৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানা পাঁচ দফা আলোচনার পর অবশেষে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোর অধীনে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘শুরুর সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

পরবর্তীতে এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, এই চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) ‘মানবিক সহায়তা’ প্রদান করবে।

তবে এই অর্থ কেবল লেবাননের জন্য নাকি ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহরগুলোর জন্যও বরাদ্দ, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এছাড়া লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) অর্থ ফেরত দেবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর থেকে হুমকি দূর করে তাদের নিজ সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া তৈরি করবে। এছাড়া ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে লেবাননের জন্য একটি ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ গঠন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

টানা তিন দিনের নিবিড় বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুবিও হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ইসরায়েলিরা বারবার লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। তবে এই হামলা লেবাননের জনগণ বা সরকার করেনি, করেছে একটি বহিরাগত শক্তি (হিজবুল্লাহ), যারা এই ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসতে রাজি না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে পরোক্ষ বা ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। লেবাননের আনুষ্ঠানিক সামরিক বাহিনীর চেয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ এই বৈঠকগুলোকে ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকের এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ীভাবে বৈরিতা অবসান এবং আমাদের সাধারণ মানুষকে নিজ ভূমিতে শান্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েকিয়েল লেইটার লেবাননের নারী রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করে বলেন, আলোচনার টেবিলে মোয়াদ তার দেশের জন্য ‘সিংহের মতো’ লড়াই করেছেন। তিনি দাবি করেন, এখন ইরান ও হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে এবং ইসরায়েল-লেবানন শান্তির পথ উন্মুক্ত।

চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনই খুব বেশি বদলাচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করবে এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণে এবং উত্তরে দুটি পাইলট জোন বাস্তবায়ন করবে। ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকা থেকে সরে গেলে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেবে।

তবে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের অভাবে ভুগতে থাকা লেবাননের সেনাবাহিনী কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবে বা তারা হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার চুক্তি সই হয়। এর পরপরই লেবাননের সাথে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলো।

নেতানিয়াহু একে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা উল্লেখ করে বলেন, ইরান আমাদের জোরপূর্বক দক্ষিণ লেবানন থেকে তাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু মূলত ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে—এটি সম্পূর্ণ আমাদের বিষয়, এখানে তাদের নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২০০-এর বেশি লেবাননি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়ানোর কাজ এখনো চলছে বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি বলেছেন, গাজার জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলা বা ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াই সেখানকার ‘একমাত্র সমাধান’।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাটজ। তিনি বলেন, ‘এই অভিবাসন ছাড়া গাজার কোনো প্রকৃত সমাধান নেই।’

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার বিষয়টিকে অনেক সময় ‘স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন’ বা ‘মাইগ্রেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাতিল হয়নি, দাবি কাটজের
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি কয়েকজন নেতা আগেই প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এমন একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপত্যকাটির উন্নয়ন করতে পারে।

এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরে ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, গাজা ছাড়তে কাউকে বাধ্য করা হবে না। যারা যেতে চান, তারা যেতে পারবেন এবং ফিরে আসার সুযোগও থাকবে।

তবে কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করেননি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্প এটি বাতিল করেননি; তিনি এটি হিমায়িত করেছেন।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন’
কাটজ বলেন, ইসরায়েল গাজা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ‘সমুদ্রপথে, আকাশপথে এবং যে কোনো উপায়ে’ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

তবে গাজার সঙ্গে সীমান্ত থাকা মিশর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে রাজি নয়। কাটজের ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে—এমন অন্য দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি এখনো নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তার কথায়, ‘সবার স্বার্থেই শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো সমাধান নেই।’

যুদ্ধবিরতির পরও হামলা
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। পাশাপাশি, উপত্যকাটির পুনর্গঠনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে সমালোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সরকারের পাশে রয়েছে। গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের

মেক্সিকো উপসাগর ও লেক অন্টারিওর পর এবার ট্রাম্পের নজর হরমুজ প্রণালিতে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের

এবার হরমুজ প্রণালির নাম বদলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুধু তাই নয়, প্রণালির নামটি নিজের নামে করতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুমুল বিরোধ চলছে এই হরমুজ প্রণালি নিয়ে। আর এর মধ্যেই ট্রাম্প এই প্রস্তাব রাখলেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এখন যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, আমাদের কি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি করা উচিত??? আমেরিকার মতোই এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও “উত্তপ্ত” হবে!’

ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব এটি। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি এ প্রস্তাব দিলেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ওঠার প্রথম দিনেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখেন ট্রাম্প।

এর আগে ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের অনেক উদ্যোগই ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের আপাতদৃষ্টিতে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে তিনি সেগুলো বাস্তবায়নেও উদ্যোগ নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করার হুমকি বারবার দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি একটি মানচিত্রও পোস্ট করেছেন, যেখানে এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

ইরান নতুন করে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করছে বলে ট্রাম্প দাবি করার পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম।

এর আগে স্থানীয় সময় গত সোমবার ইরানকে কঠোরভাবে আঘাতের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান একটি ‘ব্যর্থ’ ও ‘মৃত’ দেশ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের সহায়তায় প্রতি রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ‘অত্যন্ত ভালো অবস্থায়’ রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছি। গত রাতে অনেক, অনেক জাহাজ পার হয়েছে। আপনারা জানেন, নৌবাহিনীর সহায়তায়। আর আমরা গড়ে প্রতি রাতে ৩০টি জাহাজ পার করাচ্ছি।’

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সম্পর্কে যা জানা গেল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সম্পর্কে যা জানা গেল

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। হামলায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হরমোজগান গভর্নরের কার্যালয় নিহত চারজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন চার বছর বয়সী আমির আলী কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালাহি, ৪৩ বছর বয়সী কোলসুম মালাহি এবং ৪৩ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরি।

স্থানীয় সূত্র ও কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই বাড়িও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।

ভবনের ছাদ ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্র
ঘটনাস্থলের ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনে কুহেস্তাকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার চিত্র উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের উপকূলের কাছে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। এতে টাওয়ারটি ধ্বংস হয়ে যায়।

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে কয়েকজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, সেখানে এজিএম-৮৪কে এসএলএএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো একটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নিশানার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল নারী ও শিশুর জুতা
বুধবার ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যে ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, তার ছাদে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আরও কয়েকটি ভিডিওতে ভবনটির ভেতরে ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।

হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নারী ও শিশুদের জুতা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পাশের কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তিনটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর একটি ভবনের ছাদ ভেদ করে মাটিতে প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত তৈরি করে।

‘সবাই ছিল বেসামরিক’
হামলার শিকার ভবনটির মালিক আলী মালাহি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, সেখানে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ভবনের ভেতরে থাকা সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

হাসপাতাল থেকে প্রচারিত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে আহত শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

হামলায় আহত এক তরুণ বলেন, তারা বাড়িটির দিকে যাওয়ার সময় আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিলেন। এরপর বিস্ফোরণ ঘটে।

হাসপাতালের বিছানায় থাকা ওই তরুণ বলেন, অনেক শিশু ও নারী ভয়াবহভাবে আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এক নারীও দাবি করেন, সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তার ভাষ্য, বাড়িটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করেছে। সংস্থাটি হামলার স্থান এবং আহত শিশুদের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।

পরে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তাদের মতে, এটি একটি ‘গুরুতর’ হামলা।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে রাতভর গোলাবর্ষণ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে রাতভর গোলাবর্ষণ

মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী সামরিক সংঘাতের উত্তাপের মাঝেই এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (NNA) বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার রাতভর এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানসুরি ও বেইত আল-সায়াদ এলাকায় ইসরায়েলি কামান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে।

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন সীমান্তে এই নতুন হামলা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার মধ্যেই লেবানন সীমান্তে এই গোলাবর্ষণ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের এই সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের হতাহত বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হলো সুপারট্যাংকার

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হলো সুপারট্যাংকার

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ রুট দিয়ে অতিক্রম করার সময় সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে একটি বিশাল সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার খবর জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি জলমগ্ন মাইনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী এক কঠোর সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, “যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের পরিণতি এর চেয়ে আলাদা কিছু হবে না। পারাপার এবং নৌ চলাচলের জন্য আইআরজিসি নৌবাহিনীর জারি করা নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক।”

যদিও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ করে রেখেছে, তবুও মার্কিন সহায়তায় ওমান উপকূলের কাছাকাছি তুলনামূলক নিরাপদ জলপথ দিয়ে মাঝে মাঝে কয়েকটি জাহাজ যাতায়াত করার চেষ্টা করছে। তেহরান এই রুটগুলোকে ‘অনুমোদিত নয়’ বা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত মার্কিন সেনাবাহিনীর উসকানিতে বিভ্রান্ত না হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তাদের জাহাজ ও ক্রুদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেওয়া।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং জলপথটি উন্মুক্ত রাখার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে জর্ডান ও আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।