২০ অক্টোবর ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের পরম সুহৃদ ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গৌরবময় জীবন ও অবদান

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

আধুনিক কাতারের প্রধান রূপকার, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং বাংলাদেশের কোটি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে কাতারজুড়ে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আধুনিক কাতার বিনির্মাণ ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন।

গতকাল রোববার আমীরের কার্যালয় থেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাঁর এই বিদায়ের পর বিশ্বমঞ্চের পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত এবং মানবিক উন্নয়নে তাঁর রাখা অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা। ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করা এই অনন্য সাধারণ দূরদর্শী নেতার জীবন, কর্ম এবং বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে করা হলো:

জন্ম, শিক্ষা ও ক্ষমতার স্বর্ণযুগ (১৯৯৫-২০১৩)

শিক্ষা ও দায়িত্ব গ্রহণ: শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে তাঁর স্নাতক সম্পন্ন করেন. পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের জুনে তিনি কাতারের আমিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক বিপ্লব ও এলএনজি: তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কাতার ছিল পারস্য উপসাগরের একটি সাধারণ ও ছোট রাষ্ট্র. ১৮ বছরের (১৯৯৫ থেকে ২০১৩) শাসনকালে তাঁর প্রজ্ঞা এবং অনন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেন. তাঁর সময়েই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটে এবং ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে. তাঁর শাসনামলে দেশটির জিডিপি (GDP) প্রায় ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল.

গণমাধ্যমের রূপান্তর: কেবল অর্থনীতিই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমের চিত্র বদলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ ১৯৯৬ সালে তাঁর একটি বিশেষ ডিক্রির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করেছিল।

বিরল দৃষ্টান্ত: ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং এরপর থেকে ‘ফাদার-আমির’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে অসামান্য অবদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কেবল কাতারের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের এক পরম সুহৃদ. তাঁর দূরদর্শী অভিবাসন নীতির কারণে ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে এবং ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য কাতারের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।

শ্রমবাজারের আইনি সহজীকরণ: তাঁর শাসনামলেই কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা কয়েক লক্ষে উন্নীত হয়. বর্তমানে কাতারে যে প্রায় ৪ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তার মূল ভিত্তি ও আইনি সহজীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল শেখ হামাদের হাত ধরেই।

শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও আইন সংস্কার: কাতারের উন্নয়নযজ্ঞে (যেমন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণসহ মেগা প্রজেক্টসমূহ) বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বদা উচ্চ মূল্যায়ন করতেন. প্রবাসীদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ শ্রম আইন সংস্কার করেছিলেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা (এলএনজি কূটনীতি): বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পোৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাতার অন্যতম প্রধান অংশীদার. বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহকারী দেশ. এই জ্বালানি কূটনীতির রূপরেখাও শেখ হামাদের আমলেই তৈরি হয়েছিল।

সংকট ও দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে কাতার: শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও দাতব্য সংস্থাসমূহের (যেমন: কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-কিউএফএফডি, কাতার চ্যারিটি, এবং থানি বিন আব্দুল্লাহ ফাউন্ডেশন-আরএএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত তিন দশকে শত শত মিলিয়ন ডলারের অনুদান ও মানবিক সহায়তা পেয়েছে।

২০০৭ সালের সিডর পুনর্বাসন: ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল লণ্ডভণ্ড করে দেয়, তখন ফাদার আমির শেখ হামাদের বিশেষ নির্দেশে কাতার রেড ক্রিসেন্ট ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিশেষ অনুদান পাঠানো হয়. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণে কাতার সরাসরি অর্থায়ন করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে কাতার সরকার ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ব্যাপক আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাতার এ পর্যন্ত ১৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে নিবেদিত করেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতাল সচল রাখতে সরাসরি ৪ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল অনুদান দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কূটনীতি: লাখো শিশুর অন্ধত্ব দূরীকরণ

ফাদার আমিরের দূরদর্শী স্বাস্থ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শিশু অন্ধত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ কোটি টাকা) অনুদানের মাধ্যমে একটি মেগা প্রকল্প চালু করা হয়। এই মানবিক প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৬ দশমিক ৭ মিলিয়নেরও বেশি শিশুর চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কাতার জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা সম্পন্ন

মরহুম ফাদার আমিরের জানাজার নামাজ ১২ জুলাই রবিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে. জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঐতিহ্যবাহী ও ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: ফাদার আমিরের প্রয়াণে কাতারে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরে ছুটি: শোক প্রকাশ ও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৩ জুলাই সোমবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দাপ্তরিক কাজ স্থগিত করা হয়েছে. টানা এই ছুটি শেষে আগামী ১৯ জুলাই রবিবার থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুনরায় কাজে যোগ দেবেন।

তিন দিন শোকবার্তা গ্রহণ: কাতারের মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আগামী সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৩, ১৪ ও ১৫ জুলাই) লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক পরিবার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে শোকবার্তা গ্রহণ করবেন. (সময়সূচি: সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত)।

ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কাতারের বিশাল বাংলাদেশ কমিউনিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে. দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, কাতারের অভূতপূর্ব রূপান্তরের এই রূপকার আজীবন বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন. তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান এবং প্রবাসীদের প্রতি সদয় দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

জীবিকার তাগিদে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্ল্যা গ্রামের প্রবাসী শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের স্ত্রী লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে লাভলী খাতুন আজিজুলের সঙ্গে চলে যান।

এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, আজিজুলের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজিজুলের স্ত্রীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক অনিশ্চয়তা। কাবিলের ছেলেরা জানান তারা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। তাদের চাওয়া, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। অনেক কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বেড়া দেওয়ার কারণে ছেলে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না। স্কুলে যেতে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মামুন মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির সামনে বেড়া দেওয়ায় সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না সে। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জমি আমার। এখানে কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত লুটপাটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মোবাইল ফোন বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের (মানি ট্রান্সফার) সেবা দিতো। প্রাথমিক হিসাবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই দোকানে ক্ষতি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেগুলো লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল হাসান বলেন, আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিলো। এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই।

ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকমেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি।

আজিম উদ্দিন বলেন, দুটি দোকান থেকেই পণ্যসামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ অর্থ ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সহায়তা পাননি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার আশঙ্কা, সহিংসতার ঘটনাগুলো ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিলো কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপরও বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তাদের বিনিয়োগ, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা

প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী। ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মিম আক্তার অল্প কিছুদিন ধরে তার বাবা-মাকে নিয়ে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির দুইতলায় ভাড়া থাকতেন।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই ভাড়া বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মিম আক্তারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে আমার মেয়ে মারা গেছে- তা এখন বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন- তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা জেনেছি মিম আক্তারের অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশ আছেন।

ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুনে পুড়ে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগেই নিয়েছিলেন ফাইনাল এক্সিট ভিসা। তবে দেশে ফেরার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই প্রবাসী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়।

এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা।

সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কী কারণে কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।