র (Saudi Aramco) একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করা এই হামলাটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান (Jizan) অঞ্চলে পরিচালিত হয় বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।

হামলার প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

প্রতিবেদনে এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার ঘটনাটি জিজান অঞ্চলের তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ঘটানো হয়। তবে এই হামলায় শোধনাগারটির সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি বা আরামকোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

হুতি বিদ্রোহীদের দায় স্বীকার ও যুক্তি

ড্রোন হামলার পর ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক পদক্ষেপের দায় স্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে:

  • কারণ: সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের 'সাদা' (Saada) ও 'হাজ্জাহ' (Hajjah) প্রদেশের আকাশসীমা এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে সৌদি বিমানবাহিনী সামরিক তৎপরতা চালিয়েছে।

  • জবাব: আকাশসীমা লঙ্ঘনের সরাসরি প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাব হিসেবেই জিজানের আরামকো শোধনাগারে এই সমন্বিত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি আরামকোর মতো স্পর্শকাতর জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় ড্রোন হামলার ঘটনায় লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব ও জ্বালানি বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

১০০ বছর পর সৌদির মরুভূমিতে ফিরল অনাগার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
১০০ বছর পর সৌদির মরুভূমিতে ফিরল অনাগার

মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি কাটিয়ে এক বছর সফলভাবে বেঁচে থাকার পর অবশেষে সৌদি আরবের মরুভূমিতে বিলুপ্তপ্রায় ‘অনাগার’ শাবকের ঐতিহাসিক জন্মের খবর প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এই সাফল্যকে এক শতাব্দী ধরে হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের জুনে এই পুরুষ শাবকটির জন্ম হয়। অনাগার শাবকদের প্রথম বছরে বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রথম ১২ মাস অতিক্রম না করা পর্যন্ত খবরটি গোপন রাখা হয়েছিল। বর্তমানে রিজার্ভের আরও দুটি অনাগার গর্ভবতী এবং আগামী শীতে তাদের সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে জর্ডানের শওমারি রিজার্ভ থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাঁচটি স্ত্রী ও দুটি পুরুষ অনাগার সৌদিতে আনা হয়। ঘণ্টায় ৬৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে সক্ষম এই প্রাণী প্রাচীন আরবের ৮০টিরও বেশি কবিতায় গতি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছিল।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০০টিরও কম পারস্য অনাগার টিকে রয়েছে। ২০২৫ সালে আইইউসিএন একে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৯০ শতাংশ কমে যেতে পারে।


রিজার্ভের সিইও অ্যান্ড্রু জালুমিস জানান, লক্ষ্যভিত্তিক ২৩টি প্রজাতির মধ্যে ১৪টি ইতোমধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং ৬টি সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করেছে। আগামী ২৫ বছরে চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো শিকারি প্রাণী ফিরিয়ে এনে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র গড়াই সৌদির মূল লক্ষ্য।

সৌদির জিজান ও জুবাইলে বিকট বিস্ফোরণ, আরামকোর স্থাপনায় আগুন!

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
সৌদির জিজান ও জুবাইলে বিকট বিস্ফোরণ, আরামকোর স্থাপনায় আগুন!

সৌদি আরবের জিজান ও জুবাইল অঞ্চলে আগুন এবং বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরেছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি আরব আঞ্চলিক সূত্র। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুবাইল এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, আরব সূত্রগুলোর দাবি, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এরপর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে এসব সূত্র বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুন লেগেছে। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

এর আগে আঞ্চলিক সূত্রগুলো দাবি করেছিল, জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে জিজানে আরামকোর স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা এবং জুবাইলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন। রিয়াদে পৌঁছে সেখানে থাকা আরেকজন দালালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।

আরিফ হোসেনের মত এমন আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদে অবস্থিত একটি স্থানে থাকার জায়গা দেন দালাল। তবে রিয়াদে যে কাজের কথা দেওয়া হয়েছিল সেই কাজ পাননি তিনি। বেশ কিছুদিন বসে থাকার পরে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজে যোগ দেন আরিফ হোসেন।

কিন্তু এরপরই সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি। ফলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করলেও কিছুই আয় করতে পারেননি বলে জানান।

তিনি বলেন, নাডিকে কাজ দেয় নাই, এক মাস চইলা যায় কাজ দেয় নাই। পরে বাধ্য হইয়া মক্কায় যাই অন্য কাজ নিয়া। জুলাইয়ের চার তারিখে পুলিশ (সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ধরছিল, ১৬-১৭ দিন জেল খাটছি। এরপর ২২ জুলাই দেশে আসছি।

তবে শুধু আরিফ হোসেনই নন, এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন। দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে জানানো হয়। একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আর সবশেষ ২৩ থেকে ২৯ জুলাই এই অভিযানে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়; যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। যদিও সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিযুক্ত কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন বলছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ না করলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কের কিছু নেই। এক কাজের জন্য গিয়ে অন্য কাজ করার মতো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়। যারা এসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নিয়মিত অভিযানেরই অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

• অভিযান নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কারণ আছে কী?
গালফ নিউজের তথ্য বলছে, গত ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে, আবাসন আইন ভঙ্গের অপরাধে ৭ হাজার ১০৩, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযোগে ৩ হাজার ৬৫৪ জনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণের কাগজপত্রের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৪২৪ জন দেশ ছাড়ার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে চায়, পরিবহন করা বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একইসঙ্গে, ১০ লাখ রিয়েল বা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসম্মুখে নাম প্রকাশের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব। তবে, ওই সাড়ে ১২ হাজারের মধ্যে কত সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই অভিযানের তথ্য সর্বশেষ তথ্য হলেও গালফ নিউজের সংবাদ ঘেঁটে দেখা যায়, এই দফার অভিযান শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন। সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই মাসে দুই দফায় অভিযান চালায়।

এর মধ্যে ১৬ থেকে ২২ জুলাই এবং ২৩ থেকে ২৯ জুলাই সবশেষ অভিযানে দেশটির আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে, ৭ মে থেকে ১৩ মে এক সপ্তাহব্যাপী সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১১ হাজার ২৭২ অবৈধ প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল নিযুক্ত কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, গত সপ্তাহের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে চার হাজার বাংলাদেশি জেদ্দার তারহিলের সফর জেলে রয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার জন্য সেখানে রয়েছেন তারা।

এছাড়া আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে রয়েছেন। তবে, তাদের প্রত্যেকেই যে জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেটি নয়। এই গ্রেপ্তারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই সময়ের আগের প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে সালেকিন বলছেন, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হজ মৌসুমসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট মনিটরিং করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা একটা রেগুলার প্রসেসে চলতে থাকে। হজ্জের সময় এটা খুব কঠোরভাবে চেক করা হয়। হজ ছাড়া অন্যান্য সময় অন্যান্য দেশের পারস্পরিক বিষয়ের সাথে রিলেট করে অভিযান পরিচালনা হয়। নানা ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটি নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করলেও সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং সৌদি আরব বিষয়টি মনিটরিং করে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নিযুক্ত হওয়া, এক স্থানের কথা বলে অন্য স্থানে অবস্থান করা, যে মেয়াদে কাজের জন্য গিয়েছেন সেই সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া অথবা সড়কে বা ফুটপাতে হকার হিসেবে পণ্য বিক্রি করা এমন নানা কারণে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযানে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা একটা নরমাল প্রসিডিউর। এখানকার কিছু রুলস আছে। আপনি যেই কাজে আসছেন সেই কাজেই থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে আপনি আসছেন এক কাজে এসে আপনি এখানে বিজনেস করছেন।

‌‌‘‘এক জায়গার ইকামা নিয়ে আরেক জায়গায় কাজ করা যায় না। ধরুন, একজনের ইকামাতে জব লোকেশনটা রিয়াদ কিন্তু তিনি জেদ্দা বা মক্কায় আছেন এক্ষেত্রে রেসিডেন্স ভায়োলেশন হয়। অর্থাৎ যখন ইকামার সাথে আপনার ন্যাচার অফ ওয়ার্কের কনক্লুয়েন্সি বা চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে না তখন অভিযানে ধরছেন তারা।’’

সাধারণত এসব কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর যখন তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন উনার নামে যদি কোনো মামলা হয় বিশেষ করে আর্থিক মামলা হয় তখন ওনার ট্রাভেল ব্যানড করে রাখা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাভেল ব্যানের টাকা পরিশোধ করা না যায় ততক্ষণ উনি নিজ দেশে যেতে পারেন না, বলেন কনসুলার সালেকিন।

গত ২৮ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে হজ্জ ফেরত ফ্লাইট শিডিউল ছিল। সে সময় ফ্লাইট স্বল্পতায় যারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তারাও সেখানে অবস্থান করেছেন জুলাইয়ে অভিযানের ওই সময়ে।

সেইসব বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনটি বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োজিত কনসু্লার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আবাসন, চাকরি বা সৌদি আরবের বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করেছেন জুলাইয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এই কনসুলার।

সৌদি আরবের রুলস-রেগুলেশনস মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, তারা যদি সৌদি রুলস, রেগুলেশনস মেনে চলেন এবং যে যেখানে কাজে আছেন সেখানে ঠিকমতো কাজ করেন রুলস ভায়োলেশন না করেন, তাহলে ইনশাল্লাহ কোনো ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এখন বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সৌদি আরবের শ্রম বাজার বাংলাদেশি লেবার মার্কেটের ওপর অনেকটাই ডিপেন্ডেন্ড। এ কারণেই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করার মতো ঘটনার বিষয়ে আরো সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন জেদ্দা কনসুলেটের কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

• সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা কী?
সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব। বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন। যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষই সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এই সংখ্যা তার আগের বছরের ১৬ শতাংশ বেড়েছে গতবছর। অর্থাৎ সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে গিয়েছেন।

আর ২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে এক বছরে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কাতার, দেশটিতে গত বছর এক লাখ ৪৭২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর যেখানে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং কুয়েতে ৭২ হাজার ৭১৭ জনকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য সৌদি আরবে পাঠানো কর্মী সংস্থার তুলনায় অন্যান্য দেশে এই হার খুবই কম। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লাখ প্রবাসীর প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান বাংলাদেশে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আগের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বলে এই বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক খবরে বলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেটি দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন পরিশোধ, কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।

নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকা বলছে, এখন তাকামোল যাচাইকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নিয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের বিশেষ ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অধীনে খনি ও নির্মাণ খাতে নতুন করে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালে নতুন একটি কর্মসংস্থান চুক্তির আওতায় আরো তিন লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।