২৮ জুন ২০২৬

গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে মো. হাসান নামে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করেছে গ্রিস সরকার। একইসঙ্গে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

যুবকটি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। বিগত ৩-৪ বছর ধরে তিনি গ্রিসে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি গ্রিসের ঐতিহাসিক শহর নাফপ্লিওতে অবস্থানরত ওই যুবকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রিসের বিভিন্ন শীর্ষ টিভি চ্যানেল ও একাধিক পত্রিকায় ফলাও করে সেই ভিডিও সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করা হয়।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম প্রথোথেমার খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওটিতে ওই যুবক অন্যান্য বাংলাদেশিদের গ্রিসে আসার আহ্বান জানান। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গ্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্তের মাধ্যমে গ্রিক পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এ ধরনের প্রচারণা মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে এবং অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুল বার্তা দেয়। তাই এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।”

গ্রিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন যেকোনও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গ্রিসের আরেকটি জাতীয় দৈনিক ‌‘দিমোক্রাতিয়ায়’ প্রকাশিত অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ, যার মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাসের বিষয় হয়ে উঠছে। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল খুবই নির্দিষ্ট। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আরও সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসীদের গ্রিসে আসার জন্য উৎসাহিত করা এবং তাদের এই যাত্রা শুরু করতে প্ররোচিত করা।

এদিকে, গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে- তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, গত ২-৩ বছরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।

কয়েকজন ব্যক্তির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের কাছে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে মো. হাসান নামে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করেছে গ্রিস সরকার। একইসঙ্গে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

যুবকটি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। বিগত ৩-৪ বছর ধরে তিনি গ্রিসে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি গ্রিসের ঐতিহাসিক শহর নাফপ্লিওতে অবস্থানরত ওই যুবকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রিসের বিভিন্ন শীর্ষ টিভি চ্যানেল ও একাধিক পত্রিকায় ফলাও করে সেই ভিডিও সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করা হয়।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম প্রথোথেমার খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওটিতে ওই যুবক অন্যান্য বাংলাদেশিদের গ্রিসে আসার আহ্বান জানান। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গ্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্তের মাধ্যমে গ্রিক পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এ ধরনের প্রচারণা মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে এবং অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুল বার্তা দেয়। তাই এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।”

গ্রিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন যেকোনও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গ্রিসের আরেকটি জাতীয় দৈনিক ‌‘দিমোক্রাতিয়ায়’ প্রকাশিত অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ, যার মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাসের বিষয় হয়ে উঠছে। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল খুবই নির্দিষ্ট। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আরও সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসীদের গ্রিসে আসার জন্য উৎসাহিত করা এবং তাদের এই যাত্রা শুরু করতে প্ররোচিত করা।

এদিকে, গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে- তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, গত ২-৩ বছরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।

কয়েকজন ব্যক্তির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের কাছে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গাড়ি থামিয়ে প্রবাসীর পরিবারের ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
গাড়ি থামিয়ে প্রবাসীর পরিবারের ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট

সিলেটে পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পূর্ব সিংগুর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জুনেল আহমদ (৩১) গত মঙ্গলবার রাতে মা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে সিলেট নগরে পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। তাঁরা মাইক্রোবাসে করে রাত ১২টার দিকে রওনা দেন।

রাত একটার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কালাকাটি এলাকায় সিলেট-কুলাউড়া সড়কে পৌঁছালে ‘পুলিশ’ লেখা রিফ্লেকটিভ বেল্ট পরা তিন ব্যক্তি সংকেত দিয়ে গাড়িটি থামান। তাঁরা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় আশপাশ থেকে লুঙ্গি পরা আরও চার থেকে পাঁচজন সেখানে যোগ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে হীরা ও স্বর্ণালংকার, দুটি আইফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ২০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় গাড়িচালক রাগিব জিসান গতকাল দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে উঠেছে অনিয়ম ও চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরেও কার্ড পাননি, অথচ তুলনামূলক সচ্ছল, বিত্তবান ও কোটিপতি প্রবাসী পরিবারের গৃহিণীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই কার্ড।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়টি গ্রামের ৫০৯ জন গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই কার্ডধারী প্রত্যেক গৃহিণী মাসে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। গত ১৭ জুন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সমাজের চরম দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের গৃহিণীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক উল্টো চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর নগর এলাকায় সাথী বর্মন নামে এক ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। একই এলাকায় রাখী রানী নামের এক নারীর স্বামী কুয়েতপ্রবাসী এবং ছেলে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি কার্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া নাসরিন বেগম ও নাহিদা আক্তার নামের দুই নারীর স্বামীরাও প্রবাসে থাকেন এবং তাঁরা বেশ সচ্ছল। একই এলাকার হালিমা বেগমের তিনতলা ফাউন্ডেশনের একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, স্বামী ফলের ব্যবসায়ী এবং ছেলে ইটভাটার ম্যানেজার। পরিবারের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও হালিমা বেগমের নাম রয়েছে তালিকায়। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে ফয়সাল জানান, তাঁর বাবার ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি নিজে ইটভাটার ম্যানেজার। তবে কীভাবে তাঁর মায়ের নাম তালিকায় এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু প্রবাসী পরিবারই নয়, যাদের নিজস্ব বহুতল ভবন, কোটি টাকার ব্যবসা কিংবা বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে মোটা অঙ্কের আয় রয়েছে, তাঁরাও এই ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। অথচ একই এলাকার বহু নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও অসহায় মানুষ দিনের পর দিন আবেদন করেও এই সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে বিত্তবান, প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কার্ড পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী সাথী বর্মন বলেন, সমাজসেবা অফিসের লোকজন সরেজমিনে এসে আমাকে যোগ্য মনে করেছে তাই কার্ড দিয়েছে। তারা কেন দিলো এটা তাদের বিষয়।

অন্যদিকে, কার্ড না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন প্রকৃত অভাবী মানুষ। স্বামীহারা জবেদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামী মারা গেছেন। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চালাই। আশা করেছিলাম একটা ফ্যামিলি কার্ড পাব, কিন্তু পাইনি। অথচ এলাকার কত সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়ে গেল। তিলাকদমা কারখানায় কাজ করে সংসার চালানো চিনু দে বলেন, মহিলা মানুষ হয়ে কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি। ফ্যামিলি কার্ডটা পেলে কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু আমার নাম তালিকায় আসেনি। যাদের ক্ষমতা আছে আর যাদের আত্মীয়-স্বজনরা নেতা, তারাই কার্ড পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সবচেয়ে গরিব মানুষকে সহায়তা দেওয়া। কিন্তু কেরানীগঞ্জে সমাজসেবা অফিসের চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্থানীয় নেতাদের স্বজনপ্রীতির কারণে উচ্চবিত্ত ও প্রবাসী পরিবারগুলো কার্ড পেয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা এই কার্ড পাওয়ার প্রকৃত হকদার, তারা বঞ্চিত রয়ে গেল।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, এটি আমাদের একটি পাইলট প্রকল্প। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হবে। আবার কারও বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের এই তালিকাটি পুনরায় খুব গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হবে। প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে যেন এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশে ঋণের চাপ, প্রবাসে বেকারত্ব; হতাশায় প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
দেশে ঋণের চাপ, প্রবাসে বেকারত্ব; হতাশায় প্রবাসী  বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসী। পরবর্তীতে ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

নিহত প্রবাসীর নাম জিন্নাত খান খোকন (৩৫)। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতভিটা বিক্রি এবং ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করা অর্থে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। প্রথমে একটি দালালচক্রের মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় যান এবং পরে অনিয়মিত পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন বলে দাবি পরিবারের।

ইতালিতে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো স্থায়ী কাজ বা বৈধ কাগজপত্রের সুযোগ পাননি। ফলে দেশে ঋণের চাপ ও বিদেশে বেকারত্ব—দুই দিক থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। এখন পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং মরদেহ দেশে আনার সক্ষমতাও তাদের নেই।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

এ পরিস্থিতিতে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় বহনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

২৫ বছর পর কফিনবন্দী হয়ে ফিরবেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা শফিউল

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
২৫ বছর পর কফিনবন্দী হয়ে ফিরবেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা শফিউল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৌদি আরব প্রবাসী শফিউল আলমের দীর্ঘ ২৫ বছর পর আগামী জুলাইয়ে পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরা হলো না তার। ফিরবেন কফিনবন্দী হয়ে।

নিহত শফিউল আলম ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৩ নং খাদেমপাড়া ওয়ার্ডের আরিফুর রহমানের পুত্র।

জানা গেছে, শফিউল আলম দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের পরিবারের স্বপ্নই পূরণ করেননি, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তিনি পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতেও ভূমিকা রেখেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) সৌদি আরব সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর।

তার মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। যে মানুষটি বছরের পর বছর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটির নিথর দেহ দেশে ফিরবে— এমন বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিউল আলম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী একজন মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং অসহায়দের সহযোগিতা করতেন।

এলাকাবাসী বলেন, শফিউল ভাই আগামী মাসে দেশে আসবেন বলে পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিল। সন্তানরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে শোকে। এটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার জন্য ক্ষতি।

তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।

প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। জীবনের সিংহভাগ সময় পরিবারের সুখের জন্য বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে দেওয়া শফিউল আলমও ছিলেন সেইসব নিরলস যোদ্ধাদের একজন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রিয় মাতৃভূমি ও পরিবারের সান্নিধ্য আর পাওয়া হলো না তার।

সীতাকুণ্ডবাসী আজ একজন প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনায় শোকাহত। সবাই মরহুম শফিউল আলমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিহত শফিউল আলম এর মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ বলেন, শফিউল আলমের মরদেহ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি জানান, সীতাকুন্ড প্রেস ক্লাবের দুইজন সাংবাদিক মরদেহ আনার ব্যাপারে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার ভূমিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।