৩০ আগস্ট ২০২৬

৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৪ বছর পর সৌদিতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। চার বছর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পর হুথি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জবাবে সোমবার এ হামলা চালায় তারা।

ধারণা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের হামলার সম্মুখীন হওয়ায় তার জবাব হিসেবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী দেশগুলো। এই ঘটনায় সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ‘হুথি মিলিশিয়া’ যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তা প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আভা হলো সৌদি আরবের পাহাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এই অঞ্চলটি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী।

২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের প্রথম হামলা, যার দায় তারা স্বীকার করেছে। ২০২২ সালে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ সময় কার্যকর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও এই বিরতি টিকে ছিল।

এদিকে সোমবারের এই সহিংসতা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর আগে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনায় এসব হামলা কমে আসে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য ছোট দেশের তুলনায় সৌদি আরবের ভৌগোলিক আয়তন বড় হওয়ায় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংঘাতের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরও দেশটি পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের পথে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছিল।

তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুথিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের জন্য তেল রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবশ্য সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথি মুভমেন্ট সোমবার এক অভিযোগে জানিয়েছে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কঠোর পাল্টা হামলার হুমকি দেয় তারা।

সৌদির ওই হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুথি বিদ্রোহীরা জানান, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে দেন, সানা বিমানবন্দরের ওপর থেকে সৌদি ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান যেন সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করে।

এদিকে সানা বিমানবন্দরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে তারা সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, এমনকি এই সরকারের বেশিরভাগ প্রতিনিধিই সৌদি আরবের বাসিন্দা।

ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কোনো শত্রু বিমান প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহার করবে এবং এর পেছনে ইরান দায়ী থাকবে।

পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ওই বিমানটি সানায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

তবে সানা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এদিকে, ইয়েমেনের আরেক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আরেকটি বিমান আটকে রেখেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান জানান, সংস্থার সব কর্মী ও বিমানের ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথি ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মধ্যস্থতায় একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করায় সে সময় থেকেই নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইয়েমেনে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও বাইরের শক্তিগুলোর উস্কানিতে সংঘাত চলছে। হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করার পর এই সংঘাত শুরু হয়।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

গত বছরের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহীরা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করে নিলে আবারও সহিংসতা বেড়ে যায়। এর ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়।

স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না।এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেওয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া একদম অনুচিত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড এল্যার্ট’ জারি করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

লাল সতর্কতা হলো দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়ে থাকে। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির

সৌদি আরব ও ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারসহ বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পর্যটন, অবকাঠামো ও সংস্কৃতি খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

গত সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরকালে প্রথমবারের মতো ফ্রাঙ্কো-সৌদি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এসব চুক্তি সই করা হয়।

স্বাক্ষরিত নতুন এ চুক্তির লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দু’দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় সহজতর করা।

এচাড়া প্রাচীন মরূদ্যান শহর আলউলা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তিও সংশোধন ও সম্প্রসারণ করেছে দুই দেশ। নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রত্নতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ, পর্যটন, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং আলউলার জীবমণ্ডল সংরক্ষণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া প্যারিস অঞ্চলের সার্জি-পন্তোয়াজ শহরে কিদ্দিয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য ৬ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি থিম ও বিনোদন পার্ক, আবাসন, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরিতেও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।

দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরামেও বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে জেদ্দা ইসলামিক বন্দরের টার্মিনাল-৪ উন্নয়নে ৪৩৪ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের চুক্তি করেছে ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল।

রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন সরবরাহে ফরাসি প্রতিষ্ঠান আলস্টমকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ৭ নম্বর লাইনের ট্রেন সংযোজন কারখানা সৌদি আরবে স্থাপনে বিনিয়োগের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।

ফরাসি পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানি ওরানো ও সৌদি খনি কোম্পানি মাআদেন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা করেছে। ফরাসি এআই কোম্পানি মিস্ত্রাল এআই এবং সৌদি এআই কোম্পানি হিউমেইনও কম্পিউটিং সক্ষমতা, এআই মডেল তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো গড়তে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া সৌদি এনার্জির বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং রিয়াদ মেট্রো, আলউলার শারান হোটেল ও অন্যান্য প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে ফরাসি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিপিফ্রান্স অ্যাসুরেন্স এক্সপোর্ট।

সৌদি এয়ারলাইনসের জন্য চারটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন নিয়েও সৌদি গ্রুপ, সৌদি এক্সিম ব্যাংক ও ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল সিআইবি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

এদিকে ২০৩০ সালের রিয়াদ এক্সপো ও ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আয়োজন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আতু ফ্রান্স ও এক্সপো ২০৩০ রিয়াদ কোম্পানিও সমঝোতা করেছে।

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানো ও সহজ করতে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী ফাহাদ বিন আবদুল জলিল আল-সাইফ এবং ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলাঁ ল্যস্কুরও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এতে বিনিয়োগের সুযোগ, কৌশলগত প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে তথ্য বিনিময় এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ ও আল জাজিরা

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাক্ষাৎ। ফাইল ছবি

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি প্রস্তাবিত চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র বলে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং ‘এপি১০০০ রিঅ্যাক্টর’ নির্মাণের সুযোগ পাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শীর্ষ পারমাণবিক এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস।

কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের ৯০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। তবে কংগ্রেস এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ ও ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।

সৌদি আরবকেও ওই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চেয়েছিল ট্রাম্প ও জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনই। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

সৌদি আরবের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর আগের কিছু চুক্তির মতো কঠোর বিধিনিষেধ না থাকায় সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।

২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিধিনিষেধ ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।

সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তিতে একই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব
জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ট্যাঙ্কার বহরে হামলার ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর, অবশেষে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বোঝাই (লোডিং) ও বিক্রি ফের শুরু করেছে সৌদি আরামকো। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা এবং বাণিজ্য সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি জায়ান্ট— খোলাবাজার বা স্পট মার্কেটে ভারী অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায়—আরও বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজের ভেতরে তেল বোঝাইয়ের অপেক্ষায় নোঙর করে আছে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক এই প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে 'শিপ-টু-শিপ' বা এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগারকে 'আরব মিডিয়াম' এবং 'আরব হেভি' গ্রেডের তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

হরমুজ দিয়ে সৌদি রপ্তানি ফের শুরুর এই পদক্ষেপ, বাজারে ভারী গ্রেডের তেলের তীব্র সংকট কমাতে সহায়তা করবে। এ ধরনের ভারী অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড মূলত জাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রেসিডিউ ফুয়েল তৈরিতে এবং শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো উচ্চমানের জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা– ভোর্টেক্সা ও কেপলার-এর উপাত্তে দেখা যায়, বন্দর দুটি থেকে সর্বশেষ তেল বোঝাই করার পর মাঝখানে প্রায় তিন সপ্তাহের একটি দীর্ঘ বিরতি ছিল। তবে ভিএলসিসি জাহাজগুলো ঠিক কোন গ্রেডের তেল বহন করছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ভিএলসিসি জাহাজগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'সিনোকোর'-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আরও অন্তত ছয়টি ভিএলসিসি সৌদি তেল বোঝাই করতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের জন্য সিনোকোরের জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরামকো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন সৌদি ট্যাঙ্কারও ব্যবহার করতে পারে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা শিপিং তথ্যে দেখা গেছে, সৌদিভিত্তিক অপারেটর 'বাহরি'-র মালিকানাধীন সাতটি ভিএলসিসি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান উপকূলে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ ফুজাইরাহের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সিদি কেরির রুট ও লোহিত সাগরের চ্যালেঞ্জ

তবে হরমুজ দিয়ে রপ্তানি শুরু হলেও, সৌদি আরবের সার্বিক তেল রপ্তানি এখনো বেশ সীমিত। কারণ লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের টানা অবরোধের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরামকো তাদের প্রধান রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর বেশি নির্ভর করছিল। কিন্তু, সেখানেও বাধ সাধে ইরান-সমর্থিত হুথিদের অবরোধ।

বিকল্প হিসেবে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের প্রস্তাব দেয় সৌদি আরামকো। কিন্তু ইয়ানবু বন্দর অবরুদ্ধ হওয়ার আগে সেখান থেকে দৈনিক যে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো, সিদি কেরির দিয়ে প্রস্তাবিত তেল রপ্তানির পরিমাণ তার তুলনায় খুবই কম। তা ছাড়া বাড়তি শিপিং খরচ এবং ঘুরপথের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে এশীয় ক্রেতারা সেখান থেকে তেল কিনতে খুব একটা উৎসাহও দেখাচ্ছে না।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসে এশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৬,৭০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সিদি কেরির বন্দরে বোঝাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিগত তিন মাসে ছিল শূন্যের কোঠায়।

ভোর্টেক্সার চীন বাজার বিশ্লেষক এমা লি এ বিষয়ে বলেন, "এই উপাত্ত প্রমাণ করে যে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য সিদি কেরির বন্দরের প্রস্তাবটি হয়তো আশানুরূপ কাজ করছে না। কারণ সেখানকার ক্রেতারা—বিশেষ করে চীনা ক্রেতারা—দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং অতিরিক্ত পরিবহন খরচ নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন।"