পরিবারের অভাব-অনটন মুছতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান মাহরাব হোসেন মাহিন নামের ২৩ বছরে এক টগবগে যুবক। অসচ্ছল পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর ধরে মদিনায় ফুড ডেলিভারির কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি।
কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে তাঁর জীবনযুদ্ধ। মৃত্যুর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি তাঁর মরদেহ। এ অবস্থায় ছেলের শেষ মুখটি একবার দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তার মা-বাবা।
মাহরাব হোসেন মাহিনের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের নিজ আদিনাবাদ গ্রামে। জয়নাল উদ্দিন ও রুকেয়া বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মাহিন ছিলেন সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবের মদিনায় যান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন মাহিন। কিন্তু সেদিন আর ফেরা হয়নি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতিমধ্যেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রনালয়ে মাহিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল কাজগপত্র জমা দিয়েছেন। যার জন্য এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
মাহিনের মা রুকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক কষ্ট করে, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বড় ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিল। সংসারের হাল ধরেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল।
তিনি বলেন, সেখানে তাঁর নিয়োগকর্তা (কফিল) প্রথমে মাহিনকে সৌদিতেই দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছি। শেষবারের মতো আমার ছেলেটার মুখ দেখতে চাই।
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, মর্মান্তিক খবরটি শুনেছি। সৌদি আরবে মারা যাওয়া মাহিনের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে যে রকম সহযোগিতা প্রয়োজন সেইভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং উনার পরিবারকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।