২১ জুন ২০২৬
কাতার দলকে উৎসাহ দিতে অভাবনীয় উদ্যোগ

ড্রাম বাজিয়ে মুখর কাতারিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
ড্রাম বাজিয়ে মুখর কাতারিরা

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল দলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। দূরদূরান্তের ব্যবধান ঘুচিয়ে উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত কাতার জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে দেশ থেকে প্রায় এক হাজার সমর্থক পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চার্টার্ড বিমানে চড়ে এই বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী ইতিমধ্যে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এসে পৌঁছেছেন। কানাডার বিপক্ষে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্বে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কাতারের এই রাজকীয় উদ্যোগ।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মসূচিটি একক কোনো উদ্যোগ নয়। কাতারের ‘সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড’ এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশন যৌথভাবে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ নামে এই বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে।

এই কর্মসূচির আওতায় আসা ভাগ্যবান সমর্থকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দায়িত্ব নিয়েছে কাতার সরকার। যার মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বিমানভাড়া, বিলাসবহুল ও অভিজাত হোটেলে আবাসন খরচ, স্থানীয় যাতায়াত এবং ম্যাচ টিকিটের যাবতীয় ব্যয়।

ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছানোর পর থেকেই কাতারি সমর্থকরা স্থানীয় সড়ক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘দারবুকা ড্রাম’ বাজিয়ে এবং উল্লাস করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন।

হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এই সমর্থকদের এমন ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে কাতার ফুটবল দলকে। সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাতারের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম বলেন, ‘এত পথ পাড়ি দিয়ে যারা আমাদের সমর্থন করতে এখানে এসেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। মাঠে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই, যাতে সমর্থকরা গর্ব নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়তে পারেন।’

ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, স্টেডিয়ামে যেন খেলোয়াড়রা একা বোধ না করেন এবং একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ পান, তা নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন। শুধু কাতার থেকে আসা সমর্থকই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অধ্যয়নরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও মাঠে এসে দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে স্বাগতিক কানাডিয়ান সমর্থকদের তুলনায় কাতারিদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশ কম থাকবে।

প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলসমৃদ্ধ প্রায় ৩২ লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতার ২০২২ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। তবে স্বাগতিক হিসেবে সেবার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

তবে এবারের বিশ্বকাপে কাতারের শুরুটা হয়েছে বেশ আশাপ্রদ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে বৌআলেম খৌখির নাটকীয় গোলে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে মাঠ ছাড়ে কাতার। অন্যদিকে, তাদের আজকের প্রতিপক্ষ কানাডাও বসনিয়া-হার্জেগোভেনিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ম্যাচটি দুদলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে অত্যন্ত সমীকরণ নির্ধারণী হতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপে আজ সুপার সানডে: রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট পেতে মুখোমুখি স্পেন-সৌদি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
বিশ্বকাপে আজ সুপার সানডে: রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট পেতে মুখোমুখি স্পেন-সৌদি

হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দল সৌদি আরব। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচ ডে-তে আজ রোববার রাত ১০টায় মাঠে নামছে দুদল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ায় এই ম্যাচটি দুদলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ মসৃণ করার এক অগ্নিপরীক্ষা।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও স্পেনের প্রথম ম্যাচটি ছিল চরম হতাশাজনক। অভিষিক্ত কেপ ভার্দের রক্ষণ দুর্গে চিড় ধরা না পারায় গোলশূন্য ড্র (০-০) নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লা রোজাদের। একটি পয়েন্ট পেলেও স্প্যানিশরা খুইয়ে ফেলেছে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট। অন্যদিকে, লড়াকু ফুটবল খেলে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান ১ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সৌদি আরবও। ম্যাচের ৪১ মিনিটে আবদুল্লাহ আল আমরির গোলে সৌদি আরব এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় জর্জিওস দোনিসের শিষ্যদের।

বিজ্ঞাপন
বর্তমানে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চার দলেরই সংগ্রহ সমান ১ পয়েন্ট। ফলে গ্রুপ টেবিলের সমীকরণ এখনো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। স্পেন খুব ভালো করেই জানে যে, নকআউট পর্ব অর্থাৎ ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ পা রাখতে হলে আগামী দুই ম্যাচ থেকে অন্তত ৪ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হবে। আর তাই আজকের রাতের ম্যাচে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে যাওয়াই এখন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রধান লক্ষ্য।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের তিনে থাকা স্পেনের আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার তীব্র অভাব লক্ষ করা গেছে। তবে ম্যাচের শেষ ১৯ মিনিটে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সি তরুণ সুপারস্টার লামিন ইয়ামাল মাঠে নামার পর স্পেনের খেলায় গতি ফেরে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই বিস্ময় বালককে র‌্যাংকিংয়ের ৫৯তম দল সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে ইয়ামালের ছন্দে থাকা স্পেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইয়ামালের পাশাপাশি নিকো উইলিয়ামসও শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন, যা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরো ধারালো করবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে মাত্র একবারই এই দুদল মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৬ সালের সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হুয়ানিতোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের দুটি সাক্ষাতেও শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশরাই। ফলে সৌদি আরবের সামনে এবার স্পেনের বিপক্ষে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক সুযোগ, যার জন্য তারা কেপ ভার্দের লড়াকু পারফরম্যান্স থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে। ১৯৯৪ সালে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সে রাউন্ড অব ১৬-এ খেললেও, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রিন ফ্যালকনদের।

কাগজে-কলমে স্পেন এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে সৌদি আরবের লড়াকু মানসিকতা প্রমাণ করে যে, তারা স্পেনের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারির অভিজ্ঞতা এবং ফিরাস আল বুরাইকানের গোল করার দক্ষতা সৌদি আরবকে কাউন্টার অ্যাটাকে সুবিধা দিতে পারে। তবে লামিন ইয়ামাল এবং পেদ্রিদের নিয়ে গঠিত স্পেনের আক্রমণভাগ যদি নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারে, তবে স্পেনের পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান

স্পেন ৩

সৌদি আরব ৫৯

মুখোমুখি লড়াই

মোট ম্যাচ ৩

স্পেনের জয় ৩

সৌদি আরবের জয় ০

বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বাদ পড়ল যে দেশ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বাদ পড়ল যে দেশ

ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে সবার আগে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল হাইতির।

টানা দুই ম্যাচে হেরে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে থাকা ক্যারিবীয় দেশটি টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে।

এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল হাইতি, যার ফলে দুই ম্যাচ শেষে তাদের ঝুলিতে কোনো পয়েন্ট নেই।

অন্যদিকে এক জয় ও এক ড্রয়ে ব্রাজিল ও মরক্কোর পয়েন্ট চার করে এবং স্কটল্যান্ডের সংগ্রহে রয়েছে তিন পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যদি হাইতি জয়ও পায়, তাহলেও তারা আর স্কটল্যান্ডকে টপকাতে পারবে না।

এর মূল কারণ, এবারের বিশ্বকাপে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলকে প্রথম বিবেচনা করা হচ্ছে।

যেহেতু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল হাইতি, তাই সমীকরণের সেই হিসাবেও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

ফলে শেষ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, গ্রুপের শেষ স্থান থেকে তাদের আর উপরে ওঠার কোনো গাণিতিক সুযোগ নেই।

৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল পরবর্তী নকআউট পর্বে উঠবে।

কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় তৃতীয় স্থান অধীকারী সেরা আট দলের তালিকায় ঢোকার সেই সামান্য সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে হাইতির।

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে ফেরা হাইতির বিশ্বকাপ যাত্রা তাই অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে গ্রুপ পর্বেই থমকে গেল। টুর্নামেন্টে নিজেদের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে এবার শক্তিশালী মরক্কোর মুখোমুখি হবে ক্যারিবীয় দলটি।

হাইতিকে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
হাইতিকে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেলসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাথউস কুনহার জোড়া গোলে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ম্যাচের ১২ মিনিটেই হাইতির জালে বল জড়ান রাফিনিয়া। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এরপর গোলের লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ করে ব্রাজিল।

অবশেষে ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে হাইতির বক্সে ঢুকে শট নেন ভিনিসিয়ুস। হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড শটটি ঠেকালেও ফিরতি বলে আলতো শটে বল জালে জড়ান কুনহা।

এরপর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আবারও গোল করেন কুনহা। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক মুভ শুরু করেন ভিনিসিয়ুস। দৌড়ে তার বাঁ দিকে চলে যাওয়া কুনহাকে ডিফেন্স চেরা থ্রু পাস দেন ভিনি। সেখান থেকে বাঁ পায়ের শটে ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।

কুনহার পর স্কোরশিটে নাম লেখান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তার দুই পায়ের ভেতর দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে গোল ভিনি।

প্রথমার্ধে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ছন্নছড়া ছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে, হাইতি নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয়। বেশ কিছু আক্রমণ চালায় তারা। তবে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন বদলি নামা এনদ্রিক। কিন্তু সেই গোল বাতিল হলো অফসাইডের কারণে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে সবার উপরে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে দুই নম্বরে।

হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, শেষ ম্যাচে তারা খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের ‘দ্রুততম’ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারালো মরক্কো

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
বিশ্বকাপের ‘দ্রুততম’ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারালো মরক্কো

ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল মরক্কো। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১–০ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। মাত্র ৭১ সেকেন্ডেই করা ইসমায়েল সাইবারির গোলই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে যায় মরক্কো। ম্যাচের ৭১ সেকেন্ডের মাথায় ডান দিক থেকে বাড়ানো বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান ইসমায়েল সাইবারি। যা এই টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোল।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে দ্রুততম গোল করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেক। ম্যাচের ৬ মিনিটে গোল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, সাইবারি এটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় গোল। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে শেষ দিকে আক্রমণের চাপ বাড়ায় দলটি। এক পর্যায়ে দুটি পেনাল্টির আবেদনও জানায় স্কটিশরা, কিন্তু কোনোটিই আমলে নেননি রেফারি।

শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরার মতো গোল আর পায়নি স্কটল্যান্ড। ফলে মূল্যবান তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'সি'তে স্কটল্যান্ডকে টপকে ওপরে উঠে গেলো মরক্কো।

অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় জয়

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় জয়

টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে থাকা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ে ‘ডি’ গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মার্কিনরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ইনজুরির কারণে দলের তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক মাঠে না থাকলেও তার অনুপস্থিতি তেমনভাবে টের পেতে দেয়নি স্বাগতিকরা। তার পরিবর্তে একাদশে থাকা হাজি রাইট শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেন।

এই চাপের মধ্যেই ১১তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। উইং থেকে আসা একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান বার্জেস অসাবধানতাবশত বল নিজের জালে পাঠিয়ে দেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৩তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সের্হেনিও দেস্তের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে উপরে উঠে যায়, সেই বলেই মাথা ছুঁয়ে গোল করেন ফ্রিম্যান। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা আক্রমণে লিড বাড়ানোর চেষ্টা করে। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় প্রথমার্ধে করা দুই গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। এই জয়ে গ্রুপ ‘ডি’ তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর টিকে থাকতে শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে।