১৫ জুলাই ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের পরম সুহৃদ ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গৌরবময় জীবন ও অবদান

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

আধুনিক কাতারের প্রধান রূপকার, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে কাতারজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আধুনিক কাতার বিনির্মাণ ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন।

গতকাল রোববার আমীরের কার্যালয় থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাঁর এই বিদায়ের পর বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং মানবিক উন্নয়নে তাঁর রাখা অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা। ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করা এই অনন্য সাধারণ দূরদর্শী নেতার জীবন, কর্ম এবং বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে করা হলো:

জন্ম, শিক্ষা ও ক্ষমতার স্বর্ণযুগ (১৯৯৫-২০১৩)

শিক্ষা ও দায়িত্ব গ্রহণ: শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন. পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের জুনে তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক বিপ্লব ও এলএনজি: তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কাতার ছিল পারস্য উপসাগরের একটি সাধারণ ও ছোট রাষ্ট্র. ১৮ বছরের (১৯৯৫ থেকে ২০১৩) শাসনকালে তাঁর প্রজ্ঞা এবং অনন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেন. তাঁর সময়েই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটে এবং ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে. তাঁর শাসনামলে দেশটির জিডিপি (GDP) প্রায় ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল.

গণমাধ্যমের রূপান্তর: কেবল অর্থনীতিই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমের চিত্র বদলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ ১৯৯৬ সালে তাঁর একটি বিশেষ ডিক্রির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করেছিল।

বিরল দৃষ্টান্ত: ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং এরপর থেকে ‘ফাদার-আমির’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে অসামান্য অবদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কেবল কাতারের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের এক পরম সুহৃদ. তাঁর দূরদর্শী অভিবাসন নীতির কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে এবং ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য কাতারের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।

শ্রমবাজারের আইনি সহজীকরণ: তাঁর শাসনামলেই কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা কয়েক লক্ষে উন্নীত হয়. বর্তমানে কাতারে যে প্রায় ৪ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তার মূল ভিত্তি ও আইনি সহজীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল শেখ হামাদের হাত ধরেই।

শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও আইন সংস্কার: কাতারের উন্নয়নযজ্ঞে (যেমন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণসহ মেগা প্রজেক্টসমূহ) বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বদা উচ্চ মূল্যায়ন করতেন. প্রবাসীদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ শ্রম আইন সংস্কার করেছিলেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা (এলএনজি কূটনীতি): বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পোৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাতার অন্যতম প্রধান অংশীদার. বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহকারী দেশ. এই জ্বালানি কূটনীতির রূপরেখাও শেখ হামাদের আমলেই তৈরি হয়েছিল।

সংকট ও দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে কাতার: শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও দাতব্য সংস্থাসমূহের (যেমন: কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-কিউএফএফডি, কাতার চ্যারিটি, এবং থানি বিন আব্দুল্লাহ ফাউন্ডেশন-আরএএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত তিন দশকে শত শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান ও মানবিক সহায়তা পেয়েছে।

২০০৭ সালের সিডর পুনর্বাসন: ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন ফাদার আমির শেখ হামাদের বিশেষ নির্দেশে কাতার রেড ক্রিসেন্ট ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিশেষ অনুদান পাঠানো হয়. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণে কাতার সরাসরি অর্থায়ন করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে কাতার সরকার ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ব্যাপক আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাতার এ পর্যন্ত ১৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে নিবেদিত করেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতাল সচল রাখতে সরাসরি ৪ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল অনুদান দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কূটনীতি: লাখো শিশুর অন্ধত্ব দূরীকরণ

ফাদার আমিরের দূরদর্শী স্বাস্থ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শিশু অন্ধত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ কোটি টাকা) অনুদানের মাধ্যমে একটি মেগা প্রকল্প চালু করা হয়। এই মানবিক প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৬ দশমিক ৭ মিলিয়নেরও বেশি শিশুর চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা সম্পন্ন

মরহুম ফাদার আমিরের জানাজার নামাজ ১২ জুলাই রবিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে. জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে ছুটি: শোক প্রকাশ ও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৩ জুলাই সোমবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দাপ্তরিক কাজ স্থগিত করা হয়েছে. টানা এই ছুটি শেষে আগামী ১৯ জুলাই রবিবার থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণ: কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন. (সময়সূচি: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত)।

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে. দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন. তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতারের ফাদার আমিরের প্রয়াণে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কমিউনিটির গভীর শোক

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
কাতারের ফাদার আমিরের প্রয়াণে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কমিউনিটির গভীর শোক

কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি.

রবিবার (১২ জুলাই) দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিশেষ শোকবার্তায় মরহুম ফাদার আমিরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়.

বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম বন্ধু

বাংলাদেশ দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মরুভূমির সাধারণ একটি রাষ্ট্র থেকে কাতারকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে প্রধান রূপকার ছিলেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি. এই অসামান্য দূরদর্শী নেতা আজীবন বাংলাদেশ এবং কাতারে কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ও অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন.

তাঁর অনন্য নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে শোকবার্তায় জানানো হয়.

কাতার সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা

ফাদার আমিরের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, রাজকীয় আল থানি পরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম কাতার সরকার ও শোকাহত জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কমিউনিটি এবং দূতাবাস.

একই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই মহান নেতার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছেন.

প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে গ্রেফতার হতেই পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে গ্রেফতার হতেই পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিটি বলছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কাতার প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কাতার প্রবাসীর  স্ত্রী নিখোঁজ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লহরাজপুর গ্রামের কাতারপ্রবাসী আফজল মিয়ার স্ত্রী সৈয়দা ঈশা আক্তার আয়শা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই তিনি কটারকোনা অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ সৈয়দা ঈশা আক্তার আয়শার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে ০১৭১৬-৯৬৭৫০১ অথবা ০১৬৪৬-৪৬৬৫২৬ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশি ফুড ডেলিভারি কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
বাংলাদেশি ফুড ডেলিভারি কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদ মাহফুজুল হক নামে এক ব্যক্তিকে মাথার পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ‘ডোরড্যাশ’–এর কর্মী ছিলেন। তিনি ফুড ডেলিভারি বা বাড়িতে বাড়িতে অনলাইন গ্রাহকদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন।

এনবিসি১০ ফিলাডেলফিয়া নিহত মাহফুজুল হক কোন দেশের নাগরিক বা কোন দেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া পুলিশের প্রধান পরিদর্শক স্কট স্মল জানান, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা ৪৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাহফুজুল হক নামে এক ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর মাথার পেছনে গুলির আঘাত ছিল।

পুলিশ যখন মাহফুজুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন, তখন পাশেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে ‘ডোরড্যাশ’–এর একটি বড় ডেলিভারি ব্যাগও পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা স্মল।

স্কট স্মল বলেন, গুলিবিদ্ধ মাহফুজুলকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মাহফুজুল যেখানে পড়ে ছিলেন, তার কয়েক ইঞ্চির মধ্যেই রাইফেলের দুটি ব্যবহৃত গুলির খোসা পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল।’

তদন্তকারীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালো পোশাক পরা মুখোশধারী তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ইঞ্জিন চালু অবস্থায় পাওয়া গাড়িটি নিহত ব্যক্তির ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা স্মল বলেন, নিহত ব্যক্তি যে ঠিকানায় খাবার পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, পুলিশ সেই ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, সেখানে বসবাসকারীদের কেউ ‘ডোরড্যাশ’–এ কোনো কিছু অর্ডার করেননি।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক ব্লক দূরে খাবারসহ একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে, তবে ওই ব্যাগের সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তকারী ব্যক্তিরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

ঘটনাটি নিয়ে এক বিবৃতিতে ‘ডোরড্যাশ’-এর এক মুখপাত্র বলেন, প্রাণঘাতী এই গুলির ঘটনার পর তাদের কোম্পানি পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করছে।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এই অযৌক্তিক ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করার লক্ষ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছি।’

ঘটনাটি সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তাঁকে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা অনলাইনে বেনামে তথ্য দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ : সরকারের সতর্কবার্তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ : সরকারের সতর্কবার্তা

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৮ জুলাই) জারি করা এক জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা করানো বা এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। একই সঙ্গে কোনো কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ বা লেনদেনও করা যাবে না।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যম এবং সরকারি মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত গুজব বা অননুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়া গমন-সংক্রান্ত তথ্য বা অভিযোগ জানাতে দেশের ভেতর থেকে ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া, মালয়েশিয়া-সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে টেলিফোন, ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।