পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশি তরুণ মো. শামসুল ইসলাম কামরান (২৫) এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (৪ জুলাই) পর্তুগালের স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির আলমেদা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় আলমেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে পরদিন রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত কামরান সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামের মৃত মুতলিব আলীর ছেলে।
পর্তুগালপ্রবাসী সাংবাদিক শাহ মুহাম্মদ তানভীর জানান, শনিবার রাতে আলমেদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর স্থানীয় জরুরি সেবা কর্মীরা কামরানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নিবিড় চিকিৎসাকেন্দ্রে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কামরানের এই আকস্মিক ও অকালমৃত্যুর খবর সিলেটে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতেই দেশে এসে জমকালো আয়োজনে বিয়ে করেছিলেন কামরান। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর বুকভরা আশা আর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও পর্তুগালে ফিরে যান। কিন্তু প্রবাসে নতুন করে কর্মজীবন গুছিয়ে ওঠার আগেই এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তার প্রাণ কেড়ে নেয়।
একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে কামরানের পরিবার এখন দিশাহারা। প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে জড়াতে এবং তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পর্তুগাল দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের স্বজনরা।