২৭ জুন ২০২৬

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলের অন্য একটি গোল এসেছে মাতেউস কুনিয়ার পা থেকে।

মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।

ম্যাচের ৭ মিনিটে স্কটল্যান্ড ভুল করলেও বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তরুণ উইঙ্গার রায়ান স্কটল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ম্যাককেনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিপদ এড়াতে বল দূরে ক্লিয়ার করতে গেলে তার পাস ব্লক করেন রায়ান। তাতে বল চলে যায় ভিনির কাছে। বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।


এরপর ২২ মিনিটে আরও এক গোলের দেখা পান ভিনি। এবার ভুলটা করেন স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক জ্যাক হেন্ড্রি। ভিনির চাপে বল হারান তিনি। আর সেই সুযোগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ভিনি। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোলের আগে হেন্ড্রিকে ফাউল করায় এ যাত্রায় গোলবঞ্চিত হতে হয় তাকে।

ভিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বিরতিতে যাওয়ার আগে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে (৪৫‍+৩) ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে জাল কাঁপান তিনি। তাতে ২-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে স্কটিশ রক্ষণভাগে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাজিল। কিন্তু স্কটিশ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। তবে ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। আক্রমণ গড়ে তুলেন ব্রুনো গিমারায়েস। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে মাতেউস কুনিয়াকে খুঁজে নেন তিনি। কুনিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করেন।

ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে উল্লাসে মেতে উঠেন ব্রাজিলিয়ান দর্শকরা। না, এবার কোনো গোল হয়নি। হয়েছে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রত্যাবর্তন। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে করতালিতে প্রিয় তারকাকে স্বাগত জানান দর্শকরা।

ম্যাচের বাকি সময় নেইমার-ভিনিরা আক্রমণ চালালেও স্কোরলাইনের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্র মরক্কোর। তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে স্কটল্যান্ড। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে তাদের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য গ্রুপের দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা স্টেডিয়াম কোনটি?

উত্তর আমেরিকা মহাদেশের তিনটি দেশে ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন শহরে আয়োজিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা স্টেডিয়াম কোনটি?

টুর্নামেন্টের জমকালো এই আয়োজনে বরাবরের মতো এবারও নতুন ও পুরনো বেশ কিছু স্টেডিয়াম বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছে। বিশাল এই টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ও মাঠের বাইরের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে বিবিসি স্পোর্টসের একঝাঁক অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার তাদের চোখে সেরা ও ব্যতিক্রমী স্টেডিয়ামগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আবেগের বিচারে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামকে অনন্য বলে অভিহিত করেছেন বিবিসির জ্যেষ্ঠ ধারাভাষ্যকার জন মারে। ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী এই স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়নের পরেও তার পুরনো জাদুকরী আবহ ধরে রাখতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মেক্সিকান দর্শকদের উন্মাদনা ও বর্ণিল পরিবেশ এই বিশ্বকাপের সেরা মঞ্চগুলোর একটি।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে ডলাস স্টেডিয়ামের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিবিসির প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি এবং উপস্থাপিকা কেলি সোমারস। তীব্র গরমেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই স্টেডিয়ামের আরামদায়ক পরিবেশ এবং বিশালাকৃতির ছাদ দর্শকদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। স্টেডিয়ামের বিশালতা এবং অসাধারণ সাউন্ড সিস্টেম দর্শকদের খেলার গভীরে ডুবে যেতে সাহায্য করে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

তবে পরিবেশ ও স্থাপত্যের নান্দনিকতায় সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড বা সিয়াটল স্টেডিয়াম সাংবাদিকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ধারাভাষ্যকার ভিকি স্পার্কস এবং প্রতিবেদক গ্যারি রোজের মতে, এই স্টেডিয়ামের নকশা এবং আকৃতির কারণে দর্শকদের চিৎকার ও উল্লাস মাঠের ভেতরে এক অভূতপূর্ব বাতাবরণ তৈরি করে, যা প্রায়শই স্টেডিয়ামকে কেঁপে উঠতে বাধ্য করে। এছাড়া স্টেডিয়ামের চারপাশের মনোরম দৃশ্য এবং শহরের স্কাইলাইনের সৌন্দর্য একে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের বিশালতার মুগ্ধতা যেমন সাংবাদিকদের আকর্ষণ করেছে, তেমনি আটলান্টা স্টেডিয়ামের অনন্য গঠনশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় দর্শকদের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে বলে মনে করেন সাংবাদিক ইয়ান ডেনিস। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে তারা প্রশংসা করেছেন সেখানকার ‘টেইলগেটিং’ সংস্কৃতির, যেখানে বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা খেলার আগে একই সঙ্গে খাবার ও আনন্দ উৎসবে মেতে উঠছে।


আবার অনেক ক্ষেত্রে বিশালতায় ঢাকা পড়ে যাওয়া ছোটখাটো সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। যেমন বস্টন স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতে, স্টেডিয়ামের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও দিকনির্দেশনা ও দর্শকদের যাতায়াতের ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতির সুযোগ ছিল। সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের এই স্টেডিয়ামগুলো কেবল খেলার মাঠ নয়, বরং একেকটি আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে ফুটবল ফ্যানদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৬ গোলের ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কো

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
৬ গোলের ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কো

দুইবার পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি মরক্কো। দুর্দান্ত লড়াই আর দৃষ্টিনন্দন প্রত্যাবর্তনে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া হাইতি। ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল পেয়ে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দলটি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর ভুলে আত্মঘাতী গোলে তারা লিড নেয়। এই গোল ছিল হাইতির বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল এবং চলতি আসরের ১৫০তম গোল।

পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই জবাব দেয় মরক্কো। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে এল খান্নুসের শট ফিরিয়ে দেন হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিড, তবে ফিরতি বলে সুযোগ কাজে লাগান আশরাফ হাকিমি। দলকে সমতায় ফেরান তিনি।

তবে মরক্কোর এই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৪৩ মিনিটে উইলসন ইসিদোরের দূরপাল্লার দারুণ শটে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) আবারও ম্যাচে ফিরে আসে মরক্কো। হাকিমির নিচু ক্রস থেকে ইসমাইল সাইবারি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে সুফিয়ান রাহিমির কার্লিং শটে আসে তৃতীয় গোল। এতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।

ম্যাচের একেবারে শেষদিকে ৮৯ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। বাম দিক থেকে আক্রমণ গড়ে রাহিমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বল ধরে রেখে ইয়াসিনের উদ্দেশে পাস দেন। ফাঁকা জালে সহজেই বল পাঠান সতীর্থ। হাইতির খেলোয়াড়রা বল বাইরে যাওয়ার দাবি করলেও ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। এই জয়ে তিন ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা। সমান পয়েন্টে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে ব্রাজিল।

অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন নির্ভর করছে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর।

বিজয়ীদের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
বিজয়ীদের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে ফিফার দীর্ঘদিনের প্রটোকল ভেঙে ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ইনফান্তিনো। ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা প্রধান নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকি।'

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

২০১৮ ও ২০২২ সালের বিগত দুটি আসরে ফিফা প্রেসিডেন্ট এককভাবে ট্রফি তুলে দিলেও, এবার সেই প্রথা ভাঙছে। এর আগেও বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এছাড়া, গত মৌসুমে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজিকে হারিয়ে চেলসি চ্যাম্পিয়ন হলে, প্রটোকল ভেঙে চেলসি অধিনায়ক রিসি জেমসের হাতে ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প। ট্রফি দেওয়ার পর উদযাপনের সময়ও তিনি মঞ্চে অবস্থান করায় খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

সাধারণত সেপ ব্লাটার কিংবা ইনফান্তিনোর মতো ফিফা প্রেসিডেন্টরাই ট্রফি হস্তান্তর করে থাকেন। তবে রাষ্ট্রপ্রধানদের ট্রফি দেওয়ার ইতিহাস একদম নতুন নয়। এর আগে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং ১৯৮২ সালে স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর এই অতি-ঘনিষ্ঠতা ও প্রটোকল ভাঙার সিদ্ধান্ত ফুটবল মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলের অন্য একটি গোল এসেছে মাতেউস কুনিয়ার পা থেকে।

মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।

ম্যাচের ৭ মিনিটে স্কটল্যান্ড ভুল করলেও বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তরুণ উইঙ্গার রায়ান স্কটল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ম্যাককেনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিপদ এড়াতে বল দূরে ক্লিয়ার করতে গেলে তার পাস ব্লক করেন রায়ান। তাতে বল চলে যায় ভিনির কাছে। বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।


এরপর ২২ মিনিটে আরও এক গোলের দেখা পান ভিনি। এবার ভুলটা করেন স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক জ্যাক হেন্ড্রি। ভিনির চাপে বল হারান তিনি। আর সেই সুযোগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ভিনি। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোলের আগে হেন্ড্রিকে ফাউল করায় এ যাত্রায় গোলবঞ্চিত হতে হয় তাকে।

ভিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বিরতিতে যাওয়ার আগে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে (৪৫‍+৩) ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে জাল কাঁপান তিনি। তাতে ২-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে স্কটিশ রক্ষণভাগে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাজিল। কিন্তু স্কটিশ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। তবে ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। আক্রমণ গড়ে তুলেন ব্রুনো গিমারায়েস। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে মাতেউস কুনিয়াকে খুঁজে নেন তিনি। কুনিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করেন।

ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে উল্লাসে মেতে উঠেন ব্রাজিলিয়ান দর্শকরা। না, এবার কোনো গোল হয়নি। হয়েছে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রত্যাবর্তন। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে করতালিতে প্রিয় তারকাকে স্বাগত জানান দর্শকরা।

ম্যাচের বাকি সময় নেইমার-ভিনিরা আক্রমণ চালালেও স্কোরলাইনের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্র মরক্কোর। তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে স্কটল্যান্ড। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে তাদের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য গ্রুপের দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।

কাতারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন চুরমার করল বসনিয়া

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
কাতারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন চুরমার করল বসনিয়া

কাতারের জন্য ছিল বাঁচা-মরার ম্যাচ। বসনিয়ার জন্যও তাই। দুই দলের সামনেই ছিল বিশ্বকাপের স্বপ্নটাকে আরেকটু লম্বা করার সুযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের রঙ লেগেছে শুধু বসনিয়ার গায়েই।

কাতারের জন্য ছিল বাঁচা-মরার ম্যাচ। বসনিয়ার জন্যও তাই। দুই দলের সামনেই ছিল বিশ্বকাপের স্বপ্নটাকে আরেকটু লম্বা করার সুযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের রঙ লেগেছে শুধু বসনিয়ার গায়েই। সিয়াটলের রাতে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ইউরোপের দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, বসনিয়া কোনো হিসাব-নিকাশ করতে নামেনি। তাদের লক্ষ্য কেবলই জয়ের ক্ষুধা নিবারণ করা। সেই ক্ষুধার প্রথম পুরস্কার আসে ম্যাচের ২৯ মিনিটে। কেরিম আলাইবেগোভিচের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিড নেয়।

গোল হজম করার ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে কাতার। ৩৪ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বসে তারা। ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেকের সেই আত্মঘাতী গোল যেন কাতারের বুকের ভেতর ছুরি চালিয়ে দেয়।

তবে কাতার এত সহজে হার মানার দল নয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে তারা ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ৪২ মিনিটে হাসান আল-হেইদোস গোল করে ব্যবধান কমান। বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে ২-১, ফলে দ্বিতীয়ার্ধে যে বড় লড়াই অপেক্ষা করছে সেটা বুঝতে কারও বাকি ছিল না।

কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে কাতার আর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। বসনিয়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখে দেয়। মাঝমাঠে আধিপত্য, রক্ষণে শৃঙ্খলা দেখিয়ে, ম্যাচে কাতারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে মুছে দিতে থাকে তারা।

এরপর আসে শেষ আঘাত। ম্যাচের শেষভাগে এরমিন মাহমিচ গোল করে কাতারের আশা-ভরসার শেষ প্রদীপটাও নিভিয়ে দেন। তাঁর গোলেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। বাকি সময় আর কোনো নাটক হয়নি, কোনো অলৌকিক প্রত্যাবর্তনও নয়। শেষ বাঁশি বাজতেই বসনিয়ার জয়।