৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে উঠেছে অনিয়ম ও চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরেও কার্ড পাননি, অথচ তুলনামূলক সচ্ছল, বিত্তবান ও কোটিপতি প্রবাসী পরিবারের গৃহিণীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই কার্ড।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়টি গ্রামের ৫০৯ জন গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই কার্ডধারী প্রত্যেক গৃহিণী মাসে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। গত ১৭ জুন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সমাজের চরম দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের গৃহিণীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক উল্টো চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর নগর এলাকায় সাথী বর্মন নামে এক ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। একই এলাকায় রাখী রানী নামের এক নারীর স্বামী কুয়েতপ্রবাসী এবং ছেলে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি কার্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া নাসরিন বেগম ও নাহিদা আক্তার নামের দুই নারীর স্বামীরাও প্রবাসে থাকেন এবং তাঁরা বেশ সচ্ছল। একই এলাকার হালিমা বেগমের তিনতলা ফাউন্ডেশনের একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, স্বামী ফলের ব্যবসায়ী এবং ছেলে ইটভাটার ম্যানেজার। পরিবারের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও হালিমা বেগমের নাম রয়েছে তালিকায়। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে ফয়সাল জানান, তাঁর বাবার ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি নিজে ইটভাটার ম্যানেজার। তবে কীভাবে তাঁর মায়ের নাম তালিকায় এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু প্রবাসী পরিবারই নয়, যাদের নিজস্ব বহুতল ভবন, কোটি টাকার ব্যবসা কিংবা বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে মোটা অঙ্কের আয় রয়েছে, তাঁরাও এই ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। অথচ একই এলাকার বহু নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও অসহায় মানুষ দিনের পর দিন আবেদন করেও এই সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে বিত্তবান, প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কার্ড পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী সাথী বর্মন বলেন, সমাজসেবা অফিসের লোকজন সরেজমিনে এসে আমাকে যোগ্য মনে করেছে তাই কার্ড দিয়েছে। তারা কেন দিলো এটা তাদের বিষয়।

অন্যদিকে, কার্ড না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন প্রকৃত অভাবী মানুষ। স্বামীহারা জবেদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামী মারা গেছেন। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চালাই। আশা করেছিলাম একটা ফ্যামিলি কার্ড পাব, কিন্তু পাইনি। অথচ এলাকার কত সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়ে গেল। তিলাকদমা কারখানায় কাজ করে সংসার চালানো চিনু দে বলেন, মহিলা মানুষ হয়ে কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি। ফ্যামিলি কার্ডটা পেলে কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু আমার নাম তালিকায় আসেনি। যাদের ক্ষমতা আছে আর যাদের আত্মীয়-স্বজনরা নেতা, তারাই কার্ড পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সবচেয়ে গরিব মানুষকে সহায়তা দেওয়া। কিন্তু কেরানীগঞ্জে সমাজসেবা অফিসের চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্থানীয় নেতাদের স্বজনপ্রীতির কারণে উচ্চবিত্ত ও প্রবাসী পরিবারগুলো কার্ড পেয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা এই কার্ড পাওয়ার প্রকৃত হকদার, তারা বঞ্চিত রয়ে গেল।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, এটি আমাদের একটি পাইলট প্রকল্প। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হবে। আবার কারও বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের এই তালিকাটি পুনরায় খুব গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হবে। প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে যেন এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

প্রবাসে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার কার্যক্রমে ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন এনআইডি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের আগস্ট মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তিন হাজার ৫৩৬টি আবেদন। তদন্ত শেষে ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

তদন্তের পর বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯ জনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। এখনো ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন এসেছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে আবেদন পড়েছে ১৮ হাজার ৪৭২টি।

এ ছাড়া ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরবে প্রায় সাত হাজার, কুয়েতে পাঁচ হাজার ৯২১টি এবং কাতারে চার হাজার ৮২৯টি আবেদন এসেছে।

মালয়েশিয়া থেকে আবেদন করেছেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে তিন হাজার ৭৯৪টি এবং ওমানের মাসকাটে দুই হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন পড়েছে এক হাজার ৪৫৯টি।

জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদনের বিপরীতে বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপে ৩২৮টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ১৩৯টি আবেদন এসেছে। ইসির ২৭ আগস্ট পর্যন্ত করা সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য রয়েছে।

২০১৯ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় এবং ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

বর্তমানে ১৪টি দেশের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি দেশকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট সিঙ্গাপুরে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। উদ্বোধনের দিন তিন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

লিবিয়ার আটক আরও ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এই বাংলাদেশিরা লিবিয়া তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়ায় আনা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ থেকে লিবিয়া, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন ৬৬ জনদালাল ও মাফিয়ার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লিবিয়ায় পাড়ি জমানো অনেকে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনসচেতনতা বাড়াতে এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে ফেরত আসা প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এর বাইরে আর কিছু আনতে পারেননি তারা।

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

নড়াইলের নড়াগাতী থানার দক্ষিণ যোগানিয়া এলাকায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে গভীর রাতে প্রবেশের অভিযোগে শান্ত রহমান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে তাকে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়রা আটক করে ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্ত রহমান ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শান্ন্তকে বিজ্ঞ আদালতে চালান করা হয়। শান্ত রহমান ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

নড়াগাতী থানার এসআই মনির জানান, পরে ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং শান্ত রহমানকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন
দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি অচিরেই কমবে: সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তি শিগগির কমে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সৌদিআরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভায় একথা জানান তিনি।

সভায় ই-পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, সৌদিআরবে প্রায় দেড় মাস ধরে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ই-পাসপোর্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুরুতে সাময়িকভাবে প্রবাসীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল ও সেবা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রমও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের টিম প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করছে। এর ফলে অচিরেই প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোও অচিরেই সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও চ্যানেলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেকজন

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস প্রকল্পে পাইপ বিস্ফোরণে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা পরিবারের সদস্য। এছাড়া মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির নামে আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কুদ্দুসের বড় ভাই আব্দুল আলীম বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় জানতে পারছি আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এখন একটাই চাওয়া, ভাইয়ের লাশটা যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

এর আগে ২৫ আগস্ট রাশিয়ার এজিসিসি নামক প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির ফকির। পরে তাদের উদ্ধার করা গেলেও আব্দুল কদ্দুস আজ মারা গেছে। ওই ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশে শ্রমিক আহত হন বলে জানা গেছে।

নিহত আব্দুল কুদ্দুস জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি রাশিয়া যান। সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। কুদ্দুসের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন যে কোন উপায়ে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনে।

চিকিৎসাধীন মনির ফকির জেলার পাংশা পৌরসভাধীন চরমোদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রবাসীদের বরাতে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর মনির নিখোঁজ ছিল। এখন তার সন্ধান পওয়া গেছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মস্কো শহরে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

মুম্বাই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির স্বর্ণ, ৫ বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই: ছাত্রদল-বিএনপির দুই নেতা কারাগারে

প্রবাসী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনশীল রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ