৫ জুলাই ২০২৬

সৌদিতে সড়ক দু’র্ঘটনায় নি’হত বিয়ানীবাজারের মাহিন, ম’রদেহ পেতে চান স্বজনরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
সৌদিতে সড়ক দু’র্ঘটনায় নি’হত বিয়ানীবাজারের মাহিন, ম’রদেহ পেতে চান স্বজনরা

পরিবারের অভাব-অনটন মুছতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান মাহরাব হোসেন মাহিন নামের ২৩ বছরে এক টগবগে যুবক। অসচ্ছল পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর ধরে মদিনায় ফুড ডেলিভারির কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি।

কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে তাঁর জীবনযুদ্ধ। মৃত্যুর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি তাঁর মরদেহ। এ অবস্থায় ছেলের শেষ মুখটি একবার দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তার মা-বাবা।

মাহরাব হোসেন মাহিনের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের নিজ আদিনাবাদ গ্রামে। জয়নাল উদ্দিন ও রুকেয়া বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মাহিন ছিলেন সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবের মদিনায় যান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন মাহিন। কিন্তু সেদিন আর ফেরা হয়নি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতিমধ্যেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রনালয়ে মাহিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল কাজগপত্র জমা দিয়েছেন। যার জন্য এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

মাহিনের মা রুকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক কষ্ট করে, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বড় ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিল। সংসারের হাল ধরেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল।

তিনি বলেন, সেখানে তাঁর নিয়োগকর্তা (কফিল) প্রথমে মাহিনকে সৌদিতেই দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছি। শেষবারের মতো আমার ছেলেটার মুখ দেখতে চাই।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, মর্মান্তিক খবরটি শুনেছি। সৌদি আরবে মারা যাওয়া মাহিনের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে যে রকম সহযোগিতা প্রয়োজন সেইভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং উনার পরিবারকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়াগামী ফ্লাইটের ৭১ যাত্রী হঠাৎ বিমানবন্দর থেকে উধাও

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
মালয়েশিয়াগামী ফ্লাইটের ৭১ যাত্রী হঠাৎ বিমানবন্দর থেকে উধাও

মালয়েশিয়াগামী বিমানে ওঠার জন্য চেক-ইন সম্পন্ন করেছিলেন ৭৬ যাত্রী, হাতে ছিল বোর্ডিং পাস। কিন্তু বোর্ডিং গেটে পাঁচজনের ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের গরমিল ধরা পড়তেই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পরপরই বাকি ৭১ যাত্রী একে একে বিমানবন্দর থেকে সরে যান। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জনের কেউই বিমানে ওঠেননি।

গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই ছেড়ে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ওই ফ্লাইটের আরও অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে সরে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীর কেউই বিমানে ওঠেননি।

সূত্র আরও জানায়, ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। যাত্রীদের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে গ্রহণ করে বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। অথচ বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বলে ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন।

বিমানে না চড়া ৭৬ জন যাত্রীর সবাই ‘টুরিস্ট’ ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে সূত্রের দাবি, কোনো একটি ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বোর্ডিং চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে জানতে পারি, তাদের ভিসা নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীকে আর দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন যাত্রীকে অফলোড করে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, ভিসার সমস্যার কারণে বিমানের ওই ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীকে আগেই ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করেছে। তাদের কয়েকজন মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ হজ করতে যাচ্ছিলেন। যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

সৌদিতে সড়ক দু’র্ঘটনায় নি’হত বিয়ানীবাজারের মাহিন, ম’রদেহ পেতে চান স্বজনরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
সৌদিতে সড়ক দু’র্ঘটনায় নি’হত বিয়ানীবাজারের মাহিন, ম’রদেহ পেতে চান স্বজনরা

পরিবারের অভাব-অনটন মুছতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান মাহরাব হোসেন মাহিন নামের ২৩ বছরে এক টগবগে যুবক। অসচ্ছল পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর ধরে মদিনায় ফুড ডেলিভারির কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি।

কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে তাঁর জীবনযুদ্ধ। মৃত্যুর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি তাঁর মরদেহ। এ অবস্থায় ছেলের শেষ মুখটি একবার দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তার মা-বাবা।

মাহরাব হোসেন মাহিনের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের নিজ আদিনাবাদ গ্রামে। জয়নাল উদ্দিন ও রুকেয়া বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মাহিন ছিলেন সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবের মদিনায় যান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন মাহিন। কিন্তু সেদিন আর ফেরা হয়নি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতিমধ্যেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রনালয়ে মাহিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল কাজগপত্র জমা দিয়েছেন। যার জন্য এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

মাহিনের মা রুকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক কষ্ট করে, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বড় ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিল। সংসারের হাল ধরেছিল। কিন্তু আল্লাহ আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল।

তিনি বলেন, সেখানে তাঁর নিয়োগকর্তা (কফিল) প্রথমে মাহিনকে সৌদিতেই দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছি। শেষবারের মতো আমার ছেলেটার মুখ দেখতে চাই।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, মর্মান্তিক খবরটি শুনেছি। সৌদি আরবে মারা যাওয়া মাহিনের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে যে রকম সহযোগিতা প্রয়োজন সেইভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং উনার পরিবারকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

৩ সন্তান ও ৯ লাখ টাকা নিয়ে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী!

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
৩ সন্তান ও ৯ লাখ টাকা নিয়ে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী!

নোয়াখালীর চাটখিলে ৩ সন্তানকে ফেলে রেখে এক পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গৃহবধূর মা মোসা. নাজমা আক্তার নিজেই বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) রাতে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ। এর আগে ২৭ জুন চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূ নিশাত আক্তার (৩০) উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। এছাড়া অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানাধীন ৯নং করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।

নিশাতের মা অভিযোগে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ০৬টি স্বর্ণের আংটি, ০৫টি চেইন, ০২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।

মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

নোয়াখালীর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ০৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। অভিযোগে ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মা কুলসুম আক্তারসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ দেশে ফিরছে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
আজ দেশে ফিরছে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ

কাতারের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ দেশে ফিরছে আজ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, তাদের মরদেহ বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) রাতে কাতার থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর। তিনি জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে মঙ্গলবার যোহরের নামাজের পর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

তিনি আরও জানান, জানাজায় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রবাসীদের রেকর্ড আয়: শেষ মুহূর্তে রেমিট্যান্সে বড় চমক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
প্রবাসীদের রেকর্ড আয়: শেষ মুহূর্তে রেমিট্যান্সে বড় চমক

বিদায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৩৬৩ দিনে (১ জুলাই ২০Wait, ২০২৫ থেকে ২৮ জুন ২০২৬) দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ০৪৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ‘ডাবল ডিজিট’ বা দুই-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

জুন মাসেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা

অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও প্রবাসী আয় আসার গতি ছিল বেশ চাঙ্গা।

  • ২৮ দিনে ২.৫৮ বিলিয়ন: চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত ২০২৫ সালের জুনের একই সময়ের (২.৫৪০ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে ১.৮ শতাংশ বেশি।

  • এক দিনেই ১৩৩ মিলিয়ন: কেবল ২৮ জুন—এই এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস

চলতি অর্থবছর পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই মোট প্রবাসী আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম শক্তিশালী বার্ষিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন: রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের শক্তিশালী অবদানেরই প্রতিফলন। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (ফরেক্স রিজার্ভ) বাড়ানো, বাহ্যিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংকটের মাঝেও আশার আলো

গত কয়েক বছর ধরে ডলার সংকট এবং রিজার্ভের পতন নিয়ে দেশের অর্থনীতি যে চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার আকর্ষণীয় হওয়া এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ির কারণেই প্রবাসীরা বৈধ পথে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তবে এই ধারা বজায় রাখতে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রণোদনার বিষয়টি সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।