১৫ জুলাই ২০২৬

৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। চার বছর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পর হুথি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জবাবে সোমবার এ হামলা চালায় তারা।

ধারণা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের হামলার সম্মুখীন হওয়ায় তার জবাব হিসেবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী দেশগুলো। এই ঘটনায় সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ‘হুথি মিলিশিয়া’ যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তা প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আভা হলো সৌদি আরবের পাহাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এই অঞ্চলটি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী।

২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের প্রথম হামলা, যার দায় তারা স্বীকার করেছে। ২০২২ সালে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ সময় কার্যকর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও এই বিরতি টিকে ছিল।

এদিকে সোমবারের এই সহিংসতা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর আগে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনায় এসব হামলা কমে আসে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য ছোট দেশের তুলনায় সৌদি আরবের ভৌগোলিক আয়তন বড় হওয়ায় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংঘাতের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরও দেশটি পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের পথে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছিল।

তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুথিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের জন্য তেল রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবশ্য সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথি মুভমেন্ট সোমবার এক অভিযোগে জানিয়েছে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কঠোর পাল্টা হামলার হুমকি দেয় তারা।

সৌদির ওই হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুথি বিদ্রোহীরা জানান, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে দেন, সানা বিমানবন্দরের ওপর থেকে সৌদি ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান যেন সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করে।

এদিকে সানা বিমানবন্দরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে তারা সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, এমনকি এই সরকারের বেশিরভাগ প্রতিনিধিই সৌদি আরবের বাসিন্দা।

ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কোনো শত্রু বিমান প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহার করবে এবং এর পেছনে ইরান দায়ী থাকবে।

পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ওই বিমানটি সানায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

তবে সানা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এদিকে, ইয়েমেনের আরেক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আরেকটি বিমান আটকে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান জানান, সংস্থার সব কর্মী ও বিমানের ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথি ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মধ্যস্থতায় একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করায় সে সময় থেকেই নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইয়েমেনে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও বাইরের শক্তিগুলোর উস্কানিতে সংঘাত চলছে। হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করার পর এই সংঘাত শুরু হয়।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

গত বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহীরা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করে নিলে আবারও সহিংসতা বেড়ে যায়। এর ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়।

৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। চার বছর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পর হুথি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জবাবে সোমবার এ হামলা চালায় তারা।

ধারণা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের হামলার সম্মুখীন হওয়ায় তার জবাব হিসেবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী দেশগুলো। এই ঘটনায় সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ‘হুথি মিলিশিয়া’ যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তা প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আভা হলো সৌদি আরবের পাহাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এই অঞ্চলটি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী।

২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের প্রথম হামলা, যার দায় তারা স্বীকার করেছে। ২০২২ সালে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ সময় কার্যকর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও এই বিরতি টিকে ছিল।

এদিকে সোমবারের এই সহিংসতা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর আগে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনায় এসব হামলা কমে আসে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য ছোট দেশের তুলনায় সৌদি আরবের ভৌগোলিক আয়তন বড় হওয়ায় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংঘাতের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরও দেশটি পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের পথে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছিল।

তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুথিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের জন্য তেল রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবশ্য সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথি মুভমেন্ট সোমবার এক অভিযোগে জানিয়েছে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কঠোর পাল্টা হামলার হুমকি দেয় তারা।

সৌদির ওই হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুথি বিদ্রোহীরা জানান, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে দেন, সানা বিমানবন্দরের ওপর থেকে সৌদি ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান যেন সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করে।

এদিকে সানা বিমানবন্দরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে তারা সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, এমনকি এই সরকারের বেশিরভাগ প্রতিনিধিই সৌদি আরবের বাসিন্দা।

ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কোনো শত্রু বিমান প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহার করবে এবং এর পেছনে ইরান দায়ী থাকবে।

পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ওই বিমানটি সানায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

তবে সানা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এদিকে, ইয়েমেনের আরেক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আরেকটি বিমান আটকে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান জানান, সংস্থার সব কর্মী ও বিমানের ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথি ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মধ্যস্থতায় একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করায় সে সময় থেকেই নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইয়েমেনে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও বাইরের শক্তিগুলোর উস্কানিতে সংঘাত চলছে। হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করার পর এই সংঘাত শুরু হয়।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

গত বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহীরা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করে নিলে আবারও সহিংসতা বেড়ে যায়। এর ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়।

বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

সৌদি সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি ঘোষণা করেছে। এই বৃত্তির আওতায় আবেদন দাখিল ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের রয়্যাল দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা studyinsaudi.moe.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃত্তিসংক্রান্ত যে-কোনো তথ্যের জন্য সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত লিয়াজোঁ অফিসার মোহাম্মদ বিন সাঈদ আল-যাহরানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা [email protected] এই ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তর ও বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।

প্যাকেজ ভিসা চালু করল সৌদি আরব, একসঙ্গেই মিলবে ভিসা, টিকিট ও হোটেল বুকিং

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
প্যাকেজ ভিসা চালু করল সৌদি আরব, একসঙ্গেই মিলবে ভিসা, টিকিট ও হোটেল বুকিং

বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের মধ্যেই পর্যটন ভিসা, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিংসহ প্রয়োজনীয় ভ্রমণসেবা পাওয়া যাবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি প্যাকেজের মাধ্যমেই পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্যাকেজে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বা আবাসনের ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সুযোগও যুক্ত করা যাবে।

এ উদ্যোগের ফলে আলাদাভাবে বিমান টিকিট, আবাসন ও ভিসা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন কমে যাবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা প্রদানে সক্ষম অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোই এই সেবা দিতে পারবে।

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে।

সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব বলেন, নতুন এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের জন্য আরও সহজ, স্মার্ট ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। তার ভাষায়, ‘প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পর্যটনসেবাকে আরও সহজ করছি এবং সৌদি আরব ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন করে তুলছি।’

সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, ভুল তথ্যে কোটি রিয়াল জরিমানা!

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, ভুল তথ্যে কোটি রিয়াল জরিমানা!

সৌদি আরব বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি ও রিয়েল এস্টেট কেনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন এই আইনে ডিসক্লোজার নীতি অনেক কঠোর করা হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং রিয়েল এস্টেট খাতে শৃঙ্খলা আনতে এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক পোর্টালই হবে নতুন কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু একটি সমন্বিত ডিজিটাল পোর্টাল। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তত্ত্বাবধানে চালিত এই পোর্টাল জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদারিত্বের সৌদি কোম্পানিগুলোকে সম্পত্তি কেনা, বিনিয়োগ ও লেনদেনের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেই হবে।

অনাবাসী বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার আগে অবশ্যই সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি নিতে হবে। পাশাপাশি নিজের নামে সৌদি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।

বিদেশি কোম্পানিগুলোকে প্রথমে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে। সব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধাভোগী মালিকের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। একজন অনুমোদিত সৌদি নাগরিককে আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কোম্পানির নামে সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে হবে।

কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কোনো কারণে অন্য কোনো পক্ষ যদি কোম্পানির সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেই ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে। তাদেরও মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং সৌদি প্রতিনিধি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে। বড় কোনো পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে হবে।

বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে একই পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে একাধিক বাড়ির মালিক হতে পারবেন না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা সন্তানের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে এই নিয়ম শিথিল করা যাবে।

মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা শুধুমাত্র মুসলিম নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোম্পানি বা বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি লেনদেনে ২ শতাংশ ফি দিতে হবে। তবে উত্তরাধিকার, আদালতের রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফসহ ১০টি বিশেষ ক্ষেত্রে এই ফি মাফ।

সব আর্থিক লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রথমে ১০ থেকে ১৮০ দিন সময় দেওয়া হবে সংশোধনের জন্য। মিথ্যা তথ্য দিলে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল) জরিমানা করা হতে পারে।

নতুন এই বিধিমালা সৌদি আরবে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, ভবিষ্যতে সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বা দেশটির বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার জবাবে সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং স্থল ও সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

হুথিদের দাবি, স্থানীয় সময় ওই দিন ভোর ৫টা ২০ মিনিটে সৌদি যুদ্ধবিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিরোধ করা হয়। ওই ইরানি বিমানে ২০০ জনের বেশি আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ ইয়েমেনি নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হুথিরা আরও জানিয়েছে, সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতি সত্ত্বেও অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিমানটি নিরাপদে সানায় অবতরণ করেছে এবং পরে হুথি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তেহরানে ফিরে গেছে।

এদিকে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের এসব অভিযোগ ও হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। হুথিদের দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।