৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের পরম সুহৃদ ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গৌরবময় জীবন ও অবদান

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

আধুনিক কাতারের প্রধান রূপকার, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে কাতারজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আধুনিক কাতার বিনির্মাণ ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন।

গতকাল রোববার আমীরের কার্যালয় থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাঁর এই বিদায়ের পর বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং মানবিক উন্নয়নে তাঁর রাখা অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা। ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করা এই অনন্য সাধারণ দূরদর্শী নেতার জীবন, কর্ম এবং বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে করা হলো:

জন্ম, শিক্ষা ও ক্ষমতার স্বর্ণযুগ (১৯৯৫-২০১৩)

শিক্ষা ও দায়িত্ব গ্রহণ: শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন. পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের জুনে তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক বিপ্লব ও এলএনজি: তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কাতার ছিল পারস্য উপসাগরের একটি সাধারণ ও ছোট রাষ্ট্র. ১৮ বছরের (১৯৯৫ থেকে ২০১৩) শাসনকালে তাঁর প্রজ্ঞা এবং অনন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেন. তাঁর সময়েই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটে এবং ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে. তাঁর শাসনামলে দেশটির জিডিপি (GDP) প্রায় ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল.

গণমাধ্যমের রূপান্তর: কেবল অর্থনীতিই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমের চিত্র বদলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ ১৯৯৬ সালে তাঁর একটি বিশেষ ডিক্রির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করেছিল।

বিরল দৃষ্টান্ত: ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং এরপর থেকে ‘ফাদার-আমির’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে অসামান্য অবদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কেবল কাতারের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের এক পরম সুহৃদ. তাঁর দূরদর্শী অভিবাসন নীতির কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে এবং ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য কাতারের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।

শ্রমবাজারের আইনি সহজীকরণ: তাঁর শাসনামলেই কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা কয়েক লক্ষে উন্নীত হয়. বর্তমানে কাতারে যে প্রায় ৪ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তার মূল ভিত্তি ও আইনি সহজীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল শেখ হামাদের হাত ধরেই।

শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও আইন সংস্কার: কাতারের উন্নয়নযজ্ঞে (যেমন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণসহ মেগা প্রজেক্টসমূহ) বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বদা উচ্চ মূল্যায়ন করতেন. প্রবাসীদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ শ্রম আইন সংস্কার করেছিলেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা (এলএনজি কূটনীতি): বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পোৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাতার অন্যতম প্রধান অংশীদার. বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহকারী দেশ. এই জ্বালানি কূটনীতির রূপরেখাও শেখ হামাদের আমলেই তৈরি হয়েছিল।

সংকট ও দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে কাতার: শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও দাতব্য সংস্থাসমূহের (যেমন: কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-কিউএফএফডি, কাতার চ্যারিটি, এবং থানি বিন আব্দুল্লাহ ফাউন্ডেশন-আরএএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত তিন দশকে শত শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান ও মানবিক সহায়তা পেয়েছে।

২০০৭ সালের সিডর পুনর্বাসন: ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন ফাদার আমির শেখ হামাদের বিশেষ নির্দেশে কাতার রেড ক্রিসেন্ট ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিশেষ অনুদান পাঠানো হয়. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণে কাতার সরাসরি অর্থায়ন করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে কাতার সরকার ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ব্যাপক আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাতার এ পর্যন্ত ১৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে নিবেদিত করেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতাল সচল রাখতে সরাসরি ৪ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল অনুদান দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কূটনীতি: লাখো শিশুর অন্ধত্ব দূরীকরণ

ফাদার আমিরের দূরদর্শী স্বাস্থ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শিশু অন্ধত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ কোটি টাকা) অনুদানের মাধ্যমে একটি মেগা প্রকল্প চালু করা হয়। এই মানবিক প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৬ দশমিক ৭ মিলিয়নেরও বেশি শিশুর চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা সম্পন্ন

মরহুম ফাদার আমিরের জানাজার নামাজ ১২ জুলাই রবিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে. জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে ছুটি: শোক প্রকাশ ও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৩ জুলাই সোমবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দাপ্তরিক কাজ স্থগিত করা হয়েছে. টানা এই ছুটি শেষে আগামী ১৯ জুলাই রবিবার থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণ: কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন. (সময়সূচি: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত)।

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে. দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন. তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রবাসে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার কার্যক্রমে ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন এনআইডি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের আগস্ট মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তিন হাজার ৫৩৬টি আবেদন। তদন্ত শেষে ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

তদন্তের পর বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯ জনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। এখনো ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন এসেছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে আবেদন পড়েছে ১৮ হাজার ৪৭২টি।

এ ছাড়া ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরবে প্রায় সাত হাজার, কুয়েতে পাঁচ হাজার ৯২১টি এবং কাতারে চার হাজার ৮২৯টি আবেদন এসেছে।

মালয়েশিয়া থেকে আবেদন করেছেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে তিন হাজার ৭৯৪টি এবং ওমানের মাসকাটে দুই হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন পড়েছে এক হাজার ৪৫৯টি।

জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদনের বিপরীতে বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপে ৩২৮টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ১৩৯টি আবেদন এসেছে। ইসির ২৭ আগস্ট পর্যন্ত করা সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য রয়েছে।

২০১৯ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় এবং ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

বর্তমানে ১৪টি দেশের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি দেশকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট সিঙ্গাপুরে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। উদ্বোধনের দিন তিন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

লিবিয়ার আটক আরও ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এই বাংলাদেশিরা লিবিয়া তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়ায় আনা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ থেকে লিবিয়া, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন ৬৬ জনদালাল ও মাফিয়ার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লিবিয়ায় পাড়ি জমানো অনেকে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনসচেতনতা বাড়াতে এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে ফেরত আসা প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এর বাইরে আর কিছু আনতে পারেননি তারা।

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

নড়াইলের নড়াগাতী থানার দক্ষিণ যোগানিয়া এলাকায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে গভীর রাতে প্রবেশের অভিযোগে শান্ত রহমান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে তাকে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়রা আটক করে ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্ত রহমান ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শান্ন্তকে বিজ্ঞ আদালতে চালান করা হয়। শান্ত রহমান ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

নড়াগাতী থানার এসআই মনির জানান, পরে ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং শান্ত রহমানকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তি শিগগির কমে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সৌদিআরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভায় একথা জানান তিনি।

সভায় ই-পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, সৌদিআরবে প্রায় দেড় মাস ধরে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ই-পাসপোর্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে সাময়িকভাবে প্রবাসীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রমও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের টিম প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করছে। এর ফলে অচিরেই প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোও অচিরেই সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও চ্যানেলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস প্রকল্পে পাইপ বিস্ফোরণে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা পরিবারের সদস্য। এছাড়া মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির নামে আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কুদ্দুসের বড় ভাই আব্দুল আলীম বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় জানতে পারছি আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এখন একটাই চাওয়া, ভাইয়ের লাশটা যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

এর আগে ২৫ আগস্ট রাশিয়ার এজিসিসি নামক প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির। পরে তাদের উদ্ধার করা গেলেও আব্দুল কদ্দুস আজ মারা গেছে। ওই ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশে শ্রমিক আহত হন বলে জানা গেছে।

নিহত আব্দুল কুদ্দুস জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি রাশিয়া যান। সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। কুদ্দুসের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন যে কোন উপায়ে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনে।

চিকিৎসাধীন মনির ফকির জেলার পাংশা পৌরসভাধীন চরমোদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রবাসীদের বরাতে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর মনির নিখোঁজ ছিল। এখন তার সন্ধান পওয়া গেছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মস্কো শহরে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

মুম্বাই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির স্বর্ণ, ৫ বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই: ছাত্রদল-বিএনপির দুই নেতা কারাগারে

প্রবাসী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনশীল রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ