২১ জুলাই ২০২৬

রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলো সৌদি

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলো সৌদি

সৌদি আরব গৃহকর্মীদের জন্য আবাসিক অনুমতিপত্র (রেসিডেন্সি পারমিট) ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এখন থেকে নিয়োগকর্তারা ন্যূনতম তিন মাসের মেয়াদে এই অনুমতিপত্র ইস্যু বা নবায়ন করতে পারবেন। এর ফলে গৃহস্থালির কর্মসংস্থান ব্যয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও নমনীয় অর্থপ্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টস (জাওয়াজাত), মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম মুসানেদ-এর সহযোগিতায় এই সেবা চালু করেছে।

সৌদি সংবাদপত্র ওকাজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তারা গৃহকর্মী ও সমজাতীয় শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৩, ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮, ২১ অথবা ২৪ মাসের রেসিডেন্সি মেয়াদ নির্বাচন করতে পারবেন। এই অনুমতিপত্র আবশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যু বা নবায়ন করা যাবে।

এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি নবায়নে বাধ্য না হয়ে শুধুমাত্র নির্বাচিত সময়সীমার জন্য রেসিডেন্সি ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

তিন মাসের জন্য অথবা তিন মাসের গুণিতক মেয়াদের জন্য ইস্যু বা নবায়ন করা রেসিডেন্সি ফি কার্যত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

এর আগে গৃহকর্মীদের রেসিডেন্সি নবায়ন সাধারণত এক বা দুই বছরের মেয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

নতুন এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো নিয়োগকর্তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা পরিচালনায় আরও বেশি স্বাধীনতা দেয়া এবং বিভিন্ন পরিবারের ও গৃহকর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করা।

এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের রেসিডেন্সি সেবা আধুনিকায়ন, সরকারি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটানোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলো সৌদি

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলো সৌদি

সৌদি আরব গৃহকর্মীদের জন্য আবাসিক অনুমতিপত্র (রেসিডেন্সি পারমিট) ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এখন থেকে নিয়োগকর্তারা ন্যূনতম তিন মাসের মেয়াদে এই অনুমতিপত্র ইস্যু বা নবায়ন করতে পারবেন। এর ফলে গৃহস্থালির কর্মসংস্থান ব্যয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও নমনীয় অর্থপ্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টস (জাওয়াজাত), মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম মুসানেদ-এর সহযোগিতায় এই সেবা চালু করেছে।

সৌদি সংবাদপত্র ওকাজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তারা গৃহকর্মী ও সমজাতীয় শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৩, ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮, ২১ অথবা ২৪ মাসের রেসিডেন্সি মেয়াদ নির্বাচন করতে পারবেন। এই অনুমতিপত্র আবশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যু বা নবায়ন করা যাবে।

এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি নবায়নে বাধ্য না হয়ে শুধুমাত্র নির্বাচিত সময়সীমার জন্য রেসিডেন্সি ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

তিন মাসের জন্য অথবা তিন মাসের গুণিতক মেয়াদের জন্য ইস্যু বা নবায়ন করা রেসিডেন্সি ফি কার্যত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

এর আগে গৃহকর্মীদের রেসিডেন্সি নবায়ন সাধারণত এক বা দুই বছরের মেয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

নতুন এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো নিয়োগকর্তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা পরিচালনায় আরও বেশি স্বাধীনতা দেয়া এবং বিভিন্ন পরিবারের ও গৃহকর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করা।

এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের রেসিডেন্সি সেবা আধুনিকায়ন, সরকারি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটানোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শনিবার এ হামলা চালানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ‘এক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় চার মাস পর সৌদি আরবে এটি ইরানের প্রথম সরাসরি হামলার ঘটনা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

হামলার পরপরই সৌদি আরবের আল-খারজ এবং ইয়ানবু শহরে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স। তবে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদ কেটে গেছে এবং এলাকাগুলোর অবস্থা এখন স্বাভাবিক। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা বাড়ছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে শেষবার সরাসরি হামলা চালিয়েছিল তেহরান। তবে, এই সর্বশেষ হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সৌদি আরবে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
সৌদি আরবে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস’ (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার (১৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার এপিকেডব্লিউএস-২ এয়ার-টু-এয়ার এবং আরও ১০ হাজার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন কিনতে চেয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সহায়ক হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে এ চুক্তি।

এই অস্ত্র সৌদি আরবকে নিজেদের মাটির প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী ও ন্যাটোসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বাহিনীর সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক আন্তঃকার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।

চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে থাকছে আমেরিকান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস। চুক্তির আওতায় প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে সৌদি আরবে যাবেন ১৫ জন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৫ জন আমেরিকান ঠিকাদার।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অনেক পুরনো ও গভীর। এর আগে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মিশরে দুই দেশের সামরিক বাহিনী যৌথ ‘লাইভ ফায়ার’ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল, যা তাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ।

অবৈধ অবস্থানকারীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিলো সৌদি আরব

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
অবৈধ অবস্থানকারীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিলো সৌদি আরব

অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সতর্ক করেছে সৌদি আরব। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করলে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, কারাদণ্ড এবং নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি। সোমবার (১৩ জুলাই) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৬ লাখ টাকারও বেশি।

জরিমানার পাশাপাশি অপরাধীকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, একইসঙ্গে তাকে সৌদি আরব থেকে নির্বাসন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তার সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আবাসন ও শ্রমবিষয়ক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রবেশ ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং দর্শনার্থীরা যাতে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান না করেন, তা নিশ্চিত করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সন্দেহজনক মনে হলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

এই তথ্য জানানোর জন্য একটি হটলাইন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে তথ্য দিতে পারবেন। দেশের অন্য সব অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, শ্রমবাজার রক্ষা করা এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের মধ্যেই নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হলো।

৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। চার বছর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পর হুথি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জবাবে সোমবার এ হামলা চালায় তারা।

ধারণা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের হামলার সম্মুখীন হওয়ায় তার জবাব হিসেবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী দেশগুলো। এই ঘটনায় সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ‘হুথি মিলিশিয়া’ যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তা প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আভা হলো সৌদি আরবের পাহাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এই অঞ্চলটি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী।

২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের প্রথম হামলা, যার দায় তারা স্বীকার করেছে। ২০২২ সালে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ সময় কার্যকর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও এই বিরতি টিকে ছিল।

এদিকে সোমবারের এই সহিংসতা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর আগে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনায় এসব হামলা কমে আসে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য ছোট দেশের তুলনায় সৌদি আরবের ভৌগোলিক আয়তন বড় হওয়ায় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংঘাতের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরও দেশটি পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের পথে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছিল।

তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুথিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের জন্য তেল রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবশ্য সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথি মুভমেন্ট সোমবার এক অভিযোগে জানিয়েছে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কঠোর পাল্টা হামলার হুমকি দেয় তারা।

সৌদির ওই হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুথি বিদ্রোহীরা জানান, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে দেন, সানা বিমানবন্দরের ওপর থেকে সৌদি ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান যেন সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করে।

এদিকে সানা বিমানবন্দরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে তারা সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, এমনকি এই সরকারের বেশিরভাগ প্রতিনিধিই সৌদি আরবের বাসিন্দা।

ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কোনো শত্রু বিমান প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহার করবে এবং এর পেছনে ইরান দায়ী থাকবে।

পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ওই বিমানটি সানায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

তবে সানা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এদিকে, ইয়েমেনের আরেক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আরেকটি বিমান আটকে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান জানান, সংস্থার সব কর্মী ও বিমানের ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথি ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মধ্যস্থতায় একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করায় সে সময় থেকেই নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইয়েমেনে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও বাইরের শক্তিগুলোর উস্কানিতে সংঘাত চলছে। হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করার পর এই সংঘাত শুরু হয়।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

গত বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহীরা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করে নিলে আবারও সহিংসতা বেড়ে যায়। এর ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়।