স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলের অন্য একটি গোল এসেছে মাতেউস কুনিয়ার পা থেকে।
মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।
ম্যাচের ৭ মিনিটে স্কটল্যান্ড ভুল করলেও বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তরুণ উইঙ্গার রায়ান স্কটল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ম্যাককেনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিপদ এড়াতে বল দূরে ক্লিয়ার করতে গেলে তার পাস ব্লক করেন রায়ান। তাতে বল চলে যায় ভিনির কাছে। বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
এরপর ২২ মিনিটে আরও এক গোলের দেখা পান ভিনি। এবার ভুলটা করেন স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক জ্যাক হেন্ড্রি। ভিনির চাপে বল হারান তিনি। আর সেই সুযোগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ভিনি। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোলের আগে হেন্ড্রিকে ফাউল করায় এ যাত্রায় গোলবঞ্চিত হতে হয় তাকে।
ভিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বিরতিতে যাওয়ার আগে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে (৪৫+৩) ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে জাল কাঁপান তিনি। তাতে ২-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে স্কটিশ রক্ষণভাগে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাজিল। কিন্তু স্কটিশ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। তবে ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। আক্রমণ গড়ে তুলেন ব্রুনো গিমারায়েস। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে মাতেউস কুনিয়াকে খুঁজে নেন তিনি। কুনিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করেন।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে উল্লাসে মেতে উঠেন ব্রাজিলিয়ান দর্শকরা। না, এবার কোনো গোল হয়নি। হয়েছে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রত্যাবর্তন। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে করতালিতে প্রিয় তারকাকে স্বাগত জানান দর্শকরা।
ম্যাচের বাকি সময় নেইমার-ভিনিরা আক্রমণ চালালেও স্কোরলাইনের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্র মরক্কোর। তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে স্কটল্যান্ড। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে তাদের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য গ্রুপের দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।