দুইবার পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি মরক্কো। দুর্দান্ত লড়াই আর দৃষ্টিনন্দন প্রত্যাবর্তনে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া হাইতি। ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল পেয়ে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দলটি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর ভুলে আত্মঘাতী গোলে তারা লিড নেয়। এই গোল ছিল হাইতির বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল এবং চলতি আসরের ১৫০তম গোল।
পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই জবাব দেয় মরক্কো। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে এল খান্নুসের শট ফিরিয়ে দেন হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিড, তবে ফিরতি বলে সুযোগ কাজে লাগান আশরাফ হাকিমি। দলকে সমতায় ফেরান তিনি।
তবে মরক্কোর এই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৪৩ মিনিটে উইলসন ইসিদোরের দূরপাল্লার দারুণ শটে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) আবারও ম্যাচে ফিরে আসে মরক্কো। হাকিমির নিচু ক্রস থেকে ইসমাইল সাইবারি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে সুফিয়ান রাহিমির কার্লিং শটে আসে তৃতীয় গোল। এতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।
ম্যাচের একেবারে শেষদিকে ৮৯ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। বাম দিক থেকে আক্রমণ গড়ে রাহিমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বল ধরে রেখে ইয়াসিনের উদ্দেশে পাস দেন। ফাঁকা জালে সহজেই বল পাঠান সতীর্থ। হাইতির খেলোয়াড়রা বল বাইরে যাওয়ার দাবি করলেও ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। এই জয়ে তিন ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা। সমান পয়েন্টে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল।
অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন নির্ভর করছে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর।