জীবিকার সন্ধানে সুদূর কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী যুবক আবুবক্কর শেখ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানে ঘুমের মধ্যেই চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম।
নিহত আবুবক্কর শেখ তালা সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গানলতা গ্রামের আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে। প্রায় এক বছর এক মাস আগে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান ও বৃদ্ধ পিতামাতাকে দেশে রেখে পরিবারের সচ্ছলতার আশায় কাতারে যান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কাতারে নিজ কর্মস্থলের আবাসনে ঘুমন্ত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্ট অ্যাটাক) হয়ে আবুবক্করের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আবু বক্করের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, ওই রাতে কাতার থেকে তার স্বামী মোবাইলে ফোন করেছিলেন। কিন্তু সে সময় তিনি ঘুমিয়ে থাকায় ফোনটি ধরতে পারেননি। পরে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঘুম ভাঙলে তিনি স্বামীকে কলব্যাক করার চেষ্টা করেন। তবে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে বিদ্যুৎ এলে তিনি একাধিকবার ফোন করলেও অপর প্রান্ত থেকে আর কোনো সাড়া মেলেনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরদিন শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কাতারে আবুবক্করের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা সহকর্মীরা দীর্ঘ সময় তাকে ঘুম থেকে না উঠতে দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, আবুবক্কর ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, খবর পেয়ে কাতার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ মরদেহ দেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আবুবক্করের অকাল মৃত্যুতে তার বৃদ্ধ পিতামাতা, স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ ওমর ফারুক শেখসহ পুরো পরিবারে বুকফাটা আর্তনাদ চলছে। প্রিয়জনের মরদেহটি শেষবারের মতো একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পরিবার ও এলাকাবাসী। দ্রুততম সময়ে আবুবক্করের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি ও কার্যকর সহযোগিতা দাবি করেছে তার পরিবার।