ফুটবলের দুনিয়ায় যখন বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার হিড়িক পড়েছে, ঠিক তখনই ক্রিকেটে দেখা গেল উল্টো এক চিত্র। ভাগ্যের অন্বেষণে প্রবাসী হওয়া বাংলাদেশের দুই লড়াকু সন্তান এখন জায়গা করে নিয়েছেন কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলে। লাল-সবুজের সীমানা ছাড়িয়ে ভিনদেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার এই অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মোহাম্মদ ফয়সাল হোসাইন এবং মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মেদ।
চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর থেকে দোহার বাইশগজ
বাংলাদেশি এই দুই ক্রিকেটারের ক্রিকেটীয় যাত্রার শুরুটা হয়েছিল দেশের মাটিতেই।
-
মোহাম্মদ মকবুল আহাম্মেদ: চাঁদপুরের সন্তান মকবুল দেশের ক্রিকেটের পরিচিত পাইপলাইন 'ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি'র হাত ধরে চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে দীর্ঘ সময় পার করেছেন। সেখানে নিজের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলেন তিনি।
-
মোহাম্মদ ফয়সাল হোসাইন: লক্ষ্মীপুরের ছেলে ফয়সালও দেশে থাকার সময় থেকেই নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। কাতার প্রবাসী হওয়ার পর তিনি সেখানকার ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী দল 'টাইটানস ক্রিকেট ক্লাব'-এ যোগ দেন।
কাতারের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনের ধারাবাহিক ও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ অবশেষে মিলেছে কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলের এই মূল্যবান টিকিট।
মরুভূমি পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার মিশন
কাতারের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেটারের স্বপ্ন এখন আরও ডানা মেলেছে। মরুভূমির তপ্ত পিচ পেরিয়ে তারা এখন অবস্থান করছেন শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে কাতারের ঘোষিত স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিয়েছেন ফয়সাল ও মকবুল।
যদিও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক (International Status) সিরিজ নয়, তবুও ভিনদেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক স্তরের কোনো দলের বিপক্ষে মাঠে নামা লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের এই দুই তরুণের জন্য এক বিশাল স্বপ্নপূরণ।
সীমানাহীন প্রতিভার অনন্য দলিল
ব্যাট-বলের এই লড়াইয়ে ভিনদেশের জার্সি গায়ে জড়ালেও, বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের মাটির দুই সন্তানের নাম। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কা সফরে এই ধারা বজায় রাখতে পারলে খুব শীঘ্রই কাতারের মূল জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি বা ওডিআই) অভিষেক ঘটে যেতে পারে এই দুই বাংলাদেশির।
ফয়সাল ও মকবুলের এই সাফল্যগাথা প্রমাণ করে যে, প্রতিভা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকে না। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর প্রবাসে ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা এবং সফল হওয়া এই দুই প্রবাসীর গল্প বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো উঠতি ও লড়াকু ক্রিকেটারের মনে নতুন করে প্রেরণা জোগাবে।