২৮ জুন ২০২৬

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামা থেকে এরদোয়ানকে আটকান ট্রাম্প!

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামা থেকে এরদোয়ানকে আটকান ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে তেহরানের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে নামতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই তথ্য জানান।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

তবে ট্রাম্প জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে রাজি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার জন্য অন্যতম প্রধান প্রার্থী ছিলেন, কারণ তিনি ইসরায়েলকে মোটেও পছন্দ করেন না।’

ট্রাম্প আরও জানান, পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে তিনি নিজেই বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি এরদোয়ানকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট তা মেনে নেন।

এদিকে, আঙ্কারার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ ফাইটার জেট এবং প্রয়োজনীয় জেট ইঞ্জিন কেনার একটি অনুরোধ রয়েছে তুরস্কের। এ বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি সম্ভবত এমন কিছু করবেন যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি সম্মান জানিয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সশরীরে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথাও নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই-৩এস উড়োজাহাজফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর কয়েকটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তরটি বারবার আক্রান্ত হয়।

কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তর এবং আরও অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর) এখন পর্যন্ত এ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

এদিকে এ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত। এ চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

এ সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানি সরকারের আসন্ন হুমকি দূর করতে’ এ যুদ্ধ শুরু করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তবে কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এ চুক্তির পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।

উভয় শিবিরেরই অধিকাংশ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানা পাঁচ দফা আলোচনার পর অবশেষে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোর অধীনে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘শুরুর সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

পরবর্তীতে এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, এই চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) ‘মানবিক সহায়তা’ প্রদান করবে।

তবে এই অর্থ কেবল লেবাননের জন্য নাকি ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহরগুলোর জন্যও বরাদ্দ, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এছাড়া লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) অর্থ ফেরত দেবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর থেকে হুমকি দূর করে তাদের নিজ সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া তৈরি করবে। এছাড়া ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে লেবাননের জন্য একটি ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ গঠন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

টানা তিন দিনের নিবিড় বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুবিও হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ইসরায়েলিরা বারবার লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। তবে এই হামলা লেবাননের জনগণ বা সরকার করেনি, করেছে একটি বহিরাগত শক্তি (হিজবুল্লাহ), যারা এই ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসতে রাজি না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে পরোক্ষ বা ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। লেবাননের আনুষ্ঠানিক সামরিক বাহিনীর চেয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ এই বৈঠকগুলোকে ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকের এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ীভাবে বৈরিতা অবসান এবং আমাদের সাধারণ মানুষকে নিজ ভূমিতে শান্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েকিয়েল লেইটার লেবাননের নারী রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করে বলেন, আলোচনার টেবিলে মোয়াদ তার দেশের জন্য ‘সিংহের মতো’ লড়াই করেছেন। তিনি দাবি করেন, এখন ইরান ও হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে এবং ইসরায়েল-লেবানন শান্তির পথ উন্মুক্ত।

চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনই খুব বেশি বদলাচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করবে এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণে এবং উত্তরে দুটি পাইলট জোন বাস্তবায়ন করবে। ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকা থেকে সরে গেলে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেবে।

তবে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের অভাবে ভুগতে থাকা লেবাননের সেনাবাহিনী কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবে বা তারা হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার চুক্তি সই হয়। এর পরপরই লেবাননের সাথে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলো।

নেতানিয়াহু একে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা উল্লেখ করে বলেন, ইরান আমাদের জোরপূর্বক দক্ষিণ লেবানন থেকে তাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু মূলত ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে—এটি সম্পূর্ণ আমাদের বিষয়, এখানে তাদের নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২০০-এর বেশি লেবাননি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রক্সি ও ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যার সমাধান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ইরানের প্রক্সি ও ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যার সমাধান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো

উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা বৃহস্পতিবার বলেছেন, স্থায়ী শান্তির জন্য ইরানের প্রক্সি ও ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যার সমাধান করা খুবই জরুরি।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

তেহরানের সাথে যেকোনো বাণিজ্য বা বিনিয়োগ বাতিলযোগ্য হতে পারে। এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা চুক্তিটি মেনে চলছে কি না, তার ওপর।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বৈঠকের পর মন্ত্রীরা একটি যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানে তারা বলেন, অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ইরানের সব ধরনের হুমকির সমাধান করা দরকার। এর মধ্যে রয়েছে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি।

তারা আরও বলেন, ইরানের সাথে যেকোনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শর্তযুক্ত এবং বাতিলযোগ্য। এটি নির্ভর করবে ইরান সমঝোতা স্মারক ও চূড়ান্ত চুক্তি কতটা মেনে চলছে তার ওপর। পাশাপাশি তাদের অস্থিতিশীল আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে একটি চুক্তি করতে চায়, তবে তা যেকোনো মূল্যে নয়। তিনি উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের স্বার্থের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর পরপরই এই কথাগুলো সামনে এলো।

রুবিও জোর দিয়ে বলেন, আমরা একটি চুক্তি চাই, কিন্তু যেকোনো মূল্যে নয়। আমরা এমন একটি চুক্তি চাই যা ভালো, যা বাস্তব, যা যাচাই করা যায় এবং যা সবাই মেনে চলবে।

কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলার দিয়ে শুরু; ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার নেপথ্য সমীকরণ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলার দিয়ে শুরু; ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার নেপথ্য সমীকরণ

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের জন্য একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। আজ (শনিবার, ২০ জুন) আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক ধাপে কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার (৬ বিলিয়ন) ছাড় করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরমায়েশ অনুযায়ী জব্দ করা অর্থ দিয়ে খাদ্য, ওষুধসহ মানবিক সামগ্রী কেনার অনুমতি দেবে কাতার। চীন, ভারত, ইরাক ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছাড়ের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের জব্দ সম্পদের একটি অংশ দ্রুত মুক্ত করতে চাইছে ইরান।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সই হওয়া চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ‘ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত’ করার এবং সেগুলো ছাড়ের একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চলমান আলোচনায় ফলপ্রসূভাবে অংশ নিলেই কেবল এই তহবিল উন্মুক্ত হবে।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সানাম ভাকিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘সীমিত পরিসরে সম্পদ ছাড় করাও অর্থনৈতিক জীবনরেখা এবং উত্তেজনা প্রশমনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানকে যে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন, এই ব্যবস্থা তার থেকে আলাদা হবে। কাতারের এই প্রক্রিয়া নিয়ে গত মে মাসের শেষের দিকে দোহায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। চুক্তির সমালোচকেরা বলছেন, পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের অগ্রগতির আগেই ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, এটি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।

বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈদ্যুতিক উপায়ে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ সই করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধের পথ সুগম করতেই এই চুক্তি।

৬০ দিনের আলোচনা শুরু করতে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সরাসরি বৈঠকের কথা থাকলেও লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তেহরান তা স্থগিত করেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ১২-১৩ এপ্রিল পাকিস্তানের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তেলের দাম কমেছে। এতে বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু কখন এই চুক্তি ভেস্তে যায় তা নিয়েই বড় শঙ্কা। চুক্তির স্থায়ীত্বে প্রধান বাধা মনে করা হচ্ছে ইসরাইলকে। কারণ দেশটি চুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেনি, বরং উদ্বেগ দেখা গেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনও চুক্তির বিরোধিতা করছে। তবে রিপাবলিকান ইহুদিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি তোয়াক্কা করেই ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে। এতে ১৮ জন নিহত হয়। এই হামলার জেরে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে। এরপরই তেল আবিবকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরাইল। তবে এই যুদ্ধবিরতিও কতদিন টিকবে তা নিয়ে ভয় আছে। কারণ এর আগে যুদ্ধবিরতি থাকলেও হামলা থামেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ তার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা। সেটা তিনি পেরেছেন। আরো তাত্ক্ষণিক একটি ‘সাফল্য’ হলো হরমুজ প্রণালি খোলার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। কারণ চুক্তির পরপরই তেলের দাম কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য গতকাল শুক্রবার শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূলত লেবাননে ইসরাইলি অব্যাহত থাকা এবং সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিত হওয়ায় দাম বাড়ে। চুক্তির পর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জনমত জরিপে বারবার উঠে আসে, জ্বালানির উচ্চ দামের কারণে এবং যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আমেরিকান জনগণ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হচ্ছিল। অর্থনৈতিক অসন্তোষ ছিল ২০২৪ সালে ভোটারদের ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে ফিরিয়ে আনার প্রধান কারণগুলোর একটি। তবে প্রেসিডেন্টের শুরু করা যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে—এই ধারণা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও এই অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন সময় তৈরি করে, কারণ তাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি ট্রাম্পকে কিছুটা স্বস্তি দেয় এবং তার মিত্রদের আশা, তিনি নিজেকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন, যিনি দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চলতে থাকা সংঘাত পরিস্থিতি এড়িয়েছেন। তবে চুক্তির সমালোচকরা, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের কিছু অংশসহ ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে ট্রাম্প অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল থেকে ইরানের উপকার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে না। এটি ভুয়া সংবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আছে শুধু সাফল্য, তেলের কম দাম এবং বিজয়’। যদিও ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে না, তবুও দলটির ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের শেখায়, যারা আমাদের হত্যা করতে চায়, এমন ধর্মতান্ত্রিক উন্মাদদের বিলিয়ন ডলার দেওয়া ভালো ধারণা নয়। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট খুব খারাপ পরামর্শ পাচ্ছেন।’ রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ অপমানজনক পরাজয়। এটি একটি পরাজয়’।

ইরানের জন্য এই চুক্তি যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয়। আত্মসমর্পণ না করেও যুদ্ধে টিকে থাকাই শুধু নয়, বরং আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠার দাবি করার একটি সুযোগ এটি। শুরু থেকেই প্রচলিত সামরিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করা তেহরানের মূল লক্ষ্য ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল সংঘাত থেকে এমন অবস্থায় বেরিয়ে আসা, যাতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র অক্ষত থাকে, নেতৃত্ব কার্যকর থাকে এবং তাদের দরকষাকষির অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে। এই চুক্তি যেটিকে মূলত বলা হচ্ছে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), এটি ইরানকে বলার সুযোগ করে দিয়েছে যে তারা তা অর্জন করেছে। ইরানের সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত তুলনামূলক নীরব। ইরানের নেতৃত্বকে চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনের মতো যথেষ্ট উপাদান দিয়েছে এই সমঝোতা; যেমন—সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা এবং পুনর্গঠন তহবিলের উল্লেখ। আর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্পের জোরাজুরির কারণেই তারা চুক্তিতে রাজি হয়েছেন। কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বিশ্ব নেতারা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিশ্বে শান্তি ফিরবে বলে আশা করেন।

ভয় যে কারণে

ইরানের সঙ্গে চুক্তির পর ইসরাইলে অসন্তোষ বাড়ছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর জরিপে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না এমন প্রশ্নে ৭১ শতাংশ ইসরাইলি তার ওপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখেন না। বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ও চুক্তিতে ইসরাইলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না, এই প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫২ শতাংশ মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আচরণ ইসরাইলের স্বার্থের ক্ষতি করেছে।

ইহুদি গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগের বড় কারণ, এটি ইসরাইলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তারা মনে করছেন, এটি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি পথ করে দিয়েছে। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস এবং জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকাসহ ইসরাইলপন্থি কট্টরপন্থি থিংক ট্যাংকগুলো ট্রাম্পের চুক্তির সমালোচনা করেছে।

ইসরাইলি নেতারা চুক্তির বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। কারণ, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এআইপিএসি দীর্ঘ বিবৃতিতে বলেছে, এই সমঝোতা স্মারকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিবৃতিতে কংগ্রেসকে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তির আগে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশ্বাস করার আহ্বান জানিয়েছে রিপাবলিকান জিউইশ কোয়ালিশন (আরজেসি)। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমঝোতা স্মারককে সমর্থনকারী সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইহুদি সংগঠনে পরিণত হয়েছে।