১৪ জুলাই ২০২৬

আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

দোহা, ১২ জুলাই

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্যের সময়সূচি ঘোষণা করেছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী তিন দিন লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণের সময়সূচি

আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, মহামান্য আমির আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মরহুম ফাদার আমিরের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

শোকবার্তা গ্রহণের প্রতিদিনের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

  • সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

  • বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই মহান নেতার প্রয়াণে আজ রবিবার থেকে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে এবং কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক

আধুনিক কাতারের রূপকার ও সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জানাজায় কাতারের রাজপরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর ছেলে ও কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের সদস্যরা মরহুমের মরদেহ কাঁধে নিয়ে মসজিদ থেকে বের করেন। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লুসাইল প্রাসাদে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা গ্রহণ
শেখ হামাদের মৃত্যুতে কাতারে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

দেশী-বিদেশী প্রতিনিধি ও নাগরিকদের জন্য প্রতিদিনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে:

সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

লুসাইল প্রাসাদে এই নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকরা আমিরের কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁদের গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন।

সরকারি দপ্তরে এক সপ্তাহের ছুটি
প্রয়াত ফাদার আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কাতারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমিরি দিওয়ানের সিদ্ধান্ত অনুসারে, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কাতারের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। টানা এক সপ্তাহের এই সাধারণ ছুটি শেষে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিশ্বনেতাদের শোক
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাতারকে একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রে পরিণত করার পেছনে তাঁর অবদানকে বিশ্বনেতারা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন।

এদিকে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটিও এই মহান নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ কমিউনিটি ও দূতাবাস কাতারি রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম কাতার সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
আজ মাগরিবের পর ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজা

দোহা, ১২ জুলাই

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজার নামাজ ও দাফন কার্যের সময়সূচি ঘোষণা করেছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী তিন দিন লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণের সময়সূচি

আমিরি দিওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী, মহামান্য আমির আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মরহুম ফাদার আমিরের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোকবার্তা গ্রহণ করবেন।

শোকবার্তা গ্রহণের প্রতিদিনের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

  • সকাল: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত।

  • বিকাল/রাত: আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই মহান নেতার প্রয়াণে আজ রবিবার থেকে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে এবং কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, সরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, সরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা

কাতারের সাবেক ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির স্মরণে দেশজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে আমিরি দিওয়ান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) থেকে এই শোক পালন শুরু হয়েছে। শোক প্রকাশকালীন সময়ে কাতার রাষ্ট্রের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

একই সঙ্গে আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কাজ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ) জানিয়েছে, ফাদার আমিরের প্রয়াণে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হচ্ছে।

ঘোষণা অনুযায়ী:

আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কাতারের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজ স্থগিত থাকবে।

এই ছুটির পর আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

আধুনিক কাতার বিনির্মাণের এই প্রধান কারিগরের প্রয়াণে পুরো দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আধুনিক কাতারের রূপকার ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬

দোহা, ১২ জুলাই ২০২৬

আধুনিক কাতার বিনির্মাণের প্রধান কারিগর, ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। আজ রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬ / ২৭ মুহাররম ১৪৪৮ হিজরি) সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কাতারের রাজকীয় প্রাসাদ ‘আমিরি দিওয়ান’ এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় অত্যন্ত দুঃখের সাথে ফাদার আমিরের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর বিধান ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।’ ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং রাজপরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

কাতারকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নেওয়ার রূপকার

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর পুত্র এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে ‘ফাদার আমির’ উপাধিতে ভূষিত হন।

মরুভূমির একটি সাধারণ রাষ্ট্র থেকে কাতারকে আজকের আধুনিক, উন্নত এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে রূপান্তরের পুরো কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বকে।

  • অর্থনৈতিক বিপ্লব: তাঁর শাসনামলেই কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে, যা দেশের অর্থনীতিকে রাতারাতি বদলে দেয় এবং নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যায়।

  • যোগাযোগ ও গণমাধ্যম: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ প্রতিষ্ঠা এবং কাতার এয়ারওয়েজকে বিশ্বমানের এয়ারলাইন্সে রূপান্তর করার পেছনে তাঁর সিদ্ধান্তই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।

  • বৈশ্বিক কূটনীতি ও ক্রীড়া: আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের ঐতিহাসিক ভিত্তি তিনিই গড়েছিলেন।

শোকের ছায়া ও জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রার্থনা

ফাদার আমিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাতার জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কাতারি নাগরিক এবং সেখানে বসবাসরত প্রবাসীরা এই মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

আমিরি দিওয়ানের বিবৃতিতে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়েছে, তিনি যেন মরহুম ফাদার আমিরকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করেন, জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং এই কঠিন শোকের সময়ে তাঁর পরিবার ও কাতারের জনগণকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

গালফ বাংলা টিমের সমবেদনা

মহামান্য ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির এই দুঃখজনক ও অপূরণীয় মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, আল থানি রাজপরিবার, কাতারের সম্মানিত জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে থাকা সকল শোকাহতদের প্রতি গালফ বাংলা টিম গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছে।

মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের প্রার্থনা—তিনি যেন এই মহান নেতার সকল নেক আমল কবুল করেন। তাঁর গৌরবময় কীর্তি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করুক এবং এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার ও কাতারের জনগণ যেন শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও সান্ত্বনা খুঁজে পায়। আমীন।

জীবনযাত্রার মানে যেভাবে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
জীবনযাত্রার মানে যেভাবে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কাতার

একটা সময় ছিল যখন জীবনযাত্রার মান বলতে কেবল অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়াকেই বোঝানো হতো। তবে একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে উন্নত বিশ্বে বাসযোগ্যতার সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন মৌলিক চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরিবেশের মান এবং নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশগুলোর এই মানদণ্ড বা সূচক নির্ণয় করে থাকে। এর মধ্যে বৈশ্বিক ডেটাবেস ‘নাম্বিও’ (Numbeo) তাদের জীবনযাত্রার মানসূচকে মূলত নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার মান, জীবনযাত্রার খরচ, আবাসন কেনার সামর্থ্য, যানজট, দূষণ এবং জলবায়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যৌথভাবে বিবেচনা করে থাকে।

নাম্বিও-এর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের জীবনযাত্রার মান সূচকে (Quality of Life Index) এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে কাতার। আগের বছরের তুলনায় এক লাফে ৬ ধাপ এগিয়ে বৈশ্বিক তালিকায় দ্বাদশ (১২তম) স্থানে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি। এর ফলে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ ১৫টি দেশের তালিকায় যেমন কাতার নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে, তেমনি এশিয়া এবং উপসাগরীয় (জিসিসি) অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ বাসযোগ্য দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

কাতারের জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান সূচকের স্কোর ১৮২ দশমিক ৭ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে এবার ১৮৮ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে। টেকসই অবকাঠামো, আধুনিক ও উন্নত জনসেবা, বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা, শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা এবং নিটোল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

বিশ্বমঞ্চে কাতার: পেছনে পড়ল পশ্চিমা পরাশক্তিরা

নাম্বিও-এর ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস, যার স্কোর ২০৫ দশমিক ৬। এর পরবর্তী শীর্ষ স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে রয়েছে লুক্সেমবার্গ, ওমান, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড।

তবে এবারের সূচকের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও আলোচিত বিষয় হলো কাতারের দুর্দান্ত উত্থান। ১৮৮ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে কাতার ঐতিহ্যগতভাবে শীর্ষ বাসযোগ্য হিসেবে পরিচিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন (১৮৭.৬)-কে টপকে গেছে। শুধু সুইডেনই নয়, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে কাতার এখন অস্ট্রেলিয়া (১৮৬.৮), নিউজিল্যান্ড (১৮৬.২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৮৪.৭) এবং স্পেন (১৮৩.৪)-এর মতো পশ্চিমা পরাশক্তি ও উন্নত দেশগুলোর চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। বৈশ্বিক তালিকার আরও নিচে অবস্থান করছে যুক্তরাজ্য (১৭৩.৮) ও ফ্রান্স (১৭২.৬)।

এক দশক আগেও যারা মরুভূমির এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাদের জন্য কাতার এবং ওমানের এই বৈশ্বিক অবস্থান একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত জবাব বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।

কাতারের মূল শক্তি যেখানে

নাম্বিও সূচকের চুলচেরা উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কাতার মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নত দেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে রয়েছে:

  • উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power): কাতারের ক্রয়ক্ষমতার স্কোর ১৭৩.৫, যা বৈশ্বিক স্তরে অন্যতম সর্বোচ্চ। এই অঞ্চলে কেবল প্রতিবেশী কুয়েত (১৭৯.৭) কাতারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের উপার্জিত রিয়ালের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মুদ্রার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও ভারসাম্যপূর্ণ।

  • অনন্য নিরাপত্তা স্কোর (Safety): কাতারের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৮৪.৮ স্কোর নিয়ে কাতার বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এই সূচকে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত (৮৬.৩) কাতারের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে।

  • সহজলভ্য আবাসন (Property Affordability): ইউরোপ বা পূর্ব এশিয়ার জনবহুল ও উন্নত রাজধানীগুলোর তুলনায় দোহায় আবাসন বা ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি সহজলভ্য। কাতারের সম্পত্তি মূল্য ও আয়ের অনুপাত (Property Price-to-Income Ratio) মাত্র ৪.৫, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোতে এই অনুপাত নিয়মিতভাবে দুই অঙ্কের ঘরে (Double Digit) অবস্থান করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের (GCC) দেশগুলোর মধ্যে ওমান ২০৩.৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বে তৃতীয় এবং এশিয়ায় শীর্ষস্থান দখল করে এই অঞ্চলের নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। ওমানের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাতার। অন্যদিকে, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৬৮.৫), কুয়েত (১৫৮.৬) এবং সৌদি আরব (১৫৪.৫) জীবনযাত্রার মানে কাতারের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১২টি দেশের মধ্যে দুটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন কেবল জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি বা তেল-গ্যাস বিক্রির কাগুজে অর্থনীতির পেছনে ছুটছে না, বরং নাগরিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত মানোন্নয়নকেই সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্র: তবে এই অনন্য অর্জনের পরও কাতারের জন্য আগামীতে আরও উন্নতির পথ খোলা রয়েছে। তীব্র গ্রীষ্মকালীন জলবায়ু এবং মরু অঞ্চলের দূষণ সংক্রান্ত প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কাতারের সামগ্রিক স্কোরের ওপর কিছুটা নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতার সরকার যদি বর্তমানে চলমান তাদের পরিবেশগত সবুজ প্রকল্প ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর কর্মসূচিগুলো আরও জোরদার করে, তবে আগামী দিনে বৈশ্বিক শীর্ষ ১০টি দেশের ভেতরে কাতারের স্থান পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।