৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

দোহা, ১২ জুলাই

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্যের সময়সূচি ঘোষণা করেছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী তিন দিন লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণের সময়সূচি

আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, মহামান্য আমির আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মরহুম ফাদার আমিরের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

শোকবার্তা গ্রহণের প্রতিদিনের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

  • সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

  • বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই মহান নেতার প্রয়াণে আজ রবিবার থেকে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে এবং কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে কাতারে থাকছে একের পর এক বড় ইভেন্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সেপ্টেম্বরে কাতারে থাকছে একের পর এক বড় ইভেন্ট

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কাতারে জমজমাট ইভেন্ট ও উৎসব: কনসার্ট, খেলাধুলা, প্রদর্শনী ও পারিবারিক বিনোদন

চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে রাজধানী দোহাসহ পুরো কাতারে থাকছে বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় ইভেন্টের এক বিশাল আয়োজন। কাতার ক্যালেন্ডারের অধীনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবার, শিশু, তরুণ ও সব বয়সি মানুষের বিনোদনের জন্য রয়েছে চমৎকার সব আয়োজন। আন্তর্জাতিক কনসার্ট, বিশ্বমানের খেলাধুলা, ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তি সম্মেলনের এক অপূর্ব সমাহার দেখা যাবে মাসজুড়ে।

পারিবারিক বিনোদন ও উৎসব

কালারভার্স এক্সপেরিয়েন্স (ColorVerse Experience): কাতারা সাউথ পার্কিংয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশুদের রঙ বাঁচানোর থিমে এই আকর্ষণীয় প্রদর্শনী চলছে।

ভার্চুওসিটি ব্যাটলগ্রাউন্ড ২০২৬ (Virtuocity Battleground 2026):** দোহা ফেস্টিভ্যাল সিটির ভার্চুওসিটিতে ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গেমিং অনুরাগীদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ।

ফুওয়াইরিত ব্রেক (Fuwairit Break): ফুওয়াইরিত কাইট বিচে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য থাকছে নানা আয়োজন।

দ্য জুরি এক্সপেরিয়েন্স (The Jury Experience): ইউ ভেন্যুতে (U Venue) আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দর্শকদের নিজেদের রায় দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা মিলবে।

মেনা ডব্লিউ ফেনা (Mena W Fena): আল হাজম আউটডোর এলাকায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ঐতিহ্যবাহী ও স্বতন্ত্র কাতারি পণ্যের প্রদর্শনী।

খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

বিট দ্য হিট (Beat the Heat): গ্রীষ্মকালীন ফিটনেস ও রেস সিরিজটি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে।

বিশ্ব ইউনিভার্সিটি ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: কাতার ফাউন্ডেশনে আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর এই বিশ্ব আসর অনুষ্ঠিত হবে।

শোর ফিনিক্স গেমস ২০২৬ (Seashore Phoenix Games 2026): স্পায়ার লেডিজ স্পোর্টস হলে আগামী ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ক্লাসিক স্কোয়াশ ২০২৬ (Qatar Classic Squash 2026): খলিফা ইন্টারন্যাশনাল টেনিস অ্যান্ড স্কোয়াশ কমপ্লেক্সের কোর্টে আগামী ১২ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা লড়বেন। এছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে প্রথম কাতার এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৪ টেনিস টুর্নামেন্ট।

শিল্প, সংস্কৃতি ও প্রদর্শনী

কাতারা এসদাইল প্রদর্শনী (S'hail 2026): কাতারা কালচারাল ভিলেজে আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দশম আন্তর্জাতিক শিকার ও ফ্যালকন প্রদর্শনী।

মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট (MIA): আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে ‘উজবেকিস্তান: হেরিটেজ ইন মোশন’ এবং ‘একতাশফ উজবেকিস্তান’ প্রদর্শনী চলবে।

কিউপিও প্রেজেন্টস (QPO Presents): কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (QNCC) ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চাইকভস্কির পিয়ানো কনসার্টো নং-১। এছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘কাতার-মেক্সিকো কালচারাল ইয়ার: সাউন্ডস অব মেক্সিকো’।

বিলারবি বার্ষিক সম্মেলন: ১৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর এডুকেশন সিটির মুলতাকা সেন্টারে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

সঙ্গীত, কমেডি ও লাইভ কনসার্ট

জন লিজেন্ড কনসার্ট: কিউএনসিসির হল ৩ ও ৪-এ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত তারকা জন লিজেন্ড।

স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো: একই দিনে (১০ সেপ্টেম্বর) সৌক ওয়াকিফের আবদুল আজিজ নাসের থিয়েটারে সালেহ এল নাওয়াবির ‘ঘাইবূবা’ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসির আল মায়াস্সা থিয়েটারে পারফর্ম করবেন তাহা দেশৌকি।

টিন ও রক কনসার্ট: আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সৌক ওয়াকিফের আবদুল আজিজ নাসের থিয়েটারে থাকছে ‘ফিনা নহকে? - জন আচকার লাইভ ইন দোহা’। এছাড়া একই দিনে কিউএনসিসিতে রকপ্রেমীদের মাতাতে আসছে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘পিংক ফয়েড লেগ্যাসি লাইভ’।

ব্যবসা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য প্রদর্শনী

অটোনমাস ই-মোবিলিটি ফোরাম ২০২৬: আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসিতে এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।

গুগল ক্লাউড সামিট দোহা ২০২৬: আগামী ২২ সেপ্টেম্বর কিউএনসিসির হল ৮ ও ৯-এ এই প্রযুক্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

কাতার ফিনটেক এক্সপো ২০২৬: আগামী ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হিলটন দোহা হোটেলে ফিনটেক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

দোহা জুয়েলার্স অ্যান্ড ওয়াচেস এক্সিশন ২০২৬: আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ডিইসিসি (DECC)-তে শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী এই অলংকার প্রদর্শনী। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর আল হাজম গ্যালারিতে বসবে নবম জিনাতা প্রদর্শনী (Zinatha Exhibition)।

বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

বন্ধুভাবাপন্ন কয়েকটি দেশের ভূখণ্ডে ইরানের নতুন করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতের ভূখণ্ডে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান কর্তৃক পুনরায় হামলা চালানোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে কাতার রাষ্ট্র। এটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মূলনীতির চরম অবমাননা বলে গণ্য করছে দোহা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকা একটি বিপজ্জনক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চলমান প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে দুর্বল করবে। এসব হামলার সমস্ত আইনি দায়দায়িত্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিণতির সম্পূর্ণ দায় ইরানকে নিতে হবে।

আক্রান্ত ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে কাতার জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতা রক্ষায় যেকোনো বৈধ পদক্ষেপে দোহা সম্পূর্ণ সমর্থন জানাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকিতে ফেলে এমন সমস্ত সামরিক অপারেশন ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংঘাতের পরিধি আর না বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতাগুলো মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুরক্ষা ও একচেটিয়া বাজার রোধে কঠোর হচ্ছে কাতার সরকার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুরক্ষা ও একচেটিয়া বাজার রোধে কঠোর হচ্ছে কাতার সরকার

ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে কাতারের মন্ত্রিসভা। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দুটি পৃথক খসড়া আইন অনুমোদন করে তা পর্যালোচনার জন্য শুরা কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ক্লাউড কম্পিউটিং আইন এবং এর মূল লক্ষ্য:

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MCIT), কমিউনিকেশনস রেগুলেটরি অথরিটি (CRA) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই খসড়া আইনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল ডেটা সংরক্ষণ ও প্রকাশ সংক্রান্ত একটি সুসংহত আইনি কাঠামো গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে ডেটার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এই আইনের ফলে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সার্ভিস খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে কাতার আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে এবং অঞ্চলটিতে ডেটা হোস্টিংয়ের একটি বিশ্বস্ত গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনে ডেটা ও টেলিকমিউনিকেশন সেবা প্রদানকারীদের উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রবেশাধিকার, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, বৈষম্যহীনতা, এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানকারী নির্বাচনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ আইন এবং এর উদ্দেশ্য:

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতকৃত প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ আইনের এই নতুন খসড়াটি ২০০৬ সালের প্রতিযোগিতা সুরক্ষা ও একচেটিয়া বাজার রোধ সংক্রান্ত ১৯ নম্বর আইনটিকে প্রতিস্থাপন করবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিয়ামক কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতার সুরক্ষা, একচেটিয়া ব্যবসা রোধ এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলা হবে। এতে ‘কম্পিটিশন রেগুলেশন কমিটি’ গঠন, নিষিদ্ধ চুক্তি ও কারসাজি রোধ, অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আদালতের মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল (২০২৪-২০৩০)-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই আইনটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতারের এলএনজি আটকা ‘ফোর্স মেজারে’, স্পট মার্কেটই ভরসা বাংলাদেশের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
কাতারের এলএনজি আটকা ‘ফোর্স মেজারে’, স্পট মার্কেটই ভরসা বাংলাদেশের

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির সীমা বৃদ্ধি করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ও ইউরোপের যেসব দেশের সঙ্গে চুত্তি, তাদের সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও এলএনজি পাচ্ছে না। চড়ামূল্যের স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করে পরিস্থিতি সামালের চিন্তা করছে পেট্রোবাংলা। রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকেই কাতার এনার্জি ঠিকমতো এলএনজি দিচ্ছে না। তখন থেকেই স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হচ্ছে।বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশ দুটি নিয়মিত এলএনজি দিচ্ছে না। এরপর বাংলাদেশ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও, সরবরাহকারীরা দিতে পারেনি।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশ দুটি নিয়মিত এলএনজি দিচ্ছে না। এরপর বাংলাদেশ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও, সরবরাহকারীরা দিতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। এলএনজি ঘাটতির কারণে এখনো কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না।

অনিবার্য কারণে কোনো চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারলে আইনি দায়বদ্ধতা এড়াতে ফোর্স মেজার ঘোষণা করা হয়। ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, কাতার এনার্জির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একাধিক ক্রেতাকে ফোর্স মেজারের বিষয় জানানো হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কাতার এনার্জির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি পাচ্ছি না। ফলে স্পট মার্কেট থেকে কিনে চালাতে হচ্ছে। গত কয়েক মাসের মতো চলতি মাসেও ভরসা স্পট মার্কেটই।

তিনি বলেন, দুটি টার্মিনালের জন্য মাসে ১০টি করে এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরের জন্য ইতোমধ্যে ৯টি কার্গোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি, অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরবরাহকারী কোম্পানির তালিকা বড় করছে পেট্রোবাংলা। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টির বাইরে আরও ৯ কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করে প্রক্রিয়া চলছে।

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানোয় এই খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এখন আকাশচুম্বী। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ থেকে ১১ ডলার ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে তা ২৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, চড়া দামে এলএনজি কেনার আর্থিক সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই। এজন্য সরকারকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা নির্ধারণ করতে হবে।

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার এই যুগে অন্যের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা বা তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া বড় ধরনের আইনি বিপদের কারণ হতে পারে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ রোধে দেশের প্রচলিত আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাসিন্দাদের প্রতি কড়া সতর্কতা জারি করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI)।


দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারার গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান:

কাতারের পেনাল কোড বা দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ, গোপনে বা বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ কিংবা ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ বা দণ্ডনীয় বিষয়গুলো হলো—

  • কোনো ব্যক্তির সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বা গোপনীয় মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
  • কারও মানহানি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতিসাধনের মানসে ছবি বা ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করা।
  • সড়ক দুর্ঘটনা বা জরুরি কোনো উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভুক্তভোগী বা আহতদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
কঠোর শাস্তির বিধান:

আইন অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও অনলাইনে বা সাইবার মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দেশটির কঠোর সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।

নিরাপদ ও সচেতন থাকার উপায়:

  • ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন: ব্যক্তিগত ছবি বা ছোট কোনো দলের ছবি তোলার পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিষ্কার অনুমতি নিয়ে নিন।
  • দুর্ঘটনার দৃশ্য ধারণ থেকে বিরত থাকুন: যেকোনো দুর্ঘটনা বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন পকেটেই রাখুন; কারণ দুর্ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীদের ভিডিও করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • জনপরিসরে সচেতন থাকুন: জনবহুল স্থানে ছবি তোলার সময় লক্ষ্য রাখুন যেন আশপাশের সাধারণ মানুষ আপনার ছবির মূল বিষয়বস্তু বা ফ্রেমে চলে না আসে।
কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটলে কিংবা এসংক্রান্ত কোনো অপরাধের মুখোমুখি হলে তা সরাসরি ‘মেট্রাশ২’ (Metrash2) অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার ক্রেম বিভাগে রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।