৫ জুলাই ২০২৬

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ০৪, ২০২৬
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও নবাগত কেপ ভার্দে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুন) ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এই ম্যাচের একাদশে ৯টি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে সহজেই হারানো সেই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে বদলে দিয়েছেন তিনি।

শুরুর একাদশে ফিরেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে একাদশে জায়গা পেয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।

কেপ ভার্দের একাদশ: ভোজিনহা (গোলরক্ষক), ডিনি বোর্জেস, পিকো লোপেস, সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল, স্টিভেন মোরেইরা, কেভিন পিনা, জোভানে ক্যাব্রাল, দেরয় দুয়ার্তে, লারোস দুয়ার্তে, রায়ান মেন্ডেস (অধিনায়ক), নুনো দা কোস্তা।

কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিলেন দুই বাংলাদেশি তরুণ

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিলেন দুই বাংলাদেশি তরুণ

ফুটবলের দুনিয়ায় যখন বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার হিড়িক পড়েছে, ঠিক তখনই ক্রিকেটে দেখা গেল উল্টো এক চিত্র। ভাগ্যের অন্বেষণে প্রবাসী হওয়া বাংলাদেশের দুই লড়াকু সন্তান এখন জায়গা করে নিয়েছেন কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলে। লাল-সবুজের সীমানা ছাড়িয়ে ভিনদেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার এই অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মোহাম্মদ ফয়সাল হোসাইন এবং মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মেদ।

চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর থেকে দোহার বাইশগজ

বাংলাদেশি এই দুই ক্রিকেটারের ক্রিকেটীয় যাত্রার শুরুটা হয়েছিল দেশের মাটিতেই।

  • মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মেদ: চাঁদপুরের সন্তান মকবুল দেশের ক্রিকেটের পরিচিত পাইপলাইন 'ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি'র হাত ধরে চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে দীর্ঘ সময় পার করেছেন। সেখানে নিজের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলেন তিনি।

  • মোহাম্মদ ফয়সাল হোসাইন: লক্ষ্মীপুরের ছেলে ফয়সালও দেশে থাকার সময় থেকেই নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। কাতার প্রবাসী হওয়ার পর তিনি সেখানকার ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী দল 'টাইটানস ক্রিকেট ক্লাব'-এ যোগ দেন।

কাতারের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনের ধারাবাহিক ও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ অবশেষে মিলেছে কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলের এই মূল্যবান টিকিট।

মরুভূমি পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার মিশন

কাতারের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেটারের স্বপ্ন এখন আরও ডানা মেলেছে। মরুভূমির তপ্ত পিচ পেরিয়ে তারা এখন অবস্থান করছেন শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে কাতারের ঘোষিত স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিয়েছেন ফয়সাল ও মকবুল।

যদিও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক (International Status) সিরিজ নয়, তবুও ভিনদেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক স্তরের কোনো দলের বিপক্ষে মাঠে নামা লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের এই দুই তরুণের জন্য এক বিশাল স্বপ্নপূরণ।

সীমানাহীন প্রতিভার অনন্য দলিল

ব্যাট-বলের এই লড়াইয়ে ভিনদেশের জার্সি গায়ে জড়ালেও, বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের মাটির দুই সন্তানের নাম। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কা সফরে এই ধারা বজায় রাখতে পারলে খুব শীঘ্রই কাতারের মূল জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি বা ওডিআই) অভিষেক ঘটে যেতে পারে এই দুই বাংলাদেশির।

ফয়সাল ও মকবুলের এই সাফল্যগাথা প্রমাণ করে যে, প্রতিভা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকে না। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর প্রবাসে ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা এবং সফল হওয়া এই দুই প্রবাসীর গল্প বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো উঠতি ও লড়াকু ক্রিকেটারের মনে নতুন করে প্রেরণা জোগাবে।

এমবাপ্পের গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
এমবাপ্পের গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে তারা এগিয়ে থাকলেও প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙা সহজ হয়নি। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি ফরাসিরা, ফলে বিরতিতে ম্যাচ থাকে গোলশূন্য।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই চাপ বাড়ায় ফ্রান্স। ৫১ মিনিটে বল পেয়ে দারুণ গতিতে ছুটে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেও এগিয়ে যান তিনি। তবে বল নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গতি কমাতেই সময়মতো ট্যাকল করে প্যারাগুয়েকে বিপদমুক্ত করেন হুয়ান কাসেরেস। শেষ পর্যন্ত কর্নার আদায় করে নেয় ফ্রান্স। দ্রুত কর্নার নিলেও সেখান থেকে সুবিধা করতে পারেনি তারা।

এরপর ৫৫ মিনিটে দূরপাল্লা থেকে জোরালো শটে গোলের চেষ্টা করেন মানু কোনে। তবে দারুণ নৈপুণ্যে সেটি ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৫ মিনিটে। প্যারাগুয়ের তিন ডিফেন্ডারকে দারুণভাবে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন দেজিরে দুয়ে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ডিয়েগো গোমেজ পা বাড়িয়ে তাকে ফেলে দেন। শুরুতে রেফারি খেলা চালিয়ে গেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি। স্পট কিকে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ৭০ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় গত আসরের রানার্সআপরা।

এর পরপরই ডিফেন্সে ডায়ট উপামেকানো ভুল করে বসেন। সেই সুযোগে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন মৌরিসিও, তবে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনান চমৎকার সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

৮৯ মিনিটে এমবাপ্পে আবারও সুযোগ তৈরি করলেও দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন গিল। ইনজুরি টাইমে (৯০+৭) ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দুয়ে বাম দিক থেকে দারুণ পাস বাড়ান এমবাপ্পের দিকে। প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গিল, রিবাউন্ডেও আবার শট নিলেও অসাধারণ ডাইভে সেটিও রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এই জয়ে তারা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় প্যারাগুয়ে।

স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেললেও বিরতির পর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধেই আসে তাদের তিনটি গোল।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহি। এরপর ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান এই মিডফিল্ডার। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে তৃতীয় গোলটি করেন সুফিয়ান রাহিমি।

এই জয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ আট নিশ্চিত করেছে মরক্কো। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবরোতে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।

অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডার জন্য এটি বড় হতাশার বিদায়। ম্যাচে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো কানাডাকে।

ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ০৪, ২০২৬
ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

ফুটবল মানেই আবেগ, আবার বিতর্কও। আবার ক্ষণিকের ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। এতদিন এই ভুল-সিদ্ধান্তই ছিল খেলাটির অংশ। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা ফুটবলে ঢুকে পড়েছে প্রযুক্তির তীক্ষ্ণ চোখ; ভিএআর (VAR)। চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয় বরং ম্যাচের ফল বদলে দেওয়া এক শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশ্বকাপের এই আসরে ভিএআর নিয়ে আলোচনা এখন সবচেয়ে বেশি। কারও কাছে এটি ন্যায়ের রক্ষাকবচ, আবার কারও কাছে খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করার একটি মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ফুটবলে এর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে মাঠের সিদ্ধান্ত যাচাই করতে ব্যবহার করা হয় একাধিক ক্যামেরা ও ভিডিও রিভিউ। ম্যাচ চলাকালে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত; যেমন গোল, পেনাল্টি, অফসাইড বা রেড কার্ড; সন্দেহজনক মনে হলে রেফারি ভিএআর রুমে থাকা সহকারীদের সাহায্য নেন।

ভিএআর মূলত চারটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে; গোল বৈধ কি না, পেনাল্টি সিদ্ধান্ত, সরাসরি রেড কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না। ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথম চালু হওয়ার পর থেকে এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে ধরা হয়।

চলমান বিশ্বকাপে ভিএআর আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি সক্রিয়। অনেক ম্যাচেই এটি সরাসরি ফল বদলে দিয়েছে। যেমন নকআউটের ম্যাচে জার্মানির সম্ভাব্য জয়সূচক গোল ভিএআর রিভিউয়ের পর বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। সেই ম্যাচে পরে টাইব্রেকারে জয় পায় প্যারাগুয়ে।

আবার অন্য এক ম্যাচে বেলজিয়াম অতিরিক্ত সময়ে ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে পেনাল্টি পেয়ে যায় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে যায় বেলজিকরা। কপাল পোড়ে আফ্রিকার দল সেনেগালের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাচে ভুল করে অন্য খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়, যা পরে ভিএআর প্রযুক্তি ধরে ফেলে এবং সংশোধন করা হয়।

সর্বশেষ পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও দেখা গেছে এমনটি। শেষ মুহূর্তে ২-২ গোলে সমতা এনেছিল ক্রোয়েশিয়া। উৎসবের আবহে তখন ক্রোয়াট শিবির। তবে ভিএআরে দেখা যায় সেটি ছিল অফসাইডে গোল। শেষ ষোলোতে উঠে যায় রোনালদোর পর্তুগাল, বাদ পড়ে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ভিএআর শুধু গোল বা অফসাইড নয়; খেলার ন্যায্যতা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখছে।

চলমান বিশ্বকাপকে ফিফা বলছে ‘সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বকাপ’। এখানে শুধু ভিএআর নয়, ব্যবহার হচ্ছে এআই, স্মার্ট বল টেকনোলজি এবং থ্রি ডি প্লেয়ার ট্র্যাকিং। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ভার্চুয়াল মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যা দর্শকদের বোঝাতে সাহায্য করছে কেন একটি অফসাইড বা ফাউল সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো। অনেক সময় অতি সূক্ষ্ম মিলিমিটার ব্যবধানে অফসাইড ধরা পড়ছে, যা আগে মানবচোখে বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।

এ ছাড়া বলের ভেতরে থাকা সেন্সর চিপ ব্যবহার করে ‘Connected Ball Technology’ সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করছে। একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে বলের সঙ্গে কে কখন সংযোগ করেছে, সেটাও এখন ডেটা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফিফার প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রেফারিদের হেডসেট ক্যামেরার মাধ্যমে দর্শকরাও এখন রেফারির দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পারছে; যা ফুটবলে এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

সবকিছুর পরেও ভিএআর নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে। একটি সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে, ফলে স্টেডিয়ামে উত্তেজনা কমে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোল হওয়ার পর খেলোয়াড়রা উদযাপন শুরু করলেও পরে ভিএআর রিভিউতে সেই গোল বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড় ও দর্শক; দুপক্ষই মানসিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, অতিরিক্ত ব্যবহার খেলাকে যান্ত্রিক করে তুলতে পারে। ফুটবলের সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা, আর সেই অনিশ্চয়তা কমে গেলে খেলাটির আবেগও কমে যায়।

লাভ বেশি না ক্ষতি? সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করে, ভিএআর ফুটবলকে আরও ন্যায্য করেছে। ভুল সিদ্ধান্ত অনেক কমেছে, বড় ম্যাচে অন্যায়ভাবে দল বাদ পড়ার ঘটনা আগের চেয়ে কম দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে; ফুটবল কি এখন আর পুরোপুরি মানুষের খেলা? নাকি ধীরে ধীরে এটি প্রযুক্তিনির্ভর এক ডেটা গেমে পরিণত হচ্ছে? একজন কোচের ভাষায়, প্রযুক্তি রেফারিদের সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু খেলায় মানবিক আবেগ ও নিয়ন্ত্রণ এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান বিশ্বকাপ এখন শুধু ২২ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। এটি মানুষ বনাম প্রযুক্তির এক সূক্ষ্ম দ্বন্দ্ব। ভিএআর একদিকে ভুল কমাচ্ছে, অন্যদিকে ফুটবলের আবেগে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবুও নিশ্চিতভাবে বলা যায়; ফুটবলের ভবিষ্যৎ আর আগের মতো নেই। প্রযুক্তি এখন শুধু সহায়ক নয় বরং খেলাটির সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান শক্তি। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই বিশ্বকাপ লিখে চলেছে নতুন ইতিহাস।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ০৪, ২০২৬
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও নবাগত কেপ ভার্দে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুন) ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এই ম্যাচের একাদশে ৯টি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে সহজেই হারানো সেই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে বদলে দিয়েছেন তিনি।

শুরুর একাদশে ফিরেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে একাদশে জায়গা পেয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।

কেপ ভার্দের একাদশ: ভোজিনহা (গোলরক্ষক), ডিনি বোর্জেস, পিকো লোপেস, সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল, স্টিভেন মোরেইরা, কেভিন পিনা, জোভানে ক্যাব্রাল, দেরয় দুয়ার্তে, লারোস দুয়ার্তে, রায়ান মেন্ডেস (অধিনায়ক), নুনো দা কোস্তা।